শরতের শুরুতেই দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জনপদে দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশা। বিশেষ করে পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটে গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে কুয়াশার উপস্থিতি শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের গ্রাম থেকে শহরের সড়কগুলো ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। এতে কয়েক হাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না এবং সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়।
কুয়াশার কারণে অনেক চালককে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে দেখা গেছে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো দেখা দিলে কুয়াশা কাটতে শুরু করে এবং পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার পরিবর্তন এবং আকাশে মেঘের অবস্থানের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে হঠাৎ মেঘ সরে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়াও কুয়াশা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। আজ সকাল ৬টায় সেখানে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি বলেন, শরৎকালের শুরুতে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘের অবস্থান এবং হঠাৎ মেঘ সরে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়াও কুয়াশা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলে হালকা শীত অনুভূত হতে পারে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।