ফরিদপুরে আইনজীবীরা ‘কোর্ট বর্জন’ করায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বৈঠকের পর বিচার কার্যক্রম সচল হয়েছে।
ফরিদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানিয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আজ (বুধবার) দুপুর পর্যন্ত চলে বলে জানিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু।
তিনি বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।’
তাই আইনজীবী সমিতি গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান তিনি।
আইনজীবী পিলু বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা ও দায়রা মহোদয়ের আহ্বানে আমরা সমিতির কর্মকর্তা, সিনিয়র আইনজীবী ও বিজ্ঞ বিচারকগণ দীর্ঘ বৈঠক হয়। পরে বিচার বিভাগ আইনজীবী সমিতির দাবির বিষয়টি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন এবং তাদের অনুরোধে আইনজীবীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।’
বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি:
এদিকে, আদালতের চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন বিচারপ্রার্থীরা।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা আদালতের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকলেও আইনজীবীরা না আসায় আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম শুরু হতে দেখা যায়নি।
জেলার আলফাডাঙ্গা থেকে আসা এক বিচার প্রার্থী বলেন, ‘এই আদালতে আইনজীবীদের কোর্ট বর্জন চলছে এটা জানা ছিল না, আমি ৫৫-৬০ কিলোমিটার দূর থেকে শহরে এসেছি । বিষয়টি আগে জানা থাকলে এতো কষ্ট করতে হতো না।’
একই রকম কথা বলেন সালথা থেকে আসা আরেক বিচারপ্রার্থী। তিনি বলেন, আদালতে বিজ্ঞ বিচারক ও আইনজীবীদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। কারণ আদালতে যে পরিমাণ মামলার জট তাতে যদি এভাবে আইনজীবীরা কর্মসূচি দেন তাহলে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
উল্লেখ্য, ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল থেকে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করে।