ফরিদপুর
ফরিদপুরে কারাবন্দিসহ পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১৭৯৮৮ জন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরে জেলা কারাগারের বন্দিসহ মোট ১৭ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।
এর মধ্যে জেলখানার ৫২ জন বন্দি ও ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। এই প্রথম কারাগার থেকে বন্দি ও কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ভোটাধিকার প্রয়োগকারী ৫২ জন বন্দির মধ্যে ২ জন নারী বন্দিও রয়েছেন।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেলা কারাগারে মোট ১ হাজার ২৪৪ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ জন নারী বন্দি আছেন।
মোট বন্দির মধ্যে ৫২ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে ১০ জন হাজতি ও ৪২ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছেন। আগ্রহী দুইজন নারী বন্দিও সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।
জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর হাজতি ও কয়েদিদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আগ্রহী বন্দিদের কাছ থেকে আবেদনপত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য কারাগারের ভেতরে কয়েদিদের জন্য দুইটি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বুথ স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, জেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যেই আমরা এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটে অংশ নেবেন ভোটাররা।
২ দিন আগে
কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ফরিদপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফিরলেন আইনজীবীরা
ফরিদপুরে আইনজীবীরা ‘কোর্ট বর্জন’ করায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বৈঠকের পর বিচার কার্যক্রম সচল হয়েছে।
ফরিদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানিয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আজ (বুধবার) দুপুর পর্যন্ত চলে বলে জানিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু।
তিনি বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।’
তাই আইনজীবী সমিতি গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান তিনি।
আইনজীবী পিলু বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা ও দায়রা মহোদয়ের আহ্বানে আমরা সমিতির কর্মকর্তা, সিনিয়র আইনজীবী ও বিজ্ঞ বিচারকগণ দীর্ঘ বৈঠক হয়। পরে বিচার বিভাগ আইনজীবী সমিতির দাবির বিষয়টি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন এবং তাদের অনুরোধে আইনজীবীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।’
বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি:
এদিকে, আদালতের চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন বিচারপ্রার্থীরা।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা আদালতের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকলেও আইনজীবীরা না আসায় আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম শুরু হতে দেখা যায়নি।
জেলার আলফাডাঙ্গা থেকে আসা এক বিচার প্রার্থী বলেন, ‘এই আদালতে আইনজীবীদের কোর্ট বর্জন চলছে এটা জানা ছিল না, আমি ৫৫-৬০ কিলোমিটার দূর থেকে শহরে এসেছি । বিষয়টি আগে জানা থাকলে এতো কষ্ট করতে হতো না।’
একই রকম কথা বলেন সালথা থেকে আসা আরেক বিচারপ্রার্থী। তিনি বলেন, আদালতে বিজ্ঞ বিচারক ও আইনজীবীদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। কারণ আদালতে যে পরিমাণ মামলার জট তাতে যদি এভাবে আইনজীবীরা কর্মসূচি দেন তাহলে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
উল্লেখ্য, ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল থেকে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করে।
৭ দিন আগে
ফরিদপুরে বিচারকের আচরণ ঘিরে চলছে আইনজীবীদের আদালত বর্জন
ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজও (বুধবার) আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধানে আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার।
সমিতির সভাপতি আইনজীবী খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সমিতি এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ সহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) কোর্ট বর্জন ঘোষণার পরই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান কিছু মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আইনজীবীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন, এটি শুধু আদালতে কর্মপরিবেশের মান রক্ষা নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এটি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহ্বায়ক আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন জানান, ফরিদপুরের আইনজীবী সমাজ এই প্রেক্ষাপটে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যাতে আদালতের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা বলছেন, আদালত হলো ন্যায়ের শেষ ঠিকানা, আর সেখানে সকল পক্ষের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ অপরিহার্য।
৭ দিন আগে
ফরিদপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কে নয়াপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের সহকারী নিহত হন। এ সময় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। নিহত দুইজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১১ দিন আগে
ফরিদপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১
ফরিদপুরের মধুখালীতে অবৈধভাবে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ডুমাইন গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী।
মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে আটক হন ওই গ্রামের বাদল সরকার (৫২)।
অভিযানে বাদলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজের কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, ২টি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, ব্লোয়ার ও হ্যাকসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
সেনা সূত্রে জানা যায়, ডুমাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সেনাবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যে খবর পায়, বাদল নিজস্ব ওয়ার্কশপে নিয়মিতভাবে অস্ত্র তৈরি করতেন এবং এসব অস্ত্র ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার দুর্বৃত্তদের কাছে সরবরাহ করতেন। সম্প্রতি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে বলেও জানান সেনাবাহিনীর এক সদস্য।
সেনা ক্যাম্প সূত্র আরও জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, বাদলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। অভিযানের পর উদ্ধার অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ তাকে মধুখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে বাদলের বিরুদ্ধে। তাকে আজ (শনিবার) আদালতে পাঠানো হবে।
১১ দিন আগে
ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত নারী-পুরুষ মিলিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সড়ইবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের শুরুর দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। ফলে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ আসার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আরও সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাজুড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দিনে দুই দফায় তালুকদার গ্রুপের লোকজন অন্যায়ভাবে খান গ্রুপের লোকজনকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে শুরু হয় পাল্টা হামলা।
তবে পুলিশের সঠিক তৎপরতা থাকলে ঘটনা এতদূর গড়াত না বলে দাবি তাদের। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া কবির মাতুব্বর জানান, গত পরশুদিন (রবিবার) তার পক্ষের লোকজনকে মারধর, বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষ তালুকদারের লোকজন। তার জের ধরে আজকে (মঙ্গলবার) এ সংঘর্ষ হয়।
প্রতিপক্ষের হাবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে, তার পক্ষের শওকত হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আজও তার জেরেই সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তাদের পক্ষের প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, হাবিবুর রহমান তালুকদার ও কবির খান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ২ দিন আগে কবির খানের পক্ষের লোক শহীদ খানকে গ্রামের রাস্তার ওপরে বেদম মারধর করে। তারপর গত দুই দিনে এই নিয়ে দুই দফায় কবির খানের পক্ষের লোকজনের বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়। সেসব ঘটনার জের ধরেই আজ (মঙ্গলবার) সকালে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান দুই পক্ষের লোকজন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আহতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে সকাল ১০টার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
২২ দিন আগে
ফরিদপুরে শ্রমিকবাহী পিকআপে ট্রেনের ধাক্কা, তিনজন নিহত
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের সঙ্গে জুট মিলের শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কা লেগে আপন দুই ভাইসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার সোতাশী রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. জব্বার মোল্যা ও মো. মুছা মোল্যা আপন ভাই। তারা ময়না ইউনিয়নের বিলকরাইল গ্রামের ছায়ফার মোল্যার ছেলে ছিলেন। অপরজন একই গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী জাহানারা বেগম।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে। আরও ৫ জনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ দুপুর আড়াইটার দিকে কালুখালী থেকে ছেড়ে আসা ভাটিয়াপাড়াগামী লোকাল ট্রেন সোতাশীর ধলা হুজুরের বাড়ির কাছে রেলগেট পার হওয়ার সময় জনতা জুট মিলের শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় জব্বার, মুছা ও জাহানারা বেগম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
২৩ দিন আগে
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবির, সাধারণ সম্পাদক পিয়াল
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক পদে মাহাবুব হোসেন পিয়াল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মফিজুর রহমান শিপন পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) প্রেসক্লাব নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ সালাম জানান, নির্বাচনি তফসিল মোতাবেক ফরিদপুর প্রেসক্লাবের কাযনির্বাহী কমিটির ১৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় উক্ত পদে ১৮ জন প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। এতে কবির-পিয়াল-শিপন পরিষদ ছাড়া অন্য কেউ প্রার্থী না হওয়ায় তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন: সভাপতি দৈনিক নাগরিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক পদে স্থানীয় দৈনিক ফতেহাবাদের মাহাবুর হোসেন পিয়াল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বার্তা সংস্থা ইউএনবি, এখন টেলিভিশন ও বিডি নিউজের জেলা প্রতিনিধি মফিজুর রহমান শিপন।
এ ছাড়াও সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন গাজী টিভির শেখ মনির হোসেন, দৈনিক দিনকালের নুরুল ইসলাম আঞ্জু, ও দৈনিক সংগ্রামের আশরাফুজ্জামান দুলাল; অর্থ সম্পাদক পদে চ্যানেল আইয়ের শাহাদাত হোসেন তিতু, দপ্তর সম্পাদক ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির মাসুদুর রহমান তরুণ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দৈনিক ভোরের কাগজের বিভাষ দত্ত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পাঠাগার সম্পাদক আজকের সারাদেশের মুইজ্জুর রহমান খান, প্রচার প্রকাশনায় দৈনিক জনকণ্ঠের আবিদুর রহমান নিপু, ক্রীড়া সম্পাদক দৈনিক আজকের পত্রিকার শ্রাবন হাসান।
কমিটির নির্বাহী সদস্যরা হলেন: মানিক দাস (ভোরের রানার), বি কে সিকদার সজল (সময় টিভি), রুহুল আমীন (বৈশাখী.কম), এস এম রুবেল (কুমার), এস এম জাহিদ (বুদ্ধিযুদ্ধ) ও নির্মল কুমার বিশ্বাস নয়ন (জাগো নিউজ)।
৩৭ দিন আগে
ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী নিহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ট্রাকের চাপায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসরাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার রহমতুল্লাহর ছেলে সাকিবুর রহমান নিশান (২৭) ও তার বোন রুকাইয়া আক্তার নীলা (৩২) এবং রুকাইয়ার স্বামী মিজানুর রহমান (৪০)।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক কৃষ্ণ দাস (৫৫)। তিনি যশোর জেলার সোনাডাঙ্গা থানার বিষ্ণু দাসের ছেলে। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মিজানুর রহমান কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তারপর থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে তার স্ত্রী ও শ্যালক অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মুনসরাবাদ এলাকায় খুলনাগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে ওই অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং চালকসহ আহত হন আরও দুইজন।
খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ, স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে তা স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৩৯ দিন আগে
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মোটরসাইকেলআরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দুই আপন ভাই।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সুমন (২৫) ও তার ভাই ইমন (২২)। তারা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী মোহাম্মদপুরের করিম মন্ডলের ছেলে। আরেকজন হলেন আশিক মোল্লা (২২)।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি যানবাহন মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সুমন ও ইমন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আশিককে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সার্জেন্ট রাসেলকে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটিকে একটি অজ্ঞাত গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ আজ (রবিবার) সকালে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধী গাড়িটি ও তার চালককে শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
৫৯ দিন আগে