হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৭ মার্চ থেকে এই হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ মাস বয়সী ২ শিশু, ৩ মাস বয়সী এক শিশু ও আট মাস বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৯৪ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, নিহত চার শিশুর মধ্যে দুই শিশু ময়মনসিংহের বাসিন্দা। তার মধ্যে হালুয়াঘাটের শাপলা বাজার এলাকার চারমাস বয়সী শিশুকে ১৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে ফুলপুর উপজেলার পলাশকান্দা এলাকার বাসিন্দা তিনমাস বয়সী শিশুকে গতকাল সকালে ভর্তি করলে সন্ধ্যার দিকে মারা যায়।
অপর দুই শিশুর একজন নেত্রকোনার কলমাকান্দার মাইশাচর গ্রামের চারমাস বয়সী। তাকে ১৬ জুন ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও গতকাল মারা যায়। অপর আটমাস বয়সী শিশু সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাকে গত ৮ জুন ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২ হাজার ২২৬ শিশু। আর মৃত্যু হয়েছে ৫৮ শিশুর।
ডা. মো. গোলাম মাওলা আরও বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের আইসিইউ এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।