নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ সদর হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মরদেহ রেখে তারা সরে পড়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলিম্যান বাপ্পি জানান, ভোরের দিকে একটি পিকআপ ভ্যানে করে দুজন লোক মরদেহটি নিয়ে আসে। এরপর জরুরি বিভাগের সামনে গাড়ি থেকে মরদেহটি ট্রলির ওপর ফেলে তারা চলে যায়। পরে তাকে ট্রলিতে উঠিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ওই দুই লোক পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে তাদের অনেক ডাকাডাকি করেছি, কিন্তু তারা না শুনে দ্রুতই সটকে পড়ে।
নিহতের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে জেলার মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশে এসেছিলেন জুনায়েদ। ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভ্যান ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ হাসপাতালের সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জুনায়েদের পরিচয় নিশ্চিত করে নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কমিশনার রাশেদ আহম্মেদ জানান, জুনায়েদের বাড়ি পিরোজপুর জেলার বলিহারী গ্রামে। তার বাবার নাম মনজুরুল হক। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা কাস্টমসে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী নওগাঁর একটি কলেজের শিক্ষিকা। আজ (বুধবার) সকালে ট্রেনে করে ঢাকা থেকে সান্তাহারে নামেন। এরপর আর কিছু জানা যায়নি। পরে হাসপাতালে থেকে তার পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
২৫০ শয্যা নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেহেনুমা মুনমুন বলেন, জুনায়েদকে মৃত অবস্থায় পাই আমরা। প্রাথমিকভাবে তার হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের স্ত্রী থানায় এসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। কারা তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে পালিয়ে গেছে, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।