পাকিস্তান
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলায় ৪০০ জন নিহতের দাবি, ইসলামাবাদের অস্বীকার
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছে আফগানিস্তান।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ভেতর সংঘাতের ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় ঘটনা। এই সময়ে সীমান্তে বারবার সংঘর্ষসহ আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো বারবার সংযম প্রদর্শন ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনও তা আমলে নেয়নি যুদ্ধরত এ দুই দেশ।
তবে সর্বশেষ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান বলেছে, তারা কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা করেনি। ইসলামাবাদের দাবি, পূর্ব আফগানিস্তানে তারা যে হামলা চালিয়েছে, সেগুলোতেও কোনো বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
আফগানিস্তান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এক এক্স পোস্টে জানান, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের ওই হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। হামলায় ২ হাজার শয্যার ওই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০০ জন এবং আরও অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর এক্সে প্রকাশিত ভিডিও থেকে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী সার্চলাইট ব্যবহার করে হতাহতদের সরিয়ে নিচ্ছে এবং অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
ফিতরাত জানান, উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মরদেহ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এ হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে আফগানিস্তানের চারজন নিহত হয়েছেন।
এর মাধ্যমে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ-সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করল।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স পোস্টে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।
নিহতের সংখ্যা যে এত বেশি, তা সামনে আসার আগেই এক এক্স পোস্টে তিনি বলেছিলেন, যারা এই বর্বর হামলার শিকার হয়েছেন, তারা সবাই ওই হাসপাতালের রোগী ছিলেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি স্বীকৃত নীতিমালা ও মানবতার বিরুদ্ধ অপরাধ।’
অভিযোগ অস্বীকার পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মুশাররফ জায়েদি রীতিমত অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, কাবুলের কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে তার এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্টে জানান, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী একটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়ে কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধু সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, কাবুলের দুটি জায়গায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, ‘সকল লক্ষ্যবস্তুই পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু যেসব অবকাঠামো আফগান তালেবান সরকার এবং তার সন্ত্রাসীদলগুলোকে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে সাহায্য করবে, সেগুলোই আমাদের লক্ষ্যবস্তু।’
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ও আফগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অযোোজানায়জাবিহুল্লাহের দাবি পুরোপুরি মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। এটি জনমত প্রভাবিত করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অবৈধ সমর্থন ঢাকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এ হামলা ছিল মূলত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত। সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক কোনো স্থাপনায় হামলা কখনোই তাদের অভিপ্রায় ছিল না।’
জঙ্গি দমনে পদক্ষেপ নিতে আফগানিস্তানকে জাতিসংঘের আহ্বান
পাকিস্তানের এই হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসবাদ দমনে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এতে পাকিস্তানে সংঘটিত নির্দিষ্ট হামলার উল্লেখ না থাকলেও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে সন্ত্রাসী হামলাগুলোকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানি তালেবানরাও (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি) আছে, যারা পাকিস্তানের ভেতরে মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, তারা টিটিপিকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে, যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ ছাড়াও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য জঙ্গিদেরও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাবুল।
৪ দিন আগে
পাকিস্তানে ঈদের ভাতা নিতে গিয়ে ছাদ ধসে ৮ নারী নিহত
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে সরকারি কল্যাণ ভাতা নিতে জড়ো হওয়া নারীদের ভিড়ের মধ্যে একটি দোকানের ছাদ ধসে অন্তত আটজন নারী নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এ ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
উদ্ধারকর্মী আশিক মাহমুদ জানান, শতাধিক নারী ভাতা নিতে সেখানে জড়ো হলে দোকানদার কিছু নারীকে ছাদের ওপর উঠতে বলেন এবং অন্যরা দোকানের ভেতরে অবস্থান করেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে ছাদটি ধসে পড়ে।
পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলায় এসব নারী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আর্থিক সহায়তা নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
২০০৭ সালে বন্দুক ও বোমা হামলায় নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর নামে চালু করা বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামের আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো নিম্নআয়ের পরিবারের নারী নগদ সহায়তা পেয়ে থাকেন। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি তিন মাসে ১৩ হাজার রুপি (প্রায় ৪৫ ডলার) করে পায়।
রমজান মাসে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য ও নগদ সহায়তা বিতরণের সময় পাকিস্তানে প্রায়ই ভিড় ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে করাচিতে একটি কারখানার বাইরে রমজানের খাদ্য ও নগদ সহায়তা নিতে গিয়ে শত শত মানুষ ভিড় করলে পদদলনে অন্তত ১১ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছিল।
৬ দিন আগে
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১১ রানের জয়ে ইতিহাস গড়ে সিরিজ নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
সোমবার (১৬ মার্চ) তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক অভিনন্দন বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্রিকেটারদের এই অদম্য স্পৃহা এবং লড়াকু মানসিকতায় আমি অত্যন্ত গর্বিত। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়রা যে ধৈর্য ও সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তা পুরো জাতিকে আনন্দিত করেছে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচ ও বোর্ড-সংশ্লিষ্ট সকলকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের এই জয়ের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী দল হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
৬ দিন আগে
এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন-বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী বৈঠক থেকে ফিরে এসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা দুঃখজনক ব্যাপার। আমরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কিছু বলছি না, আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করছি যে, এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গলকর নয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নানগরহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকেই দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই দেশ।
এরপর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি বহর নিয়ে কার্যত মুখোমুখি লড়াই করেছে পাকিস্তানের সেনা এবং আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী।
গতকাল (শুক্রবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, দুই দেশ এখন ‘খোলামেলা যুদ্ধে’ লিপ্ত।
এ কিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মুসা কুলাক্লিকায়া এবং সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজির সঙ্গে পৃথক পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্ক সনদে অন্তর্ভুক্ত নীতিমালা—সার্বভৌম সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ এসবের প্রতি বাংলাদেশের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
২২ দিন আগে
আফগান সীমান্তে হামলায় ৭০ জঙ্গিকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহতের দাবি করেছে ইসলামাবাদ। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ বিমান হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, দেশের ভেতরে সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী পাকিস্তানি জঙ্গিদের আস্তানাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে কাবুল এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালাল চৌধুরী অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানান। তবে সে সময় তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। এতে একটি মাদরাসা ও একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের ৭০ জন জঙ্গি নিহতের দাবি সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নানগারহার প্রদেশে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মাওলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ জানান, এ বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুনরায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
রবিবার রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণকে রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক এ অভিযান চালানো হয়েছে। কাবুলকে বারবার সতর্ক করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জারদারি সতর্ক করে বলেছিলেন, তালেবান নেতৃত্বধীন সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগের সময়ের মতো বা তার চেয়েও খারাপ।
এক বিবৃতিতে জারদারি জানান, পাকিস্তান কেবল সীমান্তবর্তী আস্তানায় হামলা চালিয়ে সংযম দেখিয়েছে। তবে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার জন্য দায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা হলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো আপস নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের হামলার প্রতিবাদে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা ইসলামিক আমিরাতের শরিয়াভিত্তিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের হামলার পরিণতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।
রবিবার নানগারহারে বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা যায় স্থানীয়দের। সে সময় নিহতদের দাফনের প্রস্তুতিও চলছিল।
স্থানীয় নেতা হাবিব উল্লাহ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, নিহতরা জঙ্গি ছিল না। তারা দরিদ্র সাধারণ মানুষ ছিল। যারা নিহত হয়েছে তারা তালেবান, সামরিক বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সরকারের কেউ নয়। তারা গ্রামে সাধারণ জীবনযাপন করত।
এর আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৭টি আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাই করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সব সময় চেষ্টা করেছে, তবে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
২৭ দিন আগে
তারেক রহমানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভূমিধ্বস বিজয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করায় আমি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। নির্বাচন সফল করায় বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানাই।
‘আমাদের ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্যে আমি বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে বাংলাদেশের। দীর্ঘ ১৪ বছরের পর গত মাসের শেষের দিকে ঢাকা থেকে করাচিতে আকাশপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ শুরু হয়।
কয়েক মাস আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঢাকা সফর করেন।
এছাড়া বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারাও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩৭ দিন আগে
ইসলামাবাদে মসজিদে বোমা হামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ ৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে প্রদেশের নওশেরা জেলার হাকিমাবাদ এলাকায় অভিযান চালায় দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়। এতে পুলিশের ১ জন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত এবং ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে যুক্ত আফগান মাস্টারমাইন্ডও রয়েছেন।
নওশেরা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ইসলামাবাদে বোমা হামলায় সহায়তাকারীদের সন্ধানে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গোলাগুলিতে পুলিশের ১ জন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হন।
এ বিষয়ে গতকাল (শনিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী বলেন, ‘হামলার পেছনের জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে গতরাতজুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে।’ সন্ত্রাস দমন বিভাগ (সিটিডি) এবং খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরীক্ষামূলক ঘটনা।’ তবে অভিযানে সাফল্যের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন তিনি। ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নকভী বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর নওশেরা এবং পেশোয়ারে অভিযান চালিয়ে হামলায় সহায়তাকারী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন একজন আফগান নাগরিক। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় প্রাদেশিক পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হয়েছেন এবং অন্যরা আহত হয়েছেন। মূল পরিকল্পনাকারী দায়েশের সঙ্গে যুক্ত এবং আমাদের হেফাজতে রয়েছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ ‘দায়েশ আফগানিস্তান’ নামের জঙ্গি গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশেই (ভারত) তা পরিচালিত হয়েছে। আমাদের কাছে লোক আছে যারা আমাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছে। হামলাকারীরা কীভাবে সেখানে গিয়েছিল এবং কীভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, সব জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরে বলে আসছি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), আফগান তালেবান, দায়েশ বা অন্যান্য খারজি সন্ত্রাসী সংগঠ সবাই একসঙ্গে কাজ করছে।
‘জনসাধারণের কাছে আমার দুটি অনুরোধ রয়েছে। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি; সেটা বেলুচিস্তান, খায়বার পাখতুনখোয়া বা অন্য যেখানেই হোক। এই সময়ে জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ তাদের সম্প্রদায়ে বসবাসকারী কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পর্কে জানতে পারবেন, তখনই পুলিশে খবর দিন।’
এই ব্যবস্থা সক্রিয় হলে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
এ সময় পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, গতরাতে আমি একজনের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছি, যেখানে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কোথায় ছিল এবং কেন এ ঘটনাটি ঘটেছে। আমি আপনাকে বলতে পারি, যদি একটি বিস্ফোরণ ঘটে থাকে, তবে আরও অন্তত ৯৯টি বিস্ফোরণ ঘটতে দেয়নি আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
‘আমি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের বলেছি যে তাদের এসব সাফল্যের কথা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া উচিত। এটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মাঝে একটি শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দায়েশ এবং তালেবানের নাম উঠে আসছে, কিন্তু এর পেছনে কেউ রয়েছে, যারা তাদের অর্থায়ন করছে। আগে তারা ৫০০ ডলার পেত, কিন্তু এখন তারা ১৫০০ ডলার পাচ্ছে। তাদের বাজেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি, তাদের সমস্ত অর্থায়ন ভারত থেকে আসে। ভারত তাদের সমস্ত লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে দিচ্ছে; তারা পর্দার আড়ালে প্রতিটি পরিকল্পনা করছে। এই সংগঠনগুলো সামনে রেখে ভারত পেছনে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব আপাতত চুপ থাকতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে একমত হবে। বিনামূল্যে কিছুই ঘটে না এবং এসব হামলার জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন হয়। আমরা এই বিষয়টি জানি এবং এই বিষয়টি সকল আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া আমাদের কর্তব্য।’
এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করবেন বলে জানান, যাতে বিদেশি মিশনগুলো ভারতের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে অন্যান্য দেশগুলোকে অবহিত করতে পারে।
জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি ভারত এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে, তাহলে তাদের ছেড়ে দিন। কিন্তু আমরা এসব হামলা বন্ধ করব; এমনকি যদি তারা তাদের বাজেট দশ গুণ বৃদ্ধি করে, তবুও আমাদের পদক্ষেপে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া দায়েশের কর্মীর পদমর্যাদা সম্পর্কে জানতে চাইলে নকভী বলেন, যথাসময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইসলামাবাদের খাদিজা আল-কুবরা এলাকার ওই মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৬৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যদিও ইসলামাবাদে সচারচার হামলা হয় না, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানজুড়েই জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে ‘বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এবং ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানদের দায়ী করা হয়। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবানদের কোনো শাখা না হলেও তাদের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সখ্যতা রয়েছে। এছাড়া ইসলামিক স্টেটের একটি আঞ্চলিক সহযোগীও পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। পাকিস্তানে বর্তমানে পশ্চিমা মিত্র সরকার দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ন্ত্রণে আানার চেষ্টা করছে।
২০০৮ সালে রাজধানীর ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর ইসলামাবাদে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ওই হামলায় ৬৩ জন নিহত এবং আড়াই শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ ছাড়া গত নভেম্বরেও ইসলামাবাদের একটি আদালত চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন নিহত হয়।
৪২ দিন আগে
ভারত ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের ‘চিন্তাপ্রসূত’ সিদ্ধান্ত: শাহবাজ শরিফ
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবেই বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। খেলার মাঠে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়, সে কারণেই আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। এটি আমাদের ভেবেচিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, আমাদের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’
বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা আমলে না নিয়ে তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। এরপরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। তবে সিদ্ধান্তটি গত সপ্তাহে ঘোষণা করা হলেও এর কারণ এই প্রথম প্রকাশ করল দেশটির সরকার।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে পর্দা উঠছে ২০২৬ আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ভারত ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান দল।
গত ৩ জানুয়ারি ভারতের উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। মূলত এ কারণেই ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। পরদিনই আইসিসিকে অনুরোধ করা হয় ভেন্যু বদল করে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ রাখার জন্য। তবে মোস্তাফিজের ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ উল্লেখ করে আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ‘আইসিসি ভারতে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নেয়নি, ভারত সরকারও নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকার পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নিয়েছে।’
এ ঘটনায় পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আইসিসির সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। এর আগে, আইসিসি বোর্ড সভায় ভেন্যু বদলের ভোটাভুটিতেও বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন নাকভি।
৪৫ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শোক
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক্সে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় শাহবাজ শরিফ খালেদা জিয়াকে ‘পাকিস্তানের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিতে তার আজীবন সেবা এক দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছে।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বেগম জিয়া পাকিস্তানের একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু ছিলেন। শোকের এই মুহূর্তে আমার সরকার ও পাকিস্তানের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে।।’
তিনি খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
৮২ দিন আগে
কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব, সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইল পিটিআই
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাগারে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে পিটিআই। পাশাপাশি অবিলম্বে ইমরান খান ও তার পরিবারের মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার ইমরান খানের সঙ্গে তার বোনদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী কোথায় এবং কেমন আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোনেরা। এ ছাড়া তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিতে আদিয়ালা কারাগারের বাইরে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করছেন তারা।
এদিকে, বেশ কিছু এক্স অ্যাকাউন্ট (সাবেক টুইটার) থেকে তার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে এক্স-এ ‘Where is Imran Khan?’ বা ‘ইমরান খান কোথায়?’ ট্রেন্ড চলছিল।
এ বিষয়ে আজ সকালে এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে পিটিআই জানায়, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আফগান ও ভারতীয় গণমাধ্যমসহ বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ‘নিকৃষ্ট প্রকৃতির গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে।
দলটির দাবি, ‘বর্তমান সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ও পরিষ্কারভাবে এসব গুজব খণ্ডন করে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিক। সেই সঙ্গে ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করুক।
‘ইমরান খানের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া উচিত।’
এ ছাড়া, যারা ‘সংবেদনশীল’ এসব গুজব ছড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ‘জাতির সামনে সত্য উপস্থাপন করার’ দাবিও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে পিটিআই আরও বলেছে, ‘জাতি তাদের নেতার (ইমরান খান) অবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা সহ্য করবে না। ইমরানের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।’
একই সঙ্গে দলটি ‘এসব গুজবের মোকাবিলা এবং সত্য উন্মোচনে সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, আজ দুপুরে পিটিআই নেতা ও পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির মেয়ে মেহের বানো কুরেশি এক্স-এ লিখেছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো গুজব উদ্বেগজনক।
তিনি বলেছেন, ‘খান সাহেবের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের এবং জাতির সামনে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও তাদের রয়েছে। এসব গুজবের সমাপ্তি টানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হচ্ছে তার বোনদের, আইনজীবী ও দলীয় সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া।’
এর আগে, গতকাল (বুধবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পিএমএল-এন নেতা খাজা আসিফ এক্স-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ কারাগারে থাকাকালীন সুযোগ-সুবিধা দাবি করায় সমালোচনা করেছিলেন ইমরান খান। অথচ, তিনি নিজেই জেলকক্ষে টিভি ব্যবহার করেন। তার খাবারও আসে কারাগারের বাইরে থেকে। সেখানে তার জন্য ব্যায়াম করার যন্ত্রপাতিও রয়েছে।
নিজের কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ বলেন, ‘আমরা ঠান্ডা মেঝেতে ঘুমাতাম। জেলের রান্না করা খাবারই খেতাম। জানুয়ারি মাসে আমাদের মাত্র দুটি কম্বল দেওয়া হয়। গরম পানি ব্যবহারের কোনো সুযোগ ছিল না।’
এর বিপরীতে ইমরানের জন্য ‘ডবল বেড ও মখমলের বিছানা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জেল সুপার নিজেই ইমরানের দেখভাল করেন।
আসিফ আরও বলেন, ‘ইমরান খানের উচিত কারাগারের লাউডস্পিকারে তার নিজের বক্তৃতাগুলো শোনা। তার খোদাকে ভয় করা উচিত।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। ক্ষমতা হারানোর পর দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
১১৫ দিন আগে