অপহরণ
জামালপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে আট লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মাহমুদুল হাসান ওরফে সাকিল (২৯) শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগী পাবেন বলে রায়ে জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ মে রাত পৌনে ৮টার দিকে দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বাড়ির কাছের রাস্তা থেকে অপহরণ করেন সাকিল। পরে শ্রীবরদীতে একটি বাড়িতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর তিনি ভুক্তোভোগীকে প্রথমে রংপুর এবং পরবর্তীতে গাজীপুরের টঙ্গীর দেউরা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করতে থাকেন।
এদিকে মেয়ের খোঁজ না পেয়ে ঘটনার দিন রাতেই ভুক্তভোগীর বাবা দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। অপহরণের সাত দিন পর ১৯ মে দিবাগত রাতে দেউরা এলাকায় আসামির ভাড়া বাসা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
পরদিন ভুক্তভোগীর বাবা সাকিলকে আসামি করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পাঁচজন সাক্ষির সাক্ষ্য নেন আদালত।
২ দিন আগে
কক্সবাজারে ‘অপহরণের’ ৪ ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসফাতুল ইসলাম জিসানের (২৮) হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর চার ঘণ্টা আগে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাকারা সাবের সদর এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা জিসানকে তুলে নিয়ে যান। এরপর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন করে হত্যার পর দেহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যান হত্যাকারীরা।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন, ‘জিসান ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হলে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহত জিসানের দেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর কাকারা ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
৩৬ দিন আগে
খুলনা থেকে ‘অপহৃত’ কলেজছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খুলনা থেকে অপহরণের দাবি করা এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব-৯। এ ঘটনায় খুলনায় হওয়া একটি অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ইমরান মোল্ল্যাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ইমরান মোল্ল্যা খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব জানিয়েছে, খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একাদশ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ইমরান তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে বিভিন্ন সময় তাকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে না এলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন তারা জানতে পারেন, কলেজের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় মামলা করেন।
র্যাব জানায়, মামলার পর তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (রবিবার) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানাধীন আম্বরখানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মামলার প্রধান পলাতক আসামি ইমরান মোল্ল্যাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৫০ দিন আগে
চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত কটেজ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৮
চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে মহামায়া লেক এলাকায় বন বিভাগের পরিত্যক্ত কটেজ থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী মো. হেলাল উদ্দিন (৩৬) হাটহাজারী এলাকার বাসিন্দা এবং পাঁচলাইশ থানার শুলকবহর রওশন বোর্ডিং সংলগ্ন একটি গাড়ির গ্যারেজ পরিচালনা করেন।
অন্যদিকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হাশেম (৫২) ছাড়াও ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় আকরাম (৩৪), শান্ত মিয়া (৩২), মঈন উদ্দিন রায়হান (২৯), আমজাদ হোসেন (৩৫), মাহবুব রহমান (২৬), মানিক হোসেন (৩০) ও মো. ফারুককে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবুল হাশেম ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিনের পূর্বপরিচিত ও ব্যবসায়িক অংশীদার। তিনি ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা হেলাল বিভিন্ন সময়ে পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আবুল হাশেম বেশ কিছুদিন ধরে হেলালকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে আবুল হাশেমসহ কয়েকজন শুলকবহর রওশন বোর্ডিংয়ের সামনে যান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে হেলাল উদ্দিনকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর সকালে হেলালের মোবাইল নম্বর থেকে স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে ফোনে করে অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে হেলালকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়।
এ ঘটনায় জেসমিন আক্তার ওই দিনই দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করলে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ তদন্তে নামে। পরে পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের সহায়তায় গতকাল (বুধবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকা থেকে শান্ত মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আবুল হাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানার লতিফপুর এলাকা থেকে আকরামকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে হেলাল উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শান্ত ও আকরামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, হেলালকে জোরারগঞ্জের মহামায়া লেক এলাকায় রাখা হয়েছে। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে মীরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ওই এলাকায় বন বিভাগের একটি পরিত্যক্ত কটেজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মঈন উদ্দিন রায়হান, আমজাদ হোসেন, মাহবুব রহমান, মানিক হোসেন ও ফারুককে গ্রেপ্তার এবং হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ব্যবসায়িক পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হেলালকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আবুল হাশেম ও আকরাম মিলে শান্ত মিয়াকে এক লাখ টাকা দিয়ে অন্যদের ভাড়া করে অপহরণে সম্পৃক্ত করেন বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
৫৪ দিন আগে
যশোর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯-এর অভিযানে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে (২০) সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করেছে র্যাব।
সোমবার (৩ আগস্ট) র্যাব-৯ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ ইফাদ (২০) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, অপহৃত ছাত্রী যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন চণ্ডীপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইফাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, স্কুলে যাওয়ার পথে চণ্ডীপুর মাদরাসা মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুল্লাহ ইফাদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে যশোরের বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গত ২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল মাজার গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি এবং উদ্ধার ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৯২ দিন আগে
লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ, ছুরিকাঘাত ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।
রায়ে দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) তিন আসামির প্রত্যেককে পৃথকভাবে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পাটগ্রাম উপজেলার ইসফারমারা (সোনারভিটা) এলাকার সবুজ মিয়া, একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিংয়ের (৩৬) ট্রাকটি বুড়িমারী সড়কে আটকে যায়। ওইদিন দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামিরা পে-লোডার বা ক্রেন দিয়ে ট্রাক উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
পরে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পরবর্তী সময়ে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন।
বিচার শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ (অপহরণ) ও ৩৯৪ (আঘাত করে ছিনতাই) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ তিন আসামির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা নিন্দনীয়। এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
৯৯ দিন আগে
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
সিলেটে এক তরুণীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি জয় দাসকে (২৩) নেত্রকোনা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি)। এ সময় যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহৃত তরুণীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) র্যাব-৯ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার জয় দাস নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার শিবপুর গ্রামের হরিধন দাসের ছেলে।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীকে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন করেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় করেরপাড়া সিটি মডেল স্কুল থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে জয় প্রায়ই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তরুণী তার পরিবারকে জানালে, তার বাবা অভিযুক্তের বোন জামাই রিংকু দাসের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেন। তখন রিংকু দাস ওই তরুণীকে আর বিরক্ত করা হবে না বলে আশ্বাস দেন।
গত ১৬ জুলাই দুপুর ৩টার দিকে ভুক্তভোগী হাওলাদারপাড়ায় তার খালার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি সেখানে না পৌঁছালে তার পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, করেরপাড়া পয়েন্ট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় জয় ও অজ্ঞাতনামা ২ থেকে ৩ জন মিলে জোরপূর্বক ওই তরুণীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।
র্যাব জানায়, এই ঘটনায় তরুণীর বাবা বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার র্যাব-৯ (সদর কোম্পানি) ও এসএমপি পুলিশের একটি যৌথ দল নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জয়কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উদ্ধার হওয়া তরুণী ও গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
১০৪ দিন আগে
লালমনিরহাটে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে এ ঘটনায় বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
মামলার এজাহারে জানা যায়, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান (৪০) গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী ওই স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে তাকে বাগানে ফেলে রেখে যান মোখলেছার। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ভুক্তভোগী ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখে।
ওই ঘটনার পর গত ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় ওই স্কুলছাত্রীকে ডেকে নেন মোখলেছার। পরে স্কুলছাত্রীকে প্রথমে রংপুর নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় রেখে আবারও ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন মোখলেছার। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করে ছুটে গিয়ে বাইরের লোকজনের সহায়তা চার। সেখানের স্থানীয় লোকজন মোখলেছারকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা বুক্তভোগীর কাছ থেকে বাড়ির ফোন নম্বর নিয়ে গাজীপুর থেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
এ ঘটনার অসুস্থ মেয়েটিকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে মোখলেছার ও তার সহযোগী দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন তার বাবা। ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলকার কয়েকজন নারী বলেন, মোখলেছার রহমান খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার ক্ষমতার প্রভাবে তিনি অপকর্ম করে বেড়ান। এ মামলাটিও নষ্ট করতে জোর চেষ্টা করেছিল গ্রাম পুলিশ মহুবর। তার সঙ্গে থানা পুলিশের সম্পর্ক ভালো। এ কারণে বারবার অপরাধ করেও বেঁচে যান মোখলেছার। মোখলেছারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীর বাবার দাবি, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল মোখলেছার। তার বিশ্বাস ছিল, আমার মেয়ে কোনো একদিন ঘটনাটি আমার কাছে প্রকাশ করবে। সেই ভয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে আসামিরা তাকে অপহরণ করে।
তিনি বলেন, আমি অশিক্ষিত গরীব মানুষ, টাকা পয়সা নেই। ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যেতে হবে, সেটাও জানি না। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের ওপর অন্যায়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মামলা করার পর থেকে তাদের লোকজনের হুমকিতে আমাদের জীবন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। আজ (বুধবার) ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতেলে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১১৮ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ৩
খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পানছড়ি-লোগাং সড়কের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধুমঙ্গলপাড়ায় একটি অটোরিকশা থামিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে কাছ থেকে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন আগে জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সদস্য ছিলেন। তিনি গত ১৯ মে বিজিবি ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিহতরা হলেন— পদ্মা চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) এবং রিয়েল চাকমা (১৮)। পদ্মা ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙ্গামাটিতে এবং রিয়েল চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির পানছড়িতে। পদ্মা চাকমা সাংগঠনিক নামে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দুইজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হলেও তাদের পরিচয় বা অপহরণের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর পানছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক আইচ্যুক ত্রিপুরা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আবার, অন্য কোনো পক্ষেরও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি মিসফায়ার গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং চারটি গুলি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
১২০ দিন আগে
দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা: সাংবাদিকসহ গ্রেপ্তার ৩
দিনাজপুরের হাকিমপুরে একজন যুবককে অপহরণ এবং ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় নাগরিক টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি তাহাকিক হাসানসহ আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা এলাকা থেকে ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, গত ২ জুলাই ইউসুফ ও মোজাম্মেল হোসেন মুকুল নামে আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার তাহাকিক হাসান হাকিমপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)অভা জাকির জানান, জীবনানন্দ সরকার নামের একজন ‘টি বয়’-কে গত ৩০ মে অপহরণ করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শাটারে তালা মেরে ভেতরে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন অপহরণকারীরা। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন জীবনানন্দের বাবা মনিন্দ্রনাথ সরকার। এরপর প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর অভিযান চালিয়ে ওই দোকানের ভেতরে আটকাবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় জিম্মিকে পাহারা দেওয়া ইউসুফ এবং মোজাম্মেল হোসেন মুকুল নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। এরপর মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্যরা আত্মগোপন হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার সাংবাদিক তাহাকিক হাসানের ভাই মেহেদি হাসান ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে স্বর্ণ চোরাচালানেরর মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, অপহরণের শিকার জীবনানন্দ সরকার ‘টি বয়’ হিসেবে কাজ করতেন। তার পরিবারের পক্ষে ১৮ লাখ দূরের কথা ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার সক্ষমতা নেই। তাছাড়া জীবনানন্দ সরকারের কাছে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নিয়েছেন অপহরণকারীরা। সব বিষয় মাথায় রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার ৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
১২২ দিন আগে