বজ্রপাত
বজ্রপাতে তিন জেলায় ৫ প্রাণহানির খবর
সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতে পৃথক স্থানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই মাঠে ধান কাটা ও কৃষিকাজে নিয়োজিত ছিলেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় এ ঘটনাগুলো ঘটে বলে ইউএনবির জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
নওগাঁয় তিন কৃষক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিন কৃষক নিহত হয়েছেন।
আজ (বুধবার) বিকেলে ধান কাটার সময় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, উপজেলার কুড়াপাড়া গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দিলীপ চন্দ্র বর্মন নামে এক কৃষক নিহত হন।
অন্যদিকে, নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, এ উপজেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাজিনগর ইউনিয়নে ধান কাটার সময় রফিকুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে শ্রমিকের কাজ করতে এসেছিলেন।
এছাড়া চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ধান ঘরে তোলার সময় বজ্রপাতে অনুকূল চন্দ্র মোহন্ত নামে এক ব্যক্তি মারা যান।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত এই তিন ব্যক্তির পরিবারকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রামে ধান কাটতে গিয়ে প্রাণহানি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে মো. ওবাইদুল হক (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
আজ দুপুরে উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে নিজের জমিতে ধান কাটার সময় বৃষ্টির সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, এ বিষয়ে এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
লালমনিরহাটে ভুট্টাখেত থেকে ফেরার পথে কৃষকের মৃত্যু
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টাখেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৩৫) নামে এক কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্লারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইউসুফ আলী ওই এলাকার আকবর আলীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, কাজ শেষে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত বাড়ি ফেরার সময় পথে বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কৃষি-সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসন মাঠে কর্মরত কৃষকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
শরিয়তপুরে নদীতে মাছ ধরতে নেমে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে রাজিব শেখ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের মাইজপাড়া-সংলগ্ন নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজিব ওই এলাকার হারুন শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজ করতেন এবং অবসরে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) দুপুরের দিকে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে বৃষ্টি শুরু হয় এবং বজ্রপাত হয়। এ সময় রাজিব নদীতে মাছ ধরছিলেন। বজ্রপাতের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে এলেও তার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জপসা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল মকদম বলেন, ‘হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উদ্ধার চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ূম জানান, বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছে।’
৬ দিন আগে
বরিশালে দুই বিদ্যালয়ে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ ১৬ জন আহত
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পৃথক দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় এক শিক্ষকসহ ১৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে ক্লাস চলাকালে উপজেলার চর এককরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের কয়েকজন জ্ঞানও হারান।
আহতরা হলেন— ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলাম, সপ্তম শ্রেণির জান্নাত বেগম, অষ্টম শ্রেণির ফাতেমা বেগম দোলা, আমেনা বেগম, সুমাইয়া বেগম, মীম আক্তার এবং নবম শ্রেণির আফরোজ আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার মৌ বলেন, ‘দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের ওপর বজ্রপাত হয়। স্যারসহ আমরা কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’
পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুর সোয়া ২টায় ক্লাস চলাকালে হঠাৎ বজ্রপাতে এ ঘটনা ঘটে। আমরা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
একই সময়ে আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় আরও ৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানান বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বাহাদুর মৃধা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন ফকির বলেন, ‘বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও অজ্ঞান হয়ে যায়। তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের বলেন, বজ্রপাতে আহত হয়ে দাদপুর স্কুলের ৮ জন হাসপাতালে এসেছে। তবে তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা অনেকটা সুস্থ। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহি উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমি আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’
৭ দিন আগে
রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে বাঁচল মেয়ে
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুরে বাড়ির পাশে দোকানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সুমনের কোলে থাকা সাড়ে ৩ বছরের মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে যায়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি দোকানে যাচ্ছিলেন সুমন। বৈরী আবহাওয়াতে হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এ সময় শিশুটি তার কোল থেকে ছিটকে দূরে পড়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন সুমনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কোল থেকে ছিটকে পড়লেও শিশুটি আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে।
মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, সুমন মন্ডলের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত, হাওরে ধান কাটার সময় সতর্কতা জারি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক ঘটনায় দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন তারা।
নিহতরা হলেন— সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৪০) এবং একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪২)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ (সোমবার) দুপুরে আকাশ যখন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে, জমির উদ্দিন তখন অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের বাসিন্দা জমির হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামের নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়াও, সুনামগঞ্জের পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলে ধান কাটার ভরা মৌসুমে বজ্রপাতে প্রাণহানির এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন হাওরে কর্মরত কৃষকদের দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে সতর্ক থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। দুর্যোগের সময় খোলা জায়গা বা হাওর থেকে দ্রুত নিরাপদ পাকা স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৯ দিন আগে
রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে ২ কৃষক নিহত, আহত ১০
রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের পাগলারবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সখীপুর গ্রামের তালেব উদ্দিন (৬০) ও মিলন (৩৫)।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি পুকুরে সখীপুর গ্রামের তালেব উদ্দিন ও মিলন মাছ ধরতে যান। এরই মধ্যে আকাশ খারাপ হয়ে আসলে পুকুরের পাশে একটি টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেন তারা। এ সময় বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে ছাউনির নিচে থাকা ওই দুই কৃষকসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা সেখানে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তালেব উদ্দিন ও মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মিঠাপুকুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আহতদের হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে আমরা উপজেলা হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২ জনের মৃত্যুর খবর দেন।
তিনি আরও জানান, ওই হাসপাতালে আরও তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যান্য আহতদের রংপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জেনেছি, তবে তাদের শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাইনি।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
১৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে এক দিনে ৪ কৃষক নিহত
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ব্যস্ত মৌসুমে পৃথক তিনটি বজ্রপাতের ঘটনায় চার কৃষক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান (৪০) এবং ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪৫)। এছাড়া দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩৮) নামে আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পরপরই বজ্রপাত শুরু হয়। এর মধ্যে হাওরে কর্মরত কৃষকরা আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে হাঁসের খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় তার সহকর্মী নূর মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।
জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান এবং তার চাচাতো ভাই তোফাজ্জল হোসেন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাবিবুর রহমান।
আহত তোফাজ্জল হোসেন ও নূর মোহাম্মদকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া শনিবার দুপুর ১টার দিকে কালিয়াগোটার (আতরার) হাওরের একটি বিলের পাশে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো কৃষকদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত আর্থিক অনুদান প্রদানের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ায়। উন্মুক্ত হাওরে আশ্রয়ের অভাব এবং ধান কাটার তাগিদে কৃষকদের মাঠে অবস্থান করায় এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
১৮ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বজ্রাঘাতে প্রবাসফেরত যুবকের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে আব্দুর রহমান (২৪) নামে প্রবাসফেরত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের টান মনিপুর গ্রামের শিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের সীমনা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রহমান ওই এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়ে প্রায় চার মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী অধ্যাপক আলী আজম মীর জানান, হঠাৎ করেই ঝড়ে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। প্রবল ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। এ সময় আব্দুর রহমান সড়কের পাশে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আক্তার খান জানান, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই আব্দুর রহমান পাশের একটি চায়ের দোকানে চা পান করে সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। ঝড় থামার পরই এলাকাবাসী জানতে পারেন বজ্রপাতে আব্দুর রহমান নিহত হয়েছেন।
বিজয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব সরকার জানান, দুর্ঘটনার খবর জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
৩৬ দিন আগে
বজ্রপাতে শৈলকূপায় দুই কৃষক নিহত, আহত আরও ৪
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজের খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন রনজিত বিশ্বাস ও প্রকাশ বিশ্বাসসহ আরও চার কৃষক।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার খড়িবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন, খড়িবাড়িয়া গ্রামের প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাস (২০) ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের সুশীল বিশ্বাসের ছেলে সুশীল বিশ্বাস (৪০)।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, হতাহত কৃষকরা আজ (শনিবার) দুপুরে মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত ও চার কৃষক আহত হন। খবর পেয়ে হতাহতদের স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডা. এহতেশাম শহীদ জানান, বজ্রপাতে হতাহতদের শরীর ঝলসে গেছে।
৩৯ দিন আগে
সিলেটে বজ্রপাতে জেলে নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে রামচন্দ্র তালুকদার (৫৫) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার ধলাই নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মহানন্দ তালুকদারের ছেলে। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার একটি কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, রামচন্দ্র তালুকদারসহ কয়েকজন মৎস্যজীবী নতুনবাজার এলাকায় ভাড়া থেকে ধলাই নদীতে বেড়জাল দিয়ে মাছ শিকার করতেন। গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যার পর রামচন্দ্র একাই একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ৯টার দিকে নদীতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৫১ দিন আগে