অবরোধ
রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে ৯ ঘণ্টা পর রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের সবকটি দাবি রেল কর্তৃপক্ষ মেনে নেওয়ায় আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি। সেই সঙ্গে রেলযাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
আম্মার বলেন, আমাদের প্রথম দাবি ছিল, যিনি অপরাধী, তিনি সশরীরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীর কাছে জবাবদিহি করবেন। তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং প্রকাশ্যে আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পুরো রেল কর্তৃপক্ষও আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আমাদের প্রথম দাবি পূরণ হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্তকে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে তিন কার্যদিবসের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীরা তাতে অনাস্থা জানালে বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, প্রক্টোরিয়াল বডির একজন প্রতিনিধি, একজন শিক্ষক প্রতিনিধিসহ পাঁচ সদস্যের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
রাকসুর জিএস বলেন, তৃতীয় দাবিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিষয়ে যে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ছয় মাস বিনা ভাড়ায় রেল ভ্রমণের প্রস্তাবও তিনি সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটা আমাদের জন্য সম্মানের।
চতুর্থ দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ‘পদ্মা’, ‘তিতুমীর’ ও ‘মধুমতী’ ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রাবিরতির বিষয়ে রেজুলেশন হয়েছে। পাশাপাশি রাতের ট্রেনগুলোর যাত্রীদের জন্য রাজশাহী স্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত শাটল বাস চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, দীর্ঘদিনের দাবি এবং আমাদের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তার বিচার আমরা পেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে মোটামুটি সন্তুষ্ট। আগামী ৬ আগস্ট ফলোআপ বৈঠকের পর বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করা হবে। সে পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করছি।
১ দিন আগে
রাবি শিক্ষার্থীকে টিটির ‘মারধর’, ট্রেন চলাচল বন্ধ
ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটি) মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবরোধের কারণে সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় এ অবরোধ শুরু হয়।
সকাল থেকে রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ কোনো ট্রেনই ছেড়ে যেতে পারেনি। একই সঙ্গে রাজশাহীগামী অন্যান্য ট্রেনের চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।
নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করা শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দীন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ফোরকান বলেন, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফেরার পথে দেখতে পাই, টিটিরা রসিদ ছাড়াই সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা আদায় করছেন। আমি এর প্রতিবাদ জানিয়ে টিটিদের জিজ্ঞাসা করি, ‘রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ, কিন্তু টিকিট না দিয়ে কেন টাকা নিচ্ছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘সচেতন নাগরিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় হঠাৎ পেছন থেকে ৬-৭ জন টিটি আমার গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যান। সেখানে ঘাড় ও পিঠে মারতে থাকেন। একপর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে আমাকে নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও আমার চশমা ভেঙে গেছে। আমি অভিযুক্তদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা অভিযুক্ত টিটি সুমনকে দ্রুত হাজির করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলাসংলগ্ন রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহিদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রেলে অন্যায় ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা করা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসে এই অপকর্ম ও মারধরের সঠিক বিচার ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রেন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।’
এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এবং আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
এছাড়া ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
রাকসুর ভিপি লেখেন, ‘পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটিরা রাবির এক শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার দুঃসাহস দেখিয়েছে। স্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজে এসে সমাধান না করা পর্যন্ত এই রেলপথ বন্ধ থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আজকের পর থেকে যেন কোনো রেলগুন্ডা শিক্ষার্থীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস না পায়, রাকসু তা নিশ্চিত করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, সোমবার (গতকাল) রাতে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে টিটিরা মারাত্মকভাবে মারধর করেছে। যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি জানান, রেল অবরোধের কারণে সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, দ্রুতই একটা সমাধান বের হবে এবং ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে।’
তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। ফলে রাজশাহী স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েই চলেছে। হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টেশনে আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনর্বহাল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি তেহরানের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এদিকে, নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর চালানো হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ। স্বাক্ষরের এক দিন পর হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবরোধ বহাল থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে হয় সব দেশই তেল ও গ্যাস রপ্তানি করবে, নয়তো কেউই তা করতে পারবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের কথা বলেছিলেন। তবে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধের পর অবরোধ পুনর্বহালের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
অবরোধ পুনর্বহালের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে তারা বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর হামলায় হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে কতজন নিহত হয়েছেন, তা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি জানান, এবারের হামলায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
ইরান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে স্থানীয় প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগর-সংলগ্ন ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বড় ধরনের হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার ভোরে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রায় প্রতিদিনই এমন সতর্কতা দিতে হচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
সেন্টকম প্রধান মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। নিরীহ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
বর্তমানে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও এক হাজারের বেশি নৌসেনা বহনকারী একটি জাহাজ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শত শত সামরিক বিমান অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে হামলা করে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
সম্প্রতি ইরান ওমানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তত্ত্বাবধানে থাকা একটি বিকল্প নৌপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়। ওই নৌপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ ঘটনাই সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, প্রয়োজনে তারা শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি আবারও সচল করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তা করতে হলে আরও বড় নৌবহর, এমনকি কয়েক দশ হাজার স্থলসেনার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রই আগ্রাসনকারী, তারা কোনোভাবেই ভুক্তভোগী নয়।’
হরমুজে ফি বাতিলের বদলে উপসাগরীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতারা তাকে ফোন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা বলেছেন, তারা জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেই প্রস্তাবই বেশি পছন্দ করি। কারণ আমার মনে হয়, প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য কারও কাছ থেকে ফি নেওয়া উচিত না।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানো হবে। আলোচনা এগোতে না পারলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে।
তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চুক্তি করুন, না হলে আপনাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
৭ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। ইরানের হামলার পর পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা ঘটেই চলেছে।
এদিকে, এই হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৪ ডলারের বেশি হয়েছে। যদিও যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, তবুও এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভিত্তিতে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিও আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ৬০ দিনের ওই চুক্তির প্রায় অর্ধেক সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ওই সমঝোতায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা আবু মুসা, বান্দার আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক এবং কোনারাক এলাকার আশপাশে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানও এসব এলাকায় হামলার বিষয় স্বীকার করেছে। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলাগুলো ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমে যাবে।
সামরিক বাহিনীর ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় হামলা। আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানছি। এই অভিযান চলতে থাকবে। এরপর কী হয়, সেটা দেখা যাবে। আমরা তাদের সব ধরনের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নিচ্ছি। আমরা সেখানে আবারও অবরোধ কার্যকর করছি।’
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। এতে আমাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে আমাদের অর্থ দিতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগ পর্যন্তও সেই নীতি বহাল ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান যে পক্ষই হোক, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবাধ নৌচলাচলের নীতির লঙ্ঘন হবে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, বারবারি যুদ্ধ এবং ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও হামলা শুরু
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ দুটি একটি মাইন পাতা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এরপর তাদের লক্ষ্যবস্তু করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজ দুটিকে বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা উপেক্ষা করছিল।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত নাবিক একজন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজেদের ভূখণ্ড ও জণগণের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিল আমিরাত। মঙ্গলবার সকালে দুবাইয়ের আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।
এদিকে, আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বুধবার পর্যন্ত সব ধরনের কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে মঙ্গলবার ভোরে বাহরাইনেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
হামলার সময় বাহরাইনে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। তবে এ হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটি ইরানের হামলারও শিকার হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে ইরান
সোমবার রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, গত মাসে হওয়া চুক্তি ইরানকে পরীক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আপনি যখন প্রতারকদের সঙ্গে কাজ করেন, তখন চুক্তির তেমন কোনো মূল্য থাকে না। তবে তারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন হলে ফি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবির বিরোধিতা করছে।
ইরানের অভিযোগ, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওমান উপকূল ঘেঁষে এমন একটি বিকল্প নৌপথ চালুর চেষ্টা করেছে, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে।
তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাই ইরান ওই বিকল্প নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এরপর ইরানও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আরব দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক এসব পাল্টাপাল্টি হামলা অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ তুলে নিয়েছিল, তা আবারও পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ পুনর্বহাল করছি। অন্য সব দেশ হরমুজ প্রণালি ন্যায্য ও উন্মুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হবে, তার খরচ ওঠাতে যুক্তরাষ্ট্র পণ্যবাহী জাহাজের কার্গোর মূল্যের ২০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ টোল পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুবাইয়ের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে অবরোধ আবারও কার্যকর করা হবে।
৮ দিন আগে
কুমারখালী স্টেশনে ট্রেন না থামলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা
কুষ্টিয়ার কুমারখালী রেলস্টেশনে ঢাকা-খুলনা আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেলস্টেশন অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে কুমারখালী রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আয়োজক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাকিল আহমেদ তিয়াস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাংবাদিক এম এ ওহাবসহ অন্যরা।
লিখিত বক্তব্যে শাকিল আহমেদ তিয়াস জানান, কুমারখালী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য প্রায় আট মাস ধরে আন্দোলন চলছে। সর্বশেষ গত ১১ মে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ট্রেন থামানোর আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। তবে তারপর ৫৭ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পায়নি এলাকাবাসী। ফলে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ফের আন্দোলনের ডাক দিতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, ‘বারবার আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেনি প্রশাসন। আর সময় দেওয়া হবে না। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে স্টেশনে ট্রেন না থামলে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলতে থাকবে।’
উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য, পর্যটন ও ব্যবসায়ে সমৃদ্ধ প্রাচীন নগরী কুমারখালীতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপড়ের হাটটি স্টেশনের পাশেই অবস্থিত। অথচ স্টেশনে খুলনা-ঢাকাগামী সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি থামে না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানামুখী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ। এ সময় দ্রুত ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর দাবি জানান তিনি ।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান মুঠোফোনে বলেন, বাজেট স্বল্পতার কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ে ট্রেনের যাত্রাবিরতি সম্ভব হয়নি। তবে সচিব স্যারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রায় ৭০ ভাগ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। খুব দ্রুতই কুমারখালী স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।
১৬ দিন আগে
খুলনায় টানা তৃতীয় দিন মহাসড়ক অবরোধ
শর্তহীনভাবে কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় কাজ হারানো শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা।
আন্দোলনের সমর্থনে আজ বিপুলসংখ্যক নারীও রাজপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টা থেকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের রেলিগেট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের অবরোধ কর্মসূচি শেষ হয়।
এ সময় সড়কে কাঠের গুঁড়ি ও বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপর থেকে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক প্রেস ও বেলিং শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
তারা বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থসংকটে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, খুলনার দৌলতপুর পাট রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং এ এলাকায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের বসবাস। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় ১৭ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি সম্ভব নয় বলে জানায়। এর প্রতিবাদে দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
৬২ দিন আগে
কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ
অনতিবিলম্বে কাঁচাপাট রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
বুধবার (২০ মে) সকল সোয়া ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকরা নগরীর রেলিগেট থেকে দৌলতপুর মুহসিন মোড় পর্যন্ত সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে।
একই দাবিতে গতকাল (মঙ্গলবার) দৌলতপুর বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে দৌলতপুর জুট প্রেস এন্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (১১৫৫)'র শ্রমিকেরা।
রেলিগেটে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন শ্রমিক নেতা মো. উজ্জল, সুজ্জল, ডালিম কাজী, মো. জামাল উদ্দিন, আনোয়ার হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদার, কালাম হাওলাদার, দেলোয়ার মাস্টার, কালাম সরদার, আলমগীর মোল্লা, বাবুল সিকদার, মো. বাবুল হোসেন, আব্দুল আজিজসহ দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।
গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রপ্তানি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে দেশের ৪০ টি জুটপ্রেস হাউজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে খুলনাঞ্চলের জুট প্রেসের ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে যায়। ৯ মাস কোনো কাজ না পেয়ে তারা অর্ধাহারে, অনাহারে মানবেতার জীবনযাপন করছেন।
৬৩ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে অটোচালকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের শিকার এক অটোচালক তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (২০ মে) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত মো. মমিন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত রবিবার বিকেলে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে লাইনম্যান শাহিন অটোচালক মমিনের কাছ থেকে ১০ টাকা চাঁদা নেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও টাকা দাবি করেন শাহি । এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শাহিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মমিন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (বুধবার) সকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহিন পলাতক রয়েছে।
এদিকে অটোচালকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
৬৩ দিন আগে
ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা।
তাদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে জাতীয় জাদুঘরের পাশের একটা অংশ দিয়ে যান চলাচল করতে পারছে।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে ১১-দলীয় জোটের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি বিক্ষোভে যোগ দেন।
এর আগে, আজ (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই ঘটনায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন— ফাতিমা তাসনিম ঝুমা, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, ওমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামীম, সোহেল, শাওন ও শামীমসহ অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হন।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার) শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, হাদির স্ত্রী এবং বেশ কিছু নেতা-কর্মী অংশ নেন।
১৬৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ট্রেন থামিয়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দশম গ্রেডে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের চাকরিতে প্রবেশের অনুমতির প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সব শ্রেণি পাঠ ও পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করলে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ সময় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যে যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা উপেক্ষা করে সাধারণ বিএসসি ডিগ্রিধারীদের দশম গ্রেডে চাকরির সুযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। এতে করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে এবং কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।
তারা জানান, আগে কারিগরি খাতে দশম গ্রেডের পদগুলো ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের একই গ্রেডে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল না করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে প্রায় ৩০ মিনিট খুলনার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে সড়কপথের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
১৬৯ দিন আগে