ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা।
তাদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে জাতীয় জাদুঘরের পাশের একটা অংশ দিয়ে যান চলাচল করতে পারছে।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে ১১-দলীয় জোটের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি বিক্ষোভে যোগ দেন।
এর আগে, আজ (শুক্রবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই ঘটনায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন— ফাতিমা তাসনিম ঝুমা, মনির, ফয়সাল, জয়, জুলকার, মোশাররফ, নিলয়, অনিক, ওমর, রাহাত, রাসেল, আহাদ, মাহিন, আজাদ, শামীম, সোহেল, শাওন ও শামীমসহ অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ চড়াও হয়। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ শুরু করলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে বেশ কয়েকজনকে আহত হন।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে কেউ গুলিবিদ্ধ নয়।’
গতকাল (বৃহস্পতিবার) শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বিকেল ৫টার দিকে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, হাদির স্ত্রী এবং বেশ কিছু নেতা-কর্মী অংশ নেন।