ধর্ষণচেষ্টা
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আয়নীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আসামি রুবেল তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মামলায় তিনটি পৃথক ধারায় আসামিকে পৃথক ৩টি রায় দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাইলেন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার পর প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পরই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির মরদেহের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আয়নীর সঙ্গে আসামির আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ভ্যান করে নিয়ে যান তিনি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রুবেল শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যান। ভবনটিতে তার পরিচিত একজনের খালি বাসা ছিল। সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় আয়নী চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়র চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে সুযোগ বুঝে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।
আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা ছিল পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় ।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) একজন পোশাককর্মী। শিশুটির বাবাও ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের জেরা শেষে আদালত আসামি মো. রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে বিচারক আজ এই মামলার রায় দেন।
১ দিন আগে
মাগুরায় শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
মাগুরায় রাজিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় হাসান শেখ (২৮) নামে এক আসামিকে আজ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টায় মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসান শেখ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের কুমার নদের তীরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড় থেকে রাজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা মিকিজ শেখ ২০২২ সালের ১৯ মার্চ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন।
মা ছবিরন নেছা জানান, রাজিয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বাড়ির পাশের একটি জমিতে রসুন দেখতে বের হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পরে এই মামলার রায় হলো।
মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে কিশোরীর মা এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান শেখ দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, রায়টি দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বাবলু জানান, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।
১ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ ও চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২৭) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলায় মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঠালতলী বাজারে মাহাবুবের একটি ফার্মেসি রয়েছে। ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি তিনি নিজেকে ফকির (কবিরাজ) পরিচয় দিয়ে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও তাবিজ-কবচ দেন। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং নিয়মিত ফোনে কথা হতো। ভুক্তভোগী তার ভাইয়ের মেয়ের পড়াশোনায় উন্নতির জন্য মাহাবুবের কাছে তদবির চেয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মাহাবুব মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে তদবির নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে মাহাবুবের উত্তর চৈতার বাড়িতে যান ওই নারী। সেখানে মাহাবুব কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে অন্য কাউকে না দেখে গৃহবধূ চলে যেতে চাইলে মাহাবুব তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। সেসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গৃহবধূর হিজাব ও বোরকা খুলে ফেলা হয় এবং তাকে খাটে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনার দিন অভিযুক্ত তার স্ত্রী ও সন্তানদের কৌশলে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৩ দিন আগে
পাবনায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
পাবনার আতাইকুলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আতাইকুলা থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার আবুল কাশেম পাবনার আতাইকুলা থানার আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা গতকাল সারা রাত অভিযান চালিয়েছি। ভোরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ১১ জুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পরদিন শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (রবিবার) অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন স্থানীয়রা।
এদিকে, রবিবার রাতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি একতাশামুল হক রাজিব ও সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবুল কাশেমকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৩৬ দিন আগে
দিনাজপুরে লিচুর লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে লিচু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে রহিম ঋশি (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৩১ মে) রবিবার সকালে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে আটগাঁও ইউনিয়নের ছোট মালগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
স্থানীয়দের দাবি, আজ (রবিবার) জনি মাস্টারের বাগানে সকালে লিচু কুড়াতে গিয়েছিল ভুক্তভোগী শিশু। রহিম ঋশি ওই লিচু বাগানের পাহারাদার। এ সময় তার হাতে কিছু লিচু তুলে দিয়ে তাকে পাশ্ববর্তী ভূট্টাখেতে নিয়ে যান রহিম। এ সময় তাকে ধর্ষণ করতে গেলে শিশুটির চিৎকার করে ওঠে। তার চিৎকার শুনতে পেয়ে ছুটে যান স্থানীয়রা। এরপর রহিমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মিজান জানান, ঘটনার বিষয়ে শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় রহিম ঋশিকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
৫১ দিন আগে
জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা: অভিযুক্তকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে হামলা ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। ওই ব্যক্তির সন্ধান দিতে পারলে নির্ভরযোগ্য তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ওই যুবকের ছবি প্রকাশ করে ডিএমপির বার্তায় বলা হয়, কেউ যদি ওই ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য জানেন, তাহলে অনুগ্রহ করে ০১৩২০-০৮৯৩০৫ নম্বরে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন।
তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে জানিয়ে বার্তায় নির্ভরযোগ্য তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
গত ১২ মে রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে সড়ক থেকে টেনেহিঁচড়ে ঝোপে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের ভেতরে একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
ওই ঘটনার পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
আসামিকে গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভও করেন তারা।
৬৬ দিন আগে
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) কক্ষে ডেকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি এক মাদ্রাসা শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. আব্দুল করিম (৩০)। তিনি উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের দড়ি কোমরপুর দারুস সুন্নাহ সালাফিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। আব্দুল করিম সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার পাতাখালি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে কুমারখালী আলাউদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ও তার ছোট ভাই (৭) মাদ্রাসার সামনের সড়কে বৃষ্টির পানিতে গোসল করছিল। এ সময় মাদ্রাসার এক ছাত্রের (১১) মাধ্যমে মেয়েটিকে মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত শিক্ষকের কক্ষে ডেকে নেন ওই শিক্ষক। এরপর তিনি কক্ষের দরজা বন্ধ করে মেয়েটিকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে তার শরীরের আপত্তিকর স্থান স্পর্শ করেন, ভুক্তভোগীর পায়জামা খোলারও চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় মেয়েটি।
পরে তার স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ওই শিক্ষককে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
এরপর ঘটনার দিন রাতেই ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করে। মামলায় আটক শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ (শুক্রবার) সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বলে, ‘মাদ্রাসার সামনের সড়কে বৃষ্টির পানিতে গোসল করছিলাম। সে সময় হুজুর এক ছাত্রের মাধ্যমে তার কক্ষে নিয়ে যেয়ে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি তার উপযুক্ত শাস্তির জন্য থানায় মামলা করেছি।’
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল করিমকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৩৮৯ দিন আগে
নাতনিকে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া একটি শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করার জেরে তার নানা আলী আজগরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে আল আমিন নামে এক যুবক। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের রায়দক্ষিণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার আলী আজগর (৬০) রায়দক্ষিণ এলাকার মৃত. আব্দুর রশিদ খানের ছেলে। অভিযুক্ত আল আমিন (৩৮) একই গ্রামের মৃত কালু প্রামাণিকের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে ওই শিশুকে উত্ত্যক্ত করত। সোমবার (২৮ এপ্রিল) স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে ধর্ষণচেষ্টা করেন। এরপর ওই শিশু পালিয়ে বাড়ি ফিরে পরিবারকে জানালে তারা থানায় অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় ধর্ষণচেষ্টায় প্রেমিকের বন্ধুকে ব্লেড দিয়ে আঘাত তরুণীর
মৃত আলী আজগরের ভাতিজা আবুল কালাম বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত করতে এসেছিল। কিন্ত এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলী আজগরকে কুপিয়ে ধান ক্ষেতে ফেলে রাখে আল আমিন। এ সময় আল আমিনের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী ছিল। খবর পেয়ে আলী আজগরের দুই ছেলে লিয়াকত ও সায়েম এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর করে আল আমিন ও তার সহযোগীরা।’ তিনি জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় আলী আজগরকে উদ্ধার করে প্রথমে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে সাভারের এনাম মেডিকেল কজেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে.ও.এম. তৌফিক জানান, শিশুটির মা উত্ত্যক্ত করার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মামলা রুজুর পরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্ত পুলিশে আসামীকে পায়নি। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
৪৪৭ দিন আগে
নেত্রকোণায় ধর্ষণচেষ্টায় প্রেমিকের বন্ধুকে ব্লেড দিয়ে আঘাত তরুণীর
নেত্রকোণার পূর্বধলায় ধর্ষণচেষ্টার সময় প্রেমিকের বন্ধুর পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দিয়েছেন এক তরুণী। সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার রাজধলা বিলের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
ধর্ষণচেষ্টাকারী আহত যুবকের নাম পারভেজ (২৫)। তিনি উপজেলা সদর ইউনিয়নের তারাকান্দা গ্রামের মান্নাফ মিয়ার ছেলে।
আর যৌন নিপীড়নের শিকার তরুণী একই উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের বিষমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার স্থানীয় একটি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের হাতে আটক ওই তরুণীর দাবি, জনৈক জাহিদ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে সে বিকাল ৪টার দিকে উপজেলা রাজধলা বিলপাড়ে আসে। এসময় প্রেমিক জাহিদ ফোনে তার বন্ধু পারভেজকে সেখানে ডেকে আনেন। পরে তারা দুজন মিলে তাকে বিলের পশ্চিম পাশে একটি বাগানের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে জোরপূর্ব ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় ওই তরুণীর ব্যাগে থাকা একটি ব্লেড দিয়ে পারভেজের পুরুষাঙ্গে আঘাত করে। এতে পারভেজের পুরুষাঙ্গের অর্ধেক কেটে যায়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
স্থানীয় লোকজন ওই তরুণীকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়।
আরও পড়ুন: যশোরে ফের শিশু ‘ধর্ষণের চেষ্টা’, পুলিশি হেফাজতেও অভিযুক্তের ওপর চড়াও স্থানীয়রা
পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, যুবকের পুরুষাঙ্গের প্রায় অর্ধেক কেটে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তবে এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে আইগত ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান ওসি।
৪৬৯ দিন আগে
তিন মাসের শিশুকে জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শিশু মাসের সন্তানকে জিম্মি করে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দাবি করা ওই নারীর স্বামী।
বুধবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার জালকুড়ি উত্তরপাড়া পানি ট্যাংক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে ওই নারীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর গতরাতে (বৃহস্পতিবার) তার স্বামী সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— জালকুড়ি উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরিফ (৩২), ডালিম (৩৫) ও তাদের সহযোগী হিসেবে দেওয়া হয়েছে বেলাল (৩৫) নামের এক ব্যক্তির নাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীরা যে বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন, অভিযুক্ত আরিফ ও ডালিমও একই বাসার ভাড়াটিয়া। উভয়পক্ষ এক বাড়িতে থাকার সুবাদে অভিযুক্তদের সঙ্গে বাদীর পরিচয় রয়েছে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ৩ আসামি কারাগারে
বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আরিফ ইফতার সামগ্রী দিতে বাদীর ঘরের দরজায় টোকা দেন। সে সময় তার স্ত্রী দরজা খুলে ইফতার সামগ্রী নিয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। ইফতারের পর ফের দরজায় টোকা পড়লে ওই গৃহবধূ আবারও দরজা খোলেন এবং ভুক্তভোগীর তিন মাসের সন্তানকে কোলে নেওয়ার বাহানায় ঘরে ঢুকে দ্রুত দরজা বন্ধ করে দেন আরিফ। এ সময় ফাঁকা ঘরে ওই নারীকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। পরে গৃহবধূ চিৎকার দিতে শুরু করলে অভিযুক্ত শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে তার ঘরে চলে যান। এরপর সন্তানকে সুস্থ ফেরত পেতে হলে ওই গৃহবধূকে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে হবে বলে জানান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি তার স্বামীকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। পরে তার স্বামী দ্রুত এক সহকর্মীকে নিয়ে বাসায় আসেন এবং অভিযুক্ত আরিফের ঘর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এরপর অভিযুক্ত আরিফ, ডালিম ও বেলালসহ আরও ১০-১২ জন তাদের ফোন করে ডেকে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে নানা ধরনের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’
৪৯৪ দিন আগে