সংসদ অধিবেশন
সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনকে চেয়েছেন আইনমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনের নাম চেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার আগে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে আসছে, সেটিই এখানে অনুসরণ করতে চান তারা। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত হবে।
তিনি জানান, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা ঠিক করা হয়েছে। এতে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে।
বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় স্পিকার বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। এভাবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দল ‘সংস্কার’ চায়, কিন্তু এখানে ‘সংশোধন’-এর প্রস্তাব এসেছে। এ জায়গায় আগেও মতপার্থক্য ছিল, এখনও রয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরে মতামত জানাবেন বলে জানান তিনি।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের অবস্থানে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তারা অপেক্ষা করতে প্রস্তুত এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও তাদের আপত্তি নেই।
৭ দিন আগে
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর রূপে গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোর (বর্জ্য ফেলার স্থান) আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতি কাজ অন্তর্ভুক্ত করে পরিবেশসম্মতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সকল বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এ সকল কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিন বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর জন্য মোট আটটি প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ে সম্পূরক প্রশ্নসহ দুটির উত্তর দেন।
ঢাকাকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করার অন্যান্য উদ্যোগ ও পরিকল্পনা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তার মিডিয়ান (বিভাজক), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) এবং উন্মুক্ত মাটি সবুজে আবৃত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশে (মিরপুর-১২ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশের) নিচে খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি জানান, ঢাকার বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য উৎসগুলো বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া নির্গমন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রীর কারণে বায়ুদূষণ বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরকারপ্রধান বলেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার চারদিকের অবৈধ দূষণকারী ইটভাটাগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর বায়ুদূষণ কমাতে ঢাকার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে এবং ওই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও আশপাশের নদী, খাল ও জলাশয়ে দূষণ রোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী কারখানায় ইটিপি (বর্জ্য পানি পরিশোধনাগার) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪৮টি কারখানায় ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে এবং ইটিপি ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীর দূষণের উৎস এবং প্রকৃতি নির্ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস এবং প্রকৃতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা শহরকে সবুজে আচ্ছাদিত করা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন অধিদপ্তর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, ইউলুপ, পন্ডিং এরিয়া এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং জিরো সয়েল (মাটিবিহীন চাষাবাদ) কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৪১ হাজার ৫৬৫টি ফলদ, বনজ, ওষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছে চারা রোপণ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা শহরের দূষণ কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রজাতির লতা, গুল্ম ও ঘাস দিয়ে মাটি আবৃত করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
তিন হাওর জেলা এবং ময়মনসিংহের একাংশে চলমান ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পদক্ষেপের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে আলোচনা করেছেন।
তিনি জানান, তিন দিন আগের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সরকার কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিনটি নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
৭ দিন আগে
আগের দুই সরকার হামের টিকা আমদানি করেনি, কিটের সংকটও আছে: প্রধানমন্ত্রী
আগের স্বৈরাচারী সরকার এবং পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও শিশুদের হামের টিকা আমদানি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, হাম পরীক্ষার কিটের স্বল্পতাও আছে। দেশে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশের চিকিৎসা খাতে এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে হাম শনাক্তকরণের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, এ কারণে হাম শনাক্ত করতে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ঢাকার পাবলিক হেলথ সেন্টারের ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড রুবেলা ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে। এতে টিকা পাওয়ার পরও রোগ শনাক্তে রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘খুব দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর আগের দুই সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আরও দুঃখজনক ব্যাপার হলো, দেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আমরা যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম, তাদের সময়ও শিশুদের হামের টিকা আমদানি করা হয়নি।
তবে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এ ব্যাপারে ইউনিসেফ আমাদের, বাংলাদেশকে, অনেক সহযোগিতা করেছে। হামের ভ্যাকসিন খুব দ্রুততার সঙ্গে পাঠিয়েছে তারা, ফলে আমরা ওষুধগুলো পেয়েছি। প্রায় ২ কোটি শিশুকে এই হামের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
এ সময় হাম পরীক্ষার কিট স্বল্পতার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য টেস্ট (পরীক্ষা) করার কিট স্বল্পতার বিষয়ে যে প্রশ্নটি করেছেন, তা সঠিক। এটির ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু কিট এখনও ঢাকার কাস্টমসে আটকে আছে; এয়ারপোর্টে আছে। সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করছি।
হামে শিশুমৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অনেকগুলো শিশুর প্রাণ ঝরে গেছে, আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছে, বিষয়টি দুঃখজনক!
তিনি বলেন, তবে সামনে যাতে আমরা এই পুরো পরিস্থিতিকে ‘ম্যানেজ’ করতে পারি, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।
১৪ দিন আগে
সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্দশ দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন এবং পরিবেশ রক্ষার মধ্যে সুষম সমন্বয় নিশ্চিত করতে এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে আমরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছি।
তিনি বলেন, দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মানুষ উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় বসবাস করেন। স্বাভাবিকভাবেই, আমরা যদি সুনীল অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদানের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করে তা ধীরে ধীরে বিকশিত করতে পারি, তবে অনেক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘উপকূলীয় অঞ্চল নীতি ২০০৫’ প্রণয়ন করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বর্তমান সরকার সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম ও এ থেকে দেশের সম্ভাব্য অর্জিতব্য বিষয়াদি বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
চলমান সংসদ অধিবেশন বিরতির পর আজ (বুধবার) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এরপর সংসদ সদস্যরা তাদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
২১ দিন আগে
সংসদ থেকে আবারও বিরোধী দলের ওয়াকআউট
যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও সংসদে পাস হওয়া গণবিরোধী বিলের দায় এড়াতে ফের জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছে বিরোধী দল।
ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৫টা ৫৬ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
বিলগুলো পাস হওয়ার পর সংসদে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধীদলের যৌক্তিক বাধা স্বত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে। আমরা তার দায় নিতে চাই না। এই জন্য আমরা এখন সংসদ থেকে ওয়াকাআউট করছি।’ এরপরই জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান তিনি।
বিরোধীদের এ পদক্ষেপের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠছি। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সমস্ত প্রক্রিয়া অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কিনা এটা জানার জন্য। সমস্ত প্রক্রিয়া তারা অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশ নেবেন।
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের প্রশ্নে সংসদে আলোচনা হলেও তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল।
২৭ দিন আগে
হাম মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, ২.১৯ কোটি ডোজ টিকা নিশ্চিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তায় প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রোমিন ফারহানার করা হাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত মহামারি তহবিল থেকে ৬০৪ কোটি টাকা জরুরি কেনাকাটার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্যাভির সহায়তায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪১৯ কোটি টাকার অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিলম্ব এড়াতে সরকার প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুকে সরাসরি হামের কারণে হয়েছে বলে যাচাই করে নিশ্চিত করেছে।
টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রাথমিক তালিকায় ঢাকা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ না থাকলেও সরকার আগাম পদক্ষেপ হিসেবে রাজধানীজুড়ে এই কর্মসূচি চালাচ্ছে।
পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান প্রশাসন প্রায় শূন্য টিকার মজুদ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল উল্লেখ করে সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নেওয়া জরুরি আর্থিক পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্টোরেজ বা মজুদ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘কোল্ড চেইন’ মান বজায় রাখতে এখন মাল্টি-ডোজ ভায়াল (একই শিশিতে একাধিক ডোজ) ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সব বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে হামে আরও বেশি মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বেশ কিছু রুটিন টিকার ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। টিকার মজুত এখন স্থিতিশীল হচ্ছে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
২৮ দিন আগে
ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী
‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনি এলাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। আশা করছি সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে শিগগিরই তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এদিন মাইক্রোফোনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩০ মিনিট বিলম্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টার দিকে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য চারটি প্রশ্ন তালিকাভুক্ত ছিল।
২৮ দিন আগে
শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য, ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকার বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সেলিম রেজার (সিরাজগঞ্জ-১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা খাতের ৪৩টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির জন্য শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ মনে করে। একটি মানসম্মত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনি ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এটি সব উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
আজও মাইক বিভ্রাটের কারণে আধা ঘণ্টা দেরিতে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর এবং মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার।
এমপি সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে।
ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ১ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা এডু-আইডি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় বিনামূল্যে ওয়াইফাই চালু করা হবে। এছাড়া মাদ্রাসায় স্মার্ট ক্লাসরুম চালু, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আইসিটি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আগামী ৬ মাসের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও ফ্ল্যাটার দিয়ে ডিজাইনিং, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআইভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে সরকার।
২৮ দিন আগে
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত অর্থ দেশ ও জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, ইনশাআল্লাহ জনগণের টাকা ফিরিয়ে আনতে এই সরকার যে পথ বা পদক্ষেপই কার্যকর হোক না কেন, সেটিই গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, পাচার হওয়া টাকা জনগণের সম্পদ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এ সরকারের দায়িত্ব রয়েছে দেশ ও জনগণের প্রতি। তাই জনগণের টাকা উদ্ধার করে তা পুনরায় জনগণের স্বার্থে এবং দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরে এবং বিভিন্ন খাতের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে করদাতার অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৈরি করা শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এই অর্থ একাধিক দেশে পাচার করা হয়েছে, তাই তথ্য আদান-প্রদান, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) সই এবং অনুরোধ বিনিময়ের প্রক্রিয়া সহজতর করতে কাজ করছে।
প্রাথমিকভাবে পাচারকৃত অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং (চীন)। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সইয়ের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আদালত দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করেছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।
অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুতসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা—জামায়াতের সদস্য মুজিবুর রহমানের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের তালিকার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আছে; তারা এটি করছে।
তিনি বলেন, অতীতে সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিরা তাদের ইচ্ছা ও আগ্রহের কারণে আইনকানুন, নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে যেভাবে পেরেছে, উঠিয়ে নিয়ে গেছে; যার কাছ থেকে যেরকম দরকার মনে হয়েছে, জোর করে লিখিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে বিচার করতে চায় যাতে কোনো মানুষ ন্যায্য আইন থেকে বঞ্চিত হতে না পারে। এজন্য আইনগতভাবে সকল প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে। যারা এ দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, প্রচলিত আইনে নির্ধারিত হবে তাদের শাস্তি।
৩৫ দিন আগে