রাজবাড়ী
ফেরি থেকে পদ্মায় লাফ দিয়ে যুবক নিখোঁজ, ২৪ ঘণ্টায়ও হয়নি উদ্ধার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামক একটি বড় ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। ডুবুরি দলের ২৪ ঘণ্টার চেষ্টায়ও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে অপেক্ষমান ওই ফেরি থেকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তারপর থেকে তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায় ডুবুরি দল। এরপর আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে পুনরায় অভিযান শুরু করে দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ ওই ব্যক্তির নাম রেজাউল শিকদার (৩৫)। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যানবাহনের জন্য অপেক্ষমান ওই ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নদীতে লাফ দেন ওই যুবক। তবে স্বজনদের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল শেখ এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৩ নম্বর ঘাটের ফেরিতে জুয়াড়িরা জুয়া খেলার টাকা নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। একপর্যায়ে রেজাউল ফেরির পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দেন। সঙ্গে সঙ্গে টাকা খোয়ানো ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। পরে ঘাটে থাকা লোকজন ওই যাত্রীকে টেনে তুলতে সক্ষম হলেও রেজাউলকে টেনে তোলার আগে তিনি নদীতে তলিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
নিখোঁজ রেজাউলের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদর বলেন, জমি নিয়ে জুয়াড়ি চক্রের হোতাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তারা জেলও খেটেছেন। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অন্য যাত্রীকে টেনে উদ্ধার করলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি। আমার ভাইকে খুঁজে পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
ফেরির দ্বিতীয় মাস্টার হাসান আলী বলেন, ফেরিতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরিটি যানবাহন লোডের অপেক্ষায় ছিল। পরে স্থানীয়দের থেকে তিনি এমন ঘটনা শুনেছেন।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথ সাহা বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, ফেরিতে জুয়াড়িরা কৌশলে এক যাত্রীর টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই যাত্রীর সঙ্গে জুয়াড়িদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে রেজাউল নদীতে লাফ দেন। তাকে ধরতে গিয়ে ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। এ সময় যাত্রীকে টেনে তুলতে পারলেও রেজাউলের কোনো সন্ধান পাননি। যাত্রীটি ওই ফেরিতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া চলে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এবং মানিকগঞ্জ ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ রেজাউলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দে ২টি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে ১টি জুয়া আইনে মামলা রয়েছে।
ডুবুরি দলের প্রধান মনিকগঞ্জের আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার জয়নাল আবেদিন জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ছয় সদস্যের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো সন্ধান পায়নি। আমরা আজ (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে পুনরায় তার সন্ধানে ছয় সদস্যের দল অভিযান শুরু করেছি।
৩ ঘণ্টা আগে
রাজবাড়ীর আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৫
রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. শাহিন শেখ (৩৩) আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে পুলিশ গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শামসুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— সাজ্জাদ হোসাইন (২১), পরশ আলী শেখ ওরফে শান্ত (২০), জনি শেখ (১৬), তৌফিক আহম্মেদ তাহিম (১৭) এবং মুনজিল শেখ (১৭) নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থক।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহিন শেখকে গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কাতার পালিয়ে যাওয়ার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন থেকে অভিবাসন পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মামলার হাজিরা থাকায় পুলিশ কারাগার থেকে শাহিন শেখকে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতে নিয়ে যায়। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের করে কারাভ্যানে তোলার সময় দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা শাহিনকে নিয়ে দ্রুত আদালত চত্বর ত্যাগ করে কারা ভ্যানে তুলে তৎপর হলে নেতা-কর্মীরা দ্রুত সটকে পড়েন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাজ্জাদ হোসাইন (২১), পরশ আলী শেখ ওরফে শান্ত (২০), জনি শেখ (১৬), তৌফিক আহম্মেদ তাহিম (১৭) এবং মুনজিল শেখ (১৭) নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের কর্মী ও সমর্থক।
উল্লেখ্য, শাহিন শেখ রাজবাড়ী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০২২ সালের মার্চ মাসে তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান আজ (সোমবার) সকালে জানান, আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে রবিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী ও সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
৯ দিন আগে
পদ্মায় কুমির, রাজবাড়ীর নদীপাড়ে আতঙ্ক
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাঝারি আকারের একটি কুমিরের দেখা মিলেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে দুপুরের পর মাঝেমধ্যে কুমিরটিকে ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। এর আগেও একাধিকবার কুমিরটিকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে গত দুই দিন ধরে মাঝেমধ্যে একটি কুমির ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদীর ওই জায়গায় স্থানীয়রা নিয়মিত গোসল করেন। ফলে তাদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা শামীম মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে কুমিরটি ভেসে উঠছে। সকালে এক গৃহবধূ নদীতে কাপড় ধোয়ার জন্য গেলে কুমিরটি দেখে ভয়ে চিৎকার করে পালিয়ে যান।
২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে স্থানীয় লোকজন কুমির দেখতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন। হঠাৎ বিদ্যালয়ের সামনে নদীতে কুমির দেখতে পাওয়ায় আমরাও আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ অনেক সময় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নদীতে গোসল করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
আজ (বুধবার) সকালে রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন নার্সারি এবং প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সহকারী বন সংরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সানজিদা সুলতানা বলেন, গতকাল বিকেলে আমরা পদ্মা নদীতে কুমির দেখা পাওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এলাকাবাসীর সচেতনতার জন্য আজ এলাকায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, কুমিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বন বিভাগ কয়েকদিন নদীপাড়জুড়ে পাহারা দেবে। এরপর কুমিরটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, গতকাল রাত ৮টার পর আমি কুমিরের বিষয়টি জানতে পারি। এরপর উড়াকান্দা এলাকার পদ্মা নদীতে আপাতত কেউ যাতে না নামেন, সেজন্য আজই নদীপাড়ে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং লাল কাপড় টানাতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বলেছি।
পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকেও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি নজরদারি করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
২১ দিন আগে
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা আ.লীগের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৭
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল ইসলাম বুড়োসহ আরও ছয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ।
বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজবাড়ী উপজেলা শহরের বড়পুল এলাকা থেকে বুড়োকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) শরীফ আল রাজীব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাইফুল ইসলাম বুড়ো পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে সাইফুল ইসলাম বুড়ো আত্মগোপনে ছিলেন।
শরীফ আল রাজীব জানান, চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পাংশা মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। সাইফুল ইসলাম ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ শহরের বড়পুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: আ.লীগ নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ: মেজর সাদেকের স্ত্রী গ্রেপ্তার
জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একাধিকবার নির্বাচিত প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রী এবং প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুল হাকিমের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
শরীফ আল রাজীব বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে সাইফুল ইসলামকে রাজবাড়ী সদর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজবাড়ী জেলা পুলিশের পাশাপাশি সব থানার পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তারই অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন— গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল বাতেন (৩৮), গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আসমাউল রেজা সজিব (৩৫), বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান (৫০), দৌলতদিয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম মোল্লা (৫৭), দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মাজেদ মণ্ডল (৫০), দৌলতদিয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগের সদস্য সচিব মমিনুল ইসলাম (৩৫)।
তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। ওইসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করার কথা জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৭৪ দিন আগে
ভাঙন ঝুঁকিতে দৌলতদিয়ার সবগুলো ফেরিঘাট
জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার তিনটি ফেরিঘাটের সবকটি ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে। জরুরি মেরামতের অংশ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ ফেরিঘাট রক্ষায় বালুভর্তি বস্তা ফেললেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এ ছাড়া ঘাটসংলগ্ন তিনটি গ্রাম, বাজার, মসজিদ, স্কুল, মাদরাসাসহ বহু স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয় জানায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ৭টি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট তিনটি সচল রয়েছে। ৬ নম্বর ঘাট থাকলেও সেটি এখনো সচল হয়নি। ঘাটটি পানি উঁচু স্তরের হওয়ায় ভরা বর্ষায় সেটি সচল হবে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে ১, ২ ও ৫ নম্বর ঘাটগুলো নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় সবকটি (৩, ৪ ও ৭ নম্বর) ফেরিঘাট এখন ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট রয়েছে অধিক ঝুঁকিতে। ঘাটসংলগ্ন বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়া, মজিদ মাতুব্বর পাড়া ও শাহাদত মেম্বার পাড়াসহ স্থানীয় বাজার, মসজিদ, স্কুলসহ একাধিক স্থাপনাও রয়েছে ঝুঁকিতে।
দৌলতদিয়া ঘাটের সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে শনিবার (২ আগস্ট) ভাঙনকবলিত এলাকায় আসেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। তারা ঘাটের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
আরও পড়ুন: ধরলার ভাঙনে নিঃস্ব অর্ধশতাধিক, ঝুঁকিতে আরও পাঁচ শতাধিক পরিবার
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়ার ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটসহ মধ্যবর্তী এলাকার সর্বত্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভাঙন বাড়ায় ৭ নম্বর ঘাটে ফেরির পন্টুন ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। ৪ ও ৭নম্বর ফেরিঘাটে কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। আতঙ্কে অনেকে আশপাশের স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছেন। ছাত্তার মেম্বার পাড়ার চারটি পরিবার তাদের ঘরও সরিয়ে নিয়েছে।
১৮৪ দিন আগে
পদ্মায় তীব্র স্রোত, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত
রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জকে সংযোগকারী দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চ ও ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আগের থেকে সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ।
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের বিশাল পন্টুনের কোথাও লঞ্চ বাধা নেই। সেখানে কেবল যাত্রীসাধারণ, টিকিট চেকার ও হকাররা অবস্থান করছেন। নদীতে প্রচণ্ড বেগে স্রোত বয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যে পন্টুন কেঁপে উঠছে। চালকদের সতর্ক করতে পন্টুনে লাঠির মাথায় লাল কাপড় বেঁধে রাখা হয়েছে।
এদিক-ওদিক লক্ষ করলে দেখা যায়, পন্টুনের পূর্বদিকে বসতভিটার কাছে দুটি লঞ্চ নোঙর করে রাখা হয়েছে। পাটুরিয়া থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ পন্টুনের পূর্বদিকে এসে ভিড়ছে। তখন বেঁধে রাখা লঞ্চটি পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
জানা যায়, বাধ্য হয়ে ছোট বা দুর্বল লঞ্চ এবং ফেরি বসিয়ে রাখা হয়েছে। স্রোতের তোড়ে টিকতে না পেরে পন্টুন ছেড়ে পাশের বসতবাড়ির কাছে রাখা হচ্ছে লঞ্চ। গত দুই সপ্তাহ ধরে এমনই অবস্থা চলছে।
ঘাটে থাকা এমভি নিপু-১ এর ইনচার্জ মাস্টার কাজী শফিক বলেন, নদীতে প্রচণ্ড স্রোত থাকায় পন্টুনে লঞ্চ রাখতে পারছি না, এমনকি ভেড়াতেও পারছি না। দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া পৌঁছাতে আগে ২০ থেকে ২২ মিনিট সময় লাগত, এখন ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট লাগছে।
আরও পড়ুন: ভাঙন-ঝুঁকিতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট
তিনি আরও বলেন, যেখানে ঘাটে সবসময় ৮ থেকে ১০টি লঞ্চ থাকত। বর্তমানে মাত্র একটি করে লঞ্চ রাখা হচ্ছে। যাত্রী সেবা চালু রাখতে একটি লঞ্চ ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে, আরেকটি আসছে।
১৮৯ দিন আগে
রাজবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১
রাজবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে আমজাদ খান (৬০) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৭ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের মুচিদহ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে আমজাদের লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
পুলিশ জানায়, পূর্বের বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় (২৩ জুলাই) আমজাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষ। পরদিন (বৃহস্পতিবার) বিকালে তার ভাই আরিফুল আলম খান বাদী হয়ে ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওইদিন রাতেই সোহেল মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
স্থানীয়রা জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বুধবার বিকালে বাড়ির সামনে স্থানীয় সোহেল ও সবুজদের সঙ্গে আমজাদ খানদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মারামারি বেধে যায় এবং সোহেল মণ্ডলদের লোকজন বেশি মার খায়। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় আমজাদ খান বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় গেলে সোহেল ও সবুজদের লোকজন তার পথরোধ করে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ বিলের কোটি টাকা আত্মসাৎকারী রাজবাড়ীর সেই মিটার রিডারম্যান গ্রেপ্তার
আরিফুল আলম খান জানান, ‘আমজাদকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
তিনি আরও জানান, অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে শুক্রবার (২৫ জুলাই) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। অবস্থার আবার অবনতি হলে শুক্রবার ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে মারা যান আমজাদ।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, পূর্বের বিরোধ কেন্দ্র করে কৃষক আমজাদ খানকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ, এরপর তিনি মারা যান। মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত করে রবিবার প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সোহেল মণ্ডল নামের একজনকে ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১৯১ দিন আগে
বিদ্যুৎ বিলের কোটি টাকা আত্মসাৎকারী রাজবাড়ীর সেই মিটার রিডারম্যান গ্রেপ্তার
রাজবাড়ীতে বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেওয়া ওজোপাডিকোর পিচরেট কর্মচারী (মিটার রিডারম্যান) রেজাউল ইসলাম ওরফে মোক্তারকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী থানা ও ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় গাজীপুরের শিমুলতলী থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামি রেজাউল ইসলাম ওরফে মোক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, রেজাউল ইসলাম সদর উপজেলার আলীপুর ও শহিদ ওহাবপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫ বছর ধরে ওজোপাডিকোর বিদ্যুতের মিটার রিডারম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। রাজবাড়ী ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) নিয়োগকৃত কর্মচারী মিটার রিডারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে আলীপুর ও শহিদ ওহাবপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ বিল তৈরি, গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল সংগ্রহ, বিকাশের মাধ্যমে বিল আদায় এবং নতুন সংযোগের নামে অর্থ আদায় করতেন।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বছরে দুটি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিল পরিশোধের নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সম্প্রতি গা ঢাকা দেন তিনি। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য নোটিশ দেওয়া হলে রেজাউল ইসলামের প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে ২ জুলাই রেজাউল ইসলাম মুক্তারের বিচারের দাবিতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে তাকে গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি দেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজবাড়ী সদর থানা এবং জেলার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে গাজীপুর সদর থানার শিমুলতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোক্তার বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেন।
এর আগে, ১ জুলাই রাতে ওজোপাডিকো রাজবাড়ীর সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মিটার রিডারম্যান রেজাউল ইসলাম মুক্তারের নামে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ও সোর্সের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (শুক্রবার) তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।
২০৮ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ট্রাক উল্টে নিহত ২
রাজবাড়ী কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ীর বাংলাদেশ হাট মোড়ের পাশে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খালে পড়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ট্রাকে থাকা অন্তত আরও ৮ জন।
শনিবার (৩১ মে) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের কালুখালী স্বাস্থ্য কসপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রাক ১৪টি গরু নিয়ে ১০জন আরোহীসহ বাংলাদেশ হাট মোড়ের পশ্চিম পাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।
এ সময় ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহতসহ আট জন আহত হন। নিহতরা হলেন— কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকার আফদালপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫০) ও আফদালপুর গ্রামের রফিকুল (৪০)।
পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আহতদের কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার গরু ও মালামাল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।’
২৪৯ দিন আগে
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ীতে চলছে ইলিশ শিকার
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ীতে ইলিশ শিকার করছে এক শ্রেণির অসাধু জেলে ও সৌখিন মৎস্য শিকারিরা। রাজবাড়ীর ৪২ কিলোমিটার পদ্মা নদীর অংশে জেলা টাস্কফোর্স কমিটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও তাদের আড়ালে মাছ ধরছে জেলেরা। রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়া থেকে গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির চর দৌলতদিয়া পর্যন্ত পদ্মা নদীর পাড়েই প্রকাশ্যে এসব ইলিশ বিক্রি চলছে।
মা মাছ রক্ষায় ও মাছের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এ সময় মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাড়তি লাভের আশায় ইলিশ শিকার করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পদ্মা নদীর পাড় থেকে তারা ইলিশ কিনে গ্রাম ঘুরে বিক্রি করছেন। আবার অনেকে ‘হোম ডেলিভারি’ও দিচ্ছেন।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সদর উপজেলার উড়াকান্দা, বরাট অন্তারমোড়, গোয়ালন্দের দেবগ্রামের তেনাপচা ও দৌলতদিয়া কলাবাগান এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ইলিশ শিকার ও বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে ২০০ কেজি ইলিশ জব্দসহ ২২ জেলে আটক
সদর উপজেলার বরাট ইউপির অন্তারমোড়ে দেখা যায়, নদীতে অসংখ্য জেলে নৌকায় মাছ শিকার করছেন। এর এক কিলোমিটার দূরে দেব গ্রামের তেনাপচায় নদীর পাড়ে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের ভিড়। নদী থেকে মাছ নিয়ে জেলেরা আসলেই ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। প্রতিটি নৌকায় ১০ থেকে ৩০ কেজি করে ইলিশ দেখা যায়।
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে নৌকা দেখা না গেলেও ঘাট থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার ভাটিতে বাহির চর কলাবাগান এলাকায় সারি সারি নৌকা দেখা যায়। নদী থেকে মাছ ধরে জেলেরা কলাবাগান এলাকার নালায় গিয়ে বিক্রি করছে।
স্থানীয়রা জানায়, ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ইলিশ এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি ১০০ গ্রাম করে তারা বাড়তি ছাড় পাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা গ্রাম ঘুরে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দরে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে মৎস্য বিভাগকে সহযোগিতা করছেন। প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার ও বিক্রির বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোস্তফা আল রাজীব বলেন, ৪২ কিলোমিটার পদ্মা নদীপথের মধ্যে ধাওয়া পাড়া থেকে বাহির চর দৌলতদিয়া পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। জনবল স্বল্পতার কারণে এতবড় এলাকায় অভিযান চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকালে, দুপুরে ও সন্ধ্যার পর পৃথক ভাগ করে অভিযান চালানো হচ্ছে।
একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত আসা যাওয়ার ফাঁকে জেলেরা নেমে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অভিযান চালাতে সরকারিভাবে ২২ দিনের জন্য মাত্র ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ মিলেছে। অথচ এই অভিযানে প্রতিদিন শুধুমাত্র ট্রলারভাড়া, জ্বালানিসহ অন্যান্য খরচ মিলে ১০ হাজার টাকার বেশি লাগছে। পাশাপাশি নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার না থাকায় অভিযানকালে ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়।
এসব সমস্যা সমাধান হলে ২৪ ঘণ্টা নির্বিঘ্নে অভিযান চালানো সম্ভব বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় এবং বিনিময় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অমান্য করলে কমপক্ষে এক থেকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড রয়েছে।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ ধরায় ৯ জেলের কারাদণ্ড
৪৬৯ দিন আগে