রাজবাড়ী
রাজবাড়ীতে ব্যবসায়ী নেতা গুলিবিদ্ধ
রাজবাড়ীতে এক ব্যবসায়ী নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শহরের পান্না চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমল হোসেন।
গুলিবিদ্ধ আমির হোসেন লিটন সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের আবুল হাশেম মোল্লার ছেলে ও বানিবহ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
লিটন জানান, দুপুরে রাজবাড়ী আদালত থেকে রিকশায় করে বাজারে যাচ্ছিলেন। পান্না চত্বরে পৌঁছালে একটি অটোরিকশা তার রিকশাকে অতিক্রম করে। এ সময় অটোরিকশা থেকে মাস্ক পরা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়েন। এর মধ্যে একটি গুলি তার ডান হাতে লাগে।
পরে স্থানীয় লোকজন লিটনকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, দুপুরে গুলিবিদ্ধ একজন হাসপাতালে আসেন। এক্স-রে করার পর তার হাতে গুলি লাগার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে লিটনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওই চিকিৎসক।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
৭ দিন আগে
রাজবাড়ীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেলচালক নিহত
রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসচাপায় মো. নুর আলম (২৮) নামের এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নুর আলম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার সুতাইল গ্রামের শেখ সাকাউল ইসলামের ছেলে।
পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকনুজ্জামান জানান, নুর আলম মোটরসাইকেল চালিয়ে কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। চন্দনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি বাস তার মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে দুর্ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওসি।
৯ দিন আগে
রাজবাড়ীতে পদ্মায় গোসলে নেমে ৮ বছরের শিশু নিখোঁজ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নুর আমিন (৮) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্রোতের টানে নিখোঁজ হয় সে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল তার সন্ধান করছে।
নিখোঁজ নুর আমিন দৌলতদিয়ার শাহাদত মেম্বার পাড়ার রেজাউল ফকিরের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানায়, আজ (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নুর আমিনসহ চার বন্ধু বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বাহির চর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বার পাড়ার ৬ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় যায়। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে ড্রেজিং চলছিল। ফলে নদীর তলদেশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। সেখানে তিন বন্ধু নুর আমিন, সাব্বির ও রায়হান নদীতে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর স্রোতের টানে নুর আমিন তলিয়ে যায়।
পরে বন্ধুরা বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের পাশাপাশি নৌপুলিশ নদীতে তল্লাশি শুরু করে। দুপুর ২টার দিকে আরিচা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নুর আমিনের দাদা আনোয়ার ফকির বলেন, দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার নাতির কোনো সন্ধান পায়নি তারা।’
আরিচা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টার দিকে খবর পেয়ে সাত সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে চারজন ডুবুরি নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে কাজ করছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্রোতের কারণে তাদের উদ্ধার অভিযান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
১১ দিন আগে
রাজবাড়ীতে পৃথক স্থানে ট্রেন থেকে পড়ে যুবক ও নারীর মৃত্যু
রাজবাড়ী শহরের পৃথক স্থানে ট্রেন থেকে পড়ে এক নারী ও এক যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত রাতে বড় লক্ষ্মীপুর ও সদর উপজেলার কুটি পাচুরিয়া এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহতরা হলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নাজমা বেগম (৩৮) ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সালিয়াবাদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সাকিব (৩০)।
ওসি মিজানুর বলেন, ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত আড়াইটার দিকে রাজবাড়ী শহরের বড় লক্ষ্মীপুর এলাকা পার হচ্ছিল। এ সময় ট্রেন থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যান সাকিব। এতে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সকালে ষ্টেশন মাস্টার রেললাইনের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
এ সময় সাকিবের কাছে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর বিকেল ৪টার দিকে বাবা রফিকুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে গতকাল রাত ১০টার দিকে রাজবাড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজবাড়ী সদর উপজেলার কুটি পাঁচুরিয়া এলাকা পার হওয়ার সময় নাজমা বেগম ট্রেন থেকে পড়ে মারা যান।
রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আওলাদ হোসেন জানান, রেলওয়ে পুলিশ সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসলে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১৪ দিন আগে
পদ্মায় নৌ পুলিশের অভিযান, মা ইলিশ ও কারেন্ট জালসহ আটক ৭
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে সাত জেলেকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় পাঁচ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত গোয়ালন্দের মজলিশপুর ও কলাবাগান এলাকার তিনটি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে দৌলতদিয়া নৌ ফাঁড়ির পুলিশ তাদের আটক করে।
আটক জেলেরা হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার মেঝোমিয়ার ডাঙ্গি গ্রামের মো. রিপন খাঁন (৩৫) ও ইকরাম মৃধা (২৪), আছরউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী গ্রামের শেখ আয়নাল (৫৭), তালেব খাঁর ডাঙ্গী গ্রামের মো. মিজান শেখ (২৭), আমিন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামের সোবহান শেখ (৩০) এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার নইমুদ্দিন খাঁ পাড়ার জয় সরকার (২১) ও আব্দুর রহিম শেখ (১৯)।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে পদ্মা নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে সাত জেলেকে আটক করা হয়েছে। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জব্দ করা কারেন্ট জাল উন্মুক্ত স্থানে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
২২ দিন আগে
পদ্মার এক পাঙ্গাশ বিক্রি হলো ৩৭,৪০০ টাকায়
দীর্ঘদিন পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর মোহনায় ধরা পড়েছে প্রায় ১৭ কেজি ওজনের একটি বড় পাঙ্গাশ। মাছটি ৩৭ হাজার ৪০০ টাকায় কেনার পর ঢাকায় বিক্রির জন্য দরদাম চলছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার একটি আড়ৎ থেকে নিলামে মাছটি কেনেন দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার সুমাইয়া মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী সোহেল মোল্লা।
স্থানীয় জেলেরা জানান, আজ (মঙ্গলবার) মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে নিরঞ্জন হালদারসহ কয়েকজন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ভাটিতে পদ্মা নদীতে জাল ফেলেন। জাল নিয়ে তারা ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ভাটিতে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মজলিশপুর এলাকার নদীর মোহনায় পৌঁছালে বড় ধরনের ঝাঁকি অনুভূত হয়। তখন তারা জালে বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে বলে বুঝতে পারেন।
এ সময় জাল তুলে প্রায় ১৭ কেজি ওজনের পাঙ্গাশটি দেখতে পান তারা। পরে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেন।
এরপর বিকেল ৩টার দিকে মাছটি দৌলতদিয়া বাজারে মাছের আড়তে আনা হয়। সেখানে নিলামে ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হয়ে পাঙ্গাশটি কিনে নেন।
সোহেল মোল্লা বলেন, ১৭ কেজি ওজনের পাঙ্গাশটি তিনি প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ টাকা দরে মোট ৩৭ হাজার ৪০০ টাকায় কিনেছেন। এখন এটি বিক্রির জন্য ঢাকার এক ক্রেতার সঙ্গে কথা চলছে। তিনি প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা লাভ দিয়ে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে মাছটি ৩৯ হাজার ১০০ টাকায় মাছটি কিনতে চেয়েছেন। দরদাম চূড়ান্ত হলে মাছটি ওই ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হবে।
তিনি আরও জানান, পদ্মা নদী থেকে বর্তমানে বড় মাছ পাওয়া যায় না। আগে প্রায়ই জেলেদের জালে বড় মাছ ধরা পড়ত। এখন ধরা পড়লেও বেশির ভাগ নদীপথেই বিক্রি হয়ে যায়।
২৮ দিন আগে
রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার প্রধান আসামির যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতারপ্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী রুনা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে (২৮) যাবজ্জীবন সশ্রম কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি মিলন নিহত গৃহবধু রুনা খাতুনের প্রতিবেশী।
আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আইয়ুব আলী খান বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাদের নারী ও শিশু আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রায়ের পর আসামিকে আদালত থেকে বের করে রাজবাড়ী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় মিলন শেখকে বিমর্ষ অবস্থায় দেখা যায়। তার স্ত্রী চম্পা খাতুন ও তার দুই শিশুসন্তান এ সময় উপস্থিত ছিল।
মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছোট্ট দুই শিশুসন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব। আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমাদের আল্লাহ ছাড়া এখন কেউ নেই।’
নিহত রুনার ভাই ও মামলার বাদী রায়হান বিশ্বাস বলেন, আসামি আমার ছোট বোনের বাড়ি দেখাশোনা করতেন। বিকাশের টাকা এবং স্বর্ণালংকার নিতে আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলাম।
জানা যায়, পাংশা উপজেলার মুচিদাহ খামারডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমানের নতুন বাড়িতে ২০২৩ সালের ১৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেয়ে সিনহা আক্তার (৯) ও দেড় বছর বয়সী ছেলে হুসাইনকে নিয়ে স্ত্রী রুনা খাতুন ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে ছেলে হুসাইন কান্না করলে পাশে থাকা সিনহার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানায় মাকে না পেয়ে বারান্দায় মিলনকে এবং উঠানে দুই পা বাধা মায়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিনহা চিৎকার দিলে মিলনসহ অজ্ঞাত দুজন পালিয়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন এসে রুনার মরদেহ দেখতে পায়।
পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের ভাই রায়হান বিশ্বাস বাদী হয়ে সেদিন মিলনকে প্রধান অভিযুক্ত ও অজ্ঞাত দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ অভিযুক্ত মিলনসহ একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সরদার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়াদ্দারকে (১৫) গ্রেপ্তার করে।
৪১ দিন আগে
ডুবোচরে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ, দৌলতদিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি
প্রবল স্রোতে পলিমাটি পড়ে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি ভিড়তে পারছে না। এ কারণে শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে ঘাটটি বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। মাত্র দুটি ঘাট চালু থাকায় যানবাহন পারাপারে ভোগান্তি বেড়েছে। ঘাটস্বল্পতার কারণে ফেরিঘাট সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে আসা ‘ভাষা সৈনিক গোলাম মওলা’ নামের রো-রো ফেরি ৭ নম্বর ঘাটের কাছে ডুবোচরে আটকা পড়ে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে আইটি-৯৬ জাহাজের সহায়তায় ফেরিটি উদ্ধার করা হয়।
‘ভাষা সৈনিক গোলাম মওলা’ ফেরির প্রধান মাস্টার বাবলু শিকদার বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পাটুরিয়া থেকে দুটি যাত্রীবাহী বাস, ১১টি পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েকটি ছোট গাড়ি নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তারা। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ৭ নম্বর ঘাট থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে বেসিনের সামনে পলি পড়ে সৃষ্ট ডুবোচরে ফেরিটি আটকে যায়। পরে আইটি-৯৬-এর সহায়তায় ভোর সোয়া ৪টার দিকে ফেরিটি ঘাটে ভেড়ানো হয়।
একই সময়ে পাটুরিয়া থেকে আসা ‘ধলেশ্বরী’ নামের কে-টাইপ ফেরিও ডুবোচরে আটকা পড়ে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর সেটি চরমুক্ত হয় বলে জানান তিনি।
৪৪ দিন আগে
নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ১১ দিন ফেরি বন্ধ, ট্রলার ও স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
পদ্মায় প্রবল স্রোতে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌপথে বন্ধের ১১ দিন পরও চালু হয়নি ফেরি। ফলে এ রুটের যানবাহনগুলো দীর্ঘ পথ ঘুরে কুষ্টিয়ার লালনশাহ সেতু হয়ে চলাচল করছে। অন্যদিকে, উপায় না পেয়ে যাত্রীরা ইঞ্জিনচালিত ট্রলার এবং স্পিডবোটে ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। এ সুযোগে যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় জানায়, পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ধাওয়াপাড়া ঘাট থেকে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে আর ফেরি যায়নি। ধাওয়াপাড়ায় অপেক্ষমাণ যানবাহন নিয়ে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারায় ফেরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এরপর ফেরিটি ধাওয়াপাড়া ঘাটে নোঙর করে থাকে। ফলে যানবাহনগুলো কুষ্টিয়ার লালনশাহ সেতু ঘুরে দীর্ঘপথ পাড়ি দিচ্ছে।
এই নৌপথে ‘ক্যামেলিয়া’ ও ‘কপোতি’ নামক দুটি কেটাইপ (মাঝারি) ফেরি চলাচল করত। কিন্তু দুর্বল ইঞ্জিন স্রোতের বিপরীত চলতে না পারায় গত ২৩ জুলাই থেকে কপোতি বন্ধ রয়েছে। একমাত্র ভরসা ক্যামেলিয়াও গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায়।
৪৭ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ঋণ-জর্জরিত কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ভোরের আলো ফুটতেই ঘুম ভাঙে স্ত্রীর। ঘুম ভেঙে বিছানায় স্বামী আব্দুল জলিল শেখকে দেখতে পাননি তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো কাজে বাইরে গেছেন। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অপেক্ষা পরিণত হয় এক মর্মান্তিক খবরে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাঠে যাওয়ার পথে কয়েকজন কৃষক তার বাড়ির অদূরে একটি সজনে গাছের ডালে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় জলিল শেখকে ঝুলতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ছুটে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় গাছের ডাল থেকে তাকে নামানো হয়। তবে ততক্ষণে তিনি আর বেঁচে নেই।
নিহত আব্দুল জলিল শেখ (৫৮) রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের খলিশা সোনাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুস শেখের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিলেন না জলিল। ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়তে থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে মানসিক কষ্ট থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার দিবাগত রাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ ঘরেই ঘুমিয়েছিলেন জলিল। আজ ভোরে স্ত্রীর ঘুম ভাঙলে দেখেন, তিনি বিছানায় নেই। বাড়ির আশপাশে খোঁজ করেও প্রথমে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সকালে মাঠে যাওয়ার সময় কৃষকরা গাছের ডালে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
জলিলের একটি মাত্র মেয়ে ছিল। কয়েক বছর আগে সেও আত্মহত্যা করে। এরপর স্ত্রীকে নিয়েই তার সংসার চলছিল।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে মরদেহটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, জলিল অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ কারণে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ওসি।
৬৫ দিন আগে