ফ্রান্স
স্পিকারের সঙ্গে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে ফ্রান্সের সংসদীয় প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ফ্রান্স বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক গন্তব্য ফ্রান্স।
ফ্রান্স-বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস গঠনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন ফ্রান্সের সিনেটর পিয়ের-আলাঁ রোয়ারোঁ, অলিভিয়ের হেনো ও গিয়োম শেভরোলিয়ে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তারা কখনও স্বৈরাচারী শাসনের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেনি এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা সমুন্নত রেখেছে।
এ সময় স্পিকার বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফ্রান্সের নাগরিক আন্দ্রে মারলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সাক্ষাৎকালে ফ্রান্সের প্রতিনিধিদল ফ্রান্স-বাংলাদেশ সংসদীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে। তারা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের কূপ অনুসন্ধান ও খননে ফরাসি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।
ফরাসি সংসদীয় প্রতিনিধিদল ফ্রান্সের সিনেটের পক্ষ থেকে স্পিকার ও বাংলাদেশের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানায়।
এ সময় ফরাসি দূতাবাস ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী খন্দকার মোহাম্মদ তালহার অভোগকৃত অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করে তাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (গ্রেড-১) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়োগের মেয়াদ ৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এছাড়া নিয়োগের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম ও সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পেশাদার কূটনীতিক খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান।
তিনি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সংক্রান্ত উইংয়ের মহাপরিচালক, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার ও ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চিফ অব প্রটোকল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিদেশে বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন তালহা। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক), জাতিসংঘের তহবিল ও কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করেন।
এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করেন। দুই জায়গাতেই তিনি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্রুপের সমন্বয় করেন।
এর আগে ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনের সময় ২০০৪ সালে জাতিসংঘের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের ভাইস-চেয়ারও নির্বাচিত হন তালহা। এছাড়া জেনেভায় দায়িত্ব পালনের সময় ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কাউন্সিলের ৯৯তম অধিবেশনে র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তালহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ এবং মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৈদেশিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
৪ দিন আগে
অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কল নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
ভোক্তাদের বিরক্তিকর বিক্রয় প্রচারণা থেকে সুরক্ষা এবং প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং বা বাণিজ্যিক কল নিষিদ্ধ করেছে ফ্রান্স। নতুন আইনে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের ফোনকল করে বিরক্ত করতে পারবে না ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) থেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সরকারের সমর্থিত নতুন এই আইন কার্যকর হয়েছে।
বিভিন্ন দেশ অনাকাঙ্ক্ষিত বিপণন কল বন্ধে ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা চালু করলেও ফ্রান্স আশা করছে, বাধ্যতামূলক ‘অপ্ট-ইন’ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।
বছরের পর বছর অভিযোগ
সরকার বলছে, বছরের পর বছর ধরে ভোক্তাদের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আইনটি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল পান। অনেকেই এর চেয়েও বেশি কল পান।
ফ্রান্সে আগে যারা বিপণনমূলক ফোনকল এড়াতে চাইতেন, তাদের সরকারি একটি সেবায় নিজেদের ফোন নম্বর নিবন্ধন করতে হতো। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছিল, কিছু কল সেন্টার ওই তালিকা মানত না।
২০২৪ সালে ১১টি ভোক্তা অধিকার সংগঠন যৌথভাবে এ ধরনের কল নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়। তারা ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনে অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত টেলিমার্কেটিং কলের মাধ্যমে ভোক্তাদের ‘নিরলস হয়রানির’ নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, এ ধরনের হস্তক্ষেপ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে।
এরপর গত বছর ফ্রান্সের পার্লামেন্ট আইনটি অনুমোদন করে। এবার নতুন আইনটি বাস্তবায়িত হওয়ায় সেসব জটিলতা দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশটির প্রতিযোগিতা, ভোক্তা বিষয়ক ও প্রতারণা প্রতিরোধ অধিদপ্তরের (ডিজিসিসিআরএফ) চিফ অব স্টাফ অ্যালিস ভিলকট বলেন, ‘ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোক্তার পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার অনুমতি দিলেও ভোক্তা যেকোনো সময় ওই সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারবেন।’
একটি অবৈধ কলেই গুণতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা
অবৈধ টেলিমার্কেটিং কল করা ব্যক্তিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ইউরো (৮৭ হাজার ডলার) জরিমানা করা হতে পারে। আর কোনো কোম্পানির পক্ষ থেকে অবৈধ কল গেলে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো (৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।
তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যেমন: কোনো ভোক্তা ফরমে সম্মতির ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে বিপণনমূলক কল পাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন। আবার কোনো কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহকের আগে থেকেই চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তাকে নতুন বাণিজ্যিক প্রস্তাব জানাতে পারবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত কলের বিষয়ে মানুষ একটি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
ভিলকট জানান, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক একটি কোম্পানিকে গত বছর ৬০ লাখ ইউরো (৬৯ লাখ ডলার) জরিমানা করা হয়েছিল। ফ্রান্সের আগের টেলিমার্কেটিং বিধি লঙ্ঘন করে ‘নো-কল’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ফোন করার কারণে ওই জরিমানা করা হয়।
ফ্রান্সের নতুন আইনে মরক্কোয় উদ্বেগ
ফ্রান্সের নতুন আইনটি মরক্কোতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইউনেস সেক্কুরি আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, এতে মরক্কোর কল সেন্টার খাতে ৫০ হাজার পর্যন্ত চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সেক্কুরি বলেন, এ খাতে প্রায় ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে এবং এই খাত বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে।
কম শ্রম ব্যয়, ফরাসিভাষী বিপুল কর্মী এবং তুলনামূলক দুর্বল শ্রমিক ইউনিয়নের কারণে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে মরক্কো আকর্ষণীয় আউটসোর্সিং গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় কমাতে চাওয়া ফরাসি কোম্পানিগুলো দেশটির কল সেন্টার খাতের বড় গ্রাহক।
মরক্কোর আউটসোর্সিং সার্ভিসেস ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ চ্রাইবি স্থানীয় দৈনিক ‘লে মাতাঁ’কে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ফ্রান্সের বাজার দেশটির এ খাতের আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ‘শুধু টেলিমার্কেটিং এখন মোট কর্মকাণ্ডের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ।’ একই সঙ্গে খাতটি প্রচলিত কল সেন্টার সেবার বাইরে ক্রমেই বৈচিত্র্য আনছে বলেও জানান তিনি।
অন্য দেশগুলোর পদক্ষেপ
নাগরিকের সুরক্ষায় ফ্রান্স সরকারের এই পদক্ষেপ বিশ্বে নতুন নয়। প্রতিবেশী দেশ জার্মানিতে ২০০৯ সাল থেকেই এ ধরনের কলের ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নেদারল্যান্ডস গত মাসে টেলিমার্কেটিং কলের নিয়ম আরও কঠোর করেছে। দেশটিতে আগে থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল নিষিদ্ধ ছিল। এখন কোনো কোম্পানি পূর্বানুমতি ছাড়া তাদের বিদ্যমান গ্রাহকদেরও প্রচারণামূলক প্রস্তাব দিতে ফোন করতে পারবে না।
অন্য অনেক দেশ অবশ্য ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা অনুসরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ জাতীয় ‘ডু নট কল’ রেজিস্ট্রিতে নিজেদের নাম নিবন্ধন করতে পারেন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রয় কল কমে আসে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের ‘ডু নট কল’ তালিকা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে যারা অনাকাঙ্ক্ষিত কল বন্ধের তালিকায় নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন, তাদের ফোন করা কোম্পানিকে প্রতি কলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ পাউন্ড (৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার) জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
৩৯ দিন আগে
ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল, জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মাক্রোঁ
ফ্রান্সে কয়েক দিন ধরে চলা ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ আজ সোমবার একটি জরুরি সংকট বৈঠক ডেকেছেন। দেশটিতে আগুনে বিশাল এলাকা পুড়ে যাওয়ায় আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
একই সময়ে স্পেনেও একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ফ্রান্সে সবচেয়ে বড় দাবানলটির বিস্তার এখন কিছুটা ধীর হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ অঞ্চলে দাবানলে ইতোমধ্যে প্যারিস শহরের আয়তনের চার গুণেরও বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে ভয়াবহ এই আগুন ধীরে ধীরে বিশ্বের বিখ্যাত ওয়াইন উৎপাদন অঞ্চল বোর্দোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গতরাতে দাবানল পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল ছিল। আগুনের বিস্তার কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
দেশুটিতে নতুন করে কোনো এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে আগস্ট মাসে ফ্রান্সে পর্যটনের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম শুরু হয়। সেটি মাথায় রেখে জিরন্দ কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের ওই এলাকা থেকে দূরে রাখতে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত সকল ছুটির ক্যাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্সে আগুন নিয়ন্ত্রণে স্থল ও আকাশ—দুই দিক থেকেই ব্যাপক অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চলছে। এমনকি, পানি ও অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক বহনকারী বিমান আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, এমন পূর্বাভাস রয়েছে। তাই আগে থেকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন।
৫৪ দিন আগে
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী ১১ জনের সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৮ জুন) ন্যান্সি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ন্যান্সি-এসি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয় এবং ‘প্রায় উল্লম্বভাবে’ নিচে আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন মিউর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভ সেগুই।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম-টিভিকে তিনি বলেন, বিমানটি বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার সীমানায় বিধ্বস্ত হয়।
ইভ সেগুই বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি যদি আর কয়েক মিটার দূরে ঘটত, তাহলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি একটি স্কাইডাইভিং ক্লাবের মালিকানাধীন ছিল এবং প্যারাশুট জাম্প কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৮৩ দিন আগে
জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতিতে গুরুত্বারোপ
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে তারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এবারের জি-৭ সম্মেলন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে সম্মেলনে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, আপাতত ইরান বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে, আমরা এখন ইউক্রেনের পরিস্থিতির ওপর মনোযোগ দেব।
সম্মেলনে মাক্রোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন। তার মতে, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি জরুরি।
ট্রাম্প আরও জানান, রবিবার তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। ফ্রান্সের আমন্ত্রণে জেলেনস্কিও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জি-৭ নেতাদের একটি একটি কর্মঅধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
অপরদিকে, জি-৭ সম্মেলনে সম্মেলনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প সাড়ে তিন মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন।
জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) হলো বিশ্বের ৭টি উন্নত ও প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশের একটি জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো: ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য।
বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের জন্য এসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বছরে একবার বৈঠক করে নীতিগত সমন্বয়ের চেষ্টা করেন।
এবারের সম্মেলনে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, মিসর, ভারত, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, ইউক্রেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের
এদিকে, নৗপথে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য যে ছায়া বহর (শ্যাডো ফ্লিট) ব্যবহার করে, সম্মেলনের মধ্যেই সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার সম্প্রতি কেনা কয়েকটি জাহাজও রয়েছে। এসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞার অমান্য করে আর্কটিক এলএনজি ২ প্রকল্প থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৬০০টিরও বেশি শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত সপ্তাহের শেষে ইংলিশ চ্যানেলে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার একটি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজ জব্দ করেছে ব্রিটিশ বাহিনী।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশনিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেখানে তিনি রাশিয়ার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার তার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
৯৫ দিন আগে
পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক
গতরাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। তবে তাদের শিরোপা জয়ের উৎসব মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ফ্রান্সজুড়ে পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর ৪ শতাধিকের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ মে) ভোর পর্যন্ত মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে শুধু প্যারিস থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮০ জন। এ ঘটনায় ৭ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
১১১ দিন আগে
পুলিশ সংস্কারে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, মব নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, র্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন, ফরেনসিক খাতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুলিশ সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। তবে এই উন্নয়ন রাতারাতি সম্ভব নয়; ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল থাকায় মব নিয়ন্ত্রণে তারা সফল হতে পারেনি। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো মবের ঘটনা ঘটেনি। সরকার কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সভা-সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ করতে পারবে।
র্যাবের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। র্যাবের নাম সংশোধন এবং বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিকসকে কাজে লাগিয়ে আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমে বাহিনীটিকে কার্যকরভাবে রাখা হবে।
এ সময় ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে চায় এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে ফ্রান্স সহযোগিতার পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘অ্যান্টি রায়ট ট্রুপ’-এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে ফ্রান্স দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
এছাড়া ফ্রান্স দূতাবাস থেকে আইজিপি, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করে চিঠি ইস্যু করেছে বলেও মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ফ্রান্স দূতাবাসের ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাটাচে ক্রিস্টেল ফন্টেইন এবং পলিটিক্যাল কাউন্সেলর ক্রিশ্চিয়ান বেক উপস্থিত ছিলেন।
১৭৪ দিন আগে
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: মাখোঁ
আগামী সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। খাবারের অভাবে গাজায় একের পর এক মৃত্যুর মধ্যে এই সাহসী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন তিনি। তবে তার এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন মাখোঁ। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথাও জানান তিনি।
পোস্টে মাখোঁ লেখেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো গাজায় যুদ্ধের অবসান ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা।’
২০২৩ সালে হামাস ইসরায়েলে হামলা করার পর প্রথম দিকে তেল আবিবকে সমর্থন করেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তবে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত অভিযানের কারণে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন তিনি। অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধেরও আহ্বান জানিয়ে আসছেন মাখোঁ।
এক্স পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘শান্তি সম্ভব, মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির প্রতি সততার দিক থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।’
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ব্রিটেনের প্রতি লন্ডনের মেয়রের আহ্বান
সম্প্রতি হামাস সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না— এই অজুহাতে কাতারে চলমান গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনা সংক্ষিপ্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই এই ঘোষণা দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, মাখোঁর এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহ বলেন, ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করবে। তাছাড়া গাজা যেমন একটি ইরানি দোসরে পরিণত হয়েছিল, তেমনি আরেকটি দোসর তৈরির ঝুঁকি তৈরি করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে ইসরায়েলকে ধ্বংস করার জন্য একটি লঞ্চ প্যাড। এর পাশে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ থাকবে না।’
তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মাখোঁর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
মাখোঁর ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদ আব্বাসের ডেপুটি হুসেইন আল-শেখ বলেছেন, ‘(মাখোঁর) এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থনকে প্রতিফলিত করে।’
অন্যদিকে, এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাখোঁর সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে প্রত্যাখান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেন, ‘অবিবেচনাপ্রসূত নেওয়া এই সিদ্ধান্ত কেবল হামাসের প্রচারকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি শান্তি প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, এটি ৭ অক্টোবরের নিহতদের প্রতি চরম অবমাননা।’
বর্তমানে, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪০টিরও বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশও রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধান সমর্থক, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ তার মিত্ররা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।
এরই মধ্যে, আগামী সপ্তাহে ফ্রান্স ও সৌদি আরব জাতিসংঘে যৌথভাবে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন উপদেষ্টাকে গাজার ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি দেখালেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট
এর আগে, গত মাসে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে একটি বৃহত্তর উদ্যোগের পক্ষে জোর দিয়েছিলেন মাখোঁ, তবে ইসরায়েলকেও স্বীকৃতি ও আত্মরক্ষার অধিকার সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এ ছাড়াও গাজার চলমান পরিস্থিতিতে কীভাবে ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছানো যায় এবং যুদ্ধ থামানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার (২৫ জুলাই) ব্রিটেন ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মাখোঁর।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাকে সমর্থন করে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। একটি যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় যে দুর্ভোগ ও অনাহার চলছে, তা বর্ণনাতীত এবং কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’
৪২১ দিন আগে
৯ গোলের থ্রিলারে লড়াই করেও হারল ফ্রান্স, স্পেন-পর্তুগাল ফাইনাল
সেয়ানে সেয়ানে টক্করের পরও ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ল ফ্রান্স, কিন্তু তারপরও কী অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়াল দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তের দুর্দান্ত স্পেনের বিপক্ষে পেরে উঠল না দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ফলে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ফরাসিদের, অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠেছে স্পেন।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফিরেছিল ২০২০-২১ মৌসুমের ফাইনাল। তবে সেবার স্প্যানিশদের ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করলেও এবার আর পারল না ফ্রান্স। অপরদিকে ফরাসিদের ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে আরও একবার ফাইনালে উঠে গেল স্প্যানিশরা।
এদিন ম্যাচের ২৩ ও ২৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন। তবে প্রথমার্ধের পুরোটা আলো কেড়ে নেন স্পেন অধিনায়ক তথা দলটির গোলরক্ষক উনাই সিমোন। ফরাসিদের নিশ্চিত গোল হওয়ার মতো পাঁচটি শট রুখে দেন তিনি।
বিরতির পর নেমে ফের জোড়া ধাক্কা খায় ফ্রান্স। এবারের দুই গোলদাতা লামিন ইয়ামাল ও পেদ্রি।
৫৪তম মিনিটে লামিনকে ফাউল করে পেনাল্টি দিয়ে বসেন ফরাসি ডিফেন্ডার আদ্রিয়েন রাবিও, আর তা থেকে ব্যবধান ৩-০-তে উন্নীত করেন এই কাতালান প্রতিভা। পরের মিনিটে স্পেনের চকিত আক্রমণে চোখে সর্ষে ফুল দেখে ফ্রান্সের ডিফেন্ডাররা। এ সময় নিকো উইলিয়ামসের ড্রিবলের পর বাড়ানো পাস থেকে আরও নিপুণ দক্ষতায় গোল করেন পেদ্রি।
তার পাঁচ মিনিট পর অবশ্য পেনাল্টি পায় ফ্রান্সও এবং তা থেকে প্রথমবার ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। তবে ৭৯তম মিনিটে লামিন পঞ্চম গোলটি করলে মনে হচ্ছিল ফ্রান্সের খেলা সেখানেই শেষ। কিন্তু ফুটবল বলে কথা! যেখানে শেষ বলে কিছু নেই।
৭৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা রায়ান শেরকির গোলে ব্যবধান কমে দেশমের দলের। এর তিন মিনিট পর এমবাপ্পের কাছে বল যাওয়া রুখতে গিয়ে তা জালে পাঠিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন স্পেনের বদলি হিসেবে নামা ডিফেন্ডার দানি ভিভিয়ান। ৫-৩ গোলে ব্যবধান কমে এলে পায়ের নিচে মাটি পায় ফ্রান্স; আরও জমে ওঠে খেলা।
এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আরও একটি গোল করেন রাঁদাল কোলো মুয়ানি, কিন্তু তা সমতায় ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে খেলা অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে গড়ানোর সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৯০+৬ মিনিটেই শেষ হয়, আর শেষ হাসি হাসে স্পেন।
৪৭১ দিন আগে