মসজিদ
ঐতিহ্যের সাক্ষী চুয়াডাঙ্গার কুসুম বিবির তিন গম্বুজবিশিষ্ট বড় মসজিদ
ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট চুয়াডাঙ্গার বড় মসজিদ। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর কাছে এটি গর্বের প্রতীক। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এ মসজিদটি স্থাপিত হয় আনুমানিক ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে (১২০৮ হিজরি)। দীর্ঘ সময় ধরে এটি শুধু ইবাদতের স্থানই নয়, বরং সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
মসজিদের মুসল্লিদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মসজিদটি এলাকায় ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও মসজিদটি তার ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে দাঁড়িয়ে আছে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৮৬ সালে কুসুম বিবি নামের এক মহীয়সী নারী ৭৩ শতক জমির ওপর নিজ অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রথম মসজিদ হিসেবে এখান থেকেই প্রথম আজানের ধ্বনি শোনা যায়।
চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র একাডেমি মোড়-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদের নাম অনুসারেই আশপাশের মহল্লার নাম হয়েছে ‘মসজিদপাড়া’। বর্তমানে আধুনিক সুবিধা যুক্ত হলেও মসজিদের কিছু অংশে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুরুর দিকে মসজিদের ভেতরে দুইটি ও বারান্দায় একটি কাতারে নামাজ আদায় করা যেত। সেই সময় প্রায় ৭০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারতেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটিও সম্প্রসারণ করা হয়।
২০১৪ সালে মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে মসজিদটির সংস্কার করা হয়। সংস্কারের মাধ্যমে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নামাজের জায়গা সম্প্রসারণ এবং নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বর্তমানে এটি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি বৃহৎ জামে মসজিদ হিসেবে মুসল্লিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
বড় মসজিদ বা মিনার মসজিদ নামেও পরিচিত মসজিদটি। এর সুউচ্চ মিনার অনেক দূর থেকেই দেখা যায়। তবে বর্তমানে মসজিদের মিনারের তৃতীয় তলার বেলকুনির অংশ ভেঙে গেছে। মসজিদের মিনারটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।
মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি কবরস্থান। এই বড় মসজিদে রেলপাড়া, মসজিদপাড়া, একাডেমি মোড়, জোয়ার্দ্দারপাড়া, বাগানপাড়া, মাঝেরপাড়া, মল্লিকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি জুমার নামাজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। এছাড়া ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল ও কোরআন তিলাওয়াতের আসরেও মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার বলেন, চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদের ইতিহাসে কুসুম বিবির নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। এই মসজিদের জমির মূল মালিক ছিলেন পরোপকারী ও ধর্মপ্রাণ নারী কুসুম বিবি। তিনি ৭৩ শতক জমি আল্লাহর ঘর নির্মাণের জন্য দান করেন।
৫ দিন আগে
মসজিদে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের গুলি, রাজশাহীতে মুসল্লি নিহত
রাজশাহী মহানগরীতে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক মুসল্লি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নগরীর খোঁজাপুর গোরস্তানের প্রাচীরসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. মোস্তফা (৫০)। তিনি নগরীর মতিহার থানার ডাঁশমারী এলাকার তইমুর উদ্দীনের ছেলে ছিলেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবুল কালাম আজাদ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, মোস্তফা মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার ডান পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎস তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, মোস্তফাকে হাসপাতলে আনা হলে তাকে আমারা মৃত অবস্থায় পাই। তিনি ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি বলেন, কী কারণে হামলা হয়েছে, সেটি এখনও জানা যায়নি। হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে এখন তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩৪ দিন আগে
মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার গেজেট প্রকাশ
‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ নীতিমালা প্রণয়নে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। এটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে কমিটি। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
নীতিমালায় দেশের মসজিদগুলোর খতিব ব্যতীত অন্যান্য জনবলের গ্রেডভিত্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে। তবে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে।
এ নীতিমালায় জ্যেষ্ঠ পেশ ইমামকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পঞ্চম, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ ও ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিনকে দশম, মুয়াজ্জিনকে একাদশ, প্রধান খাদিমকে পঞ্চদশ ও খাদিমকে ষষ্ঠদশ গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনায় সামর্থ্য অনুসারে সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের স্বার্থে মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিরা। এছাড়া, পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ও প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।
এ নীতিমালা অনুসারে মসজিদের কোনো পদে নিয়োগের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি থাকবে। এ কমিটির সুপারিশ ব্যতীত কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্বাবলিসহ চাকরি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করে নিয়োগপত্র প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের এ নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়াও নারীদের জন্য মসজিদে শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়ে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কলেবর বৃদ্ধি করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় এ কমিটির সদস্য সংখ্যা কম-বেশি করার বিধানও রাখা হয়েছে।
চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৩০ দিনের মধ্যে কর্মরত যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। এছাড়া, নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও রয়েছে এ নীতিমালায়। এ নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।
৫৯ দিন আগে
মসজিদের বারান্দায় নবজাতক রেখে গেল কে?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের বারান্দা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সুহিলপুর জামে মসজিদের বারান্দায় নবজাতকটিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান।
শিশুটির বয়স আনুমানিক ২-৪ দিন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাহিম মাহিন স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় নবজাতকটি উদ্ধার করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মো. আকতার হোসাইন জানান, নবজাতকটি বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ আছে। তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুটিকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, নবজাতকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা শিশুটিকে মসজিদের বারান্দায় ফেলে রেখে গেছে, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৫৯ দিন আগে
মসজিদে শিশু বলাৎকার, যুবকের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গায় একটি মসজিদে শিশু বলৎকারের ঘটনায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
আসামির উপস্থিতিতে রবিবার (২৭ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এই রায় দেন। পরে তাকে হাজতে পাঠানো হয়।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নাজমুল ইসলাম (২২) চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ গ্রামের ঘুষিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ৯ বছর বয়সী ওই শিশুটি হাসাদহ ঘুষিপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ধর্মীয় শিক্ষক নাজমুল ইসলামের কাছে আরবি শিক্ষা গ্রহণ করত। ২০২৩ সালের ১৫ মে মসজিদের ভেতরে কোমল পানীয় ‘সেভেন আপ’ খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে বলাৎকার করেন নাজমুল। এরপর শিশুটি বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার মাকে জানায়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা শিরিনা খাতুন বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ১৭ মে জীবননগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা করেন।
আরও পড়ুন: হত্যা মামলায় ১৭ বছর পর দুই জনের যাবজ্জীবন
একই বছরের ৩০ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ্ আলী মিয়া নাজমুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে আজ (রবিবার) রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নাজমুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
৩২৮ দিন আগে
দেশের সব মসজিদে একই সময় জুমা আদায়ের আহ্বান ইফার
দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজ একই সময় আদায় করতে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। রবিবার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) সই করা এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জুমার দিন সর্বাপেক্ষা উত্তম ও বরকতময় দিন। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিন।’
মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এ-ই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম; যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯) জুমা পারস্পরিক দেখা সাক্ষাত ও সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এ দিনকে বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো এ দিনে বিশেষ সময়ে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন মসজিদে বিভিন্ন সময়ে জুমার নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। কোনো মসজিদে দুপুর ১টায়, কোনো মসজিদে দেড়টায়, আবার কোনো মসজিদে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে জুমার নামাজ শুরু করতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: জুমার নামাজের সময় ভূমিকম্প, মিয়ানমারে নিহত অন্তত ৭০০ মুসল্লি
সময়ের তারতম্যের কারণে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিশেষ করে পথচারীরা (সফররত মুসল্লি) বিভ্রান্ত ও সমস্যার সম্মুখীন হন। এ সমস্যা দূরীকরণে সারাদেশে সব মসজিদে মুসল্লিদের সুবিধার্থে একই সময় দুপুর ১.৩০ টায় জুমার নামাজ আদায় করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমতাবস্থায়, তার বিভাগ/জেলায় অবস্থিত সব মসজিদে একই সময়ে অর্থাৎ দুপুর দেড়টায় জুমার নামাজ আদায় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
৩৪২ দিন আগে
মসজিদে হামলা-চাঁদাবাজি মামলায় জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার
পিরোজপুরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) পিরোজপুরের ১ নম্বর সদস্য মুসাব্বির মাহমুদ সানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে পিরোজপুরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তার মুসাব্বির মাহমুদ সানি (৩২) পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মাছিমপুর এলাকার মো. কিসলুরের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে মুসাব্বির নিজেকে ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে ৩০-৪০ জনের একটি দল নিয়ে পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগের অধীনে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের স্থাপনায় হামলা চালান। হামলাকারীরা সাইটের স্টাফ ও কর্মচারীদের থাকার ঘরে ভাঙচুর করেন এবং অফিস কক্ষে থাকা পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। এ সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরাসহ এর হার্ডডিস্কও ভেঙে ফেলেন।
আরও পড়ুন: বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্কে এবার এরদোয়ানের পদত্যাগ দাবি
এ ঘটনায় মুসাব্বির মাহমুদ সানি, সানির কথিত ভাই ও সমন্বয়ক দাবি করা সাজিদ ও সাজিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সোবাহান বলেন, ‘সানির বিরুদ্ধে ভাঙচুর, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। মামলার পর আমরা তাকে আটক করেছি।’
‘এছাড়া, পিরোজপুর বালেশ্বর ব্রিজ টোল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো মামলা হয়নি। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩৬৪ দিন আগে
মসজিদের চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ, সিরাজগঞ্জে নিহত ১
সিরাজগঞ্জে নির্মাণাধীন মসজিদের নামে চাঁদা তোলা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মাতব্বর আজাহার আলী নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হন অন্তত আরও ৮ জন।
শনিবার (১৫ মার্চ) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ছোট সগুনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আজাহার আলী ওই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন— একই এলাকার ধুলগাগড়াখালী গ্রামের আমির হামজা (২০), চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মোশারাফ হোসেন (৫৯), ঝালু মেটুয়ানি গ্রামের শাহিন আনোয়ার মাস্টার (৫৭)। পুলিশি হেফাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলিতে নিহত ১
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকেরিয়া হোসেন বলেন, ‘বেলকুচি উপজেলার ছোট সগুনা গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের চাঁদা ওঠানোকে কেন্দ্র করে গ্রামের আলাউদ্দিনের লোকজন ও কারিমুলের লোকজনের মধ্যে শুক্রবার বিকালে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে শনিবার ইফতারের আগমুহূর্তে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় উভয় দলের ৯ জন আহত হন। এদের মধ্যে আলাউদ্দিনের পক্ষের আজাহারকে শনিবার রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।’
আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।’
৩৭০ দিন আগে
এক উঠানে মসজিদ-মন্দির, ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল নিদর্শন
একই উঠানে মসজিদ ও মন্দির। একপাশে উলুধ্বনি, অন্য পাশে চলছে জিকির। এভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দুটি ধর্মীয় উপাসনালয়। একপাশে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আতরের সুঘ্রাণ। ধর্মীয় সম্প্রীতির এমন উজ্জ্বল নিদর্শন সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার পুরান বাজার জামে মসজিদ ও কালীবাড়ী কেন্দ্রীয় মন্দির। এই শারদীয় দুর্গোৎসবেও জমকালো আয়োজন বসেছে এই প্রাঙ্গণে।
স্থানীয়রা জানায়, ১৮৩৬ সালে কালী মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। একই আঙিনায় প্রায় শত বছর ধরে কোনো ধরনের সাম্প্রতিক কলহ বা দাঙ্গা ছাড়াই দুই ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করে আসছে নির্দ্বিধায়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত মদপানে চুয়াডাঙ্গায় একজনের মৃত্যু
বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়ার জন্য তার পাশেই একটি ছোট ঘর তোলেন আর সেটির নামকরণও করা হয় পুরান বাজার জামে মসজিদ। ওই সময় থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কাজ।
পূজা শুরুর আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেন। নামাজ বা আযানের সময়সূচি অনুযায়ী পূজা-অর্চনার ঢাক বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে পূজার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। এ কারণে এখন পর্যন্ত এই মসজিদ-মন্দিরের প্রাঙ্গণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মসজিদ-মন্দিরে সামনের মাঠে পূজার সময় যেমন মেলা বসে তেমনি মুসল্লির জানাজাও হয়ে থাকে। দুই ধর্মের মানুষই সমানভাবে এই মাঠটি ব্যবহার করে থাকে।
এই সম্প্রীতির নির্দশন মন্দির ও মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে সাধারণ মানুষ। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও এই মন্দির ও মসজিদ পরিদর্শন করেছেন।
পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার মসজিদের পাশেই রয়েছে মন্দির। মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবুও এখানে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবশ্রেণির মানুষ যার যার ধর্ম পালন করে। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না।
কালীবাড়ী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী শংকর চক্রবর্তী বলেন, ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার নামকরণও করা হয় কালীবাড়ী। পরে এখানে বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের দেয়াল ঘেঁষে প্রতিষ্ঠা করেন পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার বলেন, একই উঠানে মসজিদ ও মন্দির, এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এখানকার মানুষ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন। যার প্রমাণ এক উঠানে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী মন্দির ও পুরান বাজার জামে মসজিদ।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীসহ আটক ৭
৫২৬ দিন আগে
গাজায় মসজিদ ও স্কুলে বোমা হামলা, নিহত ২৪
মধ্য গাজায় একটি মসজিদ ও একটি স্কুলে ইসরায়েলের বোমা হামলায় অন্তত ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৯৩ জন আহত হয়েছে।
হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল ও ইবনে রুশদ স্কুল সংলগ্ন আল-আকসা শহীদ মসজিদে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
রবিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, দেইর আল বালাহ এলাকায় 'ইবনে রুশদ' স্কুল নামে পরিচিত একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের ভেতরে থাকা হামাস জঙ্গিদের ওপর 'সুনির্দিষ্টভাবে হামলা' চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।
আরও পড়ুন: গাজার শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১২
এতে আরও বলা হয়, দেইর আল বালাহ এলাকায় 'শুহাদা আল-আকসা' মসজিদ নামে পরিচিত একটি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মধ্যে তৎপরতা চালানো হামাস জঙ্গিদের ওপর বিমান বাহিনী 'সুনির্দিষ্টভাবে হামলা' চালিয়েছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস। ১২০০ জনের মৃত্যু হয়। ২৫০ জনকে জিম্মি করে নেয় হামাস। এ হামলার পরপরই গাজায় অব্যাহত হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।
শনিবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৮২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
এই সংঘাতের বর্ষপূর্তির একদিন আগেই মসজিদ আর স্কুল লক্ষ্য করে হামলা চালালো ইসরায়েল।
আরও পড়ুন: গাজার মধ্যাঞ্চলে ইসরায়েলি বোমা হামলায় নিহত ৮
৫৩১ দিন আগে