বিসিবি
আইসিসির সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক আলোচনা’ চালিয়ে যাবে বিসিবি
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ দলের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বিসিবির শঙ্কা সমাধানে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক এই সংস্থা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইসসির কাছ থেকে জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আইসিসি তাদের বার্তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা উত্থাপিত উদ্বেগ নিরসনে বিসিবির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে যে, টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিসিবির মতামত ও পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে এবং তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।’
মঙ্গলবার রাতে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা শঙ্কা আর ভারতে খেলতে না যাওয়ার অনুরোধকে পাত্তা দেয়নি আইসিসি। বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বলা হয়েছে। নাহলে পয়েন্ট হারানোর আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
তবে এই খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে বোর্ডকে আল্টিমেটাম (চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে) দেওয়া হয়েছে, যা বিসিবির নজরে এসেছে। বিসিবি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং আইসিসির কাছ থেকে পাওয়া বার্তার ধরন বা বিষয়বস্তুর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ‘২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নির্বিঘ্ন ও সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বোর্ড আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পেশাদারভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে, যেখানে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই সহযোগিতামূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সব সময়ই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
১২ দিন আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাবে না বাংলাদেশ
আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে জাতীয় দলকে ভারতে না পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’
গতকাল উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। মূলত এ কারণেই ভারতে দল না পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কেও জানিয়েছে বিসিবি।
আজ এক ই-মেইল বার্তায় আইসিসিকে বিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের ভেন্যুগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে সেখানে বাংলাদেশ দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে বোর্ড।
চিঠিতে বিসিবি আরও উল্লেখ করে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ আগ্রহী থাকলেও খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ অবস্থায় বিকল্প কোনো দেশে ম্যাচগুলো আয়োজনের সুযোগ থাকলে সে বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য আইসিসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড।
এর আগে, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার জেরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন বিসিবির পরিচালকেরা। গতকাল রাতেও অনলাইনে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবশ্য অধিকাংশ পরিচালক ‘এখনই কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার’ পক্ষে মত দেন। তবে পরবর্তীতে সরকারের হস্তক্ষেপ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অবস্থান বদলায় বোর্ড।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজ। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারায় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতে। ওই সময়ে লিটন-মোস্তাফিজদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা—সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
১৫ দিন আগে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থবির ক্রীড়াঙ্গন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফেডারেশন কাপ, নারী ফুটবল লীগ, বিপিএলসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিত করেছে ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশে শোক বিরাজ করছে। প্রয়াত দেশনেত্রীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আজ নির্ধারিত সিলেট টাইটান্স বনাম চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং ঢাকা ক্যাপিটালস বনাম রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। এই ম্যাচগুলো পরবর্তীতে নতুন সূচিতে অনুষ্ঠিত হবে।
অপরদিকে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-বাফুফে জানিয়েছে, জাতীয় শোকের অংশ হিসেবে এদিন ফেডারেশন কাপের দুটি ম্যাচই স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও স্থগিত করা হয়েছে।
বাফুফে আরও জানায়, কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নারীদের তিনটি লিগ ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে।
বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য এদিনের সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামীকাল খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় ওইদিন খেলা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নই।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিসিবি, বাফুফে, ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবসহ অন্যান্য জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোও শোকবার্তা প্রকাশ করেছে।
২০ দিন আগে
মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয় গ্রেপ্তার
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার (২ জুলাই) দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকার লালমাটিয়া এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ মাহবুব জানান, গ্রেপ্তারের পর তাকে মানিকগঞ্জ সদর থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে আদালতে তোলা হবে।
জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দূর্জয়ের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর ও দৌলতপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকার লালমাটিয়ায় তার মালিকানাধীন ২ হাজার ৫২৩ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট, জমি ও তিনটি গাড়ি জব্দের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। একই সঙ্গে তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবও জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।
নাঈমুর রহমান দুর্জয় ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও একই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।
২০০ দিন আগে
রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনের দুরবস্থায় বিসিবি সভাপতি হতাশ
রংপুরের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
শনিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা অর্জনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী উৎসব চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ক্রিকেট গার্ডেনের আউটফিল্ড দেখে হতাশা প্রকাশ করে বিসিবি সভাপতি বলেন, এই ধরনের মাঠ ক্রিকেটের জন্য কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে অনেক ভালো করার জায়গা আছে। বিভাগীয় শহর হওয়ার পরও রংপুরে বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ইনডোর স্টেডিয়াম নেই। এটি দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটটা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভালোমানের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ তৈরিতে অতীতের ভুল শুধরিয়ে নতুন ধারায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’
পাশাপাশি রংপুরে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও একাডেমিসহ ক্রিকেটারদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন বিসিবি সভাপতি।
আরও পড়ুন: টেস্টের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন শান্ত
মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘সারা দেশের অন্যান্য বিভাগীয় নগরীর মতো রংপুরও সেসব সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখে। কারণ রংপুর থেকেও ক্রিকেটাররা জাতীয় ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করছে। এখানকার ক্রিকেটারদের মেধা আছে। সেই মেধার মুল্যায়ন অবশ্যই বিসিবি করবে।’
রংপুরে গত পাঁচ বছরে কোনো লিগ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে কী হয়েছে জানি না, তবে এখন ধাপে ধাপে সবকিছু করা হবে। দেশের কোনও অঞ্চলই অবহেলিত থাকবে না। সব অঞ্চলের খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। সব বিভাগেই বয়সভিত্তিক লিগ ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।’
পরে অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন। তিনি ক্ষুদে ক্রিকেটারদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের উৎসাহিত করেন।
২০৫ দিন আগে
টেস্ট মর্যাদার ২৫ বছর পূর্তিতে বিশেষ আয়োজনে বিসিবি
টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা অর্জনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এ মাইলফলক স্মরণে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত স্টেডিয়ামের মিডিয়া প্লাজায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাজিব ভূঁইয়া। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এতে সূচনা বক্তব্য দেবেন।
এদিনের অন্যতম আকর্ষণ থাকবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট খেলা দলের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান। ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের ওই স্কোয়াডের জীবিত সদস্যদের স্মারক ব্লেজার ও ক্যাপ পরিয়ে সম্মান জানানো হবে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে শান্তির বার্তা দিলেন রোনালদো
প্রথম টেস্ট দলের সদস্যরা সেদিনের স্মৃতিচারণও করবেন সংক্ষিপ্ত এক পর্বে।
আয়োজনে থাকবে কেক কাটার আনুষ্ঠানিকতা এবং সাবেক খেলোয়াড় ও অতিথিদের সঙ্গে দলগত ছবি তোলার আয়োজন।
বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট একাদশ ছিল— শাহরিয়ার হোসেন, মেহরাব হোসেন, হাবিবুল বাশার, আমিনুল ইসলাম, আকরাম খান, আল সাহারিয়ার, নাইমুর রহমান (অধিনায়ক), খালেদ মাসুদ (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ রফিক, হাসিবুল হোসেন ও রঞ্জন দাস।
২০৭ দিন আগে
ক্রিকেটারদের বেইজ্জত করা হচ্ছে, দাবি তামিমের
ফিক্সিং, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন তামিম ইকবাল। ক্রিকেটারদের ‘বেইজ্জত-অপমান’ করা হচ্ছে বলে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
হার্ট অ্যাটাকের পর শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) প্রথম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তামিম। বিসিবির সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সময় একাধিক বিষয়ে অসন্তোষের কথা জানান জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
মূলত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএলে) তাওহীদ হৃদয়ের নিষেধাজ্ঞা ইস্যু নিয়ে আজ (শুক্রবার) বৈঠক বসে মোহামেডান ও বিসিবি। মোহামেডানের জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার তামিমসহ বেশ কয়েকজন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি গত ১২ এপ্রিলের। ডিপিএলে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার সৈকতের সঙ্গে সেদিন তর্কে জড়ান মোহামেডানের অধিনায়ক হৃদয়। শুধু মাঠে তর্কে জড়িয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি, ম্যাচ শেষে কিছুটা বিতর্কিত সুরে বলেছিলেন, ‘তিনি (সৈকত) আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হলে আমিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।’
ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে তর্ক ও তাদের কটাক্ষ করার কারণে ২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান হৃদয়। তবে তার শাস্তি কমানোর জন্য ডিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির কাছে আবেদন করে মোহামেডান কর্তৃপক্ষ। কমিটি তাতে সাড়া না দিলেও তাদের সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে হৃদয়ের শাস্তি কমিয়ে এক ম্যাচে নিয়ে আসে বিসিবির আম্পায়ার বিভাগ, অথচ এই এখতিয়ার তাদের নেই।
নিয়ম ভেঙে হৃদয়ের এই শাস্তি কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে বিসিবির চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন সৈকত। তবে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সৈকতের অভিমান ভাঙায় বিসিবির আম্পায়ার বিভাগ এবং সেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নতুন করে দেওয়া হয় হৃদয়কে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা।
এ বিষয়ে তামিমের ভাষ্য, ‘হৃদয়ের ইস্যুটা... ওকে দুটি ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তখন কিন্তু কোনো খেলোয়াড় বা কেউ এটা নিয়ে কথা বলেনি! আম্পায়ার আর ম্যাচ রেফারি মিলে তাকে নিষিদ্ধ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমরা মনে করতে পারি, সিদ্ধান্তটা কঠোর ছিল, কিন্তু এটা নিয়ে আমরা কেউ কোনো কথা বলিনি। তার কিছুদিন পর দেখলাম যে, (নিষেধাজ্ঞা) দুই ম্যাচ থেকে এক ম্যাচ করা হলো; এটা বিসিবি করেছে। তখনও আমরা কেউ কোনো কথা বলিনি। তারপর হৃদয় একটা ম্যাচ না খেলে পরের দুটি ম্যাচ খেলল। স্বাভাবিকভাবে ওর যে শাস্তি ছিল, সেটা সে ভোগ করে নিয়েছে। এখন দুটি ম্যাচ খেলার পর গতকাল শুনলাম যে, তাকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
‘এটা কোন নিয়মে, কীভাবে করা হয়েছে—তা আমার জানা নেই। এটা নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত ছিলাম। এটা হাস্যকর ছিল। কোনোভাবেই সে নিষিদ্ধ হতে পারে না যে কিনা আগেই (একবার) নিষিদ্ধ হয়েছে। বিসিবি তাকে দুটি ম্যাচ খেলতে দিয়েছে। তাকে আবার আপনি কীভাবে নিষিদ্ধ করতে পারেন?’
আরও পড়ুন: হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন তামিম, ফিরেছেন বাসায়
এছাড়া, ডিপিএলের চলতি আসরে একটি ম্যাচকে ঘিরে ফিক্সিংয়ের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ও শাইনপুকুরের ম্যাচকে ঘিরে ওঠা সেই সন্দেহের ম্যাচটি নিয়ে বিসিবির তদন্ত চলছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১০ এপ্রিল শাইনপুকুরের দুই ক্রিকেটার রহিম আহমেদ ও মিনহাজুল আবেদীন সাব্বিরকে মিরপুরে ডাকা হয়। এই দুজন স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে উপস্থিত হয়ে বিসিবি কর্মকর্তাদের সামনে বিতর্কিত স্টাম্পিংয়ের সেই ঘটনা পুনরায় মঞ্চায়ন করে দেখান। উইকেটের দুই পাশে দুটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় সেই দৃশ্য। মিডিয়াকর্মীরাও সে সময় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মনে করেন, মিডিয়ার সামনে এই দুই ক্রিকেটারকে দিয়ে অভিনয় করানোর কোনো অধিকার কারও নেই।
‘আমরা এই জিনিসটা ক্রিকেট বোর্ডকে সরাসরি বলেছি যে দেখেন, যদি ওখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়ে থাকে বা কোনো খেলোয়াড় কোনো ধরনের দোষ করে থাকে, আমরা সবাই চাই এটার (জন্য) শাস্তি হোক; এতে আমরা শতভাগ একমত। কিন্তু তার মানে এটা না যে, আপনি ওই দুটি ছেলেকে নিয়ে গিয়ে মিডিয়ার সামনে অভিনয় করাবেন, এমনটা করার অধিকার কারো নেই।’
‘বিশ্বের কোথাও দুর্নীতি দমন ইউনিটে এমন নিয়ম নেই যে, একই জিনিস অভিনয় করিয়ে আপনি ওই দুটি ছেলেকে বেইজ্জত করবেন মিডিয়ার সামনে। এটা খেলোয়াড়দের অপমান করা। এই জিনিস নিয়ে আমরা একবিন্দুও খুশি ছিলাম না।’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গত আসরে কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ ওঠে। যাদের নাম গণমাধ্যমে আসায়ও বিসিবিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তামিম।
‘বিপিএলেও ১০ জনের নাম ফাঁস হয়েছে বিসিবির ভেতর থেকে; ১০ জনের ছবি মিডিয়াতে দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই চাই, ওখান থেকে কেউ যদি দোষী হয়, তার শাস্তি হোক।
কিন্তু তাদের মধ্যে যদি দুজন বা আটজনও নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়?—প্রশ্ন রেখে তামিম তাদের নামগুলো জনগণের সামনে ফাঁস করে দেওয়াকে ‘অপমানজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই প্রত্যেকটা জিনিস নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার হলো ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের যদি এভাবে ট্রিট করা শুরু করেন, তাহলে তো হলো না! এই জিনিস নিয়ে আমরা প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছি আসতে। উনি এসেছেন, সঙ্গে আরও দুজন পরিচালক (নাজমুল আবেদীন ও ইফতেখার আহমেদ) ছিলেন। আমরা লম্বা আলোচনা করেছি। আমাদের পয়েন্ট তুলে ধরে উনাকে বলেছি যে, (বিষয়গুলো নিয়ে) আমরা আপসেট।’
‘এসব নিয়ে আমাদের বিতর্ক হয়েছে। উনাদের আমরা সুন্দর করে (নিজেদের) অবস্থান পরিষ্কার করেছি যে আমরা কী অনুভব করি। তারপর উনারা উনাদের মতো করে সিদ্ধান্ত দেবেন।’
২৬৯ দিন আগে
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন তামিম, ফিরেছেন বাসায়
খেলার মাঠে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে চারদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন তিনি। তামিমকে পর্যবেক্ষণে রাখা ডা. সাহাবউদ্দীন তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তামিমকে পুনর্বাসন কর্মসূচির মধ্যে থাকতে হবে।
গত ২৪ মার্চ সাভারের বিকেএসপিতে মোহামেডানের হয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে গিয়েছিলেন তামিম। শাইনপুকুরের বিপক্ষে ম্যাচটিতে টসের পরপরই অসুস্থ হয়ে যান তিনি। বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনারও অবস্থা ছিল। অচেতন অবস্থায় কেপিজে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জরুরি ভিত্তিতে তার হার্টে পরানো হয় স্টেন্ট।
আরও পড়ুন: রিং পরানো হয়েছে তামিমের হার্টে
দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বড় বিপদ হয়নি এই তারকার। সাভারের হাসপাতালে দুদিন রাখার পর তাকে রাজধানীর বিখ্যাত এভারকেয়ারে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আরও দুদিন পর তিনি বাসায় যাওয়ার ছাড়পত্র পেলেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তামিম এখন পুরোপুরি বিশ্রামে থাকবেন। সতর্ক হয়ে চলাচল করবেন, কিছু স্বাস্থ্যবিধিও তাকে মেনে চলতে হবে।
তবে তিনি ক্রিকেট খেলতে পারবেন কিনা—সেটা আরও তিন-চার মাস পর জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।
২৯৭ দিন আগে
এবার মাহমুদউল্লাহর অবসরের ঘোষণা
ওয়ানডে ক্রিকেটকে মুশফিকুর রহিম বিদায় জানানোর ঠিক এক সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন আগেই, এবার ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার ইতি টানলেন এই অলরাউন্ডার।
বুধবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত জানান মাহমুদউল্লাহ।
বিদায়ী বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘সকল প্রশংসা সর্বশক্তিমান আল্লাহর। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
‘আমি আমার সকল সতীর্থ, কোচ ও বিশেষ করে আমার ভক্তদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা সবসময় আমাকে সমর্থন করেছেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, বিশেষ করে আমার শ্বশুর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আমার ভাই এমদাদ উল্লাহকে ধন্যবাদ, যিনি শৈশব থেকে আমার কোচ ও মেন্টর হিসেবে সবসময় আমার পাশে রয়েছেন।’
‘অবশেষে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ধন্যবাদ, যারা সবরকমভাবে আমাকে আকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। আমি জানি, লাল-সবুজ জার্সিতে রাঈদ আমাকে মিস করবে।’
সবশেষে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও দলের জন্য শুভকামনা জানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, ‘সবকিছু নিখুঁতভাবে শেষ হয় না, কিন্তু আপনি স্বীকার করে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন।’
আরও পড়ুন: ওয়ানডে ক্রিকেটকেও বিদায় বলে দিলেন মুশফিক
২০২১ সালের জুলাইতে ‘ফিনিশার’ খ্যাত এই ক্রিকেটার দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষবার টেস্ট খেলেছিলেন। আর বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তাকে সবশেষ দেখা গেছে গত বছরের অক্টোবরে ভারত সফরকালে। তারপর থেকে শুধু ওয়ানডে ক্রিকেটেই খেলা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
সদ্যসমাপ্ত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টাইগারদের স্কোয়াডে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। গ্রুপ পর্বে রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটি হয়ে থাকল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার শেষ স্মৃতি।
২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। এরপর ২৩২ ম্যাচে ৩৫ দশমিক ৩৩ গড়ে এবং ৭৭ দশমিক ৮৭ স্ট্রাইক রেটে মোট ৫ হাজার ৩৮৬ রান করেছেন তিনি।
১৮ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৮টি ফিফটির পাশাপাশি করেছেন চারটি সেঞ্চুরি। বল হাতে ১৫৫ ইনিংসে ৪ দশমিক ৯৮ ইকোনমি রেটে মোট ৮২ উইকেট নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটির পাশেও তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার ১০৩ রানের ইনিংস এবং পরে রুবেল-মাশরাফির দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিজয়োল্লাস করে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সেই স্মৃতি ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।
গত সোমবার বিসিবির ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন মাহমুদউল্লাহ। তাকে রাখা হয়েছিল ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। তখন থেকেই গুঞ্জন ছিল, ২২ গজ থেকে বিদায় নিয়ে নিতে পারেন তিনি। অবশেষে সেটিই সত্যি হলো।
৩১৩ দিন আগে
ওয়ানডে ক্রিকেটকেও বিদায় বলে দিলেন মুশফিক
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যর্থতার পর দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এবার এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন মুশফিকুর রহিম।
বুধবার (৫ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্ট করে নিজের অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
ইংরেজিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ থেকে ওয়ানডে সংস্করণ থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি আমি।’
‘সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ। বৈশ্বিক পর্যায়ে আমাদের অর্জন হয়তো সীমিত, তবে একটি জিনিস নিশ্চিত যখনই আমি আমার দেশের জন্য মাঠে নেমেছি, নিবেদন ও সততার সঙ্গে নিজের শতভাগের বেশি দিয়েছি।’
এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েই ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছিলেন মুশফিক। এবার ওয়ানডে ক্রিকেট থেকেও সরে দাাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি।
২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল মুশফিকের। তারপর কেটে গেছে ১৯টি বছর। এর মাঝে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে ২৭৪ ম্যাচ খেলে অবশেষে থামালেন নিজের পথচলা।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিক। ৩৬ দশমিক ৪২ গড় ও ৭৯ দশমিক ৭০ স্ট্রাইক রেটে মোট ৭ হাজার ৭৯৫ রান করেছেন এই তারকা ব্যাটার। এই সময়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯টি শতক ও ৪৯টি অর্ধশতক।
তার বিদায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এমন একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো যেখানে গৌরব, অর্জন, প্রাপ্তি যেমন আছে, তেমনই আছে কিছু ব্যর্থতা আর হতাশার ছোঁয়াও।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অনেক ভরসা করা হয়েছিল মুশফিকের ওপর। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের প্রথম বলেই আউট হন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিদায় নেন মাত্র ২ রান করে। ওই ম্যাচে বাজে শটে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
প্রথম দুই ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। দলের ব্যর্থতায় আঙুল ওঠে অভিজ্ঞতম ব্যাটসম্যান মুশফিকের দিকে। আর এতে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার পড়ে যায় প্রশ্নের মুখে। নতুন বছরে বিসিবি তাকে ওয়ানডের চুক্তিতে রাখবে কিনা তা নিয়েও তৈরি হয় সংশয়।
শুধু এই টুর্নামেন্টে নয়, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছিল না তার পারফরম্যান্সে। সবশেষ ১৪ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে ফিফটি এসেছে মাত্র একটি। এর সাত ইনিংসেই আউট হয়েছেন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে।
২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৪০। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তাকে রাখা হবে কি না, দল গোছানোর জন্য (মুশফিক-মাহমুদউল্লাহদের পেছনে রেখে) সামনে তাকানো উচিত কি না—গত কিছুদিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে চলছে এসব নিয়ে আলোচনা।
গত সোমবার বিসিবির সভা শেষে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন এসব প্রশ্নের জবাবেই বলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর খেলা কঠিন।’ বোর্ডের মনোভাবের আভাস মিলে যায় সেখানেই। তারই ধারাবাহিকতায় এলো মুশফিকের এই সিদ্ধান্ত।
সময়ের ডাক যে মুশফিক নিজেও শুনতে পারছিলেন, বিদায়ী বার্তায় ফুটে উঠেছে তা-ও।
‘গত কয়েক সপ্তাহ আমার জন্য ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জিং এবং উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, এটিই আমার নিয়তি।’
‘সবশেষে আমি গভীরভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও ভক্তদের, যাদের জন্য গত ১৯ বছর ধরে ক্রিকেট খেলেছি।’
টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে থেকে বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুশফিকের সামনে এখন শুধুই টেস্ট ক্রিকেট। এখানে বড় এক মাইলফলকের সামনে রয়েছেন তিনি। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার কীর্তি গড়তে আর ছয়টি টেস্টে মাঠে নামতে হবে তাকে। সব ঠিকঠাক থাকলে তা হয়ে যেতে পারে এ বছরই।
৩২০ দিন আগে