কোরবানির ঈদ
নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও এবার স্বস্তির হবে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম।
শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে।’
তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চালকদের অদক্ষতা, আনফিট যানবাহন ও জনগণের অসচেতনতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার হারও কমে আসছে।’
এ সময় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী সড়কে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবার ও আহত ৩৩ জনের মাঝে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আহতদের ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৫৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
১৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ার ২৬ মণের ‘রাজাবাবু’, দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ
কোরবানির ঈদ এলেই দেশের পশুর বাজারে বড় গরু নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। কোথাও বিশাল আকৃতির ষাঁড়, কোথাও লাখ টাকার দাম হাঁকা গরু—সবকিছু নিয়েই চলে মানুষের আগ্রহ।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার কুষ্টিয়া জেলার প্রান্তিক খামারিরা তাদের পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এবারের কোরবানির বাজারে আলোড়ন তুলেছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রায় ২৬ মণ ওজনের ‘রাজাবাবু’। খামারিরা যার দাম হাঁকছেন ৮ লাখ টাকা।
ধবধবে সাদা ও কালো রঙের গরুটির বয়স তিন বছর। গরুটি এখন চার দাঁতের। বিশাল আকারের রাজাবাবুকে দেখতে প্রতিদিন দূরদুরান্ত থেকে খামারে আসছে দর্শনার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজ বাড়ির গাভী গরুর বাছুর এই গরুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালনপালন করছেন মো. মোতালেব হোসেন মন্ডল। ভালোবেসে তিনি গরুটির নাম দিয়েছিলেন ‘রাজাবাবু’। গম, ছোলা, চালের গুড়া, আলু ও ঘাস খাইয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে গরুটি।
সরেজমিনে মো. মোতালেব হোসেন মন্ডলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২৬ মণ ওজনের গরুটির যত্ন নিচ্ছেন তার সহধর্মিনী।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর যাবত আমাদের গরুর খামার আছে এবং ৩ বছর এই গরুটা আমরা সখ করে লালনপালন করছি। এই গরুকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়, আমরা কোনো প্রকার ওষুধ বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করিনি। গরুর খাওয়া বাবদ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আমাদের গরুটির ওজন ২৬ মণ, দাম ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
মোতালেব হোসেন মন্ডল বলেন, আমার একটি গাভীর পেট থেকে রাজাবাবুর জন্ম। জন্মের পর থেকে তাকে আমি লালনপালন করছি। গরুটি খুবই শান্ত প্রকৃতির। এজন্যই তার নাম রেখেছি রাজাবাবু। আমি তাকে আমার নিজস্ব চাষ করা ঘাস, খড়, ভুষি খাইয়েছি। বাইরের কোনো খাবার খাওয়াইনি। হঠাৎ অসুস্থতার কারণে গরুটি এবার হাটে তুলতে পারছি না। যদি কেউ কিনতে চান, তাহলে আমার এই ০১৭২০৬০৪২০২ নম্বরে যোগাযোগ করলে হবে।
তিনি জানান, ব্যাপারীরা এ পর্যন্ত রাজাবাবুর দাম ৬ লাখ টাকা বলেছেন। কিন্তু তিনি ৮ লাখ টাকায় গরুটি বেচতে চান। যদি কাঙ্ক্ষিত দামে ‘রাজাবাবু’ বিক্রি না হয়, তাহলে তিনি শনিবার পশুটিকে নিয়ে গাবতলীর হাটে যাবেন।
মোতালেব হোসেনে আরও বলেন, এবার যদি ভারত থেকে গরু না আসে, তাহলে লাভবান হবেন খামারিরা। গো-খাদ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই, যেন গরু আমদানি করা না হয়।
১৩ দিন আগে
বদলগাছীর ৪০ মণের ‘সোনামানিক’, দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ
আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকৃতির গরু নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে নওগাঁর বদলগাছীতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘সোনামানিক’ নামের একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। প্রায় ৪০ মণ ওজনের গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
উপজেলার আধাইপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফরের বাড়িতে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল দেহের ষাঁড়টি। দূর থেকে দেখলে অনেকের কাছে সেটি ছোটখাটো পাহাড়ের মতো মনে হয়। কালো ও লাল রঙের মিশেলে গড়া গরুটির শক্তপোক্ত গঠন সহজেই নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
মালিকের দাবি, নেপলিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় দেড় হাজার কেজি, অর্থাৎ ৪০ মণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, কেউবা আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করছেন।
গরুর মালিক আবু জাফর বলেন, ‘সোনামানিককে আমরা পরিবারের সদস্যের মতো করেই বড় করেছি। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ করা হয়নি। ঘাস, তুষ ও চালের গুঁড়া খাইয়েই প্রায় চার বছর ধরে লালনপালন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা বাড়িতে এসে গরুটি দেখে যাচ্ছেন।
গরুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। উপযুক্ত দাম পেলে বাড়ি থেকেই ষাঁড়টি বিক্রি করবেন বলে জানান আবু জাফর।
স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জু জানান, প্রতিবছরই আবু জাফরের পরিবার বড় আকৃতির গরু পালন করে থাকেন। তবে এবার ‘সোনামানিক’ আকার ও ওজনের কারণে আলাদা করে সবার নজর কেড়েছে।
উপজেলা সদরের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি গতকাল ষাঁড়টি দেখতে আবু জাফরের বাড়ি গিয়েছিলাম। ষাঁড়টির ওপর নজর পড়তেই মনে হলো কোনো হাতি দাঁড়িয়ে আছে। সেলফি তুললাম, ভিডিও করলাম আমার কাছের বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজন দেখানোর জন্য।’
বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী বলেন, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলায় ৫৪ হাজার ৮২০টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আধাইপুর ইউনিয়নের ‘সোনামানিক’ নামের ষাঁড়টি ইতোমধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে। মালিক যেন ন্যায্যমূল্য পান, সেটিই আমার প্রত্যাশা।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সোনামানিককে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত গরুটি কত দামে বিক্রি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
২১ দিন আগে
কুমিল্লায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ২ লাখ ৫৯ হাজার পশু
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় কোরবানির পশু নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ১৭টি উপজেলায় খামার ও পারিবারিক পর্যায়ে লালন-পালন করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার গবাদিপশু। এর বিপরীতে জেলায় এবার পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবার জেলার কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা যাবে। ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ২ লাখ ৭১৭টি। এছাড়া ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে ৫৮ হাজার ২৮৩টি। জেলার অধিকাংশ খামারেই দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৯২৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া বুড়িচং উপজেলায় ১৮ হাজার ৭৯৪টি, বরুড়ায় ১৭ হাজার ৬৪৭টি, চৌদ্দগ্রামে ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১৪ হাজার ৫১৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পশু প্রস্তুত হয়েছে মেঘনা উপজেলায়, সেখানে প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা ৮ হাজার ৭৩২টি। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যাও পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলার বিভিন্ন খামারে এখন ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগাম খামারে গিয়ে পছন্দের পশু কিনে বুকিং দিয়ে রাখছেন। খামারিরাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গরুগুলোর জন্য রেখেছেন বাহারি সব নাম।
কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার নূর জাহান এগ্রো ফার্মের মালিক খামারি মো. মনির হোসেন জানান, তার খামারে এবার ৭২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিভিন্ন আকার ও জাতের এসব গরুর মধ্যে ব্রাহমা ও সাইওয়ালসহ উন্নত জাতের গরুও রয়েছে। খামারের গরুগুলোর নাম রাখা হয়েছে বাহুবলী, তুফান, ফাইটার, মামা-ভাগিনা ও এলবুনুর মতো আকর্ষণীয় নামে।
তিনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা নিয়মিত খামারে আসছেন এবং দরদাম করছেন। যারা আগে কিনে রাখছেন, তাদের গরু ঈদের আগে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমাদের খামারে ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা মূল্যের গরুও রয়েছে।’
কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাসোয়া এলাকার খামারি জামাল হোসেন জানান, তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০৪টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকা গরুর সংখ্যাই বেশি।
তিনি বলেন, ‘পশুর খাবারের দাম কিছুটা বাড়লেও গরুর বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ক্রেতারা খামারে এসে দেখে যাচ্ছেন এবং কেউ কেউ অগ্রিম বুকিংও দিচ্ছেন।’
সদর দক্ষিণ উপজেলার বাগমারা এলাকার খামারি আব্দুল মমিন মিয়া বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন ও সরকারি প্রশিক্ষণ পাওয়ায় খামারিরা লাভবান হচ্ছেন। এবার দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর চাহিদা বেশি থাকবে বলে আশা করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, ‘কুমিল্লায় এ বছর কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। খামারিদের উৎসাহ, সরকারি সহযোগিতা এবং নিয়মিত তদারকির কারণে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদন বেড়েছে।’
তিনি আরও জানান, পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে এবং অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু যাতে বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। একইসঙ্গে ক্রেতাদের সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, জেলার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় গরু পাচারের প্রবণতা না থাকলেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। অবৈধভাবে বিদেশি পশু যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লার খামারিরা এখন বাণিজ্যিক পশু পালনে অনেক বেশি সচেতন। ফলে জেলাটি কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।
২১ দিন আগে
কোরবানির বাজার মাতাতে আসছে ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি গরুকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ‘কালা বাবু’ও ‘ধলা বাবু’ নামের বিশালাকৃতির এই দুই গরুর মোট ওজন প্রায় ৮৫ মণ। গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে খামারে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ আসছেন কৌতূহলবশত, আবার কেউ আসছেন কোরবানির জন্য পছন্দের গরুটি কিনতে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ‘বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো ফার্মে’ বিশেষ পরিচর্যায় বেড়ে উঠেছে গরু দুটি।
খামারজুড়ে এখন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশাল দেহের কারণে গরু দুটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাশের জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন ‘কালা বাবু’ ও ‘ধলা বাবু’কে একনজর দেখতে।
খামার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে লালন পালন করা হয়েছে গরু দুটি। ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুগুলোকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাওয়ানো হয়। সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল, ভুট্টা ও খড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলমূলও খাওয়ানো হয়েছে তাদের।
খামারের কর্মীরা জানান, গরু দুটিকে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশন ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে।
খামারের এক কর্মচারী বলেন, সকালে গরু দুটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বিশেষ খাবার দেওয়া হয়। দুপুর ও রাতেও আলাদা খাদ্যতালিকা মেনে খাওয়ানো হয়। গরমের কারণে নিয়মিত গোসল করানো এবং বিশ্রামের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কোরবানির বাজারকে সামনে রেখে গরু দুটিকে সাজানো হয়েছে বিশেষভাবে। বর-কনের আদলে সাজসজ্জা করায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। গলায় রঙিন ফিতা, মাথায় অলংকার ও শরীরে নকশা করা কাপড় পরিয়ে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই গরু দুটির সঙ্গে ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে বিশাল আকৃতির কারণে গরু দুটি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারের শ্রমিকদের। দর্শনার্থীদের অনুরোধে মাঝে মাঝে খামারের বাইরে বের করা হলেও তখন বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে চেষ্টা করেও গরুগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তারা।
খামারের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন বছর ধরে অনেক যত্ন করে গরু দুটি বড় করেছি। কালা বাবুর চার দাঁত এবং ধলা বাবুর দুই দাঁত উঠেছে। প্রতিদিন নিয়মিত পরিচর্যা ও ভালো খাবার দেওয়ায় গরুগুলো এমন আকৃতি পেয়েছে। ক্রেতাদের সুবিধার জন্য ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই শুধু দেখতে আসছেন। আবার অনেকে আগ্রহ নিয়ে দামও জানতে চাচ্ছেন। আমরা কোরবানির জন্য ভালো ও স্বাস্থ্যকর গরু মানুষের হাতে তুলে দিতে চাই।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় পশু মোটাতাজাকরণে যাতে কেউ ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। খামারগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ কাজ করছে। এ সময়ে কালা বাবু ও ধলা বাবুর কথা তিনি জানেন বলে জানান।
২৩ দিন আগে
কোরবানির ঈদে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন কোরবানির ঈদে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি ভালো বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
উপদেষ্টা বুধবার (৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাবের পাশে কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এবার কোরবানির প্রতিটি হাটে বিপুল সংখ্যক আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ইজারাদারদের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঈদের দিন বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল
তিনি বলেন, অসুস্থ পশু যেন হাটে ঢুকতে না পারে সেজন্য চেক-আপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ অসুস্থ বা আহত হলে যেন চিকিৎসা নিতে পারে, সেজন্য মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের কোরবানির ঈদের হাট ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক প্রস্তুতি অত্যন্ত ভালো।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা চাচ্ছি গরুর দাম স্বাভাবিক থাকুক, যাতে কৃষক বা খামারি ও ক্রেতা উভয়ই লাভবান হয়।তিনি বলেন, গরুর দাম যদি খুব কমে যায় তখন কৃষক বা খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার দাম বেড়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভোক্তারা। তাই, আমরা চাচ্ছি এমন একটা দাম নির্ধারণ হউক যাতে দুই পক্ষ লাভবান হয়।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রত্যেকটি কোরবানির পশুর ট্রাকের সামনে লেখা থাকবে ট্রাক কোন হাটে যাবে এবং এ সংক্রান্ত ব্যানারও টানানো থাকবে।’ কেউ এর ব্যত্যয় করার চেষ্টা করলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৩৬৫ দিন আগে
কোরবানির ঈদের জন্য পশু আমদানি করা হবে না: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি গবাদি পশু থাকায় চলতি বছরে কোরবানি ঈদের জন্য পশু আমদানি করা হবে না। অবৈধ পথে কোনোভাবেই গবাদি পশু প্রবেশ করতে দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ থেকেই গবাদি পশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
রবিবার (৪ মে) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপন উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোরবানির পশুর অবাধ চলাচল ও পরিবহন নিশ্চিতকল্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
কোরবানির পশু সরবরাহের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনে করে পশু সরবরাহ করা হবে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৯টি পশুর হাটে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম ও দুটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-আজহা সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য পবাদিপশু কোরবানি। কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য সারা দেশে পশুর চাহিদা নিরূপণ, সরবরাহ এবং কোরবানির পশুর অবাধ পরিবহন নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন। এছাড়া নীরোগ ও স্বাস্থ্যবান পশুর ক্রয়-বিক্রয় এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু কোরবানি করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় ‘ভুল সংবাদ’ প্রচারে প্রেস উইংয়ের নিন্দা
কোরবানি উপলক্ষ্যে সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সকলের জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা প্রদান, প্রাণীর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে প্রাণিজ আমিষের চাহিদাপূরণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।’
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবছরও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা নিরুপণ করেছে। এ বছরে কোরবানিযোগ্য হৃষ্টপুষ্টকৃত গবাদিপশুর মধ্যে ৫৬ লাখ দুই হাজার ৯০৫ টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০ টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৫১২ টি অন্যান্য প্রজাতিসহ সর্বমোট এক কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি গবাদিপশুর প্রাপ্যতা আশা করা যাচ্ছে। এবছর প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৫ টি গবাদিপশুর উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করছি।
কোরবানির ঈদে বাজার যেন কেউ অস্থিতিশীল করতে না পারে এজন্য সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির কারণে পশুর দাম যেন না বাড়ে, সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
৩৯৬ দিন আগে
কোরবানির ঈদে কিশোরগঞ্জের দম্পতির উপহার হিসেবে গরু গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরকাওনা গ্রামের কৃষক বুলবুল আহমেদ ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান কোরবানির ঈদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়ার জন্য একটি গরু লালন-পালন করেছেন।
তাদের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই গরুটিকে উপহার হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (৯ জুন) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গরুটিকে উপহার হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হন।
বুলবুল আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়েছেন এবং বুলবুল আহমেদ ও তার স্ত্রীকে তাদের বিরল ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: স্থানীয় খেলাধুলার আরও ব্যাপক প্রসার করুন: প্রধানমন্ত্রী
১০৯০ দিন আগে
ঈদ উপলক্ষে ১ লাখ ৩০০ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে এক লাখ তিনশ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই বরাদ্দ দেন।
মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারাদেশের ৬৪ জেলার ৪৯২ উপজেলার জন্য ৮৭ লাখ ৭৯ হাজার ২০৩ ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে এবং ৩২৯ পৌরসভার জন্য ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫১ ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে মোট ১ লাখ ৩৩০ দশমিক ৫৪০ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন: নতুন সচিব পেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
একই সঙ্গে দুঃস্থ,অতিদরিদ্র ব্যক্তি বা পরিবারকে এ সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
১৪৩১ দিন আগে
জাতীয় মসজিদে ঈদের নামাজের সময়সূচি
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের নামাযের জামাআত অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত জামাআতসমূহে নিম্নোক্ত আলেমরা, ইমাম ও মুকাব্বির এর দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীনের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত হচ্ছে না
প্রথম জামাআত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান ইমাম ও মুকাব্বির হিসেবে বায়তুল মুকাররমের মুয়াজ্জিন মো. আতাউর রহমান থাকবেন।
দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়। এতে ইমাম থাকবেন বায়তুল মোকারমের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির থাকবেন মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান।
সকাল ৯টায় হবে ঈদের তৃতীয় জামাতে ইমামতি করবেন ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন হাফেজ ক্বারী হাবিবুর রহমান মেশকাত।
চতুর্থ জামাতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দীন কাসেম, মোকাব্বির হবেন মুয়াজ্জিন ক্বারী মো. ইসহাক। এই জামাতটি সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।
পঞ্চম ও শেষ জামাত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান ইমামতি করবেন। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররমের প্রধান খাদেম মো. শহীদুল্লাহ।
আরও পড়ুন: ঈদের জামাত কাছের মসজিদে আদায়ের আহ্বান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের
এই পাঁচটি জামাআতে কোনও ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতী মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী ১০ জিলহজ্জ ১৪৪২ হিজরী ২১ জুলাই (বুধবার) সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
১৭৮২ দিন আগে