সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
নবাবগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২৪ বছর পর ৩ জনের যাবজ্জীবন
ঢাকার নবাবগঞ্জে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ঘটনাটি ২০০২ সালে ঘটলেও দীর্ঘ ২৪ বছর পর মামলার রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হলো।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন— মো. সুজন, মো. জুলহাস ও মোহাম্মদ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পিপি আরও জানান, আসামিদের মধ্যে জুলহাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সুজন ও মোহাম্মদ জামিনে ছিলেন; তারা আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০২ সালে ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীর ৮ বছর বয়সী ফুফাতো বোন টয়লেটে যেতে চায়। তাকে বাড়ির পেছনে পাটকাঠির বেড়ার টয়লেটে নিয়ে যান ওই তরুণী। শিশুটিকে টয়লেটে বসিয়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে পৌঁছানোমাত্র সুজন পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে মুখ চেপে বাড়ির পেছনে উত্তর দিকে নিয়ে যান। সেখানে জুলহাস ও মোহাম্মদ আগে থেকে অবস্থান করছিলেন। আসামিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধানখেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে তারা চলে যান।
এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।
এরপর আসামিদের বিরুদ্ধের অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি বিচার চলাকালে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
৫ ঘণ্টা আগে
এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ৪ জনকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৪ আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে মামলা থেকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভুক্তভোগীও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
আলোচিত এ মামলার রায় উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সকালে কড়া নিরপাত্তায় ৮ আসামিকে আদলতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা ধর্ষণকারী না ভাই, আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীও আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি।
সে রাতে যা ঘটেছিল
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে চড়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পাশের দোকানে প্রবেশ করেন তার স্বামী। এই সময়ে ৫/৬ জন তরুণ সেখানে পৌঁছে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রবাসে নিয়ে যায়।
এরপর মেয়েটির স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তাকে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকাপয়সা ও প্রাইভেটকার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা।
ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত যারা
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
অভিযোগপত্রে আসামি সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি।
অভিযুক্ত ৮ জনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
যেভাবে সম্পন্ন হলো বিচার প্রক্রিয়া
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর ২০২২ সালের ১১ মে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ এই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।
বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য ২০২২ সালের ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ওই বছরের ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এর আগে, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা জানায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
সুনামগঞ্জের ছাতকে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মতিউর রহমান মতিন, দিলদার হোসেন ও কামারগাঁও গ্রামের বিল্লাল হোসেন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে ছাতকের ওই তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় হাসামপুর গ্রামের বখাটে যুবক মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন। উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ওই দুই যুবক। পরবর্তীতে ধর্ষকদের সহযোগিতায় আসামি বিল্লালসহ আরও এক যুবক ভুক্তভোগীকে অন্য গ্রামে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে স্থানীয়রা ধর্ষকদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপর অভিযুক্ত তিন ধর্ষকসহ ৫ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর ভাই।
পুলিশ অভিযুক্তদের বিষয়ে আদালতে চার্জ দাখিল করলে সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ (সোমবার) আলোচিত এই মামলার রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। রায়ে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০-এর ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একই আইনে ৯ এর ৩ ধারায় দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে আব্দুস সোবহান নামের একজনকে বেকসুর খালা দেওয়া হয়।
মামলার রায় শুনানীর সময় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন উপস্থিত থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি বিল্লাল পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শামসুর রহমান। তিনি বলেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৬৪ দিন আগে
পটুয়াখালীতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরের ভেতরে ঢুকে একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মারা যান। জীবিকার তাগিদে শুক্রবার রাতে তার মা ও ভাই ওই মেয়েটিকে ঘরে রেখে সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে রেণু পোনা শিকারের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী নদীতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দুই যুবক সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করেন এবং ওই শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর চিৎকারে পাশের ঘর থেকে চাচার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৬৬ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার শীলদহ গ্রামের মো. শিপন (২১), মো. ইব্রাহিম (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২২) ।
রাষ্টপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান মন্টু ও হাফিজুর রহমান হিরু মিয়া।
অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ গ্রামের প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তারা বাড়ির কাছাকাছি এক জঙ্গলে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন করেন। ঘটনাস্থলের পাশেই ওঁৎ পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলে সাদিক ভুক্তভোগীকে একা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। সুযোগ পেয়ে এবং তাদের বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ ভুক্তভোগীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ধর্ষকরা তাকে রাত ১০টার দিকে বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যান। এরপর ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তার পরিবারকে জানায়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা ৪ জনকে আসামী করে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার দুই বছর পর ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (বৃহস্পতিবার) এ রায় ঘোষণা করেন। প্রেমিক যুবকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
৭৫ দিন আগে
হবিগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার আরও ১
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে আসা এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ ও সিপিসি-১-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে আখাউড়া থানার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম মো. শাহিন মিয়া (৩০)। তিনি মাধবপুর উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গত ২৩ মার্চ বিকেলে ভুক্তভোগী তরুণী তার পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে মাধবপুর বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে সুরমা চা বাগানে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে তারা বাগানের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় দুই ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘ডাকাত’ বলে ধাওয়া করলে তরুণীর সঙ্গে থাকা ওই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপর অভিযুক্তরা তরুণীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক চা বাগানের ভেতরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে মারধর করে তার স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে, ভুক্তভোগীর সঙ্গী পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের মো. জসিম মিয়াকে (৩৪) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর কানের দুল উদ্ধার করা হয়। তবে মো. শাহীন মিয়া সে সময় পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১১৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, আটক ৫
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন রাতেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী জাতীয় মহাসড়কের উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর এলাকার ফাঁকা মাঠ নামক স্থানের একটি লিচু বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই ঘটনার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে থানায় নিয়ে এসে বসিয়ে রাখে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই নারী (২৬) পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী। ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে তার স্বামীর বাড়ি। বারো মাইল এলাকার ওই হোটেলে কাজ শেষ করে রাতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানযোগে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় উপজেলার মসলেমপুর ফাঁকা মাঠ এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
ঘটনার পরপরই ভেড়ামারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে।
আটকৃতরা হলেন— মসলেমপুর গ্রামের কালু প্রামানিক (৪৬), ষোল দাগ এলাকার মুর্শিদ শেখ (৪৫), টিটু মন্ডল ওরফে টিপু (৪২), এজাজুল (৪২) এবং ভ্যানচালক রুবেল আলী (২৪)।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকদের মধ্যে তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
অন্যদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার স্বামীকে পুলিশ ভেড়ামারা থানায় নিয়ে আসে। এরপর রাতভর তাদের থানায় রাখা হয়। সে সময় সাংবাদিকরা কথা বলার চেষ্টা করলেও ভেড়ামারা থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
ভুক্তভোগী নারীকে রাতেই থানায় নেওয়া হলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতে হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও তাকে কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা শেষে ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে ওই নারী দাবি করেছেন যে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন। তার দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি।’
৩৫২ দিন আগে
সিলেটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ২
সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার কদমতলি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঈদের দিন (৭ জুন) রাতে কদমতলি এলাকার যমুনা মার্কেটের ডায়মন্ড আবাসিক হোটেলে এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
রবিবার (৮ জুন) দুপুরে এ ঘটনায় হোটেলের ম্যানেজার ও নাইট গার্ডকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—হোটেলের ম্যানেজার লুৎফুর রহমান (৪৫) ও নাইট গার্ড খিজির আহমদ (৩৫)।
আরও পড়ুন: ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, গ্রেপ্তার ২
এ বিষয়ে কদমতলি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে কদমতলি এলাকায় একা পেয়ে তাকে ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হোটেলের ম্যানেজারসহ পাঁচজন তাকে ধর্ষণ করেন। খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে ম্যানেজার ও নাইট গার্ডকে আটক করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিকটিম বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন আছেন।’
বাকি অভিযুক্তদের ধরতেও অভিযান চলছে বলে জানান এসআই সুমন চক্রবর্তী।
৪০৭ দিন আগে
কেরাণীগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
তিন বছর আগে রাজধানীর কেরাণীগঞ্জে মারিয়া নামে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন— কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া গ্রামের মো. সজিব, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার খাঁকান্দা গ্রামের মো. রাকিব এবং শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার মুসলিম মাতবরের ওরফে ভ্যালকা শাওন।
আরও পড়ুন: এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার
এছাড়াও লাশ গুমের ঘটনায় তাদের প্রত্যেককে সাত বছর করে কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম বলেন, ‘আসামিদের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, আলী আকবর (২২) এবং মো. রিয়াজ (২২) নামে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি রাকিব, রিয়াজ এবং শাওনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে দণ্ডিত রাকিব এবং শাওনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডিত সজিব পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১১ জুন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার আঁটিবাজার এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছিল।
ডিউটি চলাকালে সকাল পৌনে ৮টার দিকে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পায়, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের সামনে পুকুরের পানিতে একজনের লাশ পানিতে ভাসছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
পরে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় পুলিশ মামলা দায়ের করে। তদন্ত শুরু করে।
প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ভুক্তভোগীর বান্ধবী বৃষ্টি আক্তার সাক্ষী হিসেবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, এটা তার বান্ধবী মারিয়ার লাশ। পরে পুলিশ শাওনকে গ্রেপ্তার করে।
দোষ স্বীকার করে আদালতে শাওন জবানবন্দি দেয়। শাওন জানায়, তিনিসহ মো. রাকিব, মো. সজিব, মো. আলী আকবর মিলে ভুক্তভোগী মারিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের পানিতে ফেলে রাখে।
আরও পড়ুন: আইন সংশোধনসহ শিশু ধর্ষণের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে সরকার
পরে রাকিব এবং সজিব গ্রেপ্তার হয়। তারাও একই কথা বলে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলাটি তদন্ত করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক অলক কুমার দে ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
৪৮৩ দিন আগে
কুমিল্লায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
কুমিল্লার চান্দিনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বাদী হয়ে শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে আসামি করে চান্দিনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মো. বিল্লালের ছেলে মো. সোয়েব ও একই ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে প্রভাত চন্দ্র সরকার এর ছেলে রতন চন্দ্র সরকার।
ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রী চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। সে কচুয়া উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। গত ১৯ মার্চ বিকালে চান্দিনা ও কচুয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা কৈলাইন বাজারে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে নারী সাংবাদিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানায়- বুধবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যার পর অটোরিকশায় বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে ৫ থেকে ৬ জন যুবক আমার অটোরিকশাটি থামিয়ে অটোরিকশাচালক ও আমাকে চর থাপ্পর দিয়ে টেনে হেঁচরে জমির মাঝে একটি সেলু মেশিনের ঘরে নিয়ে যায়। অটোরিশাচালককের হাত-পা বেঁধে পাঁচ যুবক তাকে ধর্ষণ করে।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত দুই যুবককে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়। পরদিন ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
৪৮৬ দিন আগে