সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
সিলেট সীমান্তে তরুণীকে ১৩ দিন আটকে রেখে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ১
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে এক তরুণীকে ১৩ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী তরুণী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কানাইঘাট থানায় মামলা করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে নাঈম উদ্দিন (২২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদপূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শেরপুর জেলার বাসিন্দা ওই তরুণী প্রায় ৯ মাস আগে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। হায়দ্রাবাদে তার কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে।
গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামের এক আত্মীয়র সহযোগিতায় তিনি বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে বিএসএফের হাতে আটক হন ওই তরুণী। পরে তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সীমান্ত অতিক্রমের পর স্থানীয় শানুর আহমদ, নাঈম উদ্দিন, কাওছারসহ ছয় যুবক তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করেন। পরে তাকে শানুরের বাড়িতে ১৩ দিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনের সহায়তায় ওই তরুণী বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং গতকাল (বুধবার) কানাইঘাট থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১ দিন আগে
জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে আসামি আব্দুস সাত্তার (৪২), আব্দুল মালেক (৪৪) ও আনোয়ার হোসেন আনুকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালতত। সেই সঙ্গে অপহরণের দায়ে তিন আসামিকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর বিচারক মো. আব্দুর রহিম এ রায় দেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক জানান, জমালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের ২ সন্তানের মা ওই স্বামী পরিত্যক্তা গৃহবধূ একাই তার বাড়িতে বসবাস করতেন। এই সুযোগে পাশের শংকরপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রায়ই তাকে কুস্তাব দিতেন এবং উত্ত্যক্ত করতেন। ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মালেক ও আনোয়ার হোসেনসহ ৪-৫ জনের একটি দল ভুক্তভোগীর বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে গ্রামের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের নিচে আসামিরা তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এ আসে। মামলার ১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) ও একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী স্থানীয় গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামলার ১ নম্বর আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আসামি নাসির মোল্যা দেখা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মন্ডলের বাগানের কাছে আসেন। খবর পেয়ে মেয়েটি সেখানে গেলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান।
পরে আসামিরা তাকে মধুমতি নদীর তীরে থাকা একটি নৌকায় তুলে নদীর চরে নিয়ে যান। সেখানে তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। সে সময় তারা মোবাইল ফোনে সেই নৃশংস ঘটনার ভিডিওচিত্র ও ছবি ধারণ ধারণ করেন তারা। পাশবিক নির্যাতনে ভুক্তভোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে আসামিরা তাকে পুনরায় নৌকায় করে নদীর পাড়ে ফিরিয়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার মা, বাবা ও স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ভুক্তভোগীর স্বজনরা ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি বোয়ালমারী থানায় হাজির হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (মঙ্গলবার) এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, ‘আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।’
১৭ দিন আগে
দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৬ যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন শেষে বাসায় ফেরার পথে দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ৬ যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রাহুল, মো. ডায়মন্ড, আফসার উদ্দিন অনিম, পারভেজ হক পলাশ, মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু।
সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. এরশাদ আলম জর্জ সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিপি আরও জানান, আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় শেষে অপর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, দুই তরুণীসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে ঘুরতে বের হন। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে যান। খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফেরার জন্য শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিকশা খুঁজছিলেন তারা। সে সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে আসামিরা তাদের পথরোধ করেন। এরপর আসামিরা তাদের মারতে মারতে রতনের খামার নামক স্থানে অন্ধকার মাঠে নিয়ে যান।
এ সময় ওই দুই তরুণীর বন্ধুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তাদের টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন নিয়ে নেন আসামিরা। এরপর তারা ওই দুই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। শুধু তা-ই নয়, তারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন।
পরে ভুক্তভোগীদের বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় এক তরুণীর বাবা ওই বছরের ২৯ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।
মামলার পর মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার কাছ থেকে এক তরুণীর ফোন উদ্ধার করা হয়। মোবাইলে ভুক্তভোগী দুই তরুণীর ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শরজিৎ কুমার ঘোষ ৬ যুবককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
৩১ দিন আগে
শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ৩
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে কৌশলে ডেকে এনে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন— আচুরা গ্রামের মৃত আলমগীর বেপারীর ছেলে মো. রাব্বি (২৮), পালং উপজেলার আটিপাড়া এলাকার আব্দুল হাই খন্দকারের ছেলে হযরত আলী খন্দকার (৪২) ও আচুরা গ্রামের মালেক খন্দকারের ছেলে ইমন খন্দকার (২৬)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ভুক্তভোগীর স্বামীকে অভিযুক্ত হযরত আলী খন্দকার মুঠোফোনে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। তিনি সেখানে পৌঁছালে রাব্বি, হযরত আলী খন্দকার, ইমন খন্দকারসহ আরও তিন থেকে চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বেঁধে ফেলেন। পরে তাকে দিয়ে তার স্ত্রীকে ফোন করে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৩৮ দিন আগে
নবাবগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২৪ বছর পর ৩ জনের যাবজ্জীবন
ঢাকার নবাবগঞ্জে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ঘটনাটি ২০০২ সালে ঘটলেও দীর্ঘ ২৪ বছর পর মামলার রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হলো।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন— মো. সুজন, মো. জুলহাস ও মোহাম্মদ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনদায়ে তাদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পিপি আরও জানান, আসামিদের মধ্যে জুলহাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সুজন ও মোহাম্মদ জামিনে ছিলেন; তারা আদালতে হাজির হন। রায় শেষে সাজা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০২ সালে ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীর ৮ বছর বয়সী ফুফাতো বোন টয়লেটে যেতে চায়। তাকে বাড়ির পেছনে পাটকাঠির বেড়ার টয়লেটে নিয়ে যান ওই তরুণী। শিশুটিকে টয়লেটে বসিয়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে পৌঁছানোমাত্র সুজন পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে মুখ চেপে বাড়ির পেছনে উত্তর দিকে নিয়ে যান। সেখানে জুলহাস ও মোহাম্মদ আগে থেকে অবস্থান করছিলেন। আসামিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধানখেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে তারা চলে যান।
এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।
এরপর আসামিদের বিরুদ্ধের অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি বিচার চলাকালে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
৪৫ দিন আগে
এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ৪ জনকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৪ আসামি আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে মামলা থেকে খালাসের আদেশ দেওয়া হয়।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষী দেয়নি। ভুক্তভোগীও আসামিদের শনাক্ত করেনি। অপরাধ প্রমাণ না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।
আলোচিত এ মামলার রায় উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
সকালে কড়া নিরপাত্তায় ৮ আসামিকে আদলতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা ধর্ষণকারী না ভাই, আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীও আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি।
সে রাতে যা ঘটেছিল
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে চড়ে শাহপরান মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পাশের দোকানে প্রবেশ করেন তার স্বামী। এই সময়ে ৫/৬ জন তরুণ সেখানে পৌঁছে তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রবাসে নিয়ে যায়।
এরপর মেয়েটির স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে তাকে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকাপয়সা ও প্রাইভেটকার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় ধর্ষকরা।
ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে এসে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত যারা
২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।
অভিযোগপত্রে আসামি সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি।
অভিযুক্ত ৮ জনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
যেভাবে সম্পন্ন হলো বিচার প্রক্রিয়া
২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর ২০২২ সালের ১১ মে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ এই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।
বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য ২০২২ সালের ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ওই বছরের ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এর আগে, ২০২২ সালের ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা জানায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক ও ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
৫২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
সুনামগঞ্জের ছাতকে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মতিউর রহমান মতিন, দিলদার হোসেন ও কামারগাঁও গ্রামের বিল্লাল হোসেন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে ছাতকের ওই তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় হাসামপুর গ্রামের বখাটে যুবক মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন। উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ওই দুই যুবক। পরবর্তীতে ধর্ষকদের সহযোগিতায় আসামি বিল্লালসহ আরও এক যুবক ভুক্তভোগীকে অন্য গ্রামে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে স্থানীয়রা ধর্ষকদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপর অভিযুক্ত তিন ধর্ষকসহ ৫ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর ভাই।
পুলিশ অভিযুক্তদের বিষয়ে আদালতে চার্জ দাখিল করলে সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ (সোমবার) আলোচিত এই মামলার রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। রায়ে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০-এর ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একই আইনে ৯ এর ৩ ধারায় দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে আব্দুস সোবহান নামের একজনকে বেকসুর খালা দেওয়া হয়।
মামলার রায় শুনানীর সময় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন উপস্থিত থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি বিল্লাল পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শামসুর রহমান। তিনি বলেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১০৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরের ভেতরে ঢুকে একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মারা যান। জীবিকার তাগিদে শুক্রবার রাতে তার মা ও ভাই ওই মেয়েটিকে ঘরে রেখে সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে রেণু পোনা শিকারের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী নদীতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দুই যুবক সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করেন এবং ওই শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর চিৎকারে পাশের ঘর থেকে চাচার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১১ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার শীলদহ গ্রামের মো. শিপন (২১), মো. ইব্রাহিম (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২২) ।
রাষ্টপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান মন্টু ও হাফিজুর রহমান হিরু মিয়া।
অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ গ্রামের প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তারা বাড়ির কাছাকাছি এক জঙ্গলে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন করেন। ঘটনাস্থলের পাশেই ওঁৎ পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলে সাদিক ভুক্তভোগীকে একা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। সুযোগ পেয়ে এবং তাদের বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ ভুক্তভোগীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ধর্ষকরা তাকে রাত ১০টার দিকে বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যান। এরপর ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তার পরিবারকে জানায়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা ৪ জনকে আসামী করে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার দুই বছর পর ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (বৃহস্পতিবার) এ রায় ঘোষণা করেন। প্রেমিক যুবকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
১২০ দিন আগে