টাঙ্গুয়ার হাওর
টাঙ্গুয়ার হাওরে ঢুকছে পানি, শঙ্কায় কৃষক
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের অরক্ষিত নজরখালী বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতে বৌলাই ও পাটলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকে বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।
নজরখালী বাঁধসংলগ্ন গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা খসরুল আলম জানান, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভোর থেকেই বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের আওতায় উত্তর বংশীকুন্ডা ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের পুরো এলাকা এবং শ্রীপুর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের একাংশ রয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ২০ হাজার একর জমি এ হাওরের অন্তর্ভুক্ত।
নজরখালী বাঁধের আওতায় সোনাডুবি, তেকুনিয়া, লামারবিল, বালর ডোবা, গইন্যাকুড়ি, হানিয়া কলমা, হাতিরগাতা, খাউজ্যাউরি, সামসাগর, চটাইন্না, রউয়্যা, রুপাভূই, মুক্তারখলা ও বাগমারা হাওর রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বহু বছর ধরে কৃষকেরা নজরখালী বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকারি উদ্যোগ না থাকায় প্রতিবছর নিজেরাই চাঁদা তুলে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করে থাকেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকাভুক্ত না হওয়ায় নজরখালী বাঁধ নিয়ে এবারও স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েছে। বরাবরের মতো এবারও কৃষকেরা নিজেদের উদ্যোগেই বাঁধ রক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাহিরপুর উপজেলার ৮২টি গ্রামের কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
রুপনগর গ্রামের কৃষক আব্দুছ সালাম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরটি রামসার সাইট হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে কাজ করে না। ফলে জমির ফসল রক্ষায় প্রতি বছর আমাদেরই বাঁধ নির্মাণ করতে হয়। প্রতি কিয়ার (৩০ শতক) জমির জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা তুলে প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হয়।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, কৃষকেরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের কাজ করে থাকেন। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও নজরখালী বাঁধটি পাউবোর আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
খসরুল আলম জানান, দুয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধের কাজ শুরু করা হবে এবং প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘নজরখালী বাঁধটি পাউবোর তালিকাভুক্ত না থাকায় আমাদের পক্ষে এ বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।’
৩ দিন আগে
টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে ৪০.৫ লাখ ডলারের নতুন প্রকল্প
আজ ২২ মে; আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
গত মঙ্গলবার (১৩ মে) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কমিউনিটি-ভিত্তিক টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
৪০ লাখ ৫০ হাজার ডলার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। আর এতে অর্থায়ন করছে পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টাঙ্গুয়ার হাওরের জলাভূমি ও বাস্তুতন্ত্রের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, জলাবন ও জলজ বাসস্থান পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা।
আরও পড়ুন: পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, শেরপুরে গ্রীষ্মেই বন্যার আশঙ্কা
প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, ‘কমিউনিটিকে ক্ষমতায়ন করাই পরিবেশগত স্থায়িত্বের চাবিকাঠি। টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের সম্পদ নয়, এটি আমাদের সবার। স্থানীয় প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে এই প্রকল্প বিশ্বে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।’
এই প্রকল্পে অর্থায়ন করায় গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জিইএফের অব্যাহত সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলার বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ইউএনডিপি জাতীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলিতভাবে জিইএফের সহায়তায় ৩৫০ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা এনেছে, যা বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরের এই নতুন প্রকল্প পূর্ববর্তী সাফল্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে এবং সরকার, কমিউনিটি, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’
স্টেফান লিলার আরও বলেন, ‘এই প্রকল্পে স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকি-বিবেচনায় নেওয়া সংরক্ষণ পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক মূল্যায়ন ও স্কেলযোগ্য প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জ্ঞানের অন্তর্ভুক্তি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
৩০৪ দিন আগে
পর্যটকে মুখরিত হাওর; দুই মাসের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশায় ব্যবসায়ীরা
তিন দফা বন্যা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে প্রায় দুই মাসের মতো বন্ধ ছিল সুনামগঞ্জের হাওরের পর্যটন ব্যবসা। বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল পর্যটন ব্যবসায়ীদের। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ তাহিরপুর সীমান্তের কাছে পর্যটন এলাকাগুলোতে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি পর্যটন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিখ্যাত জলরাশির হাওরের দিকে ছুটছেন অনেকে। পর্যটকদের আগম বাড়তে থাকায় দুই মাসের ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে শুরুর সাহস পেয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও নিকটবর্তী এলাকার ১০টি ঐতিহাসিক মন্দির
হাওরের বুকে ঘুরে বেড়ানো হাউজবোটগুলোর মালিকরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গেল ২ মাস পর্যটক আসেনি হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। এ কারণে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যটকের উপচে পড়া চাপে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ২ মাসের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ভরসা পাচ্ছেন তারা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ সময় দেশের ভ্রমণপ্রেমী মানুষদের পর্যটন এলাকাগুলোতে যাওয়ার সুযোগ মেলেনি। অন্যদিকে গেল ৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৩ দিন বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে প্রশাসন। এতে ভ্রমণপ্রিয় মানুষরা হাওরকেই বেছে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: হাকালুকি হাওর ভ্রমণ: এক নিঃসীম জলজ মুগ্ধতা
হাউজবোট মালিকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই হাউজবোটগুলো অগ্রিম বুকড হয়ে গেছে। শিডিউল মেনে ট্যুর পরিচালনা করতে হচ্ছে।
৫২২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে মেছোবাঘ মেরে এলাকাবাসীর উল্লাস
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত বন থেকে একটি মেছোবাঘকে কুচ দিয়ে ঘাঁ মেরে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীরা। মেছোবাঘটির দৈর্ঘ্য ৩ ফুট ও প্রস্থ ২ ফুটের বেশি।
মঙ্গলবার তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওরের গোলাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের মধুখালীতে মেছো বাঘ আটক
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ যাবৎ তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে গোলাবাড়ি গ্রামে একটি বাঘ আছে বলে চারদিকে আতংকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হাওর পাড়ের শিশুরা মেছোবাঘের আক্রমণের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারত না। এই কারণে স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মঙ্গলবার বিকালে কুড়াল, কুচ, লাঠি নিয়ে মেছোবাঘটিকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে গোলাবাড়ি গ্রামের একটি হাওরে বাঘটিকে দেখা মাত্র প্রথমে মাছ মারার কুচ দিয়ে ঘাঁ মেরে আহত করে আটক করা হয়। পরে কুড়াল, লাঠি, দিয়ে মাথায় ও বুকে আাঘাত করে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। মেছোবাঘটিকে হত্যার পর আনন্দ উল্লাসের মিছিল বের করে এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: সুন্দরবন থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত বাঘের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন
মেছোবাঘ মারার ও আনন্দ উল্লাসের মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এ পর্যন্ত কিছু জানতে পারেনি বনবিভাগ।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া জানান, এ ধরনের মেছোবাঘ একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রচুর দেখা গেলেও এখন বন-জঙ্গলের পরিধি কমার সঙ্গে সঙ্গে এ প্রজাতিও বিলুপ্তির পথে।
পরে নিহত মেছো বাঘকে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মেছো বাঘের ৩ শাবক উদ্ধার
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, বিষটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে বনবিভাগকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৭৪৬ দিন আগে
টাঙ্গুয়ার হাওরে নির্বিচারে মৎস্য নিধন ও বন উজার
প্রতি বছরের মতো এবারও শীত মৌসুমে অবৈধভাবে পাখি শিকারের পাশাপাশি মৎস্য নিধন ও বন উজাড়ের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে।
১৮৮৬ দিন আগে
অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর টাঙ্গুয়ার হাওর
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর মুখরিত হয়ে উঠেছে শত শত অতিথি পাখির কলকাকলিতে। হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নেপাল, চীন, মঙ্গোলিয়া ও সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছরই এই সময়ে নানা প্রজাতির পাখি এসে জড়ো হয় টাঙ্গুয়ার হাওরে।
২২৫১ দিন আগে
হুমকির মুখে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর
সুনামগঞ্জ, ২৯ সেপ্টেম্বর (ইউএনবি)- পরিবেশগত দিক থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর দিন দিন আরও বিপন্ন হচ্ছে।
২৩৬৫ দিন আগে