আধিপত্য বিস্তার
ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০
ফরিদপুরে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বোয়ালমারীতে দুইপক্ষের মধ্যে হামলা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
একপক্ষের হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জানিয়েছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে হামলার পরদিন গতকাল রবিবার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারটি বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান (৫ আগস্টের পর) ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের (মানবতাবিরোধী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। ওই সময় জিহাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। এরপর মান্নান মাতুব্বরসহ তার পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে জিহাদপন্থি লোকজন ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার পক্ষের লোকজন এলাকায় ফিরে এলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল শুক্রবার ময়েনদিয়া দাইপাড়া এলাকায় একটি দোকানে হামলার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জিহাদের কয়েকজন সমর্থক ওই হামলা চালায়। এর পরদিন শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে গেলে জিহাদপন্থি যুবদল নেতা সোলায়মান মাতুব্বরের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় এক ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ীর কাছে ৪ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। পরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জড়ো হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সোলায়মান আহত হন।
খবর পেয়ে জিহাদ বাজারে গিয়ে সোলায়মানকে উদ্ধার করে একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। জিহাদের অভিযোগ, সেখানে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এ হামলার জন্য তিনি মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজনকে দায়ী করেন।
জিহাদপন্থি যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান মাতুব্বর বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বাজারকে তার প্রভাবমুক্ত করতে জিহাদকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল। গেল শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন।
অন্যদিকে, ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মজিবর রহমান মোল্যার অভিযোগ, জিহাদ লোকজন নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালান। সাধারণ দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী মাওলানা মাসুদুর রহমানও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। শনিবারও এক ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শনিবারের হামলার জের ধরে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সালথার খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বোয়ালমারীর ময়েনদিয়ার আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন গতকাল রাতে বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পর ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় দুইপক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধতে পারে। ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন আতঙ্কে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিহাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজনকে গতকাল আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৪ দিন আগে
মাগুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মসজিদের ভেতরে সংঘর্ষ, আহত ৫
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে গয়েশপুর ইউনিয়নের চর-জোকা গ্রামে জোকা মসজিদের ভেতরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমান (দলু) এবং সাচ্চু মিয়ার নেতৃত্বে দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। উভয়েই স্থানীয়ভাবে একই রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ঘটনার শুরুতে সাচ্চুর সমর্থক লাল্টু (৪০) প্রতিপক্ষের মারধরে গুরুতর আহত হন। এর জেরে কিছুক্ষণ পর সাচ্চুর পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদের ভেতরে হামলা চালান। এতে দলুর পক্ষের মুক্তার (৪৫), আনোয়ার (৬০), রেজাউল (৪০) ও দুলাল মন্ডল (৫০) গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় মসজিদের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসল্লিরা প্রাণভয়ে দ্রুত সরে যান। পরে সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মসজিদের ভেতরে এমন সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া জানান, চর-জোকা পশ্চিম পাড়া বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদের ভেতরে দুপুর দেড়টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১২৫ দিন আগে
নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউপি মেম্বারসহ আহত ১৫
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লক্ষীপাশা ইউপি মেম্বার জিরু কাজীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাঁকা গ্রামে জিরু কাজী ও আক্তার মোল্যা গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— জিরু কাজী, লুৎফুন্নাহার, রেখা বেগম, সেলিম বিশ্বাস, হেমায়েত হোসেন, আনোয়ার, আক্তার মোল্যা, লিটন, ফিরোজ, শরিফুল, হাসান মোল্যা, কাদের, মিরাজ মোল্যা। এর মধ্যে জিরু কাজীর লোকজন বেশি আহত হয়েছেন।
এছাড়া বাঁকা গ্রামের রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় আমাদা গ্রামের তবিবর মৃধাকে আক্তার মোল্যার লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে আক্তার মোল্যার লোকজন মসজিদের ভেতরে গিয়ে জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন।
আহতদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাঁকা গ্রামের জিরু কাজী গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের আক্তার হোসেন গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিরোধ চলে আসছিল। এরপর গতকাল দুপুরে একটি স্যালোমেশিনের পাম্প চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে মসজিদের ভেতরে গিয়ে আক্তারের গ্রুপের লোকেরা জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই আজ (শনিবার) সকালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
১৮১ দিন আগে
নড়াইলে আধিপত্যের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ৪
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আজ (সোমবার) ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত খায়ের গ্রুপের ওসিবুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৯৩ দিন আগে
সিলেটে চার গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১০
সিলেট নগরীর একটি পথসভায় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ছোড়া ঢিলে পুলিশসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরীর তেমুখি পয়েন্টে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) রাতে তেমুখি পয়েন্টে একটি পথসভায় কুমারগাঁও ও সাহেবের গাঁও গ্রামের দুই দল কিশোরের মধ্যে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। তখন উপস্থিত লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে ঘণ্টাখানেক পর উভয় পক্ষ আবারও এ বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে কিশোরদের পক্ষ নিয়ে কুমারগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নাজিরের গাঁওয়ের লোকজন একাত্মতা প্রকাশ করলে সাহেবের গাঁওয়ের সঙ্গে চারুগাঁও এলাকার কয়েকজন যোগ দেন। এতে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, সংঘর্ষের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মধ্যরাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ সময় পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
২১১ দিন আগে
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলছাত্র নিহত
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গোষ্ঠীগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলছিল। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। এর জেরে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ৮ জন গুলিবিদ্ধ হন এবং এলাকায় বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) সকালে এরশাদ মিয়ার পক্ষের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না গুলি ছোড়েন। এতে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিহতের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। তখন হঠাৎ গুলি এসে লাগে। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নেই। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে এক কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং গুলিটি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
২১২ দিন আগে
বাগেরহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০
বাগেরহাটে মোল্লাহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আজিজুল চৌধুরী নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সিঙ্গাধি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আজিজুল চৌধুরী (৪০) মোল্লাহাট উপজেলা সিংগাতি গ্রামের মোশারফ চৌধুরীর ছেলে। আহতদের মোল্লাহাট, খুলনা ও গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সিঙ্গাধি গ্রামের এরশাদ চৌধুরী ও তার ভাইয়ের ছেলে মাসুম চৌধুরীর মধ্যে জমিজমা ও আধিপত্য নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আজিজুল চৌধুরী মারা যান।
আরও পড়ুন: আধিপত্য বিস্তার: সিলেটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
নিহত আজিজুল এরশাদ চৌধুরীর পক্ষের লোক ছিলেন বলে জানা গেছে।
ওসি জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতির শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানোর কথা বলেন তিনি।
৪৫৩ দিন আগে
আধিপত্য বিস্তার: সিলেটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১
আধিপত্য বিস্তার ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের কালনীচরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে খালিদ মিয়া (৪৪) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খালিদ মিয়া উত্তর কালনীচর গ্রামের তেরা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল হক ছানু মিয়া ও একই গ্রামের মৃত হামিদ উল্যাহর ছেলে জুনাইদ, মৃত রুকুম উল্যাহর ছেলে আকাইদ মিয়া ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কালনীচর বাজারসহ কয়েকটি সম্পত্তি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১ মার্চ দুই পক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক এ্যাসল্ট মামলা করেছে পুলিশ। মামলা ও অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। বেশ কয়েকজন জামিনে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সাম্য হত্যা: আসামিদের ধরলেও রহস্য উদঘাটন হবে কবে
বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গত ১৯ এপ্রিল উপজেলা বিএনপি, গ্রামপ্রবাসী ও স্থানীয় প্রবীণদের সমন্বয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে শনিবার দুপুরে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের আলী হোসেন জগন্নাথপুর অংশে গরু চড়াতে গেলে আব্দুল হক ছানু মিয়ার অনুসারীরা তাকে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় অস্ত্রবিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত খালিদ মিয়াকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোনায়েম মিয়া ও জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
২০১৭ সালের উপজেলা নির্বাচনের সময়ও একই এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে দুই জন নিহত হন।
৪৬০ দিন আগে
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২
নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম (১৭) ও রাহাত (২২) নামে ২ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে উপজেলার নজরপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া রাহাত একই এলাকার রবিউল্লাহর ছেলে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে রায়পুরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজরপুর গ্রামে আলোচিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুমন হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রুবেল অনুসারী ও বাছেদ মেম্বরের অনুসারীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক তৈরি করে।
এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ঘটনাস্থলেই রুবেলের পক্ষের সাইফুল ইসলামকে গুলি ও পরবর্তীতে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। এসময় গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে আহত রাহাত (২২) নামে আরেক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ১ জন নিহত হয়েছেন। পরে লোকমুখে জানতে পেরেছি ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পর আরেকজনের মৃত্যু হয়। তবে এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। লাশ ফেরত এলে নিশ্চিত হতে পারব। গুলিবিদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের পরে বিস্তারিত বলা যাবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
৪৮৬ দিন আগে
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একজনকে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ছয়জন।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে তার বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। নিহত মোশাররফ হোসেন দিঘীরপাড় গ্রামের শমসের মোল্লার ছেলে।
আহতরা হলেন— আনিছুর রহমান, মতিয়ার রহমান, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন ও নাহিদ। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী বলেন, ‘দিঘীরপাড় গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ শিকদার ও আবু সাঈদের দুইটি সামাজিক দল ছিল। গ্রাম পার্যায়ে তারা আলিমুদ্দীন ও আহম্মদ আলীর অনুসারী হিসেবে বিভক্ত হয়। সরকারের পতনের পর উভয় পক্ষের সামাজিক দলের সদস্যরা যুবদল নেতা শাহাবুল ও বিএনপি নেতা জাহিদ বিশ্বাসের দলে ভিড়ে যায় ও সামাজিক বিরোধে লিপ্ত হয়।’
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘পুরোনো বিরোধের জেরে গত ২৮ এপ্রিল একদফা মারামারি হয় ও রেজওয়ান বিশ্বাসের সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। ঘটনার দিন আলিমুদ্দীনের সমর্থকরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে নারীসহ পাঁচজনকে আহত করে।’
আরও পড়ুন: জবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: প্ররোচনার অভিযোগে প্রেমিক গ্রেপ্তার
স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরে এলাকায় পুলিশ আসার খবরে আলিমুদ্দীনের সমর্থকরা নিরাপদ স্থানে চলে যায়। কিন্তু সুযোগ বুঝে আহাম্মদ আলীর সমর্থকরা প্রতিপক্ষ আলিমুদ্ধীন পক্ষের সদস্য মোশাররফ হোসেন মোল্লার বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে সাতজনকে গুরুতর জখম করে।’
এর মধ্যে মোশাররফ হোসেন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় খবর পেয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ দিঘীরপাড় গ্রাম পরির্দশ করেছেন।
ঝিনাইদহের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া বলেন, ‘সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
৪৯২ দিন আগে