টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
আইসিসির সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক আলোচনা’ চালিয়ে যাবে বিসিবি
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ দলের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বিসিবির শঙ্কা সমাধানে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক এই সংস্থা।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইসসির কাছ থেকে জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আইসিসি তাদের বার্তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা উত্থাপিত উদ্বেগ নিরসনে বিসিবির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে যে, টুর্নামেন্টের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিসিবির মতামত ও পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে এবং তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।’
মঙ্গলবার রাতে ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা শঙ্কা আর ভারতে খেলতে না যাওয়ার অনুরোধকে পাত্তা দেয়নি আইসিসি। বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বলা হয়েছে। নাহলে পয়েন্ট হারানোর আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
তবে এই খবর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিসিবি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে বোর্ডকে আল্টিমেটাম (চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে) দেওয়া হয়েছে, যা বিসিবির নজরে এসেছে। বিসিবি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং আইসিসির কাছ থেকে পাওয়া বার্তার ধরন বা বিষয়বস্তুর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ‘২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নির্বিঘ্ন ও সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বোর্ড আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পেশাদারভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে, যেখানে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই সহযোগিতামূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সব সময়ই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
১২ দিন আগে
মোস্তাফিজ বিতর্কে ঢাকার অবস্থান ‘দৃঢ় ও যথাযথ’
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশে টুর্নামেন্টটির সম্প্রচার বন্ধ রাখা এবং ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুটিকে ‘যথাযথ’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে এসব পদক্ষেপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মত তার।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে মোস্তাফিজ ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এটা তো বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি! ওরা হঠাৎ করে একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিল। এটা তো সাধারণভাবে ভালো নয়। (মোস্তাফিজ) একজন ভালো খেলোয়াড়, এমন নয় যে দয়াদাক্ষিণ্য করে তাকে দলে নিয়েছে (কেকেআর)। সে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সেটা সবাই স্বীকার করে, ওরাও (ভারত) করে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ জন্য তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। অতএব বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ‘রোবাস্ট’ (দৃঢ়) এবং ওইটাই ‘অ্যাপ্রোপ্রিয়েট’ (যথাযথ)।
তার ভাষ্য, ‘এই ধরনের অ্যাকশন কেউ যদি শুরু করে, তার একটা রিয়্যাকশন হবে। নিউটনের ল, অ্যাকশন-রিয়্যাকশন। এটাই বললাম।’
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজ। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
তাদের সঙ্গে পেরে না উঠে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
বিসিবি গতকাল (সোমবার) বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসিকেও ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছে বিসিবি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে কী না, সে বিষয়েও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, যৌক্তিকভাবেই আমরা সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছি। ফলে আমার কাছে মনে হয় না যে অর্থনৈতিকভাবে, বিশেষ করে (ভারতের সঙ্গে) আমাদের ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে।
সামনে নির্বাচন; বিষয়টি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুরুটা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি! এটা আপনি স্বীকার করবেন। খেলাধুলা, খেলোয়াড়দের আমরা দেশের প্রতিনিধি বলি। একজন ভালো খেলোয়াড়, বিখ্যাত একজন খেলোয়াড় (ভারতে খেলতে) যাবে, তাকে তো কৌশলগত কারণেই নেওয়া হয়েছিল, দয়াদাক্ষিণ্য করে তো নয়! একটা কারণে সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া, বিষয়টি খুব দুর্ভাগ্যজনক। এটা দুঃখজনক, দুই দেশের কারো জন্যই এটা ভালো নয়।
বিষয়টি রাজনৈতিক দিকে চলে যাচ্ছে প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আমি বলি যে এটা আর সামনে এগোনো উচিৎ নয়। দুই দেশের পক্ষ থেকেই বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, হিটলারের সময় তো অলিম্পিক হয়েছিল, তাই না? পৃথিবীর লোকজন (জার্মানি) যায়নি? হিটলারকে ঘৃণা করত সবাই, কিন্তু ওখানে গিয়েছিল তো!
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আমার মনে হয়, এখানে একটা আবেগ কাজ করেছে। এটা দুই পক্ষই বিবেচনা করে সমাধান করবে। রাজনৈতিক সম্পর্ক হোক কিংবা অর্থনৈতক, আমরা কোনোভাবেই ক্ষতি চাই না।
এ সময় জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও তার মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ওরা (ভারত) আমাদের খেলোয়াড়কে ডেকে নিয়ে আবার প্রত্যাহার করছে। আমরা সেটার প্রতিবাদে বলেছি যে, না, যেহেতু আইপিএল এ খেলা নিয়ে, তো এখানে এই খেলার সম্প্রচার বন্ধ।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, এজন্য আমি মনে করি, এটা একটা যথাযথ প্রতিক্রিয়া। এটা ছাড়াও আমাদের (টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের প্রতিক্রিয়া ‘দৃঢ় ও যথাযথ’। এটা ওদেরও ভাবাচ্ছে।
তবে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেটা আশা করি যে দুই পক্ষ—প্রধানত ওখান থেকে যেখান থেকে এটা শুরু হয়েছে, সেখানে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা খেলা চালিয়ে যেতে পারব। আমাদের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারব।
১৩ দিন আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল পাঠাবে না বাংলাদেশ
আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে জাতীয় দলকে ভারতে না পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ১৭ জন বোর্ড পরিচালকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতির পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।’
গতকাল উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। মূলত এ কারণেই ভারতে দল না পাঠানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কেও জানিয়েছে বিসিবি।
আজ এক ই-মেইল বার্তায় আইসিসিকে বিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের ভেন্যুগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে সেখানে বাংলাদেশ দল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে বোর্ড।
চিঠিতে বিসিবি আরও উল্লেখ করে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ আগ্রহী থাকলেও খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ অবস্থায় বিকল্প কোনো দেশে ম্যাচগুলো আয়োজনের সুযোগ থাকলে সে বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য আইসিসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড।
এর আগে, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার জেরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন বিসিবির পরিচালকেরা। গতকাল রাতেও অনলাইনে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবশ্য অধিকাংশ পরিচালক ‘এখনই কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার’ পক্ষে মত দেন। তবে পরবর্তীতে সরকারের হস্তক্ষেপ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অবস্থান বদলায় বোর্ড।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজ। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।
তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারায় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ভারতে। ওই সময়ে লিটন-মোস্তাফিজদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা—সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
১৫ দিন আগে
শান্ত, জাকেরকে বাদ দিয়ে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা
লিটন দাসকে অধিনায়ক ও সাইফ হাসানকে সহ-অধিনায়ক করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে ১৫ সদস্যের এই স্কোয়াডে জায়গা হয়নি ছন্দ হারানো ব্যাটার জাকের আলি অনিক ও নাজমুল হোসেন শান্তর।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে বিসিবি। ঘোষিত দলে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নাম বাদ পড়েছে।
চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ভালো ফর্মে থাকলেও দলে জায়গা পাননি নাজমুল হোসেন শান্ত। একই সঙ্গে বাদ পড়েছেন উইকেটকিপার–ব্যাটার জাকের আলি। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ দলে থাকা ৬ ক্রিকেটার এবারের আসর থেকে বাদ পড়েছেন।
অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দলে নেই। সৌম্য সরকার ও তানভীর ইসলামও তাদের সঙ্গে বাদ পড়েছেন।
গত আসর থেকে ৯ ক্রিকেটার তাদের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। স্কোয়াডে সাতজন ব্যাটার, তিনজন স্পিনার এবং পাঁচজন পেসার রাখা হয়েছে।
নতুন করে দলে সুযোগ পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান ও নাসুম আহমেদ।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নেপাল এবং ইতালি।
৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী দিনেই কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। একই মাঠে ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইতালি ও ইংল্যান্ড। লিটনদের শেষ ম্যাচটি হবে মুম্বাইয়ে। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে ১৭ ফেব্রুয়ারি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড
লিটন দাস, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং শরিফুল ইসলাম।
১৫ দিন আগে
বিদেশি ক্রিকেট লিগগুলোতে যেমন খেলছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আসন্ন ভবিষ্যতে কোনো খেলার সময়সূচি নির্ধারিত না হওয়ায় লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) ও মেজর লিগ ক্রিকেটসহ (এমএলসি) কিছু বিদেশি লিগের খেলায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের।
শ্রীলঙ্কায় এলপিএলে খেলছেন ব্যাটার তৌহিদ হৃদয় ও পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এমএলসিতে খেলছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
ডাম্বুলা সিক্সার্সের হয়ে দুই ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তৌহিদ। তবে প্রথম ম্যাচে মাত্র ১ রান করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে আর ব্যাট করার সুযোগ পাননি। এর আর একাদশে জায়গা হয়নি তার।
কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলা তাসকিন তার প্রথম দুই ম্যাচে তিন উইকেট পেলেও বেশ খরুচে বোলিং করেন তিনি।
অন্যদিকে ডাম্বুলা সিক্সার্সের হয়ে খেলা মুস্তাফিজ ৪ ম্যাচে ৫ উইকেট নিলেও ৭ জুলাই নিজের শেষ ম্যাচে দিয়েছেন ৫৩ রান।
এমএলসিতে লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলছেন সাকিব। দুই ম্যাচে ৫৩ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ১টি উইকেট। এমএলসিতে অংশ নেওয়া একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড় তিনি।
এমএলসির পর কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গ্লোবাল টি-টোয়েন্টিতে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সঙ্গে যোগ দেবেন সাকিব।
৫৬০ দিন আগে
হারের পর যা বললেন মার্করাম
প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের বিশ্ব আসরের কোনো ফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেটিও দুর্দান্তভাবে। ফাইনালে খেলার আগে একটি ম্যাচও হারেনি তারা। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও তুমূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর তারা অবশেষে হেরে গেল।
বছরের পর বছর ধরে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়া প্রোটিয়াদের এবারের পারফরম্যান্সে অনেকেই তাদের সাফল্য নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু চেষ্টা করেও তা বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি মার্করাম-ডি ককরা। তাই সমর্থকদের মতো হৃদয় ভেঙেছে তাদেরও।
ম্যাচ শেষে দলটির খেলোয়াড়দের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। কান্না চেপে রেখে মুখ লাল করে ফেলেছিলেন সবাই।
তবে খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই, এক পক্ষকে পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতেই হবে- এটাই তো নিয়ম।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ জিতেই অবসরের ঘোষণা কোহলির
ম্যাচ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সেকথা ঝরল প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করামের কণ্ঠেও।
‘ক্ষণিকের জন্যে হলেও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছি। টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা কী দারুণ পারফর্ম করেছি, এ বিষয়টি অনুধাবন করতে আমাদের কিছুটা সময় লাগবে।’
সতীর্থদের কৃতিত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার (দলের) খেলোয়াড়দের জন্য সত্যিই গর্ববোধ করছি। (বোলাররা) ভালো বোলিং করেছে। এমনটি ভাবার সুযোগ নেই যে, এই পিচে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল।’
‘বোলাররা (ভারতীয় ব্যাটারদের) ভালো রানের মধ্যেই আটকে দিয়েছিল। ভেবেছিলাম, এটি অতিক্রমযোগ্য লক্ষ্য। আমরা ভালো ব্যাটিংও করেছি। শেষের দিকে তো ম্যাচ একেবারেই হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল। তবে দিনশেষে দারুণ ক্রিকেট হয়েছে।’
আরও পড়ুন: কোহলির পর রোহিতেরও অবসরের ঘোষণা
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই হাল না ছাড়ার মানসিকতা নিয়ে খেলে ফাইনাল পর্যন্ত এসেছেন জানিয়ে মার্করাম বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে খেলে এসেছি। এভাবে এ পর্যায়ে এসে তাই নিজেদের (শিরোপার দাবিদার হিসেবে) অযোগ্য মনে হচ্ছে না। ম্যাচটি আমরা জিততে পারতাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা হয়ে ওঠেনি। তবে (ফলাফল) যাই হোক, দলকে নিয়ে আমি দারুণ গর্ববোধ করছি।’
ম্যাচ শেষে মার্করামকে জোর করে মুখে হাসি আনার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ডেভিড মিলারের স্ত্রী এসে তাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। দলটির খেলেয়াড়দের অনেককেই দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তাদের এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না যে ম্যাচটি তারা হেরে গেছে।
মানসিকভাবে অনেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এমন সামান্য ব্যবধানের হার নিশ্চয় তাদের বেশ কিছুদিন ভোগাবে।
আরও পড়ুন: দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
৫৬৮ দিন আগে
কোহলির পর রোহিতেরও অবসরের ঘোষণা
ভারতের ক্রিকেট সমর্থকদের ১৭ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়ে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বিরাট কোহলি। এবার তার সুরে সুর বাঁধলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে ভারতের জার্সিতে তাকেও আর দেখা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন রোহিত। তবে টি-টোয়েন্টিতে না খেললেও ওয়ানডে ও টেস্ট খেলা চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রোহিত বলেন, ‘এটি আমারও শেষ (টি-টোয়েন্টি) ম্যাচ ছিল। বিদায় বলার জন্য এর চেয়ে আর ভালো সময় হতে পারে না।’
‘টি-টোয়েন্টি দিয়েই ভারতের জার্সিতে আমার অভিষেক হয়েছিল। আর এটিই চেয়েছিলাম আমি। (বিশ্ব) কাপ জিততে চেয়েছিলাম আমি।’
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ জিতেই অবসরের ঘোষণা কোহলির
তিনি বলেন, ‘এই ট্রফিটি জিততে আমি একেবারে মরিয়া হয়ে ছিলাম। তাই এটি জেতার পর আমার অনুভূতি এখন কেমন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
১৫৯টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে এই ফরম্যাটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রোহিত শর্মা। ৪ হাজার ২৩১ রান সংগ্রহকালে টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ ৫টি সেঞ্চুরিও তার দখলে। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ আসরেও ১৫৬.৭ স্ট্রাইক রেট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান (২৫৭) সংগ্রাহক হিটম্যান।
২০০৭ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন রোহিত, আর ক্যারিয়ার শেষ করলেন অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
৫৬৮ দিন আগে
বিশ্বকাপ জিতেই অবসরের ঘোষণা কোহলির
১৭ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে বিজয়ের মঞ্চেই ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণকে বিদায় বলে দিলেন ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে ব্যাট হাতে তার ৭৬ রানের ইনিংসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে ফাইনালে ম্যান অব দ্য মাচও হয়েছেন তিনি।
ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার গ্রহণ করার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়েই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান কোহলি।
তিনি বলেন, ‘এটিই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। আমরা ঠিক এটিই অর্জন করতে চেয়েছিলাম।’
আরও পড়ুন: দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
বিশ্বকাপের চলতি আসরের শুরু থেকে একেবারেই রানের মধ্যে ছিলেন না তিনি। আগের ৭ ম্যাচে তার মোট রান ছিল ৭৫। এর মধ্যে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন মাত্র দুইবার, শূন্য রানেও আউট হন দুইবার। তবে ফাইনাল ম্যাচে এসে অবশেষে জ্বলে ওঠে তার ব্যাট। কিন্তু বিশ্বকাপ অভিযানে নিজের পারফরম্যান্সের বিষয়টি সচেতনভাবেই খেয়াল করেছেন তিনি।
কোহলি বলেন, ‘একদিন আপনার মনে হবে যে, আপনি রান পাচ্ছেন না, আর তখনই এমন সিদ্ধান্ত মাথায় আসে। ঈশ্বর মহান (যে তিনি আমাকে শেষটা সুন্দর করার সুযোগ দিয়েছেন)।’
‘এবার আমরা পণ করেই এসেছিলাম- হয় এবার, নয়তো কখনও নয়। ভারতের হয়ে এটিই ছিল আমার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আর কাপটি আমি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘দেখুন, এটি একপ্রকার ওপেন সিক্রেট ছিল। এই টুর্নামেন্ট শেষেই আমি (অবসরের) ঘোষণা দিতে চেয়েছিলাম। এমন নয় যে, হেরে গেলে এই ঘোষণাটি আমি দিতাম না। নতুন প্রজন্মকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার এখনই সময়।’
আরও পড়ুন: ফাইনালে হাসল কোহলির ব্যাট, প্রোটিয়াদের সামনে বড় লক্ষ্য
২০১০ সালে ভারতের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয় বিরাট কোহলির। এরপর ওয়ানডে, টেস্টের মতো এই ফরম্যাটেও আলো ছড়িয়েছেন তিনি। দেশের হয়ে মোট ১২৫ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৩৭.৯৪ স্ট্রাইক রেট ও ৪৮.৬৯ গড়ে ৪ হাজার ১৮৮ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও ৩৮টি হাফ-সেঞ্চুরি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয়টি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে দুইবার টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন কোহলি। ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্টেও ম্যান অব দ্য ফাইনাল হয়েছেন তিনি। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে রোহিত শর্মার পরই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার।
৫৬৯ দিন আগে
দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান, টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়ন ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর প্রথম আসরেই ফাইনালে ওঠে ভারত। সেবার পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। এরপর আরও একবার ফাইনালে উঠলেও শ্রীলঙ্কা কাঁদায় তাদের। ১৭ বছর পর ফের ফাইনালে কাঁদল ভারত। তবে এবার আর হতাশা নয়, শিরোপা জয়ের আনন্দে কাঁদলেন রোহিত-হার্দিকরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২০২৪ সালের আসরে এসে অবশেষে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এ সংস্করণে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে রোহিত শর্মার দল। ১৭ বছরের চেষ্টার পর একেবারে টি-টোয়েন্টির প্রথম অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে টিম ইন্ডিয়া।
টস জিতে এদিন শুরুতে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৭৬ রান করে ভারত। জবাবে খেলতে নেমে নাটকের পর নাটক, ম্যাচে একের পর এক পালাবদলের পর মাত্র ৭ রান বাকি থাকতে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
দুই দলই তুমূল লড়াইয়ের স্মরণীয় এক ফাইনাল উপহার দিল। তবে প্রথমবার কোনো বিশ্ব আসরের ফাইনালে উঠেও জয় ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ হলো আইডেন মার্করাম-ডেভিড মিলাররা। ফলে সামান্য ব্যবধানে হেরে আরও একবার হৃদয় ভাঙল প্রোটিয়াদের। আর প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষা শেষে শিরোপা উঁচিয়ে ধরল ভারত।
প্রোটিয়াদের হয়ে ব্যাট হাতে হাইনরিখ ক্লাসেন করেন সর্বোচ্চ ৫২ রান। এছাড়া কুইন্টন ডি কক ৩৯ এবং ডেভিড মিলার ২১ রান করেন।
অন্যদিকে, বল হাতে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন হার্দিক পান্ডিয়া। তবে ব্যক্তিগত চার ওভারে ১৮ ও ২০ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট তুলে নেন যথাক্রমে জসপ্রিত বুমরাহ ও আর্শদীপ সিং। প্রথম ইনিংসে বিরাট কোহলির ৭৬ রানের পর এই দুই পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে চেপে ধরে হারিয়েছে ভারত।
প্রথম ইনিংসে দলের সংগ্রহ বড় করে দেয়ায় ফাইনাল ম্যাচের রাজা বিরাট কোহলি। আর আসরজুড়ে বোলিংয়ে ঝলক দেখানো জসপ্রিত বুমরাহ হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা।
৫৬৯ দিন আগে
ডি ককের ব্যাটে ম্যাচে ফিরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা
মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুতেই যে চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ট্রিস্টান স্টাবসকে সঙ্গে নিয়ে সেই চাপ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি কক।
দলকে স্থিতিশীলতা এনে দিয়ে স্টাবস আউট হয়ে ফিরলেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ডি কক ও হাইনরিখ ক্লাসেন।
শেষ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১১ ওভার শেষে তিন উইকেটে ৯৩ রান সংগ্রহ করেছে প্রোটিয়ারা। বিশ্বকাপ জিততে বাকি ৯ ওভারে তখন তাদের প্রয়োজন ৮৪ রান। প্রয়োজনীয় রান রেট ৯ দশমিক ৪।
২৬ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত রয়েছেন ডি কক। অন্য প্রান্তে ১০ বলে ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত ক্লাসেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয় বোলিং তোপে কাঁপছে দক্ষিণ আফ্রিকা
এর আগে, ১৭৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। তিন ওভার শেষ হতে না হতেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে তারা।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে যাচ্ছিলেন কুইন্টন ডি কক। আর্শদীপের আউটসাইড অফ স্ট্যাম্পের ডেলিভারিতে ব্যাট ছুঁইয়েই বিপদে পড়েছিলেন তিনি। তবে উইকেটরক্ষক পর্যন্ত না পৌঁছানোয় বেঁচে যান ডি কক।
তবে পরের ওভারে বুমরাহর প্রতাপ থেকে বাঁচতে পারেননি অপর প্রান্তের রিজা হেন্ড্রিক্স। ওভারের তৃতীয় বলেই দুর্দান্ত এক ইয়র্কার স্ট্যাম্প গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। ফলে দলীয় ৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর পরের ওভারে আর্শদীপের শিকার হন প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করাম। উইকেটের পেছনে ঋষভকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ফলে প্রথম দুই ব্যাটারই পাঁচ বল মোকাবিলা করে একটি করে চার মেরে ফিরে যান। এতে মাত্র ১২ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ভারতের মতোই শুরুতে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ওই ওভারের পঞ্চম বলে আরও একটি কট বিহাইন্ডের সম্ভাবনা জাগে। তবে রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হয় ভারত।
এরপর ট্রিস্টান স্টাবসকে সঙ্গে নিয়ে মাচে ফিরতে শুরু করেন ডি কক। এই দুজনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেটে ৪২ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
তবে ৩৮ বলে ৫৮ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান স্টাবস। ৮.৫তম ওভারে অক্ষরের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফেরার আগে একটি ছক্কা ও তিনটি চারের মারে ২১ বলে ৩১ রান করেন তিনি। এর ফলে দলীয় ৭০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা।
আরও পড়ুন: ফাইনালে হাসল কোহলির ব্যাট, প্রোটিয়াদের সামনে বড় লক্ষ্য
ফাইনালের খুঁটিনাটি: আবহাওয়া, পিচ, দলের খবর
৫৬৯ দিন আগে