ঈদযাত্রা
ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে ঝরেছে ২২ প্রাণ
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি এ সময়ে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। একইসঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় ২৪টি কোরবানির গরু মারা গেছে। অন্যদিকে, ২২টি রেল দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে। মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ৩৩ দশমিক ২১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে এবং ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে শহরের সড়কে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া ৭৩টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩৮টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া এবং ৪২টি থেমে থাকা বা চলন্ত যানবাহনের পেছনে আঘাত করার ঘটনা ঘটেছে।
যানবাহনভিত্তিক প্রাণহানির হিসাবে মোটরসাইকেল আরোহীদের পরেই সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে থ্রি-হুইলার যাত্রীদের। এ শ্রেণির যানবাহনে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির যাত্রী ৩২ জন, বাসযাত্রী ২১ জন এবং প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের ১১ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭ জনের। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ফরিদপুরে। জেলাটিতে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
ঈদযাত্রা নিয়ে পর্যালোচনায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, এবার রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাত্রা করেছেন এবং সারা দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। ট্রেন ছাড়া সড়ক ও নৌপথে তুলনামূলক কম ভোগান্তি হলেও উত্তরবঙ্গগামী সড়কে যানজট ছিল। বিভিন্ন পরিবহনমাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১২ জন নিহত হয়েছিলেন। সে সময় প্রতিদিন গড়ে প্রাণহানি ছিল ২৬ জন। সে তুলনায় এবার প্রাণহানি ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে। তবে পরিবহন খাতে ব্যবস্থাপনাগত কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় এই হ্রাসকে ইতিবাচক অগ্রগতির সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক ও ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ, রেল ও নৌ-পরিবহন সম্প্রসারণ, বিআরটিসির সক্ষমতা বৃদ্ধি, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, দক্ষ চালক তৈরি এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
১১ ঘণ্টা আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যানজটমুক্ত, স্বস্তিতে চালক ও যাত্রীরা
ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। আজও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন দূরপাল্লার মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রী, বাস ও ব্যাক্তিগত যানবাহনে চাপ রয়েছে। তবে তা গেল কয়েকদিনের থেকেও কিছুটা কম। মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের সদস্য এবং রোভার স্কাউটস সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি যানবাহন চলাচল করছে। আজও (বুধবার) রাজধানী থেকে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে।
আজ বেলা ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার আগে সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে মহাসড়কের গৌরীপুর, মাধাইয়া, চান্দিনা, ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচর, পদুয়ারবাজার, মিয়ানমার, চৌদ্দগ্রাম, পদুয়াসহ বিভিন্ন বাজার ও স্টেশনগুলোতেও যানবাহনগুলো চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পলাশ আহমেদ জানান, আজ সকাল থেকে মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
৮ দিন আগে
ঈদযাত্রায় ২৬ রুটে বাস ভাড়ায় ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রুটে বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটির দাবি, ঈদযাত্রায় পর্যবেক্ষণ করা ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। এসব রুটে প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে মোট ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে। তবে সরকার ও বাস মালিক সমিতি এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৃষ্টি-বাদল ও কালবৈশাখীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে ঈদযাত্রায় মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।
সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবার ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৯৫ লাখ যাত্রী দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছেন। এছাড়া আন্তঃজেলা পর্যায়ে আরও প্রায় ৩ কোটি ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কার না হওয়া, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারিত না থাকা, ভাড়া আদায়ের অনিয়ম এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে প্রতিবছর ঈদে যাত্রীরা এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
এতে আরও বলা হয়, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।
এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১ হাজার ১৯৭ টাকার ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১ হাজার টাকার ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১ হাজার ১০০ টাকার ভাড়া ২ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটি বলেছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, পরিবহনে চাঁদাবাজি, সামাজিক অস্থিরতা, অনিয়ম-দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা ও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। নিম্নআয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
৮ দিন আগে
ঈদযাত্রা: ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধীরগতি
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়ছে গাজীপুরের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া দুই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে। ফলে ঈদের যাত্রাপথে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের ধীরগতি ও থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, বোর্ডবাজার, ভোগড়া ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সফিপুর থেকে চন্দ্রা উড়ালসড়ক এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন।
গাজীপুরের প্রায় ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ শিল্পকারখানায় আজ ছুটি শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের একসঙ্গে বাড়ি ফেরার চাপ পড়েছে মহাসড়কে। এতে বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও বেড়েছে যাত্রীদের ভিড়। অনেক স্থানে সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা ও অনিয়মিত পার্কিংয়ের কারণেও যানজট বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চালক ও যাত্রীরা। তবে প্রায় সব রুটেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, সড়ক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে নিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেকারও।
৯ দিন আগে
হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নতুন লেন চালু: উত্তরবঙ্গের ঈদযাত্রায় স্বস্তি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী ফ্লাইওভার লেনটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গুরুত্বপূর্ণ এই লেনটি চালু হওয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের চিরচেনা যানজটের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাটিকুমরুল গোলচত্বর ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। এই গোলচত্বর থেকেই মূলত ঢাকা-পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহনগুলো পৃথক লেনে বিভক্ত হয়ে নিজস্ব গন্তব্যে যায়। স্বাভাবিক সময়ে যানবাহনের চাপ নিয়মিত থাকলেও ঈদ মৌসুমে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার বাসসহ প্রায় ৫২ হাজার যানবাহন চলাচল করে।
বিগত বছরগুলোতে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সংযোগ মহাসড়ক থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত অংশে ঈদযাত্রায় মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতো। ফলে উৎসবের আনন্দ বিষাদে রূপ নিত এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এই পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে নিরসনে নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জের এই বিশেষ লেনটি গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসের চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় হাটিকুমরুল মোড় ছিল এই রুটের যাত্রী ও চালকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম। তবে নতুন লেনটি চালু হওয়ায় এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।
সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সরফরাজ হোসাইন বলেন, ‘উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন এই নতুন লেন ব্যবহার করে চলাচল করছে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ হবে।’
তিনি আরও জানান, প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এই হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের সার্বিক কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের আগে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস একসঙ্গে চলায় এই চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নতুন লেনটি চালু হওয়ায় এবার মহাসড়কে গাড়ির গতিশীলতা স্বাভাবিক রয়েছে এবং ইতোমধ্যে চাপ কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি মহাসড়কের নিরাপত্তায় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।
জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় মহাসড়কের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের একাধিক টিম সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যরা মহাসড়ককে যানজট ও অপরাধমুক্ত রাখতে সমন্বিতভাবে সক্রিয় রয়েছেন।
১০ দিন আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে ১৫ যাত্রী নিহত, আহত ৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে অন্তত ১৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ যাত্রী।
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় উত্তরবঙ্গগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রডবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটিতে চেপে কিছু মানুষ ঈদযাত্রায় ঘরে ফিরছিলেন। ভোরে ট্রাকটি খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই অনেকে প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ এবং যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ৬ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উদ্ধার কাজের কারণে ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে যমুনা সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
১০ দিন আগে
নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও এবার স্বস্তির হবে: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম।
শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। দেশের অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনসচেতনতা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে।’
তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চালকদের অদক্ষতা, আনফিট যানবাহন ও জনগণের অসচেতনতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। এসব কমিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার হারও কমে আসছে।’
এ সময় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী সড়কে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবার ও আহত ৩৩ জনের মাঝে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আহতদের ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৫৯ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
১৩ দিন আগে
ঈদযাত্রায় ঘাটে দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: নৌ প্রতিমন্ত্রী
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি ফেরি ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাটগুলোতে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. রাজিব আহসান বলেন, কোনো ঘাট এলাকায় অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি ঘরমুখো যাত্রীদের উদ্দেশে সরকারি নির্দেশনা মেনে নিরাপদে ঘাট পারাপারের আহ্বান জানান।
১৪ দিন আগে
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ ওঠানামা বন্ধে কড়া বার্তা নৌ প্রতিমন্ত্রীর
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। এ সময় তিনি অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চে ওঠানামার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী লঞ্চ মালিক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। যাত্রীসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বিশেষভাবে অনুরোধ জানান, কোনো অবস্থাতেই যাত্রীরা নৌকা বা ট্রলার ব্যবহার করে লঞ্চে ওঠানামা করবেন না। তিনি বলেন, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন তিনি।
ঈদযাত্রায় কোনো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন।
তিনি প্রতিটি লঞ্চে দৃশ্যমান স্থানে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেন, যাতে যাত্রীরা সহজেই নির্ধারিত ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে
নৌপথে নিরাপদ ঈদযাত্রায় বিআইডব্লিউটিএর একগুচ্ছ নির্দেশনা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং নৌ-দুর্ঘটনা রোধে একগুচ্ছ নির্দেশনা ও সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক জরুরি নৌ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি এই অনুরোধ জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে নৌপথে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী চলাচল করে। এই সময়ে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীদের টিকিট কেটে লঞ্চে ওঠার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
নৌ-দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর একটি ‘অতিরিক্ত যাত্রী’ উল্লেখ করে বিআইডব্লিউটিএ জানায়, কোনোভাবেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বা লঞ্চের ছাদে ভ্রমণ করা যাবে না। ছাদে যাত্রীর কারণে নৌযান ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার ও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া তাড়াহুড়া না করে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লঞ্চে আরোহণ ও অবরোহনের জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নিতে হবে এবং দুর্যোগপূর্ণ বা খারাপ আবহাওয়ায় কোনোভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। মাঝ নদীতে ট্রলার থেকে চলন্ত লঞ্চে ওঠানামা করা থেকেও বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চে আরোহণের পর লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়ার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া অজ্ঞান পার্টি, পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের কবল থেকে বাঁচতে অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার গ্রহণ না করতে এবং মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঈদের ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে আগেভাগেই পরিবার-পরিজনকে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া এবং ঘাটে লঞ্চ না আসা পর্যন্ত টার্মিনালের ভেতরেই অপেক্ষা করা উচিত।
জরুরি পরিস্থিতিতে বা যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব হটলাইন নম্বরসহ (১৬১১৩) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ৩৩৩ (সরকারি তথ্য ও সেবা), ১০২ (ফায়ার সার্ভিস), ১৬১১১ (কোস্ট গার্ড) ও নৌ-পুলিশের (০১৭৬৯-৭০২২১৫) নম্বরগুলোতে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২১ দিন আগে