ঈদযাত্রা
নৌপথে ঈদযাত্রা: অতিরিক্ত ভাড়ার আদায় নিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
নৌপথে আসন্ন ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, অনুমোদিত ভাড়ার বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট নৌযানের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ মালিক-চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রীচাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এ সময় যাত্রীদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদীবন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং কোনোভাবেই ছাদে যাত্রী ওঠানো যাবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অতিরিক্ত যাত্রী-মালামাল বহনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও স্পিডবোট ঘাটে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
নৌদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১৬ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দিনরাত সার্বক্ষণিক বালুবাহী বাল্কহেড ও ডিঙি নৌকা চলাচল বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে এবং দিনের বেলায় যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে।
১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে, যাতে যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখা যায়।
ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ, নৌপুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এবং সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার করা হবে।
যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে ১৫ রমজান থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম চারজন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ঘাটভিত্তিক ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং টিম গঠন করে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হবে।
দুর্ঘটনা মোকাবেলায় উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভাসমান নৌ-ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হবে।
চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ঘূর্ণাবর্ত এলাকা চিহ্নিতকরণসহ অন্যান্য নৌরুটে নাব্য চ্যানেল মার্কিং নিশ্চিত করা হবে। সব নৌচ্যানেল ও ফেরি রুট সচল রাখতে প্রয়োজনীয় খনন, পন্টুন স্থাপন ও ঘাট উন্নয়ন জোরদার করা হবে।
যাত্রীসেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে নদীবন্দর ও টার্মিনালে পানীয় জল, স্যানিটেশন, মোবাইল চার্জিং, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারসহ নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সদরঘাটসহ সব নদীবন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ধূমপান নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ও গাজীপুর মহানগর এলাকায় গার্মেন্টস ও নিটওয়্যার খাতের শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে একযোগে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সৃষ্টি না হয়। লঞ্চ ও ফেরিঘাট থেকে দেশের অভ্যন্তরে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির ফিডার বাস সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র হটলাইন ১৬১১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সড়কে বেড়েছে প্রাণহানি, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রা শুরু ও শেষের মোট ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও এক হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছেন, এরমধ্যে সবথেকে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে।
একই সময়ে রেলপথে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত, ১২ জন আহত হয়েছেন এবং নৌ-পথে ১১টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার দুর্ঘটনার সংখ্যা ও প্রাণহানি দুইই বেড়েছে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সোমবার (১৬ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন।প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ৩১ মে থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত (১৪ জুন) বিগত ১৫ দিনে ৩৭৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ১১৮২ জন আহত হয়েছেন।
বিগত ২০২৪ সালের ঈদুল আজহায় ৩০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন নিহত ও ৭৬২ জন আহত হয়েছিল। এতে দেখা যায়, এবার সড়ক দুর্ঘটনা ২২ দশমিক ৬৫ শতাংশ, প্রাণহানী ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ও আহত ৫৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক সেনাসদস্য নিহত, বাসে আগুন
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৩৪ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত, ১৪৮ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ২৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০ দশমিক ৭৯ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০ দশমিক ৭৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনা ও মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমিয়ে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে হলে ঈদের আগে কমপক্ষে ৪ দিনের সরকারি ছুটি থাকা দরকার। ঈদের যাতায়াত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে আমাদের গণপরিবহন ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে হবে, ছোট যানবাহনগুলো মহাসড়ক থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। প্রশিক্ষিত দক্ষ চালক, ফিটনেস সম্পন্ন যানবাহন, মানসম্মত সড়কের পাশাপাশি আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরী।’
আরও পড়ুন: রাস্তা পারাপারের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত
এ ছাড়া,যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের সড়ক ও মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বেপরোয়া গতির যানবাহনগুলো দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে।
ঈদের পরে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালাতে গিয়ে সংগঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে এসব দুর্ঘটনায় সিংহভাগ খাদে পড়ে ও দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনের লেগে যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটেছে।
তাছাড়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি এবারের ঈদেও চরমে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গণপরিবহনগুলোতে ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যর কারণে বাসের ছাদে, ট্রেনের ছাদে, খোলা ট্রাকে, পণ্যবাহী পরিবহনে যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরিদ্র লোকজনদের ঈদে বাড়ি যাতায়াত করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়েসহ নিহত ৩
সংবাদ সম্মেলনে দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১২ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে– মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ, মহাসড়কে রোড সাইন ও আলোকসজ্জা স্থাপন, দক্ষ চালক তৈরি, ডিজিটাল ফিটনেস ব্যবস্থা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যান স্ক্র্যাপ করা ও ঈদের আগে কমপক্ষে ৪ দিনের ছুটি নিশ্চিত করা। এ ছাড়াও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী চালকদের ওপর থেকে ভ্যাট ও আয়কর প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক আরমানা সাবিহা হক, সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাসুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজ, মনজুর হোসের ইশা, জিএম মোস্তাফিজু।
২৬২ দিন আগে
ঢাকামুখী ফিরতি ঈদযাত্রা শুরু, লঞ্চ-ফেরিঘাটে উপচে পড়া ভিড়
ঈদের ছুটি শেষে অফিস শুরু হবে আগামী রবিবার। পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সকাল থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ভিড় করছেন যাত্রীরা। ফেরির পাশাপাশি লঞ্চযোগে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন অনেকে।
আজ (শুক্রবার) সকালে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায় ঢাকামুখী মানুষে উপচে পড়ছে ঘাট। মাত্র তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে একেকটি লঞ্চ। তারপর সেগুলো ছেড়ে যাচ্ছে পাটুরিয়ার উদ্দেশে।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থেকে আসা পোশাকশ্রমিক মেহেদী হাসান। এক হাতে লাগেজ নিয়ে আরেক হাতে স্ত্রীকে ধরে ভিড় ঠেলে লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
জানতে চাইলে এই যুবক বলেন, ঢাকার হেমায়েতপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন তিনি। তার স্ত্রীও একই কারখানায় কাজ করেন। তারা সিএনজিতে করে দৌলতদিয়া ঘাটে নামেন। সড়কে তেমন যানজট না থাকলেও ঘাটে এসে ভিড়ের মুখে পড়েছেন।
মেহেদী বলেন, ‘শনিবার থেকে আমাদের কারখানা খুলবে। তাই আজ সকাল সকাল বের হয়েছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি সেই ভিড়। ভিড়ের মধ্যে যাতে কেউ হারিয়ে না যাই, সেজন্য কষ্ট হলেও এক হাতে লাগেজ আর অন্য হাত দিয়ে স্ত্রীকে শক্ত করে ধরে রেখেছি।’
কালুখালী থেকে আসা মিম আক্তার নামের আরেক পোশাকশ্রমিক জানান, তিনি সাভারের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করে এখন কর্মস্থলে ফিরছেন। শনিবার থেকে তার কারখানাও খুলছে। তাই দেরি না করে আজই ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হয়েছেন তিনি।
সরেজমিন শুক্রবার সকালে দীর্ঘক্ষণ ধরে দেখা গেছে, লঞ্চঘাটের কাঠের সেতু দিয়ে যাত্রীরা সারিবদ্ধভাবে পন্টুনে দাঁড়াচ্ছেন। টিকিট কাটার দায়িত্বরত শ্রমিকরা পন্টুন ছেড়ে কাঠের সেতুর ওপর গিয়ে যাত্রীদের থেকে নদীপাড়ের টিকিট দিচ্ছেন। পন্টুনে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা লঞ্চগুলো মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীবোঝাই করে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে।
এ সময় আনসার, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ সদস্যদেরও সহযোগিতা করতে দেখা যায়।
২৬৫ দিন আগে
ঈদযাত্রায় ভাঙ্গা-চোরা মহাসড়কে ভোগান্তি, ডাকাতির আশঙ্কা
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে জেলা সদর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য খানাখন্দের কারণে এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।
খানাখন্দের কারণে ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। আবার ধীরগতির কারণে যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। পাশাপাশি, রাতের বেলায় ছিনতাই ও ডাকাতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
এই সড়ক ব্যবহারকারী চালক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, খানাখন্দের কারণে প্রায়শই যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যে, গতি সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত তোলা সম্ভব। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে।
তারা আরও জানান, বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলা এক্সপ্রেসওয়ের শেষ প্রান্ত থেকে ফরিদপুরের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে এই অংশটি খানাখন্দে ভরে গেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে এসব খানাখন্দ আরও বেড়েছে। এতে ফরিদপুরসহ অন্তত ১০ জেলার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের এই সড়কটির প্রতি উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা।
ঢাকাগামী এক মাইক্রোচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘এয়ারপোর্টে যাচ্ছি যাত্রী আনতে, কিন্তু ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত সড়কের যে অবস্থা, তাতে গাড়ির গতিসীমা সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার পার হচ্ছে না। মহাসড়কের গতি যদি এমন হয়, তাহলে ডাকাতিসহ নানা ঝামেলার আশঙ্কা থেকেই যায়।’
এদিকে, যানবাহন বিকল হওয়া ও ধীরগতির কারণে ঈদযাত্রায় যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। এছাড়া রাতে ধীরগতির কারণে ছিনতাই বা ডাকাতির আশঙ্কাও করছেন তারা। তাদের দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নেই যানজট
এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল জানান, ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়ককে চারটি ভাগে ভাগ করে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো সমস্যা বা সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছিনতাই ও ডাকাতির বিষয়টি মাথায় রেখে ওই অংশে রাতের বেলায় পুলিশ টহল আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাই শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
এদিকে, ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুর রহমান জানান, আপাতত যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক রাখতে সড়কটির সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে।
২৭৩ দিন আগে
ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নেই যানজট
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। এতে সড়কে ভয়াবহ যানজটের আশঙ্কা করা হলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ফেনী জেলার মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটার অংশে নেই কোনো যানজট। ফলে ঘরমুখো মানুষজন স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে মহাসড়কে দেখা যায় এই চিত্র।
এবারও ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীর চাপে মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গতকাল (বুধবার) সকাল থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলবার যানজট হতে পারে যেসব এলাকায়
তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে কোথাও কোনো যানজট নেই। এ সময়ে যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও। এছাড়া রয়েছে পণ্যবাহী ও পশুবাহী ট্রাক।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি এবার কাজ করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। এছাড়াও, জেলা প্রশাসন ও রোভার স্কাউটস সদস্যরাও কাজ করে যাচ্ছেন।
এর ফলে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ক্যান্টনমেন্ট, পদুয়ার বাজার, মিয়াবাজার, চৌদ্দগ্রামসহ অন্যান্য স্থানগুলোতে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করছে।
২৭৩ দিন আগে
আজ ঈদযাত্রায় বাড়তি দুর্ভোগ যোগ করতে পারে বৃষ্টি
আগামী ৭ জুন বাংলাদেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে ঈদুল আজহা। তাই পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। আজ থেকে ছুটি শুরু হওয়ায় রাস্তাঘাটে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। সকালে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে চন্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। যানজটের সঙ্গে সড়ক পথের যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে বৃষ্টি।
বৃহস্পতিবার ( ৫ জুন) সকাল ৯ টা থেকে ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
তবে ঢাকা ও পাশ্ববর্তী জেলায় আজ তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পৃথক আরেক পূর্বাভাসে জানিয়েছে এই সংস্থাটি।
বৃষ্টিপাতের এই ধারা আগামীকালও (শুক্রবার) অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে বৃষ্টি ঝরার প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
কারণ মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দূর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রার মধ্যে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে ঈদের দিন (শনিবার) সকাল থেকে দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি হলেও সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঈদের পরের দিনও সারা দেশের আবহাওয়া একই রকম থাকবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। তবে ঈদের দিন গরমে কষ্ট পেতে হতে পারে মানুষকে। কারণ এদিন (শনিবার) দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়ার পূবর্াভাস দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
এদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
২৭৩ দিন আগে
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রী ও ভাড়া নিলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ঈদ যাত্রায় কোনো পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী ও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল(অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার দরকার আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, গতবার যে ভাড়া ছিল এবারও বাস ভাড়া একই আছে। বাস টার্মিনালে চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কেউ যাতে বেশি ভাড়া নিতে না পারে সে বিষয়ে মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষ সচেতন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোথাও ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ থাকলে মালিক পক্ষ, শ্রমিক পক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন: কোরবানির ঈদে নিরাপত্তাসহ সার্বিক প্রস্তুতি ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল(অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সড়কপথে ডাকাতি প্রতিরোধে প্রত্যেক যাত্রীর ছবি নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক বাসে ড্রাইভারসহ তিনজন স্টাফ থাকে। এ ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তারা যাতে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মালিকপক্ষকে অবহিত করতে পারে- সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সড়কপথে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এ বিষয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ বাহিনী, কোস্ট গার্ড, বিজিবি সবাই সচেতন আছে। যার যার অবস্থান থেকে সবাই দায়িত্ব পালন করছে।
এর আগে উপদেষ্টা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, এ পর্যন্ত ৩১টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫টা ট্রেন সামান্য লেট ছাড়া সকল ট্রেনই যথাসময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও ৩৫টি ট্রেন ছাড়বে। সেগুলোও যথাসময়ে স্টেশন ছেড়ে যাবে বলে আশা করছি।
তিনি বলেন, এবার টিকেটে কোনো রকম কালোবাজারি হয়নি। ট্রেনের ছাদে যাতে কোনো যাত্রী যাত্রা করতে না পারে- সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন করার অনুরোধ করেন তিনি।
২৭৪ দিন আগে
ঈদযাত্রার মধ্যে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ জুন) থেকে দশ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে দেশ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে গত কয়েকদিন থেকেই ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা শুরু হলেও ঈদযাত্রার মূল স্রোত শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে। তবে ঘরে ফেরা মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে গত কয়েকদিন ধরে হতে থাকা বৃষ্টি।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমলেও সারা দেশেই কমবেশি মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়ে চলেছে এখনও। ফলে এই সময়ে ঈদযাত্রা কতটা স্বস্তির বা ভোগান্তির হবে, তা নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে সংশয়।
এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত, ঢাকায় হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস
বুধবার (৪ জুন) দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
পরবর্তী তিন দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার (ঈদের দিন) এই ধারা অব্যাহত থাকলেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে। আবহাওয়ার খবর বলছে, এই সময়ে সারা দেশের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
ফলে বৃষ্টির কারণে ঈদযাত্রার শুরুর দিকে ভোগান্তি থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে ধারণা করা যায়।
গরম কেমন থাকবে?
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকায় আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়ে এই বিভাগেই, সাতক্ষীরায় গতকাল সর্বোচ্চ ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আরও পড়ুন: গভীর নিম্নচাপের তীব্রতা কমলেও ৩ নম্বর সংকেত বহাল
বৃষ্টিপাতের মধ্যেও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে বৃষ্টিপাতের কারণে পরের দুদিন সারা দেশে গরম কিছুটা কমতে পারে। আবার তার পর থেকে বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে ফের বাড়তে থাকবে তাপমাত্রা।
এরপর ঈদের পর থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। ফলে ঈদ-পরবর্তী যাত্রায় বৃষ্টির বাগড়া কম হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
২৭৫ দিন আগে
ঈদযাত্রায় সড়কে নিহত ২৪৯, আহত দুই সহস্রাধিক
এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন ২২ জন করে নিহত হয়েছেন। সোমবার (৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
এতে বলা হয়, এবারের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১১ দিনে (২৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল) দেশে ২৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহত হয়েছেন ৫৫৩ জন। কিন্তু বাস্তবে আহতের সংখ্যা ২ হাজারে বেশি।
‘শুধু ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালেই ঈদের ২ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫৭১ জন, যার অধিকাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্ত। এই বাস্তবতায় সারা দেশে আহত মানুষের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি হবে। নিহতের মধ্যে নারী ৪১, শিশু ৫৯।’
আরও পড়ুন: গণপরিবহনে শৃঙ্খলায় রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ১১৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১০৬ জন, যা মোট নিহতের ৪২.৫৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৪.৩৫ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৩৯ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৫.৬৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩২ জন, অর্থাৎ ১২.৮৫ শতাংশ।
‘এই সময়ে ৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছেন। ১৭টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন।’
৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১০৬ জন (৪২.৫৭ শতাংশ), বাস যাত্রী ১৪ জন (৫.৬২ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ৯ জন (৩.৬১ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ১৮ জন (৭.২২ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ৪৯ জন (১৯.৬৭ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-করিমন-পাখিভ্যান-মাহিন্দ্র-টমটম-আলগামন) ১০ জন (৪ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ৪ জন (১.৬০ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: নভেম্বরে সারাদেশে সড়কে ৪৬৭ জনের প্রাণহানি: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৮৭টি (৩৩.৮৫ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ৯৮টি (৩৮.১৩ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৪৩টি (১৬.৭৩ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ২৯টি (১১.২৮ শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।
এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ৬৮টি (২৬.৪৫ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১৩টি (৪৩.৯৬ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৪১টি (১৫.৯৫ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ২৪টি (৯.৩৩ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১১টি (৪.২৮ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
৩৩২ দিন আগে
বিআরটিএ টহল টিমের তৎপরতায় স্বস্তির ঈদযাত্রা
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) টহল টিমের তৎপরতার কারণে এবারের ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের ঘটনা কম ঘটেছে। রবিবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সাধারণ ঈদ এলেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ শোনা যায়। বিভিন্নভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। কিন্তু এবারের ঈদযাত্রা ছিল কিছুটা স্বস্তির।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় গাজীপুরে যাত্রীদের ঢল, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ঈদযাত্রার শেষ দিনে মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে ঘরমুখো মানুষের চাপ ছিল না। টার্মিনালে এসেই লোকজন নিজেদের গন্তব্যের বাস পেয়ে যাচ্ছেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় কথা হয় নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী বাসের যাত্রী সামিহা মৌয়ের (৩৩) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বগুড়ার ভাড়া সাড়ে ৫০০ হলেও আমাকে নওগাঁর ভাড়া ৬৮০ দিয়ে যেতে হচ্ছে। এটাই নাকি নিয়ম করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুপুর দেড়টায় আমার বাস ছাড়বে। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় জানি না। আগে যেহেতু টিকিট কাটিনি, ভোগান্তি হলে আর কি করবো!’
ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে সারিবদ্ধ হয়ে রানিং টিকিট কাটছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে ওবায়দুর রহমান (৪৫) নামের একজন বলেন, ‘এখন ভাড়া ঠিক নিচ্ছে। এসি ৪০০, নন-এসি ৩১০। শুনেছি, বাড়তি ভাড়া আদায়ের জন্য জরিমানা করা হয়েছে। এখন সমস্যা হচ্ছে না।’
গেল ২৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ঈদযাত্রায় রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে, বাস টার্মিনালগুলোতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিভিন্ন অভিযান চালিয়েছে।
বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জরিমানা করেছে। বরাবরের মতো সংস্থাটির টহল টিম ঢাকার প্রতিটি বাস টার্মিনালে উপস্থিত ছিল। যে কারণে বেশিরভাগ বাস নির্ধারিত সময়েই যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
যাত্রীদের মুখ থেকেও সেই বিবরণ পাওয়া গেছে। মোহাম্মদ পাকন নামের টহল টিমের এক সদস্য বলেন, ‘সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ইউনাইটেড বাসে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ করেন এক যাত্রী। সঙ্গে সঙ্গে আমরা ৫ হাজার টাকা জরিমানা করি। কেউ অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে আমাদের টিম প্রস্তুত।’
ঢাকা-সিরাজগঞ্জগামী এসআই পরিবহনের একজন ব্যবস্থাপক বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের নির্ধারিত ভাড়া ৩৭০ টাকা। বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। আমরা যেটা ভাড়া, সেটাই নিচ্ছি।’
মহাখালী ট্রাফিফ পুলিশের সদস্য রনজিৎ রায় বলেন, ‘আজ কমসংখ্যক মানুষ বাড়ি যাচ্ছেন। কিছু কর্মজীবী যারা একদিন আগে ছুটি পেয়েছেন, তারা যাচ্ছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দুটি কন্ট্রোল রুম দায়িত্ব পালন করছে।’
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় ঢাকার গণপরিবহনে ৮৩২ কোটির অধিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
৩৪০ দিন আগে