অবস্থান কর্মসূচি
দ্বিতীয় দিনের মতো ইসির সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতদুষ্টতা বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো এই কর্মসূচি শুরু করে বিএনপির এই ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচন ভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক ছাত্রদল নেতা-কর্মী অবস্থান নিয়েছেন। ইসির নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে রাস্তায় বসে পড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এ সময় তাদের ‘দালালি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ছাত্রদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসি কার্যালয়ের আশপাশে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
অবস্থান কর্মসূচির শুরুতে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন সুষ্ঠ করার জন্য আমরা সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী জেতার জন্য এক এলাকার ভোটারকে অন্য এলাকায় পাঠিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ গোষ্ঠীর নাম বলব না। তাদের নাম বলে হাইপ তুলে দিতে চাই না। তারা ইসির কিছু লোককে ব্যবহার করে অনিয়ম করার চেষ্টা করছে।’
ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ‘ডাকসু, রাকসুসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি দল ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ভোটে কারসাজি) মাধ্যমে কুক্ষিগত গত করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা একই কায়দায় ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে, একই দাবিতে গতকাল রোববারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। পরে বিকেলে সংগঠনটির ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসি কার্যালয় প্রবেশ করে।
ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি ইস্যু নিয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন সেই বক্তব্য শুনেছে। বিষয়গুলো তারা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের মতো অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো।’
৯ ঘণ্টা আগে
পক্ষপাতসহ তিন অভিযোগে নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার পর থেকে সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ইসি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে তারা পুলিশের বাধার মুখে সেখানে বসে পড়েন।
পূর্বনির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে’ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসিরসহ কেন্দ্রীয় সংসদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।
এ সময় নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাদের দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান জানান।
তাদের অভিযোগগুলো হলো— পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে পড়ে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। ছাত্রদলের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার। ছাত্রদল মনে করে, এই প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।
নির্বাচন ভবনের সামনে ছাত্রদলের এই অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা দেখলাম ব্যালট পেপার নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর যারা এখানে (ইসি) বসে আছেন অবশ্যই তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে বলে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। তারপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন এবং হল নির্বাচন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনের মতো আবারও আমাদের এখানে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও তারা (ইসি) ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়টি হলো বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ইচ্ছার প্রতিফলন।
ইসিতে শুনানি চলছে
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাতিল ও ফিরিয়ে দিতে নবম দিনের শুনানি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনারও আছেন।
গত আট দিনে ৪০০ জনের মতো প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
১ দিন আগে
ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে 'গণধর্ষণের' হুমকির প্রতিবাদে জাবি ছাত্রদলের 'অবস্থান কর্মসূচি'
ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেত্রীদের হেনস্থা এবং সারা দেশে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অব্যাহত সাইবার বুলিংয়ের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে (ডেইরি গেইট) এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীরা ঢাবি ছাত্রীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকির নিন্দা জানান এবং দেশব্যাপী ছাত্রদলের নারী নেত্রীদের সাইবার বুলিং ও সামাজিক হেনস্তাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এসময় জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। যার কারণে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আগষ্ট বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন, সেসমস্ত শিক্ষার্থীদের উপরে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে আক্রমণ করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন রাকসু নিয়ে কথা হচ্ছে সেই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়েছে। এর তীব্র ও নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি।’
আরও পড়ুন: চবি ও বাকৃবি শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিক্ষোভ
জাবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফফান আলী বলেন, ‘যে নারীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল, আমাদের শক্তি জুগিয়েছিল আজকে তাদেরকে সাইবার বুলিং এর মাধ্যমে রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।’
এসময় অন্যান্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন জাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান, জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী, এজিএস প্রার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম ও আঞ্জুমান আরা ইকরাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
১৩৯ দিন আগে
কাফনের কাপড় পরে কলম বিরতিতে এনবিআর কর্মকর্তারা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আবারও তিন ঘণ্টার কলম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা।
সোমবার (২৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে কাফনের কাপড় পরে এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
এর আগে শনিবার (২১ জুন) এ কর্মসূচি ঘোষণা দেয় এনবিআর কর্মকর্তাদের সংগঠন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
কাউন্সিলের সভাপতি ও অতিরিক্ত কমিশনার হাসান মোহাম্মদ তারেক রিকাবদার এবং সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত কর কমিশনার সহেলা সিদ্দিকা পুনরায় এনবিআরে ‘যুক্তিসংগত সংস্কার’ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
আরও পড়ুন: সোমবার ২ ঘন্টা কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা
তারা বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে, কারণ তার নেতৃত্ব সংস্কার প্রক্রিয়া শুধু বিলম্বিত হয়েছে।
এর আগেই তাকে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
গত ১৯ জুন গঠিত এনবিআর সংস্কার কমিটি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।
এ প্রসঙ্গে তারা বলেন, রাজস্ব অধ্যাদেশ সংশোধনের লক্ষ্যে এনবিআরের কর, কাস্টমস ও ভ্যাট অনুবিভাগের ছয়জন সদস্য সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, এ কমিটিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের কোনো প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, এমনকি তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা পর্যন্ত করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ১২ মে জারি করা এক অধ্যাদেশে এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বাতিল করে সরকার রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠন করে।
এরপর থেকেই এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এনবিআর কর্মকর্তারা নানা ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
আরও পড়ুন: অধ্যাদেশ বাতিল না হলে আগামীকাল সচিবালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা
সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ সংশোধনের ঘোষণা দেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার নতুন এই কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে, শিশুমেলা থেকে এনবিআর কার্যালয় পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রবিবার থেকে কার্যকর হওয়া নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
২১০ দিন আগে
দাবিদাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনে প্রশাসনে অচলাবস্থা
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রশাসনে যে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছিল, তার মধ্যেই নতুন করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে একাধিক সংগঠন। সচিবালয়ের ভেতরে-বাইরে চলছে মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, কর্মবিরতি ও আল্টিমেটাম। এতে করে প্রশাসনের প্রাত্যহিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়ে একপ্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গত আগস্ট থেকেই প্রশাসনে যে অস্থিতিশীলতা শুরু হয়, তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, বিতর্কিত আমলাদের অপসারণ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল, অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রত্যাহারসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারাও বিভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মাঠ প্রশাসনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ফের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ডিসি নিয়োগ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছিল।
গত কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিছিল করছেন, অবস্থান নিচ্ছেন। আন্দোলনের দিকে যাচ্ছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারাও, মানববন্ধন করে কর্মবিরতির আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
বিক্ষোভের কেন্দ্রে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ
সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন বাতিল ও প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করেছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ।
শনিবার (২৪ মে) সকাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে সচিবালয়ে মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মকর্তারা এ অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক ও কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে অধ্যাদেশ থেকে অসঙ্গতিপূর্ণ ধারা বাতিলের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে অনুরোধ জানান।
আরও পড়ুন: অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাসে এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার
গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য চারজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর ইউএনবিকে বলেন, এই অধ্যাদেশে এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই শাস্তি বা চাকরিচ্যুতির পথ খুলে দিয়েছে। অধ্যাদেশের খসড়াটিকে ‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ আখ্যায়িত করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি আমরা।
তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-তে সব আচরণবিধি ও অন্যান্য বিধান বিবৃত আছে। এখন অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘নিবর্তনমূলক’ ধারা সংযোজন করা হচ্ছে। এটি একটি কালাকানুন। আমরা দ্রুত সময়ে এই অধ্যাদেশ প্রত্যাহার চাই।
২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধনে অধ্যাদেশের যে খসড়া নিয়ে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ, তাতে শৃঙ্খলা বিঘ্নিত, কর্তব্য সম্পাদনে বাধা, ছুটি ছাড়া কর্মে অনুপস্থিত, কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানির জন্য কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুতির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে গতকালও (রবিবার) সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ। এ সময়ে অধ্যাদেশটি বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বৈষম্যবিরোধী ফোরামের কর্মসূচি
এদিকে, আওয়ামী দোসর হিসেবে চিহ্নিত আমলাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে ‘বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’।
সংগঠনটির সদস্য সচিব কাজী মেরাজ হোসেনের দাবি, ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী ও লুটেরা ওইসব কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করতে হবে। জনপ্রশাসন সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক কাজে নিয়োজিত সবার চুক্তি বাতিল করতে হবে।
আরও পড়ুন: রাজস্ব সংস্কারে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের দাবি ঐক্য পরিষদের
তিনি বলেন, উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণের অনুরোধ জানিয়ে একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে বারবার আশ্বাস দিলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এমন বাস্তবতায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে রবিবার (২৫ মে) সকাল ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশান মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।
এর আগে, গত ১৩ মে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সচিব আবদুল খালেকের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দপ্তরে সামনে অবস্থান নেন। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এরফানুল হককে সারা দিন অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, সে সময় উপসচিব জামিলা শবনমকেও হেনস্তা করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
তার আগে, আওয়ামী লীগ আমলে নিজেদের বঞ্চিত দাবি করা কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমানকে অবরুদ্ধ করেছিলেন।
এনবিআর বিলুপ্তি নিয়ে উত্তেজনা
গত ১২ মে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করে। এর প্রতিবাদে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিল, এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ ও পরামর্শক কমিটির সুপারিশ ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে আসছেন।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারী অধ্যাদেশ বাতিল দাবিতে সচিবালয়ে বিক্ষোভ
এর মধ্যে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকের পরও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। গত ২২ মে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার আপাতত এনবিআরকে ভাগ করছে না। তবে আন্দোলনকারীরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।
২৫ ক্যাডার কর্মকর্তাদের কলমবিরতির ডাক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈষম্য নিরসনে ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’-এর ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে তারা ‘ক্যাডার যার মন্ত্রণালয় তার’, উন্মুক্ত নিয়োগ পরীক্ষা এবং পদোন্নতিতে সমান সুযোগের দাবি জানিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে কলমবিরতি, মানবন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। তবে দাবি না মানলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জনপ্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বর্তমানে কর্মরত পতিত আওয়ামী লীগের দোসর ৪৪ জন সচিব ও ৯৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা প্রকাশ করেছে জুলাই ঐক্য নামের একটি সংগঠন।
সংগঠনটি এসব আমলা ও ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে। ৩১ মের মধ্যে দাবি মানা না হলে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ইউএনবিকে বলেন, জুলাই ঐক্যের প্রকাশিত ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের এই তালিকা নিয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে সরকারের শীর্ষ মহল। এ ব্যাপারে মোখলেস উর রহমানের ভূমিকা নিয়ে সরকারের ভেতরের মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে প্রতিনিয়ত অস্থিরতা বাড়ছে। বিভিন্ন দাবির কারণে জনপ্রশাসনের কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের নেতৃত্বে দুর্বলতা এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে প্রশাসনে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরি আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশের খসড়া বাতিলের দাবি, কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ
এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ইউএনবিকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নেতৃত্ব-দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান সরকার। এ কারণেই প্রশাসনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।’ যিনি যেখানে অভিজ্ঞ, তাকে সেখানে পদায়ন করতে বলে মনে করেন তিনি।
সাবেক সচিব আব্দুল আওয়াল মজুমদার ইউএনবিকে বলেন, ‘এত দিন পরও প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরে না আসা (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকারের চরম ব্যর্থতা। সরকারের উচিত ছিল শুরুতেই প্রশাসনে দক্ষ লোক বসানো। হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক দাবি সমাধান হয়ে যেত।’
২৩৮ দিন আগে
অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি
অর্থ মন্ত্রণালয় ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ কর্মসূচিতে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের মতো রেশন সুবিধা এবং বর্ধিত ভাতার দাবি জানান তারা।
সোমবার (১৯ মে) দুপুর সোয়া ৩টার দিকে সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবনের থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন কর্মচারীরা।
এ সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এরপর বিভিন্ন প্লেকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ভবনের তৃতীয় তলায় অর্থ উপদেষ্টার অফিস কক্ষের সামনে করিডোরে অবস্থান নেন কর্মচারীরা।
সেই সময়ে অর্থ উপদেষ্টা তার অফিসে পূর্বনির্ধারিত একটি কার্যক্রমে ব্যস্ত ছিলেন। তার ব্যক্তিগত সচিবের মাধ্যমে বিক্ষোভের খবর জানতে পারেন।
আরও পড়ুন: নগর ভবন আটকে ইশরাক সমর্থকদের ব্লকেড কর্মসূচি
প্রতিবাদকারীরা স্লোগান বন্ধ করে উপদেষ্টার কক্ষের সামনে নীরবে তাদের অবস্থান চালিয়ে যেতে থাকেন। আন্দেলনকারীরা জানান, সরকারি কর্মচারীরাও সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের মতো রেশন সুবিধা এবং বাড়তি ভাতা পাওয়ার অধিকার রাখেন।
পরবর্তীতে, বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধিদল অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি-দাওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করে।
২৪৫ দিন আগে
সাম্য হত্যার বিচারের দাবিতে জাবি ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা ঢাবি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচারের দাবিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রক্টরের পদত্যাগ ও দেশব্যাপী নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন তৈরির দাবি জানান।
আরও পড়ুন: জাবিতে ‘হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের’ পরিচয়ধারী এক ভুয়া শিক্ষার্থী আটক
এসময় জাবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব অসীম আহমেদ অনীক বলেন, কিছুদিন আগে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারভেজ আনোয়ার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হয়েছেন। গত পরশুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা নিজ ক্যাম্পাসে খুন হলেন। কিন্তু ইন্টেরিম সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে নির্লিপ্ত।
তিনি আরও বলেন, আমরা ন্যায়বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ক্যাম্পাস নিরাপদ হবে এবং শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের নিরাপদ বোধ করবে না ততক্ষণ আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ইন্টেরিম সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে পারবে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় কিছুদিন আগে ছাত্রদল নেতা পারভেজকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ও ঢাবির ছাত্রদল নেতা নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য তার নিজের ক্যাম্পাসে খুন হয়েছে। যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইন্টেরিম সরকারকে বলতে চাই, ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন এবং ঢাবির উপাচার্যের ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে এবং তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়াও ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
২৪৯ দিন আগে
চার দফা দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) বৈষম্যমূলক নীতি, আবাসন ভাতা ও হল নির্মাণসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৭ মে) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিসি ভবনের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘প্রহসনের বাজেট মানি না, মানবো না’; ‘বৈষম্যের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’; ‘বাজেট নিয়ে বৈষম্য মানি না, মানবো না’; ‘ইউজিসির গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথেসহ’ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব আন্দোলনেই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।’
ইউজিসি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি যে পদে বসে আছেন, সেই পদে বসতে জবি শিক্ষার্থীদের ত্যাগ আছে। সুতরাং বৈষম্য বন্ধ করুন এবং জবির শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ চার দাবি দ্রুত মেনে নিন। দাবি মেনে না-নিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।’
কর্মসূচিতে জবি ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনে এমন কোনো দিন ছিল না, যেদিন পুরান ঢাকায় আন্দোলন হয়নি। আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন, অথচ আজ আমাদের ওপরই বৈষম্য করছেন।’
‘আবাসন ভাতা ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। আমাদের ৯০-৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টাকার অভাবে সকালের নাশতা খেতে পারেন না। পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি,’ অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থী।
এদিকে, জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, ‘হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চলবে, নয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। ঢাকার মধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাজেটে এত বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
আরও পড়ুন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং তাদের চার দফা দাবি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে, আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। বাজেট বৃদ্ধির নীতিমালাতেও ত্রুটি আছে, এজন্য আমরা ইউজিসি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি ‘
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং পুরান ঢাকায় ড. হাবিবুর রহমান হল ও বাণী ভবনের নির্মাণকাজ আগামী ১০ মে’র মধ্যে শুরু করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ১৫ দিন অন্তর দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও হল নির্মাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মুক্তমঞ্চে ব্রিফ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা।
২৫৭ দিন আগে
যানজটে বিপর্যস্ত রাজধানী: মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় বেড়েছে দুর্ভোগ
রাজধানীর ফার্মগেট, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, সিদ্ধেশ্বরী, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সোমবার তীব্র যানজট দেখা গেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এবং বিক্ষোভ চলমান থাকায় ট্রাফিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন দাবিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিশেষ করে শাহবাগে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করায় যানজট অধিক মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আশেপাশের এলাকাগুলোতে।
রমনা ও মতিঝিলের আশপাশেও যানজট দেখা গেছে, যা পুরো শহরের যান চলাচলকে প্রায় অচল করে দিয়েছে।
এছাড়াও যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কের উভয় দিকে যানজট দেখা যায়। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখেও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। যার প্রভাব পড়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্রগতি সরণি ও কুড়িলের কাছাকাছি সড়কগুলোতেও।
উল্লেখ্য, রবিবার থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের চাপ বেড়েছে। এদিকে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কপথে যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ব্যাপক যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় যাত্রীদের একই জায়গায় আটকে থাকতে হচ্ছে। যান চলাচল প্রবাহে অচল অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে ঢাকাবাসী।
৫১৮ দিন আগে
ঢাকা উত্তর আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত
‘বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাস’র বিরুদ্ধে থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সোমবার (৩১ জুলাই) সকালে শান্তি সমাবেশ করার কথা জানালেও তা বাতিল করে এ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ইউএনবিকে বলেন, বিএনপির তাদের পুরোনো চরিত্রে ফিরে গেছে। আমরা ১৫০ দিন মাঠে থাকব। সেই ধারাবাহিকতায় থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে আ.লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিজয়ী
মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক প্রলয় সমাদ্দর বাপ্পি ইউএনবিকে বলেন, এতদিন আওয়ামী লীগ কাউন্টার কর্মসূচি দেওয়াতে সমালোচনার ঝড় ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ আগেই বুঝতে পেরেছিল তাদের মাঠ খালি করে দিলে যেকোনো সময় ঢাকা শহর দখলে নেওয়ার চেষ্টা করবে এবং ক্ষতি করবে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি তাই করেছে।
৯০৩ দিন আগে