পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান ও চার কমিশনারের পদত্যাগ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। টানা ২১ মাস দায়িত্ব পালনের পর ব্যক্তিগত কাজে মনোনিবেশের লক্ষ্যে এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাশেদ মাকসুদ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিএসইসির যে চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন তারা হলেন—মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফউদ্দিন।
সরকার আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। এর ফলে কমিশন এখন শূন্য। আইন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠন করা হয়।
সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কমিশন পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের মেয়াদে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে মহসিন চৌধুরী ২০২৪ সালের ২ জুন, আলী আকবর ২৮ আগস্ট, ফারজানা লালারুখ ৩ সেপ্টেম্বর এবং সাইফউদ্দিন ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই কমিশনার হিসেবে যোগ দেন।
এ বিষয়ে রাশেদ মাকসুদ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময়ে তিনি ও তার দল কমিশনের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইনি কাঠামো ও বাজার শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি জানান, তার নেতৃত্বে গত ২১ মাসে মার্জিন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট ও করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন’ এবং ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন’ নামে দুটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কমিশন কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের বিভিন্ন পদ্ধতি বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাজার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও ইস্যুযারদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারী সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কমিশন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে দাবি করেন রাশেদ মাকসুদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
পদত্যাগের ঘোষণায় রাশেদ মাকসুদ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, একটি উদ্যমী ও দক্ষ দল কমিশনে গড়ে উঠেছে, যারা ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
এদিকে, তার পদত্যাগের খবরে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
গত কয়েক মাস ধরে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছিলেন। একই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকার শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে সূত্র।
৪ ঘণ্টা আগে
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারায় দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
এসব কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তার বর্তমান পদ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করছেন।
চিঠিতে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দীপেন দেওয়ান।
৩ দিন আগে
দুদক চেয়ারম্যানসহ দুই কমিশনারের পদত্যাগ
পদত্যাগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। একইসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুই জন কমিশনারও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, পদত্যাগ করার কারণে আমি আমার গাড়ির ফ্ল্যাগ নামিয়ে যাচ্ছি।
আবদুল মোমেনের কাছে পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে না, এটি অফিসে গিয়ে বলব।
এর আগে, সচিবালয়ে আসেন দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার। দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নম্বর ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে আসেন।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দেন।
‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ অনুযায়ী তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুদকের আইন অনুযায়ী, কমিশন ৩ জন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হয়। তাদের মধ্য থেকে একজন হন চেয়ারম্যান। কমিশনারদের থাকে মেয়াদ ৫ বছর।
৯৩ দিন আগে
ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীর পদত্যাগ
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
আগামী ২১ নভেম্বর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অব্যাহতিপত্রে সই করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।’
সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তার মধ্যেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মো. সাজ্জাত আলী।
২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিতে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা।
৯৯ দিন আগে
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা ২ সচিবের পদত্যাগ
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। এর আগে তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার আবেদন করা পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) একইভাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। তিনিও পদত্যাগপত্র দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওইদিন শেখ আব্দুর রশীদের স্থলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে দায়িত্ব পাওয়ার ২ দিনের মাথায় তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ২ বছরের চুক্তিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব নিয়োগ পান সাবেক আমলা মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া। সে অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ ছিল।
১০৭ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের পদত্যাগের আবেদন
প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া পদত্যাগের আবেদন করেছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া এ কর্মকর্তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগের আবেদন করেন। এরপর তার আবেদনপত্রটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন মিয়ার পদত্যাগ করে আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওইদিনই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পান প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। নিজ পদের অতিরিক্ত হিসেবে এ দায়িত্ব দিয়ে সেদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু দুদিন পর তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।
২০২৪ সালের ২ অক্টোবর দুই বছরের চুক্তিতে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক যুগ্ম সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ ছিল।
উল্লেখ্য, নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিয়োগ পেয়েছেন নাসিমুল গনি। আজ (সোমবার) তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
১০৮ দিন আগে
ডাকুস নেতা সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগের ঘোষণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্ত জানান।
ওই পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ‘আমাকে নির্বাচিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, অনেক প্রত্যাশা নিয়েই নির্বাচিত করেছে। পুরো ক্যাম্পাসটাকে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা চালুকরণ, ক্যাম্পাসে যানবাহন সীমিতকরণসহ এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রস্তাব প্রশাসনে দেওয়া হয়েছে।
‘সর্বশেষ ইস্যু সেন্ট্রাল ফিল্ড, সেখানে সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত নেই। নিরাপত্তা তো দূর! নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ চুরি, সাইকেল চুরিসহ প্রায় বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।’
তিনি লেখেন, ‘এদিকে ফিমেল স্টুডেন্টরা (নারী শিক্ষার্থী) অভিযোগ জানায়, বহিরাগতদের জন্য তারা মাঠে খেলতে পারে না, হেনস্তার শিকার হয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ডিএমসি-সংলগ্ন দেওয়াল সংস্কারের কাজের ফাইল প্রশাসন থেকে ফিরে আসে, এদিকে ওই দেওয়াল টপকিয়ে ঢোকে বহিরাগতরা। কানে ধরে উঠবস করানোর সময়টা ছিল গত মাসে, সেসময় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যায়। আমার পন্থা ভুল হলেও প্রশাসনের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন কারণে আমার মনে হয়েছে এই কঠোরতা ছাড়া বহিরাগত দমন করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে (কেন্দ্রীয় মাঠ) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।
‘আমার ভাবনা চিন্তায় স্রেফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। আমি বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছি, একা। চেষ্টা করেছি সমাধানের, নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও। কিন্তু, যত যাই হোক, আইন তো আইনই। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনের ঊর্ধ্বেও যেতে হয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়-নিরাপত্তা বিধানে যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক অবস্থা বিষিয়ে তুলেছে। আমার আর কন্টিনিউ (চালিয়ে যাওয়া) করার সক্ষমতা নেই।’
সর্বমিত্র লেখেন, ‘আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারো প্রতি অভিমানবশত বা প্ররোচিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিইনি। কাজ করা যেখানে কঠিন, অসম্ভব, সেখানে পদ ধরে রাখার কোনো মানে নেই।’
১২৯ দিন আগে
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমানের পদত্যাগ
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান পদত্যাগ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা অনুশীলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।
২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিয়োগ পান সায়েদুর রহমান। একই সঙ্গে তাকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া করা হয়।
১৫৫ দিন আগে
এবার এনসিপি ছাড়লেন তাজনূভা জাবীন
এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। পদত্যাগের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ঢাকা-১৭ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করার কথা ছিল তার।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি।
দীর্ঘ পোস্টের একাংশে পদত্যাগের বিষয়ে তিনি লিখেছেন, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।
তিনি লিখেছেন, এই দল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো সম্মানজনক অপশন নাই। দলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দিয়ে অরাজনৈতিক, অপরিপক্কতার পরিচয় ইত্যাদি বয়ান দেবে অনেকে। জাস্ট বুলশিট। শুধু এটুকু বলি, আমি বহিরাগত ওখানে, আমাকে প্রতারিত করলে মেইক সেন্স; কিন্তু এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যে মাইনাসের রাজনীতি করে ওখানে, সেটা ভয়ঙ্কর। এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এত ব্যস্ত যে এরা কখনো দেশের জন্য নতুন একটা মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না।
তাজনূভা জাবীন বলেন, পুরোনো ফাঁকা বুলির রাজনীতি করতে হলে পুরোনো দলই করতাম, নতুন কেন? এবার আবারও আসি জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে, এনসিপি স্বতন্ত্র স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে যে কারো সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে অসুবিধা ছিল না। সেটা ৫ বছর পরে হতো, ঠিক প্রথম নির্বাচনেই কেন? কিন্তু আর সব অপশনকে ধীরে ধীরে রাজনীতি করে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়া কোনো উপায় না থাকে। সুনিপুণভাবে এখানে এনে অনেককে জিম্মি করা হয়েছে। যাই হোক, এটা কোনো রাজনৈতিক কৌশল না, এটাই পরিকল্পনা।
তিনি বলেন, নিজেরও ভালো লাগছে না এভাবে ছেড়ে যেতে, কিন্ত যারা এই দেশ, এই সংসদই চায় নাই, তাদের সমঝোতায় একদম শুরুতেই এমপি হতে চাওয়া, বা যারা এদের কল্যাণে এমপি হওয়ার জন্য হাভাইত্তার মতো করছে, তাদের নেতৃত্ব মানা আমার পক্ষে ঠিক গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর অসম্ভব। এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। আমার নেতা হবে মাজাওয়ালা, জুলাই রাজনীতির ধারক। কিন্তু পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে।…যেখানে এনসিপিকে বলাই হয় জামায়াতের আরেকটা দোকান, তাহলে কেন এনসিপি আগে নিজের স্বকীয়তা, নিজের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতকে বেছে নিতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? তিনজন মন্ত্রী ছিল না ক্ষমতায়? পারে নাই তো।
তিনি আরও বলেন, যাই হোক, আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি, আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না। সবচেয়ে কষ্ট লাগছে আজকেই আম্মু চট্টগ্রাম থেকে আসছে আমার নির্বাচন করা উপলক্ষ্যে, আর আজকেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম। আমি জানি অনেকে ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন আমার এই সিদ্ধান্তে। কিন্তু এটাই আমার জন্য সঠিক।
পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেবেন জানিয়ে তাজনুভা বলেন, আমি আপনাদের পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেব এক এক করে। আমাকে একটু সময় দেবেন। সেটার জন্য বিস্তারিত লিখে আপডেট দেব কিভাবে ধীরে ধীরে ফেরত দেব। প্রত্যেকটা পয়সা ফেরত দেব। আপনাদের সমর্থন, আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
শেষে তিনি বলেছেন, আমি আগে কখনো রাজনীতি করি নাই। জুলাই এ আমার রাজপথে নামা, পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কিছুর জন্য। আমি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই চেষ্টা করতে থাকব। আমার আওয়াজ, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ আরো জোরালোভাবে জারি থাকবে। মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতির জায়গাটা খালিই পড়ে থাকল। আমি ওই জায়গা পূরণ করার চেষ্টায় থাকব। সময় বলে দেবে বাকিটা।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারাও পদত্যাগ করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান,আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে লড়বেন। তার আগে গত বৃহস্পতিবার দলটি থেকে পদত্যাগ করেন এনসিপিতে জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক।
১৫৮ দিন আগে
বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
নেপালে বিক্ষোভ ১৯ জনের মৃত্যুর পর পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ (কে পি) শর্মা অলি।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)।
এর আগে, বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুসহ দেশটির অন্তত সাতটি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই তরুণ বা জেন-জি প্রজন্মের।
কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিবন্ধকতা ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। সে সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে গুলিও চালানো হয়।
আরও পড়ুন: ১৯ মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলল নেপাল সরকার
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সরকার।
গত সপ্তাহে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নেপাল সরকার। নতুন নিয়মনীতি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ দেখিয়ে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে নিয়ম মানায় টিকটকসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিধিনিষেধের আওতার বাইরে ছিল। এর প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়।
২৬৮ দিন আগে