নিরাপত্তা
কোস্টগার্ডের জনবল দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল বর্তমান ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্টগার্ড সদরদপ্তরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (রেইজিং ডে) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিশাল জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্টগার্ডের ভূমিকা অপরিসীম। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যে ‘কোস্টগার্ড আইন’ প্রণীত হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এই বাহিনীর যাত্রা শুরু।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের দুর্গম হাওর অঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দুর্গমতার কারণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কোস্টগার্ডকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল বর্তমান ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই বাহিনীকে অত্যাধুনিক লজিস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান যুগে অপরাধীদের কৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্বৃত্তরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের মোকাবিলায় কোস্টগার্ডকেও সমভাবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও আধুনিক সম্পদে সজ্জিত হতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি শৃঙ্খলা-পরিপন্থী বা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তবে বাহিনীর নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রচলিত সামরিক বা বিভাগীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
দেশে জঙ্গি তৎপরতা-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এই শব্দটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। কিছু উগ্রবাদী বা র্যাডিক্যাল গ্রুপ সব দেশেই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক রয়েছে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সালহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের মধ্যে আছি। হঠাৎ পুরো ফোর্সকে প্রত্যাহার করা যায় না।
মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যের সংখ্যা খুব সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসওপি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সবসময় বহাল থাকবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ইতোমধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ পুলিশ বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, প্রবেশ ও বহির্গমন পথসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বহু স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিরাপত্তা সেবা শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নজরদারি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে যাতে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য স্ক্যানিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাগেজ সিস্টেম চালু, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, উন্নত স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি ও পুনর্গঠন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা (শরীরে পরিহিত ক্যামেরা) ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি চালু করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ৫০০ হাসপাতালে মোতায়েন হচ্ছে ১০ জন করে আনসার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিকাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত ডাক্তারদের ওপর মাঝেমধ্যেই আঘাত আসে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫০০ হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়োগ হবে। আগামী কিছুদিনের ভেতরেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হামের টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আগামী ছয় মাসের টিকা মজুত আছে। পরবর্তী ৬ মাস এটি দিতে কোনো সমস্যা হবে না। যক্ষ্মাসহ কোনো ধরনের টিকার সংকট নেই। লোকবল সংকট নিরসনে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ উপলক্ষে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আজ (বুধবার) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে চীনের সহায়তা কামনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও হাসপাতাল প্রশাসনকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই সমঝোতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা প্রসার করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। আমরা জানি, চীনের সেবা ও শিক্ষা অনেক উন্নত। আজকে যে দুই প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠিত হলো, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই অনুষ্ঠানটি শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বই নয়, বরং সীমান্ত অতিক্রম করে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জিকাল উৎকর্ষতা উন্নয়নের একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোগ আমাদের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতায় একটি নতুন ও মূল্যবান মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন এবং বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশদুটি একসঙ্গে কাজ করছে। চীন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন, কার্ডিওভাস্কুলার ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়তেও ভূমিকা রেখেছে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় একটি অত্যাধুনিক মানের মেডিকেল প্রতিষ্ঠান। আমরা চীন-বাংলাদেশ মেডিকেল সহযোগিতার নতুন অধ্যায় রচনা করব।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়াকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রোগীরা উপকৃত হবেন। দেশে জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা হলো। শুরুতে ইউরোলজিক্যাল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হলেও পর্যায়ক্রমে সকল ধরনের জটিল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে চীনের সহায়তায় রোবটিক ফিজিওথেরাপি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। আগামীতে রোবটিক সার্জারির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হবে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে জটিল সার্জারি, ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল শিক্ষায় পারস্পরিক জ্ঞানের জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে যা বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউরোলজি বিষয়ের অধ্যাপক লি জিয়ংমিং, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির পরিচালক অধ্যাপক লি ওয়েনলিয়াং, ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক হি ইয়ংওয়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
নববর্ষ ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: র্যাব
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলেও যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক হামলা মোকাবিলায় র্যাব স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর রমনা বটমূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারা দেশে র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। নববর্ষের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে সারা দেশে র্যাবের সব ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। এ লক্ষ্যে ১৮১টি পিকআপ পেট্রোল টিম, ১২৭টি মোটরসাইকেল পেট্রোল টিমসহ সর্বমোট ৩০৮টি টহল এবং সাদা পোশাকে র্যাবের সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোনও গোষ্ঠী যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থল—শাহবাগ, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল, মানিক মিয়া এভিনিউ, বাংলা একাডেমি ও রমনা বটমূলসহ বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় চেকপোস্ট, অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড ইতোমধ্যে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক হামলা মোকাবিলায় র্যাব স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া সারা দেশে কন্ট্রোল রুম, ফুট পেট্রোল, সিসিটিভি মনিটরিং এবং পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আহসান হাবীব পলাশ বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে গুজব, উস্কানিমূলক বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যেন কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, নববর্ষের অনুষ্ঠানস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, কোনো সন্দেহজনক তথ্য বা নিরাপত্তা ঝুঁকি চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো ধরনের হুমকি আমরা অনুভব করছি না। আগের বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
২৩ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে থাকবে রাজধানী: র্যাব
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জনশূন্য হয়ে পড়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চব্বিশ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারেন। এতে রাজধানীর অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার থাকবে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় র্যাব শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করবে, বিশেষ করে রাতে ফাঁকা বাসা এবং জনসমাগম কম এমন এলাকাগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
র্যাবের এই অধিনায়ক আরও জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুইটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুমে র্যাব সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো যাত্রী যাতায়াতের সময় হয়রানির শিকার হলে বা টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে তারা সরাসরি কন্ট্রোল রুমে গিয়ে বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫০ দিন আগে
মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (২ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়, অবৈধ অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দূতাবাস সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদারকরণে বিশেষ কর্মসূচি (এসপিইএআর), ইলেকট্রনিক জাতীয়তা যাচাই (ইএনভি) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি শুরু থেকেই বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে কাজ করে আসছে।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসসহ সমগ্র কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে এসপিইএআর প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক সই করা প্রয়োজন। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্রের এ তহবিল ফেরত বা অন্যত্র চলে যেতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের আহ্বানে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাই।
রাষ্ট্রদূত এ সময় মন্ত্রীকে তার নতুন পদে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসন রোধে বাংলাদেশে ইএনভি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে চায়। এটি বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন খাতে বাংলাদেশ গ্রিন জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সন্ত্রাস দমন খাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। সন্ত্রাস দমন কর্মসূচিতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পর্যায়ের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছে। কিন্তু কর্মকর্তাদের অবসর ও বদলিজনিত কারণে এটি আশানুরূপ ফলপ্রসূ হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি সভা বা কর্মশালা আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর এরিক গিলান, রাজনৈতিক কর্মকর্তা শেন স্যান্ডারস, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ তানিক মুনির ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা রিলে পালমারট্রি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৬৫ দিন আগে
নিরাপত্তার চাদরে খালেদা জিয়ার জানাজা-দাফন সম্পন্ন হবে
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রম ঘিরে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খালেদা জিয়ার জানাজা, দাফন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, জানাজা ও দাফন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, এপিবিএন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য মাঠে থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু এলাকায় সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনাও থাকবে।
জানাজার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করেছে। সম্প্রতি একটি বড় জানাজার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার আরও বৃহৎ পরিসরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়।
শফিকুল আলম জানান, জানাজা ও দাফনের সার্বিক আয়োজন নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং সরকারও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, কোনো ধরনের উদ্বেগ নেই। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছানো পর্যন্ত জানাজা ও দাফনের সব আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে শফিকুল আলম বলেন, তিনি ছিলেন আপোষহীন নেত্রী। দেশের গণতন্ত্র বারবার সংকটে পড়লেও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে এবং প্রায় ৪৫ বছরের দীর্ঘ জনসেবার মাধ্যমে তিনি দেশের জন্য যে অবদান রেখেছেন, তা অনন্য।
১২৭ দিন আগে
বিদেশি দূতাবাসগুলোকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় বিদেশি মিশনের প্রধানদের অবহিত করেছে সরকার। এ সময় বিদেশি দূতাবাসগুলোকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ঢাকা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক বৈঠক বিদেশি মিশনের প্রধানদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন যে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাবে, ব্রিফিংয়ে সেটা তাদের জানানো হয়েছে। তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাতেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তিনি বলেন, এ ছাড়া স্বশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সদাসতর্ক ও সচেষ্ট রয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দূতাবাসগুলোকে তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ঢাকার দূতাবাসগুলোর প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
১৩৯ দিন আগে
চার স্তরের নিরাপত্তায় শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তির ৫৪তম বার্ষিকী। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতির শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হতে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
ইতোমধ্যে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রঙ-তুলির আঁচড়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। স্মৃতিসৌধ এলাকায় গ্রহণ করা হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। এরই মধ্যে ১১ ডিসেম্বর থেকে সব দর্শনার্থীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চলছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, জেলা পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার বড় বড় কর্তাব্যক্তিরা একাধিকবার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
রাজধানী ঢাকা থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কে ১৩টি সেক্টরের মাধ্যমে ৪ হাজার পুলিশের ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে সাদা পোশাকে এবং ইউনিফর্মে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে।
এ বিষয়ে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জনগণ যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক কোরের ডিন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে নাম না জানা লাখো শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ খুলে দেওয়া হবে। পরে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সেখানে শ্রদ্ধা জানাবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
ঢাকা জেলা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাভারের আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি পোশাকে এবং সাদা পোশাকে চার হাজারের বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। তারা জনগণের জানমাল রক্ষাসহ সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।
এদিকে, তথ্য অধিদপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো যাবে না। ওইদিন সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের আকর্ষণীয় ফুলের বাগানের কোনোরকম ক্ষতি না করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৪২ দিন আগে
নিউইয়র্কে অধ্যাপক ইউনুস ও তার সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা জোরদার
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এসে সোমবার নিউ ইয়র্কের জন. এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারাসহ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর উদ্দেশ্যমূলক হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সরকারের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সহযোগী এবং সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গণতান্ত্রিক নীতি ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার প্রতি আমাদের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা, তা বাংলাদেশের ভেতরে হোক বা এর সীমানার বাইরে হোক, কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ধরনের ঘটনায় যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারি প্রতিনিধিদলের সব সদস্যের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে।
সরকার বলেছে, ‘এই নিন্দনীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে গড়ে ওঠা বিধ্বংসী ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক স্পষ্ট ও মর্মান্তিক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এই বিধ্বংসী রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রধান উপদেষ্টা এবং তার সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের সফরের সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয় করেছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলটিকে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ভিভিআইপি গেট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি বিশেষভাবে সুরক্ষিত পরিবহন ইউনিটে ওঠানোও হয়েছিল। তবে, অপ্রত্যাশিত এবং শেষ মুহূর্তের ভিসা-সম্পর্কিত জটিলতার কারণে প্রতিনিধিদলটিকে পথ পরিবর্তন করে বিকল্প পথে অগ্রসর হতে হয়।
বিমানবন্দরে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ভিভিআইপি প্রবেশাধিকার এবং নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা সত্ত্বেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুঃখজনকভাবে সেই অনুরোধ রাখেনি। এর ফলে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
ঘটনার পরপরই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে দ্রুত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
সরকার জানিয়েছে, ‘আমাদের জানানো হয়েছে যে ইতোমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে ঘটনাটির আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলমান।’
সরকার আরও বলেছে, এই ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রতিনিধিদলের সকল সদস্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদেশে তার প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সার্বক্ষণিক ঘনিষ্ঠ এবং অবিচ্ছিন্ন সমন্বয় রেখে যাচ্ছে।
২২৪ দিন আগে