অ্যাম্বুলেন্স
অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগী পরিবহনে ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী অর্থবছরের মধ্যে এসব অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্ধারিত পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রী অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনার কথা জানালেন। পরে বুধবার সাত দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সর্বপ্রথম শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালগুলোকে ৩১ ও ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
নারী ও শিশুস্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ১৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোতে ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা, প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার একটি ওয়ার্ড ও শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া নারী ও পুরুষদের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার থাকবে বলেও জানান তিনি।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি রয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
৬ দিন আগে
ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার আড়কান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শামিম রেজা জানান, মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ‘কিং ফিশার’ নামের একটি লোকাল বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত এবং চারজন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান।
১১ দিন আগে
নওগাঁয় অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত
নওগাঁর মহাদেবপুরে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় নীরেন চন্দ্র বর্মন ওরফে হীরেন (৪৮) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ভ্যানের যাত্রী পরেশ চন্দ্র বর্মন (৫৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার নওগাঁ-নজিপুর আঞ্চলিক সড়কের এনায়েতপুর গ্রামের মদিনা পেট্রোল পাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নীরেন চন্দ্র বর্মন মহাদেবপুর উপজেলার মগরইল গ্রামের মৃত ধীরেন চন্দ্র বর্মনের ছেলে। আহত পরেশ চন্দ্র বর্মন একই গ্রামের মৃত অধীর চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজ (সোমবার) সকালে নীরেন ভ্যান চালিয়ে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নজিপুরের দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্স পেছন থেকে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক ও যাত্রী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নীরেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত পরেশকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত গতিতে পালিয়ে গেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মহাদেবপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) করা হয়েছে।
২৯ দিন আগে
বাগেরহাটে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক দগ্ধ
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল চত্বরে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক দগ্ধ হয়েছেন। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ায় হুড়োহুড়িতে রোগীসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে পাশে থাকা ৯টি মোটরসাইকেলও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের কাছে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হন।
অগ্নিদগ্ধ অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদ হোসেনকে (৬৮) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আগুনের ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার, সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবুল আলম এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে থাকা ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্স বাগেরহাট জেলা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ফটকে আসে। তবে রোগী ওঠানোর আগেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বেড়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হতে থাকেন। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সচালক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
৮৪ দিন আগে
পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩
পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ছলিম প্রামানিক (৭০), তার স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) ও অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (৩০)। নিহত ছলিম প্রামানিকের বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামে। অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ীর জামাল শেখের ছেলে।
দুর্ঘটনায় ছলিম প্রামানিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০), নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) ও একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে নাফিজ (৮) আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে কেয়া খাতুন নামে এক মেয়ের মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সচালক ও বুলু খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, আহত চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সষবেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছলিম প্রামানিক মারা যান।
ওসি জানান, নিহত ছলিম প্রামানিক ও বুলু খাতুন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মৃত কেয়া খাতুনের নানা-নানি।
১১০ দিন আগে
দেড় বছর ধরে অচল সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তি চরমে
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম হাওরাঞ্চল থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এ হাসপাতালে আসেন। অথচ হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় জরুরি রোগী, প্রসূতি ও চিকিৎসকদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া রোগীদের পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনরক্ষাকারী এ সেবা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই রোগীদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাতে ধারদেনাও করতে বাধ্য হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পরে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সচল করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে আনা হলেও প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবে সেটিও এখন পর্যন্ত সেবায় যুক্ত করা যায়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, আমার এক আত্মীয়কে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। পরে চিকিৎসক সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হয়েছে।
আরেক রোগীর স্বজন তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জোগাড় করতেই অনেক সময় চলে যায়। গরিব মানুষের জন্য এই খরচ বহন করা খুবই কঠিন।
জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সদর হাসপাতালের জন্য নতুন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ এবং বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একটি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যেন কোনো রোগীর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে, তবে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
১১৬ দিন আগে
গাড়িবহর থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ ছেড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সড়কে জরুরি সেবার প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে ভিভিআইপি প্রটোকল ভেঙে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৬ মে) সকালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ান বাজার প্রান্তে এ ঘটনা ঘটে। সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে এই ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল ৯টার কিছু সময় আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বনানী এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কারওয়ান বাজার এফডিসি মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। আকস্মিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি পড়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সের দিকে। তার গাড়িবহরের পেছনে সাইরেন বাজাতে বাজাতে অ্যাম্বুলেন্সটি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বুঝে অতি জরুরি সেবার এই গাড়িকে পথ করে দিতে বহরে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে কর্মকর্তারা অ্যাম্বুলেন্সকে যাওয়ার পথ করে দেন।
বাংলাদেশে সাধারণত ভিভিআইপি বহর চলাচলের সময় অন্যান্য যানবাহনকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে।
১৮১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
অযত্ন-অবহেলায় যেন নিজেই রোগী হয়ে যাচ্ছে ভারত সরকারের উপহার পাওয়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীর নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স পড়ে থেকে থেকে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এখন কর্তৃপক্ষের বোঝস্বরূপ পড়ে আছে হাসপাতালে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন বিল্ডিংয়ের এক কোণে পড়ে আছে এই অ্যাম্বুলেন্সটি। অবশ্য এর আগে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভেতরেও পড়েছিল ভারতের উপহারের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি।
আরও পড়ুন: সিসি ক্যামেরা স্থাপনের টাকা নিয়ে হাওয়া, ছিনতাই-ডাকাতি আতঙ্কে ফেনী পৌরবাসী
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারত সরকার উপহার হিসেবে যেসব অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশ পেয়েছিল, তাদেরই একটি পায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়।
সে দিনই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝে নেওয়ার প্রায় সাড়ে ৩ বছর পার হয়ে গেলেও চালু করা হয়নি এর সেবা। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা যাচ্ছে না। এ যেন গাড়ি থাকলেও ঘোড়া না থাকার মতো অবস্থা।
জানা যায়, আইসিউ অ্যাম্বুলেন্স তো পরের কথা, চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ সেবা চালু নেই। অথচ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়তই মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। যে কারণে এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যবহার এখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর বিষয়ে যেন কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র, ব্যাহত শ্রেণিকার্যক্রম
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত কুমার রায় বলেন, ‘রোগী বহনে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও জনবলের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালু করার বিষয়ে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইসিউই ইউনিট চালু হলে অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা যাবে।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অধীনে রয়েছে। তবে সেটি সচল করে সেবা দিতে প্রশিক্ষিত জনবল ও চিকিৎসকের প্রয়োজন। জনবল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি অব্যবহৃত পড়ে আছে।’
৫৯৩ দিন আগে
পাবনায় অ্যাম্বুলেন্স-অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু
পাবনায় অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের সিঙ্গা বাইপাসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে দুই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ তরুণ নিহত
নিহতরা হলেন- অটোরিকশার চালক পাবনা পৌর সদরের শালগাড়ীয়া মেরিল বাইপাস এলাকার শামসুল ইসলামের ছেলে দুখু মিয়া (৩৫) ও একই এলাকার মৃত দরবেশ আলীর ছেলে রমজান আলী (৫০)।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান, ঘটনার সময় রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ সময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি রওশন আলী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহত দুখু ও রমজানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: ত্রাণের টিন আনতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ জনের
৯২৬ দিন আগে
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার!
কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার বসানো হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এদিকে হাসপাতালের মধ্যে নবনির্মিত গ্যারেজের মধ্যেই চেয়ার-টেবিল বসিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার। পাশে ঝোলানো হয়েছে খুলনা জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি লিমিটেড পরিচালিত, অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার।
এছাড়া হাসপাতালের মধ্যে ও বাইরে রাস্তা দখল করে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো। দূর থেকে দেখে মনে হবে এটা কোনো সরকারি হাসপাতাল না, যেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স। রোগী পরিবহনে চাহিদা যতটা, তার চেয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বেশি। কিন্তু রোগী পেলেই ভাড়া হাঁকা হয় অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: সরকারি বিএল কলেজে আবাসন-পরিবহন সংকট চরমে
হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স না নিয়ে অন্য কোথাও থেকে কম টাকায় ভাড়া করার সুযোগ নেই। হাসপাতালের মধ্যে নবনির্মিত গ্যারজের জায়গা দখল করে তোলা হয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার।
কাউন্টারের সামনে ১০ থেকে ১২টা অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি বিভাগের সামনে রয়েছে ৪ থেকে ৫টা, হাসপাতালের আউটডোর পেছনে রয়েছে ৭ থেকে ৮টা অ্যাম্বুলেন্সের সারিবদ্ধ লাইন।
এর বাইরে লাশ ঘরে যেতে যে রাস্তা সেখানেও রয়েছে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়া হাসপাতালের দেয়াল ঘেঁষে বাইরে রয়েছে আরও ১০ থেকে ১২টা অ্যাম্বুলেন্সের লাইন। দূর থেকে যে কেউ মনে করবেন, এটা কোনো সরকারি হাসপাতাল নয়, অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্যান্ড।
রোগীও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালকেন্দ্রিক ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’ রোগীকে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে তুলতেই দেয় না। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অ্যাম্বুলেন্সের মতো একটি জরুরি পরিবহন সেবাকে ঘিরে এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স এক চালক জানান, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো নীতিমালা নেই। তাছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় ট্রিপ কমে গেছে। এ কারণে খরচ পোষাতে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার কোনো তালিকা নেই। নেই সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালাও। যে যেভাবে পারছেন রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স নামাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে হাসপাতালগুলোর কর্মচারীদের (ওয়ার্ডবয় ও আয়া) উপর। এজন্য তাদের ভাড়ার একটা অংশ কমিশন দিতে হয়। এ কমিশন বাণিজ্য না থাকলে ভাড়া অনেকটাই কমে যেত।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু
এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কয়েকজন চালকরা আমার কাছে এসে বলেন, তাদের নিজস্ব জায়গায় কাউন্টার কাজ বসানোর কাজ চলছে। ২ থেকে ১ দিনের মধ্যে তাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এই অনুরোধের কারণে তাদের বলেছিলাম কয়েকদিনের জন্য হাসপাতালের ভেতরে কাউন্টার রাখার জন্য। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনার পরে জানতে পারলাম এদের একটু মানবিক দিক সুযোগ দেওয়ায় পুরো হাসপাতালটাই দখল করে নিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে মধ্যে কোনো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকতে পারবে না, রোগীদের প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাড়া আনতে পারবেন। এর বাইরে হাসপাতালের জায়গা দখল করে অ্যাম্বুলেন্স রাখার সুযোগ নেই।
খুলনায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মেহেদী নেওয়াজ জানান, মেডিকেল কলেজের নিজস্ব অ্যামবুলেন্স যার মাধ্যমে রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। তারপরও বেসরকারি অ্যামবুলেন্স চালু হয়েছি বলে শুনেছি। কোনো রোগীকে যাতে হয়রানি না করা হয় সে জন্য প্রোয়জনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুর মোরশেদ বলেন, এ ব্যবসা অনেকদিন যাবত চলছে। খুমেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি সহযোগিতায় তাদের উঠিয়ে দিলে কিছুদিন পর আবার তারা বসতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, খুমেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেই ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
১০১০ দিন আগে