রোগী পরিবহনে ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী অর্থবছরের মধ্যে এসব অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্ধারিত পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রী অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনার কথা জানালেন। পরে বুধবার সাত দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সর্বপ্রথম শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালগুলোকে ৩১ ও ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
নারী ও শিশুস্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ১৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোতে ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা, প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার একটি ওয়ার্ড ও শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া নারী ও পুরুষদের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার থাকবে বলেও জানান তিনি।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি রয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।