সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউএইচএফপিওকে না পেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অপেক্ষা
মাদারীপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে (ইউএইচএফপিও) কর্মস্থলে পাননি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরে তার জন্য হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলার কালকিনি উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে বলে তথ্য অধিদপ্তরের তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে।
পরিদর্শনকালে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই নার্সকে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এছাড়া দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া ইউএইচএফপিও ও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনগণের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাত শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছিল। ওই সময়ে জনবল, টিকা ও ওষুধের সংকট ছিল প্রকট।
হাসপাতালে আউটসোর্সিং ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে জনবল সংকট রয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে জনবল বাড়ানো হবে। দুর্নীতি বন্ধ করে সীমিত বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে সেগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
পরে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
এ সময় মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া, জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, জেলা পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগী পরিবহনে ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী অর্থবছরের মধ্যে এসব অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্ধারিত পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রী অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনার কথা জানালেন। পরে বুধবার সাত দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সর্বপ্রথম শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৯ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালগুলোকে ৩১ ও ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
নারী ও শিশুস্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত ১৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোতে ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা, প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার একটি ওয়ার্ড ও শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া নারী ও পুরুষদের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার থাকবে বলেও জানান তিনি।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি রয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
৬ দিন আগে
দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ক্যানসারের চিকিৎসা সম্প্রসারণে দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা শুধু বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক না রেখে জেলা পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বাস্থ্যখাতকে জনমুখী করে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের খাবারের মানও উন্নত করা হয়েছে। ফলে রোগীদের মধ্যে সন্তুষ্টি বাড়ছে।
চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশ খুব বেশি পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। অতীতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে স্বাস্থ্যখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে কাজ করছে।
পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় চিকিৎসকদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাদের সম্পদ। দেশের যেকোনো সংকটে তারা মানুষের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা দিন-রাত পরিশ্রম করেন এবং মানুষের কল্যাণে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকেন।চিকিৎসকরা রোগীদের ভালোবাসেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাঈদ ফারহাত আনোয়ার।
এ সময় জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তাফা আজিজ সুমন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন রুমি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারিসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
চিকিৎসক বদলিতে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচিত হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো ধরনের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অটোমেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের তাদের পছন্দ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করা হচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক বিবেচনা কিংবা অন্য কোনো প্রভাবের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, অটোমেশন পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন করা হলেও অতীতে, বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এ ক্ষেত্রে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে।
অতীতে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছিল। এসব তথ্য সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে
ক্যানসার চিকিৎসা সম্প্রসারণে দেশে আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন
ক্যানসার চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে দেশে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ছয়টি ঢাকায় ও ১১টি ঢাকার বাইরে স্থাপন করা হবে। এর ফলে ক্যানসার রোগীরা নিজ নিজ এলাকায় স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং ঢাকামুখী চাপ কমবে।
ক্যানসার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার ঢাকার বাইরে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া দেশে রোবটিক সার্জারির সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ১০টি রোবটিক সার্জারি মেশিনের মধ্যে পাঁচটি চলতি বছর আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সারা দেশে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এ কর্মসূচি চলবে। মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু-পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এ সময় মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানো ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে
চিকিৎসকরা সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, স্রষ্টার পরে চিকিৎসকরাই মানুষের ভরসাস্থল। মানুষের দুঃসময়ে চিকিৎসকরাই সবার আগে পাশে দাঁড়ান। করোনাকালীন মহামারি থেকে শুরু করে ডেঙ্গু ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা না ভেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন। তাদের এই মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ দেশের মানুষের জন্য অনুকরণীয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এছাড়া অসংক্রামক রোগের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় উল্লেখ করে স্বাস্থ্যন্ত্রী বলেন, হৃৎপিণ্ডের কোনো সতর্কসংকেত বা লক্ষণকে অবহেলা করা যাবে না। হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই সচেতন এবং সচেতনতার গুরুত্ব উপলব্ধি করি। কিন্তু অনেক সময় সেই সচেতনতাকে বাস্তব জীবনে কার্যকর করি না। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হৃদয়ের কোনো সংকেত বা সতর্কবার্তাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু হৃদরোগ নয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক—সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণেই জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে মন্ত্রী সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, বিএমইউ প্রাঙ্গণে বিশ্ব হার্ট দিবসের উদ্বোধন করেন এবং দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেন।
বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদিরসহ আরও অনেকে। এছাড়া ডা. আ ফ খবির উদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
৩৫ দিন আগে
সরকারি হাসপাতালের আশপাশে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সরকারি হাসপাতালের আশপাশে নতুন করে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সেই সঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও নিয়মিত তদারকি করা হবে। মানসম্মত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এছাড়া উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকা সত্ত্বেও সাপের কামড়ে রোগী মারা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, সাপ কামড়ানোর পর রোগী বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত কি না, তা বোঝার জন্য কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অনেক সময় হাসপাতালে আসতে দেরি করায় রোগীর অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘তাই সাপ দংশনের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসুন। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।’
পরিদর্শনকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরলে তা সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
এ সময় মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন তিথি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নুসরাত ফারজানা খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৪২ দিন আগে
প্রতি উপজেলায় ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।’
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নবনির্মিত রেসপিরেটরি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বড় সাফল্য স্বাস্থ্যখাতের ওপর নির্ভর করছে। তাই সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন—এমন হাসপাতালগুলোর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৫ সালে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালটি উদ্বোধন করার ২১ বছর পর হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা সেবা সম্প্রসারণ করা হলো। নতুন স্থাপিত আইসিইউতে ৪০টি শয্যা যুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. গোলাম সারওয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া সভাপতিত্ব করেন।
এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ ও ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।
৪৩ দিন আগে
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচিতে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে হামের বিশেষ ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। ওই কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। লক্ষ্যমাত্রার ১০২ থেকে ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এরপর ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়া হয়। তখন দেখা যায়, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু বাদ পড়েছে। পরে মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালিয়ে এরই মধ্যে আরও ১৯ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে বাকি রয়েছে ২৪ লাখ শিশু। এর সঙ্গে গত তিন মাসে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা আরও প্রায় ১০ লাখ শিশু যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ লাখ শিশু।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউনিসেফের কাছ থেকে আরও ৪৩ লাখ ডোজ হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে মজুত ছিল ১৫ লাখ ডোজ। সব মিলিয়ে ৫৮ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। ১০ শতাংশ ওয়েস্টেজ বাদ দিলেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ টিকা থাকবে। ফলে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত টিকা থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আগামী ২৬ তারিখ সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে ম্যাসিভ ক্যাম্পেইনে যাচ্ছি। যারা ছয় মাস বয়স অতিক্রম করেছে, তাদের থেকে শুরু করে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। এবার ক্যাম্পেইনে শুধু কেন্দ্রে বসে থাকব না, গ্রামের ভেতরেও লোকজনকে কাজে লাগাব, যাতে একটি শিশুও বাদ না থাকে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ক্যাম্পেইনের পরও নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদের টিকা দিতে মপ-আপ (অতিরিক্ত টিকাদান) কার্যক্রম চালু রাখা হবে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচালক, ইউএইচএফপিও, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে যুক্ত থাকবেন।
হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই টিকা নেয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতাল ঘুরি, ৯৯ শতাংশ আনভ্যাক্সিনেটেড। যারা এখন হামে মারা যাচ্ছে, তারা ভ্যাকসিন পায়নি।’
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের টিকা না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সাধারণত নয় মাসের আগে হামের টিকা দেওয়া হয় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটির (নাইট্যাক) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় মাস বয়স থেকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর কম বয়সী শিশুদের টিকা দিলে ক্ষতির ঝুঁকি থাকায় ছয় মাসের নিচে টিকা দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের টিকাদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী এই মুহূর্তে আমরা পাঁচ বছরের বেশি বয়সীদের কাভার করতে পারছি না।’
হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, হামের পর নিউমোনিয়া হলে পরিস্থিতি জটিল হয়। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় সিপ্যাপসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে হামের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়েও হাম ও ডেঙ্গুর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে অনেক রোগী সরাসরি ঢাকার তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে চলে আসছেন। পরিস্থিতি খারাপ হলে জেলা ও বড় শহরগুলোতে মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে এ কাজে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক মাস ধরে প্রতি শুক্রবার জেলা সদর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। পাশাপাশি মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চলছে, যা ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
হাম নিয়ন্ত্রণে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ছোঁয়াচে রোগ। প্রতিদিন নতুন শিশু ছয় মাস বয়সে প্রবেশ করায় টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি হামের রোগীকে নিয়ে পরিবারের অন্য শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
৪৪ দিন আগে
চীনসহ এশিয়ায় স্বাস্থ্য সহযোগিতায় চার অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চীনসহ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারে চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
অগ্রাধিকারগুলো হলো: ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সুস্থ বার্ধক্য এবং টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইকোতে অনুষ্ঠিত বিএফএ গ্লোবাল হেল্থ ফোরাম ২০২৬ হাইকু কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে তিনি এসব অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের ওষুধ প্রায় ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধের প্রবেশ সহজ করার পাশাপাশি সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা এবং স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে বাংলাদেশ আগ্রহী।
এআই ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনি বলেন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের পাশাপাশি অনকোলজি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা এবং দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
৪৮ দিন আগে