রোহিঙ্গা সংকট
রোহিঙ্গা সংকট খুবই সংবেদনশীল রাজনৈতিক ব্যাপার, রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে: শামা ওবায়েদ
রোহিঙ্গা সংকট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক সমস্যা এবং এটি রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা একেবারেই একটা পলিটিক্যাল প্রবলেম, এটা খুবই সংবেদনশীল একটা ব্যাপার এবং এই সমস্যাটা আমাদের পলিটিক্যালি সমাধান করার প্রয়োজন।’
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে রোহিঙ্গা সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের বর্তমান সরকার, রাখাইন রাজ্য ও আরাকান আর্মিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর তৎকালীন সরকার এর সমাধানে কোনো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে যুক্ত করতে পারলে হয়তো চার-পাঁচ বছরের মধ্যে সংকট সমাধানের দিকে যাওয়া যেত, কিন্তু তা হয়নি। ফলে বর্তমানে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে সম্প্রতি নির্বাচন হয়ে নতুন সরকার এসেছে। এর পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি জটিল। ‘আমাদের বর্ডারে অনেক সমস্যা হচ্ছে, সিকিউরিটি প্রবলেম হচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের ক্রাইমের কথা শোনা যাচ্ছে—মানব পাচার, ড্রাগ ট্রাফিকিং এসব হচ্ছে।’
রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা এখন সঠিকভাবে বলা কঠিন উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রতিদিন কমবেশি মানুষ আসছে এবং মিয়ানমারের শিবিরগুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করছে।
‘তো সেই ক্ষেত্রে আমরা সংখ্যাটাও ঠিকমতো এখন জানি না, কিন্তু ডেফিনেটলি ১ দশমিক ৩ মিলিয়নের (১৩ লাখ) উপর হবে,’ বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশ সরকার রাখাইন রাজ্য, আরাকান ও মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ ও সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় কি না, সেই বিষয়েও বাংলাদেশ কাজ করছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজি) প্রেসিডেন্সি সেশনে রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। ওই অধিবেশন থেকে সংকট সমাধানে আরও কিছু দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
এমওইউ থেকে বেরিয়ে এসে লাভ নেই
২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা বা তা থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, এমওইউ থেকে বেরিয়ে আসলে খুব একটা লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন না।
তার কথায়, ‘এমওইউ তো একটা হয়েছে। এটা থেকে বের হয়ে আসলে যে খুব একটা লাভ হবে, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটা মনে করি না।’ বরং জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘অ্যাডেড বেনিফিট’ বা অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘সেই জায়গাটা থেকে আমরা মনে করি যে অ্যাট লিস্ট (অন্ততপক্ষে) আগামী এক বছর আমরা এই সক্ষমতাটাকে একটু ভালোমত ব্যবহার করতে পারব।’
চীনসহ সব অংশীজনকে আরও গুরুত্ব দিয়ে কথা বলছে বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ এবং চীনের প্রস্তাবিত করিডর এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, আগের সরকারের সময় ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোতে পারেনি।
তিনি বলেন, তৎকালীন সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যথেষ্ট সচেষ্ট ছিল না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না হওয়ায় চীনের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টির সক্ষমতাও তাদের ছিল না।
তবে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে সব দেশের সঙ্গে সমঅধিকার ও সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ বজায় রেখে কথা বলছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে সবার সঙ্গে সমঅধিকার নিয়ে এবং সম্মানের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখে যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে কথা বলছেন, তখন চীনসহ অন্যান্য সকল স্টেকহোল্ডার (অংশীদার) আরও মনোযোগের সঙ্গে, আরও সিরিয়াসলি আমাদের কথাগুলো শুনছে।’
বর্তমান প্রেক্ষাপট আগের চেয়ে ভিন্ন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেগোসিয়েশনের (দরকষাকষি) ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
১০ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলাও জরুরি।
রবিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণাকেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে মানবিক, সামাজিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়ও জড়িত। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নিজ দেশে নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের জীবন, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদের আলোকে দেশের প্রতি নাগরিকদের কর্তব্য এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধপ্রবণতা ও অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জও যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি দেশের জনগণের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী জনমত তৈরি করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে গবেষক, বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী নীতি গবেষণা কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের রোহিঙ্গা সংকটের সামাজিক, মানবিক, কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনগত দিক বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব সুপারিশ সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐকমত্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।
সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শফিকুল আহমেদ, মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, নীতি গবেষণাকেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য প্রফেসর এস কে তৌফিক এম হক এবং রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতা, মিয়ানমারের পরিস্থিতি, প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা এবং সংকটের টেকসই সমাধানে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
১২ দিন আগে
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণেই আগের সরকার প্রত্যাবাসন উদ্যোগকে ব্যর্থ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার সরকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেই এটার বারোটা প্রথমেই বাজিয়ে দিয়েছিল। যখন বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা রিপ্যাট্রিয়েশন (প্রত্যাবাসন) করেছিল, তখন প্রথমেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় তিনি একটি ট্রাইপার্টাইট এগ্রিমেন্ট (ত্রিপক্ষীয় চুক্তি) করেছিলেন। জাতিসংঘ সেই চুক্তির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল। সে কারণে ওআইসিভুক্ত প্রতিটি দেশসহ প্রত্যেক অংশীদার এটায় যুক্ত হয়েছিল। বিগত সরকার সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকটের জটিলতা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে সংকট শুরু হওয়ার পর প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। এখন মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় সংকটও ঘনীভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শুধু শব্দের খেলায় বা ডিপ্লোম্যাটিক ভাষায় বললে তো হবে না, বস্তুত তো আমাদের এটা অ্যাকশনে পরিণত করতে হবে।’
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ও পরিচয় নিয়ে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয় জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এটিকে রাষ্ট্রদূতকে ‘তলব’ বলা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের দিক থেকে যে স্টেটমেন্টটা করা হয়েছে, সেখানে সংখ্যার কিছু বিভ্রাট আছে, যেটার সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একমত না।’
আলোচনায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, তিনি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চলমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ‘সেই ভেরিফিকেশন প্রসেসটা তারা শুরু করেছে, কিন্তু ধীরগতিতে।’
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবিকতা ও মানবাধিকারের কথা বিবেচনা করেই বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। তারা যেন সুস্থভাবে, স্বাভাবিকভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সেটিই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ‘তাদের একটা নিজেদের আইডেন্টিটি আছে, সেই আইডেন্টিটি নিয়েই তারা ফেরত যাবে,’ বলেন তিনি।
মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টিও উঠে আসছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু মিয়ানমার সরকারের ওপর নয়, আরাকান আর্মির ওপরও চাপ প্রয়োগ প্রয়োজন। চীনের পক্ষ থেকেও মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তার কথায়, ‘একটা আন্তর্জাতিক চাপ যে প্রয়োগ করতে হবে মিয়ানমার সরকারের ওপরে, আরকান আর্মির ওপরে, সেটা কিন্তু পরিষ্কারভাবে আমরা সবসময় বলছি এবং আলোচনার ক্ষেত্রেও সেটা উঠে আসছে।’
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে বাংলাদেশ কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয়কে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর যতটা সম্ভব আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে ভূ-রাজনীতির একটা ব্যাপার আছে, আমাদের আঞ্চলিক রাজনীতির ব্যাপার আছে, সবকিছু মিলিয়েই আমাদের ডিপ্লোম্যাটিক কাজটা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।’
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে আরও জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিকে আরও বেশি জোর দিচ্ছি, তারাও যেন মিয়ানমারের ওপরে সেই প্রেশারটা ক্রিয়েট (চাপ সৃষ্টি) করে।’
এদিকে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত জাতীয় কমিটিতে শুধু নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে—এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদা সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে যে তথ্য এসেছে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো স্পেসিফিক ডেটা আমাদের কাছে নেই। কোনো ফ্যাক্টস অ্যান্ড ডেটা নেই যার ওপরে আমি এটা নিয়ে কথা বলতে পারি।’
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জাতিসংঘের কাছে তথ্য চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এ সময় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান বাংলাদেশে এসে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্ত না হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন—ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
ভারত এ বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনো অনুরোধ বা আহ্বান জানিয়েছে কি না—প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, দেয়নি।’
১৭ দিন আগে
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার
বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে থাকা ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনা-সমর্থিত সরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের প্রত্যাবাসন গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের পর সৃষ্ট সংকট নবম বছরে প্রবেশের সময় এ তথ্য জানানো হলো।
ওই বছর রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু করলে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তার আগে কয়েক দফা সহিংসতার কারণে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।
অভিযানের ব্যাপকতা, পরিকল্পিত ধরন ও ভয়াবহতার কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও গণহত্যার অভিযোগ তোলে।
রোহিঙ্গাদের দেশটির ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। বরং তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটি, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এবং ‘অবৈধভাবে মিয়ানমারে বসবাসকারী’ হিসেবে দাবি করা হয়।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকা থেকে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করা হয়েছে। যাচাই করা ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।
রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই করা সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে—এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের সহিংসতার পর ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। আর ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনে থেকে গিয়েছিল।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এর ফলে ব্যাপক সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
২০২৩ সালে রাখাইনে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা দখল করে রাখাইনের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আরাকান আর্মি।
এদিকে, শরণার্থী শিবিরগুলোর দুর্বিষহ পরিস্থিতি, বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জুলাইয়ের শেষ দিকে জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে।
তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছিলেন, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিটি মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাই করা মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য। রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করবে মিয়ানমার—এমন খবরও তিনি তখন নাকচ করে দিয়েছিলেন।
২০ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল, রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান হতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গারা ঘটনাক্রমে রাষ্ট্রহীন হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে তাদের রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রাখাইন রাজ্যে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতকল্পে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গারা পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রহীন নয়, তাদের পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রহীন করা হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, যার জন্য রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।”
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপ ও কূটনীতির বিকল্প নেই।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের ওপর উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়।
এ সময় সমুদ্রসীমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান ড. খলিলুর রহমান।
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উদীয়মান প্রযুক্তির সুবিধা এবং ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ও উন্নয়ন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আঞ্চলিক প্রযুক্তি শাসন কাঠামো (টেকনোলজি গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক) গঠনের প্রস্তাব দেন।
সফরের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবিক সহায়তা, বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতাসহ দ্বিক্ষিক ও বহুক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে, এআরএফ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. খলিলুর রহমান। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ড. খলিলুরের সঙ্গে বৈঠকের পর সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণন বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন স্বার্থ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে দুই দেশ কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আসিয়ানের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিকতা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতি উভয় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এর আগে, বুধবার এআরএফ বৈঠকের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. খলিলুর রহমান। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে এআরএফ প্ল্যাটফর্ম।
৪৩ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের
বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফর এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর বিস্তৃতি ঘটেছে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি দেশে এনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে চীনের অভূতপূর্ব অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
৪৮ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা কামনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ সহযোগিতা চান। বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে উভয়ে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৫৯ দিন আগে
দেশে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী। তবে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সমর্থন ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর, সুসংহত ও বেগবান হবে।
জবাবে আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে অংশীদার হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রীর মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ জানতে চান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সর্বাত্মক ও নিবিড় সহযোগিতা কামনা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে উজ্জ্বল করেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য এবং আশাব্যঞ্জক।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী। তবে রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
এই মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক ও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মানবিক প্রকল্প চলমান রয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবারিত উদারতা ও অনন্য সংহতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই মানবিক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বাস্তবসম্মত উপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেন, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ, কার্যকর চাপ এবং দৃশ্যমান সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো আহ্বানে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের জন্য উষ্ণ স্বাগত জানান। আবাসিক সমন্বয়কারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১০৪ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ওআইসির সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা—ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়।
সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, টেক্সটাইল ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
১১৫ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত রয়েছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম–২০২৬-এর ‘গ্লোবাল রিফিউজি প্রোটেকশন সিস্টেম ইন দ্য ফেস অব ডিসপ্লেসমেন্ট ক্রাইসিস’ শীর্ষক সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি— উভয় পক্ষই তাকে স্বাগত জানিয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
১৩৯ দিন আগে