জাহাজ
অবশেষে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ায়, সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। এতে করে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাহাজটি তেল নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, ‘সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আবহাওয়াসহ অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে রিফাইনারিতে তেল সরবরাহ হলে বৃহস্পতিবার বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে পাঁচটি ইউনিটে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কাঁচামালের অভাবে রিফাইনারির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্ধারিত জাহাজগুলো না আসায় অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত কমে যায়, ফলে কর্তৃপক্ষকে প্রথমে উৎপাদন কমাতে এবং পরে পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেলের চালান নিয়ে জাহাজটির মূলত সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দর থেকে ছাড়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জাহাজটি ২৪ এপ্রিল ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা হয়।
বিকল্প এই রুট এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চালানটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা), যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য পড়েছে ১২৬ দশমিক ২৮ ডলার। পাশাপাশি লজিস্টিক পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি বাজারের জন্য রিফাইনারিটির পুনরায় সচল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির মাধ্যমে ইআরএল দেশের মোট জ্বলানি তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে সরকার।
৫ ঘণ্টা আগে
ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ জাহাজ
চট্টগ্রাম বন্দরে তেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৫টি জাহাজ। এসব জাহাজে ১ লাখ ৭৭ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ নামের জাহাজটি খালাসের জন্য বন্দরের ডলফিন জেটিতে বার্থিং করে তেল খালাস শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ৩৫ হাজার ৩৪৬ টন ডিজেল নিয়ে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি অকট্রি’ তেল খালাস শেষে আজ (বুধবার) বন্দরের জেটি ত্যাগ করেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, গত ১৭ এপ্রিল ৪১ হাজার ৯০৭ টন ডিজেল নিয়ে আসা চীনের পতাকাবাহী ‘এমটি লিয়ান সং হো’ জাহাজটি বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করে অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে লাইটারিং করা হচ্ছে। এছাড়া ২০ এপ্রিল ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ জাহাজ। ১৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ৩৫ হাজার ২৮ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি গোল্ডেন হরাইজন’। ২১ এপ্রিল ৩২ হাজার ৫০০ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি হাফনিয়া চিত্তা’। একই দিনে সিঙ্গাপুর থেকে ৩৪ হাজার ৫৩৩ টন ডিজেল নিয়ে আসে ‘এমটি এফপিএমসি ৩০’।
এদিকে, চীন থেকে ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি জিং টং ৯৯’ নামের জাহাজটি ২২ এপ্রিল আসার কথা থাকলেও সেটি আগামী ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রামে আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৪ দিন আগে
ইরানের অনুমতি না মেলায় দেশে ফিরতে পারছে না ‘বাংলার জয়যাত্রা’
ইরানের অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ আপাততে দেশে ফিরতে পারছে না।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছার পর অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এক মাস ১০ দিন ধরে আটকে থাকা বিএসসির জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল। প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর আজ শুক্রবার সকালে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে জাহাজটি। কিন্তু এরপরই ইরান সরকারের কাছে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে। জাহাজটি ঘুরিয়ে আবারও নিরাপদে আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। পরদিনই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হলে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসসির জাহাজটি। পরে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয় জাহাজটিকে।
তিনি আরও বলেন, ইরান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা মেনে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন কূটনৈতিক চ্যানেলে অনুমতি আদায়ের প্রচেষ্টা চলছে। জয়যাত্রা এখনও হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজটিকে আপাতত শারজার বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুল মালেক বলেন, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের মজুদ আছে। জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে পারে। তবে এর জন্য ইঞ্জিন পুরোদমে চালু রাখতে হয়। রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নাবিকদের মনোবল শক্ত রাখার জন্য আমরা ইতোমধ্যে দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করেছি। এ ছাড়া বেসিকের সমপরিমাণ যুদ্ধকালীন ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসির অপর এক কর্মকর্তা জানান, জেবেল আলি বন্দরে মাল খালাসের সময় কাছাকাছি একটি তেল ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কারণে জাহাজটি প্রথমে হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে নোঙর করে এবং পরে ঝুঁকি বিবেচনায় শারজাহতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
২৬ দিন আগে
৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়ার জাহাজ
৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে মালয়েশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে জাহাজটি বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস জানায়, আজ (শনিবার) সকালে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে।
এর আগে, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আগত ‘ইয়ান জিং হে’ নামের আরেকটি জাহাজ পদ্মা অয়েলের ডলফিন জেটি-৬-এ বার্থিং করেছিল (ঘাটে এসে বেঁধে রাখা)। এই জাহাজটির স্থানীয় এজেন্টও প্রাইড শিপিং লাইনস।
প্রাইড শিপিং লাইনসের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ ইতোমধ্যেই কুতুবদিয়ায় পৌঁছেছে এবং এতে ৩৪ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল রয়েছে। আজ শনিবার জাহাজটি বার্থিং করার কথা রয়েছে।
৩২ দিন আগে
জাহাজ থেকে খাদ্যপণ্য খালাসে দেরি হলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
নির্ধারিত সময়ে আমদানিকৃত গম ও ভুট্টাবাহী লাইটার জাহাজ থেকে খাদ্যপণ্য গুদামে খালাস না করে দীর্ঘদিন নদীতে নোঙর করে রাখলে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলার ধলেশ্বরী নদী এলাকায় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানতে পারেন, খাদ্যপণ্যবাহী কয়েকটি লাইটার জাহাজ ৬ থেকে ১৮ দিন ধরে নোঙর করে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব পণ্য দ্রুত নির্ধারিত গুদামে খালাস করার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে করা হয়নি। এরপর ওই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, খাদ্যপণ্য জাহাজে অযৌক্তিকভাবে ফেলে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অধিক মুনাফা অর্জনের কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এতে বাজার ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অধীনে গঠিত টাস্কফোর্স নিয়মিতভাবে নদীপথে অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত দেড় মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও যশোর অঞ্চলে মোট ৮৩৮টি জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি সংশ্লিষ্ট সব আমদানিকারক, পরিবহনকারী ও ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান এবং খাদ্যপণ্য দ্রুত খালাস ও যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
৬৭ দিন আগে
কক্সবাজারে নোঙর করা সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে আগুন, নিহত ১
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনগামী একটি জাহাজে আগুন লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডে জাহাজের এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন।
যাত্রী তোলার জন্য কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে নোঙর করা দ্য আটলান্টিক ক্রজ নামের জাহাজে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন লাগে।
নিহত নূর কামাল (২৫) টেকনাফের বাসিন্দা ও জাহাজটির স্টাফ ছিলেন। তিনি জাহাজে ঘুমন্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বাঁকখালী নদীতে ‘দ্য আটলান্টিক ক্রুজ’ নামের জাহাজটিতে আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোরশেদ বলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে আমরা খবর পেয়ে এখানে আসি। তিনটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে আগুন লাগে। সেটি তখন সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে জাহাজে কোনো পর্যটক ছিল না।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ওই জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা থাকা ছিল প্রায় ১৮০ জন যাত্রীর। তারা বোর্ডিং শুরুর আগেই আগুনের সূত্রপাত হয়। যাত্রীদের নিরাপদে অন্যান্য জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, আগুনের সূত্রপাত জানতে কাজ চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।
১৩০ দিন আগে
মোংলা-চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে চালু হচ্ছে কনটেইনারবাহী জাহাজ চলাচল
রপ্তানি খরচ কমাতে দেশে প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণ রুটে চালু হচ্ছে কনটেইনারবাহী জাহাজ চলাচল।
চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি নাগাদ চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মধ্যে এই রুটটি চালু হওয়ার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রামের শিপ এজেন্ট ‘সি গ্লোরি’। বৃহত্তম খুলনাঞ্চলের পণ্য আমদানি-রপ্তানি সুবিধা বাড়াতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় এই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর বার্থ অ্যান্ড শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মোংলা বন্দরে কনটেইনার পণ্য আমদানি কম হয়। যেকারণ এখানে খালি কনটেইনার পাওয়া যায় না। আবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালি কনটেইনার আনতে গেলে অতিরিক্ত ভাড়া মাশুল দিতে হয়। ফলে এখানে কনটেইনারের ভাড়া বেশি পড়ে। একারণে চট্টগ্রাম-মোংলা রুটে কনটেইনারবাহী জাহাজ চালু হলে সময় ও রপ্তানি ব্যয় কমে আসবে।’
আরও পড়ুন: ভিয়েতনাম থেকে ১২ হাজার টন চাল নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
মোংলা সমুদ্রবন্দরটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর। নানা সংকটে থাকার পরেও এটি এখনও একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক কর্মতৎপরতায় এই বন্দরের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন বাড়ায় শ্রমিকদেরও কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। একই সঙ্গে আয়ও বেড়েছে মোংলা বন্দরের।
তবে নাব্য সংকট ও ব্যবসায়ী সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারছে না বন্দরটি। এছাড়া বাড়তি ব্যয়সহ নানা কারণে এই বন্দরে কনটেইনার জাহাজ যাতায়াত করে মাসে একটির কম। অথচ এই অঞ্চলের মাছ, হিমায়িত পণ্য ও পাটসহ নানা ধরনের পণ্য রপ্তানির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এই সম্ভাবনাকে ভিন্ন আঙ্গিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে সি গ্লোরি। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম-মোংলা রুটে ছোট জাহাজে কনটেইনার পরিবহন করতে চায়। চট্টগ্রাম থেকে খালি কনটেইনার নিয়ে মোংলা বন্দর থেকে পণ্য ভর্তি করে আবার চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশি পাঠানোই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এই উদ্যোগে।
সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে একবার জাহাজ পরিচালনা করে সুফলও মিলেছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়ীরা।
সি গ্লোরির ব্যবস্থাপক মাইনুল হোসাইন বলেন, ‘পানগাঁওয়ের মতো চট্টগ্রাম থেকে মোংলা বন্দরে যদি খালি কনটেইনার নিয়ে যাওয়া হয়, তখন প্রসেসগুলো সহজ হবে এবং এতে ব্যবসায় উন্নতি করা সম্ভব। সম্প্রতি পরীক্ষামূলক জাহাজ চলাচলে সুফলও মিলেছে।’
তিনি জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ১০০টি কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দরে পরীক্ষামূলক অভ্যন্তরীণ রুট পরিবহন চালানো হয়েছে। এটি সফল হওয়ায় এখন তারা চলতি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিত আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর রুটে কনটেইনার পরিবহন শুরু করবে। এসব কনটেইনারে মাছ, হিমায়িত পণ্যসহ পাট ভর্তি করে চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হবে।
আরও পড়ুন: মোংলা বন্দর একসঙ্গে ভিড়েছে চার বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ
মোংলা থেকে নিয়মিত সরাসরি ট্রানশিপমেন্ট কনটেইনার যাতায়াতে ব্যয় কম। তবে তা না হওয়ায় ব্যয় এবং সময় দুটোই বাড়ে। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম হয়ে জাহাজে কনটেইনার আনা-নেওয়ায় যে ব্যয় এবং সময় লাগবে তা অনেকটা কম।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, ড্রাফ লিমিটেশনের (জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত পানির গভীরতা) জন্য মোংলা বন্দরে সেভাবে জাহাজ যেতে পারে না, তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সেগুলো রপ্তানি হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে কনটেইনারের কোনোরকম ঘাটতি থাকে না, শিপিং এজেন্টের চাহিদা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে সেসব পণ্য বিদেশে যেতে পারে।
৩৮৩ দিন আগে
ভারত থেকে এলো আরও সাড়ে ১১ হাজার টন চাল
ভারত থেকে এমভি ডিডিএস মেরিনা জাহাজটি ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সিদ্ধচাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা, উন্মুক্ত দরপত্রের আওতায় (প্যাকেজ-২) ভারত থেকে সাড়ে ১১ হাজার টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি ডিডিএস মেরিনা জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ভিয়েতনাম থেকে দেশে পৌঁছেছে ২৯ হাজার টন চাল
উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ৯টি প্যাকেজে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৮ মার্চ) ভারত থেকে আমদানি করা ৬ হাজার টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি পিএইচইউ থানহ ৩৬ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
৪০৮ দিন আগে
ভারত থেকে চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে আরও একটি জাহাজ
ভারতের কাকিনাড়া বন্দর থেকে ২৬ হাজার ৯৩৫ মেট্রিক টন চাল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়েছে জাহাজ এমভি এসডিআর ইউনিভার্স। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটি ভারত থেকে আসা চালের দ্বিতীয় চালান।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি কর্ণফুলী চ্যানেল হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়ে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ফারুক জানান, গত ৮ জানুয়ারি জাহাজটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া বন্দর থেকে রওনা দেয়।
এর আগে ২৬ ডিসেম্বর ভারত থেকে চালের প্রথম চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছিল জাহাজ এমভি তানাইস ড্রিম।
জাহাজ পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় এজেন্ট ‘সেভেন সিস শিপিং লাইন’-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ভারত থেকে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ টন চাল আমদানি করা হবে।
৪৭৯ দিন আগে
মাস্টারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েই হত্যাকাণ্ড ঘটান দীর্ঘদিন বেতন-বঞ্চিত ইরফান
চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে সার বহনকারী এমভি আল বাখেরা জাহাজে ৭ খুনের ঘটনায় হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এর মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছিল, তা আলোর মুখ দেখেছে।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুসারে, আকাশ মণ্ডল ইরফান নামের ওই যুবক জাহাজের কর্মকর্তাদের সহকারী হিসেবে কাজ করলেও দীর্ঘ ৮ মাস ধরে তাকে বেতন-ভাতা দিতেন না মাস্টার গোলাম কিবরিয়া। এমনকি, প্রায়ই তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। এসব থেকে থেকে একটু একটু করে ক্ষোভের পাহাড় জমা হয় ইরফানের মনে। আর তা থেকেই মাস্টারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন তিনি।
তবে প্রাথমিকভাবে মাস্টার কিবরিয়া ছাড়া আর কাউকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল না ইরফানের। কিন্তু মাস্টারকে হত্যা করার ঘটনা দেখে ফেলায় বিপদে পড়েন বাকিরাও। একে একে ইরফানের শিকার হন তারাও।
র্যাবের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরফান জানিয়েছেন, জাহাজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাজার করতে পাবনার একটি বাজারে নামেন তিনি। সেখান থেকে বাজারের কেনাকাটার পাশাপাশি ৩ পাতা ঘুমের ওষুধও কিনে নেন। এরপর খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সবাইকে অচেতন করেন। পরে হাতে গ্লাভস পরে জাহাজের নিরাপত্তার জন্য রাখা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। সবার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে মনে হওয়ায় জাহাজ চালিয়ে হাইম চর এলাকায় পৌঁছে অন্য একটি ট্রলারে করে তিনি পালিয়ে যান।
এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে গলায় কুড়ালের কোপে আহত হয়েও বেঁচে যাওয়া জুয়েল নামের একমাত্র ব্যক্তি জানান, তিনিসহ মোট ৯ জন জাহাজে ছিলেন। নবম ওই ব্যক্তির নাম ইরফান। তবে তার সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানেন বলে লিখে জানান তিনি।
আহত জুয়েল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
আরও পড়ুন: জাহাজে ডাকাতিকালে ৭ খুন: স্বজনদের দাবি ‘পরিকল্পিত হত্যা’
এছাড়া গতকাল রাতেই এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মোর্শেদ।
এরপর অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা থেকে ইরফানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারকালে তার কাছ থেকে হ্যান্ড গ্লাভস, লোট ব্যাগ, ঘুমের ওষুধের খালি পাতা, রক্তমাখা জিন্স প্যান্ট ও খুন হওয়া ব্যক্তিদের পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ মোট ৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাব ১১ কুমিল্লার উপ-অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন।
২৬ বছর বয়সী আকাশ মণ্ডল ইরফান বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকার জগদীশ মণ্ডলের ছেলে।
এর আগে, সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে হাইমচরের মেঘনা নদীর ইশানবালা খালের মুখে নোঙর করে রাখা সারবাহী জাহাজ থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ। একইসঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের দুজনের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: জাহাজে ডাকাতিকালে ৭ খুন: তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনাটি শুরুতে ডাকাতি বলে ধারণা করা হলেও মঙ্গলবার চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গ থেকে নিহতদের স্বজনরা লাশ গ্রহণের সময় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তারা।
পরে গতকালই চাঁদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) একরামুল সিদ্দিককে প্রধান করে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
৪৯৭ দিন আগে