ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেলের সরবরাহ ধীর হয়ে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওই অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুইটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আরও বাড়তে পারে।
সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। শুক্রবার এর দাম ছিল প্রায় ৬৭ ডলার, যা থেকে সোমবার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার সকালেই ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়। ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এর দাম ছিল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার, যা ছিল সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সোমবার এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে ভোক্তাদের পাম্পে গিয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এমন সময় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যখন অনেক দেশেই মানুষ ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভুগছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে এই নৌপথকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে ধরা হয়। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক মহড়ার কথা বলে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ওপেক প্লাস জোটভুক্ত আটটি দেশ রোববার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগেই নির্ধারিত বৈঠকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক জানায়, এপ্রিল মাসে তারা প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও এই পরিমাণ বেশি। উৎপাদন বাড়ানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান।
রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে ওপেকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাজারে মূল উদ্বেগ হলো তেলের চালান ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে কি না’
তিনি জানান, ‘যদি উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত তেল উৎপাদ তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন লক্ষ্য নয়, বরং রপ্তানি পথ সচল থাকা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।’
এদিকে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটি চাইলে রাশিয়া থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
৩ দিন আগে
ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পের কি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—এ হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা!
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা শুরু করে। অপরদিকে, ইসরায়েল তাদের অভিযানকে ‘লায়নস র্যোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর এ হামলা হয় এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা দেখা যায়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। একইসঙ্গে সংবিধানের কিছু বিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ক্যাপিটল হিলে প্রতিক্রিয়া মূলত দলীয় বিভাজন অনুযায়ী এসেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই হামলাকে সমর্থন দিয়েছেন।
স্পিকার মাইক জনসন জানান, অভিযানের আগে প্রশাসন ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত উভয় দলের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে ব্রিফ করেছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করতে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ আনার আহ্বান জানান। অবশ্য রিপাবলিকানদের সীমিত সমর্থনের কারণে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে এবং তেল আবিবেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দরেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা পরিচালনা করছে। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনাকেও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—যা পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে ইরানের ১০-১২ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর বদলে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান ও নৌ-অভিযানের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দশ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, জরুরি হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমা ও সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
৩ দিন আগে
ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ব্যাপক প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছিল তেহরান। এবার সেই জবাব দিতে শুরু করেছে তারা।
রবিবার (১ মার্চ) ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এর ফলে চলমান যুদ্ধ-উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে তেহরানকে উত্তেজনা আরও না বাড়াতে হুঁশিয়ার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে যৌথ ইসরায়েলি-মার্কিন বিমান হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। এই ঘটনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনির নিজ কার্যালয়ে নিহত হওয়াকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ব্যাখ্যা করেছে এভাবে, ‘এটি প্রমাণ করে যে, যাকে কর্মকর্তারা বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য বলে অভিহিত করেন, তার মোকাবিলা করতে গিয়ে তিনি সবসময় জনগণের মাঝে এবং দায়িত্ব পালনে সামনের সারিতে অবস্থান করেছেন।’
ইরানের মন্ত্রিসভা ঘোষণা দিয়েছে, ‘এই মহা অপরাধের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’ আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ‘সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।
রবিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ বলেন, ‘আপনারা আমাদের লাল রেখা (রেড লাইন) অতিক্রম করেছেন, এর মূল্য দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন বিধ্বংসী আঘাত হানব যে আপনারাই করুণা প্রার্থনা করতে বাধ্য হবেন।’
ট্রাম্প পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ইরান বলেছে তারা আজ খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে। তারা যেন তা না করে। কারণ যদি করে, আমরা এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’
ইরানের পাল্টা হামলা
প্রাথমিক হামলার পরপরই ইসরায়েল এবং বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরান বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার অনেকগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের ম্যাগেন ডেভিড আদম উদ্ধারসেবা সংস্থা জানায়, তেল আবিব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত এক নারী নিহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার শব্দ শোনা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দ রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আমিরাতের রাজধানীতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে একজন নিহত হয়েছেন। আকাশ প্রতিরোধের পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে শহরের প্রধান বন্দর ও আইকনিক বুর্জ আল আরব হোটেলের সামনের অংশে আগুন লাগে।
সৌদি আরব জানায়, তাদের রাজধানী ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালেও তা প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইন জানায়, দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া রাজধানী মানামা ও মুহাররাক শহরে ড্রোন হামলা ও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা হয়েছে, এতে কয়েকজন কর্মচারী আহত হন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলার ধ্বংসাবশেষে তিন সেনা আহত হয়েছেন।
কাতারেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জর্ডান জানায়, তারা ৪৯টি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘মোকাবিলা’ করেছে।
ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের এক নতুন ও বিস্ময়কর অধ্যায় খুলে দিয়েছে। এতে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা এবং বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, যিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ক্ষমতায় এসে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
৪ দিন আগে
তেহরানে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হামলা চালায় তারা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে ‘হুমকি অপসারণের’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী তেহরানে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
খামেনি সেই সময় তার কার্যালয়ে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
তবে হামলার ফলে কোনও হতাহতের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
পরবর্তীতে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর প্রচার করলেও এর কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দেশটিকে চাপে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের এক বিশাল বহর মোতায়েন করেছে।
একই সময়ে পুরো ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার সম্ভাবনার বিষয়ে জনগণকে প্রস্তুত রাখতে একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছে।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
৫ দিন আগে
পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ট্রাম্প প্রশাসন
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আরও নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের স্থিতিশীলতা এনে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীর সংযুক্তকরণের বিরোধিতা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইইউ, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ‘পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা থাকলে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে। বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসনের যে লক্ষ্য, তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করার এক দিন পর হোয়াইট হাউস থেকে এই মন্তব্য এসেছে।
ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নতুন বসতি স্থাপনের জন্য ইসরায়েলিদের ভূমি অধিগ্রহণ সহজ করা, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।
গতকাল (সোমবার) ৮টি মুসলিমপ্রধান দেশ এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, ইসরায়েলের এসব অবৈধ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেআইনি ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ওই যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইসারয়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে পাকাপোক্ত করা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া। এতে করে ইসরায়েলের অবৈধ দখল বাড়বে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ যুক্তরাজ্য ও স্পেনও এই নিন্দায় যোগ দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তিফেন দুজারিক জানান, গুতেরেস ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে আল জাজিরার সাংবাদিক গাব্রিয়েল এলিসোন্দো দুজারিককে প্রশ্ন করেন, গুতেরেস কি এসব ব্যবস্থাকে পশ্চিম তীরের ‘ডি ফ্যাক্টো সংযুক্তিকরণ’ হিসেবে দেখছেন কি না। উত্তরে দুজারিক বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো আমাদের সঠিক পথে নিয়ে যাচ্ছে না। তারা আমাদের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের নিজস্ব ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
মহাসচিবের মুখপাত্রকে এই সাংবাদিক আরও জিজ্ঞাসা করেন, জাতিসংঘ মহাসচিব কীভাবে ইসরায়েলকে নিরুৎসাহিত করতে পারেন। জবাবে দুজারিক বলেন, আমি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রক্ষার পক্ষে কথা বলে যাব। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য চাপ অব্যাহত রাখব। তবে আমি একা তা করতে পারব না। আমরা চাই অন্যরাও এগিয়ে আসুক।
এরপর সোমবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলকে তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের বিষয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার গতকালের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাজ্য দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছে। ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক কাঠামো একতরফাভাবে পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হবে।
বিতর্কিত ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের সবচেয়ে বড় শহর হেবরনে ভবন নির্মাণের অনুমতির ক্ষমতা সেখানকার কর্তৃপক্ষ থেকে ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা।
এই পদক্ষেপগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত দুটি প্রধান ধর্মীয় স্থান, বেথলেহেমের কাছে র্যাচেলের সমাধি এবং হেবরনে প্যাট্রিয়ার্কদের গুহার ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবে।
ইসরায়েলের মন্ত্রী স্মোত্রিচ গেল রবিবার বলেন, এসব পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েল ভূমির সমস্ত অঞ্চলে আমাদের শিকড় গভীর করা এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে সমাহিত করা।
সোমবার রাতে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং গাজায় আরও সহিংসতা শুরু করার হুমকি দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপগুলো এবং সংযুক্তিকরণের যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। তা শান্তি পরিকল্পনা ও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বর্তমান উদ্যোগকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
স্পেন সরকার চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ইসরায়েলকে দখলদার শক্তি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলে, বসতি সম্প্রসারণের কার্যক্রমের অবসান ঘটাতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি সাংবাদিকদের বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত আরেকটি ভুল পদক্ষেপ।
২৩ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির মাঝেও কেন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল?
গেল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজার শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ পৌঁছানোর পর হাসপাতালটির এক পরিচালক এমন একটি প্রশ্ন করেছিলেন যা গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
শিফা হাসপাতালের মুহাম্মদ আবু সেলমিয়া এক ফেসবুকে পোস্টে প্রশ্ন করেছেন— কোথায় যুদ্ধবিরতি? কোথায় মধ্যস্ততাকারীরা?
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার নিহত হন ২৪ জন এবং শনিবার ৩০ জন। একই সময়ে গাজায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় যুদ্ধবিরতি রেখার কাছে রাতভর ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে’ তাদের এক সেনা গুরুতর আহত হন।
এসবের ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠন শুরু করা থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যান্য দিকগুলি স্থবির হয়ে পড়েছে। গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খোলার ফলে আরও অগ্রগতির আশা করা হয়েছিল। তবে সোমবার ৫০ জনেরও কম লোককে ক্রসিংটি দিয়ে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে এখন সেটি নিয়েও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
জিম্মিরা মুক্তি পেলেও থমকে আছে অন্যান্য বিষয়
দীর্ঘদিনের স্থবির আলোচনার পর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত অক্টোবর মাসে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তি নিশিত করবে।
চুক্তির শুরুতে হামাস ইসরায়েলের হাতে আটক হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি এবং নিহতদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাদের হাতে থাকা সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়। কিন্তু চুক্তিতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার মতো বড় বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও দেয়নি।
এদিকে, জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত পাঠানোর কাজ চুক্তিতে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা শেষ হতে অনেক সময় গড়িয়ে যায়। হামাস ইসরায়েলকে গত সপ্তাহেই তাদের শেষ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেয়। তবে ইসরায়েল দাবি করছে, হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে সমস্ত দেহাবশেষ এখনো ফেরত দেয়নি। অপরদিকে, হামাসের দাবি, তারা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সমস্ত মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলায়েল।
যুদ্ধবিরতিতে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা দ্রুত প্রবেশের কথাও ছিল। তবে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, শুল্ক ছাড়পত্র ও অন্যান্য বিষয়ে বিলম্বের কারণে গাজার ২০ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, গাজায় সহায়তা তদারককারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বহাল
ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই যুদ্ধে ৭১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
দুই পক্ষই বলছে, চুক্তি এখনও কার্যকর এবং উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি শব্দটি ব্যবহার করছে। তবে ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতি রেখার বাইরে তৎপরতা চালাচ্ছে, (ইসরায়েলি) সেনাদের হুমকি দিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে গুলিও ছুঁড়ছে। অপরদিকে, হামাস অভিযোগ করছে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি রেখা থেকে অনেক দূরের আবাসিক এলাকাগুলোতে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র ও আরবের মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেন প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করে। বুধবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ২টি নকজাতকসহ ৫ শিশু ছিল। এসব ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তি কার্যকরের পরও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানায় যাতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে।
এরপর বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হামাসের হামলার জবাব দিচ্ছে মাত্র এবং কেবল তাদের সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। হামাসের কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতিকে ক্ষুণ্ন করলেও ইসরায়েল তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, হামাস আগের মতো প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হয়।
অগ্রগতির ইঙ্গিত
ইসরায়েলে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পাওয়া, সীমিতভাবে রাফাহ ক্রসিং খোলা এবং গাজা শাসন ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য একটি ফিলিস্তিনি কমিটি গঠনের ঘোষণা—এসব কার্যক্রম সহিংসতার মাঝেও যুদ্ধবিরতির চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এখন সময় এসেছে যুদ্ধবিরতি থেকে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন এবং পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়ার।
এর জন্য ইসরায়েল ও হামাসকে এমন সব বড় ইস্যুতে সমাধানে আসতে হবে যেগুলোতে তারা তীব্রভাবে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল পুরোপুরি গাজা থেকে সরে যাবে কি না এবং হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না সেসব বিষয়।
তবে রাজনৈতিক নেতারা এখনও যুদ্ধবিরতির কথা বললেও যুদ্ধ থেকে সরে না যাওয়ায় গাজায় হতাশা বাড়ছে।
গত শনিবার সকালে নামাজের সময় গাজা শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতাল্লাহ আবু হাদাইয়েদ বাইরে ছুটে যান এবং দেখেন তার চাচাতো ভাইরা মাটিতে পড়ে আছে এবং চারপাশে আগুন জ্বলছে।
শরণার্থী শিবির থেকে তিনি বলেন, আমরা জানি না আমরা যুদ্ধে আছি না শান্তিতে।
২৭ দিন আগে
সীমিত পরিসরে খুলল গাজার রাফাহ ক্রসিং
মিসরের সঙ্গে গাজার সীমান্তবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গাজায় প্রবেশের অন্যতম এই দুয়ার সীমিত পরিসরে খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। এটিকে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার অন্যতম অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল ও মিসর উভয় পক্ষ থেকেই রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। মিসরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মিসরীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রথম দিনে এই ক্রসিং দিয়ে গাজা থেকে ৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং আরও ৫০ জন ফিলিস্তিনি বাইরে থেকে গাজায় প্রবেশ করতে পারবেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি আলোচনায় যুক্ত কর্মকর্তারা এ কথা জানালেও নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মিসরের সঙ্গে গাজার একমাত্র সংযোগপথ ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার প্রধান এই পথটি খুলে দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে খান ইউনিসের বাসিন্দা ঘালিয়া আবু মোস্তফা বলেন, ‘ক্রসিং খুলে দেওয়া একটি ভালো পদক্ষেপ, কিন্তু তারা যাতায়াতের জন্য মানুষের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, যা একটি সমস্যা।’
গাজায় ত্রাণ পরিষেবা নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা বলেছে, ক্রসিংটি পরীক্ষামূলকভাবে খোলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা সোমবার থেকে ক্রসিংটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শুরুতে কেবল নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষ যাতায়াতের অনুমতি পাবেন।
রাফাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া সুহাইলা আল-আস্তাল বলেন, ‘আমরা চাই বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাক। ক্রসিংটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়া হোক যাতে অসুস্থ রোগীরা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসতে পারে।’ এ সময় নিজের অসুস্থ মেয়ের বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন জানিয়ে ক্রসিংটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যার আগের দিনই তাদের হামলায় বেশ কয়েকটি শিশুসহ অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি। ইসরায়লের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে এই হামলা।
৩১ দিন আগে
হামাসের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
গাজায় বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে চালানো হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় আরও ২ জন আহত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) গাজার শহরের উপকণ্ঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ওই কমান্ডারের নাম রায়েদ সাদ বলে দাকি করেছে ইসরায়েল।
এক বিবৃতি দিয়ে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহত ব্যক্তি সাদই কি না তা স্পষ্ট করেনি হামাস। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলা করেছে যা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
হামাসের উৎপাদন বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন সাদ। তার আগে তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অপারেশন বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন।
এদিকে ইসরায়েলের বিবৃতিতে তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনি হামাসের পুনর্গঠনে যুক্ত ছিলেন, যা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একজন সাংবাদিক জানান, গাজা শহরের পশ্চিমে ইসরায়েলের এই হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। শিফা হাসপাতালে তাদের মরদেহ দেখেছেন তিনি। আল-আওদা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েল এবং হামাস বারবার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে অন্তত ৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সৈন্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার জবাবেই সাম্প্রতিক এসব হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া গাজার ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত অংশের এবং বাকি অংশের মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মি রান গভিলির দেহাবশেষ ফেরত দিতে হবে। এটি শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় ও সবচেয়ে জটিল ধাপে প্রবেশের একটি শর্ত। ওই ধাপে হামাসের শাসনের অবসান এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি নিরস্ত্রীকৃত গাজা পুনর্গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে আটক করা হয়। যুদ্ধবিরতি বা অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে আটককৃত প্রায় সবাইকে ও নিহতদের মরদেহকে ফেরত দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলকে।
অপরদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের অভিযানে ৭০ হাজার ৬৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। তবে এদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক ও কতজন সেনা তা আলাদা করে বলা হয়নি।
এ যুদ্ধে গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি উপত্যকার ২০ লক্ষাধিক জনসংখ্যার অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, যে পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা ছিল, তার চেয়ে কম সহায়তা প্রবেশ করছে গাজায়। এ ছাড়া, যুদ্ধে যারা অঙ্গ হারিয়েছেন, তারা কৃত্রিম অঙ্গের সংকটে ভুগছেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হচ্ছেন।
৮১ দিন আগে
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াল
ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গত ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই সংখ্যা বাড়ছে। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ইতোমধ্যে ধ্বংস্তুপে পরিণত হওয়া গাজা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা এখন ৭০ হাজার ১০০।
এদিকে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল।
ওই হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, ৮ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ সেখানে আনা হয়। স্থানীয় বেনি সুহাইলায় শরণার্থীদের একটি স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয় ওই দুই ভাই।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করে ‘সন্দেহজনক কার্যক্রম’ চালাচ্ছিল এবং সৈন্যদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল—এমন দুই ব্যক্তিকে তারা হত্যা করেছে। বিবৃতিতে শিশুদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া দক্ষিণে পৃথক একটি ঘটনায় তারা আরও একজনকে হত্যা করেছে বলেও উল্লেখ করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তবে নিহত বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের তালিকা মন্ত্রণালয় আলাদা করে উল্লেখ করে না।
যুদ্ধবিরতি ভঙ্গকারী যোদ্ধারাই তাদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে দাবি করে আসছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই পরস্পরকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। শনিবার আবারও ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ বন্ধে চাপ প্রয়োগ করতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
গত ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়ার পর এই সংঘাত শুরু হয়।
তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতের মাঝে যুদ্ধবিরতি বা অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে প্রায় সব জিম্মি বা তাদের মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত গেলেও এখনো দুই জিম্মির মরদেহ (এক ইসরায়েলি ও এক থাই নাগরিক) ফেরত আসেনি। শনিবার রাতে তাদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে আবারও তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছে ইসরায়েলিরা।
৯৫ দিন আগে
গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবে হামাসের সম্মতি
গাজায় ৬০ দিনের নতুন যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে হামাস।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ আগস্ট) কাতার ও মিসর যে প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল, সেটি গ্রহণ করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হামাস।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য বাছেম নাইম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে হামাস। এর মধ্য দিয়ে গাজার মানুষ সহিংসতা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়ছে, নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬০ দিনের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মধ্যে ২০ জন জীবিত জিম্মির প্রায় অর্ধেককে দুই দফায় মুক্তি দেবে হামাস, বিনিময়ে কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেবে ইসরায়েল। একইসঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনাও চলবে বলে জানিয়েছে মিসরের একটি সূত্র।
হামাসের সম্মতির বিষয়টি ইসরায়েলি সরকারও অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুই কর্মকর্তা। তবে তারা সিএনএনকে বলেন, সব জিম্মির মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার শর্তেই কোনো চুক্তি যাবে তেল আবিব।
এমন একটি সময়ে এই প্রস্তাবে হামাসের সম্মতি এল, যখন গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করে জিম্মিদের মুক্তির জন্য রোববার সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এসব বিক্ষোভ হামাসের দর কষাকষির অবস্থানকে আরও শক্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: জেলেনস্কি চাইলে মুহূর্তেই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন: ট্রাম্প
কাতার ও মিসরের নতুন প্রস্তাবটি গতকাল সোমবার ইসরায়েলের কাছে উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে ইসরায়েল আর কোনো আংশিক চুক্তিতে আগ্রহী নয় বলে জানান নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, যুদ্ধ কেবল তখনই শেষ হবে, যখন হামাস একসঙ্গে সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে, নিরস্ত্র হবে এবং গাজার সামরিকীকরণ শেষ করতে সম্মত হবে। হামাসের সম্মতির খবর প্রকাশ হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘হামাস তীব্র চাপে রয়েছে।’
এদিকে, সম্প্রতি সম্পূর্ণ গাজা উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। গাজায় প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।
গত বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
তবে দীর্ঘমেয়াদে দখলে রাখার পরিকল্পনা নেই জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা গাজাকে নিজেদের দখলে রাখতে চাই না। আমরা সেখানে একটি নিরাপত্তা বলয় চাই।’
তবে এই পরিকল্পনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনাহারে একের পর এক মৃত্যু ঘটে চলেছে। এ পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
গত জুলাই মাসে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু করতে নতুন এই প্রস্তাব এনেছে কাতার ও মিসর।
সিএনএন বলছে, মিসর ও কাতারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবটি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের দেওয়া দুই পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে। তার প্রস্তাবের ৯৮ শতাংশই সর্বশেষ প্রস্তাবে বজায় রাখা হয়েছে। ইসরায়েল ওই প্রস্তাবে আগেই সম্মতি দিয়েছিল। মধ্যস্থতাকারীরা হামাসকে প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে চাপ দিয়েছেন।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবে ১০ জন জীবিত জিম্মি এবং ১৮ জনের মরদেহ হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৪০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি এবং ১৫ বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ৬০ জন বন্দিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। এ ছাড়া সব অপ্রাপ্তবয়স্ক ও নারী বন্দিকেও মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
আলোচনা সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন বিবেচনায় উইটকফকে কায়রোয় আসার আমন্ত্রণ জানাবে মধ্যস্থতাকারীরা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় অভিযান শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই দফা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি-মুক্তির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
১৯৮ দিন আগে