মধ্যপ্রাচ্য
ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি আরব রাষ্ট্রগুলোর
মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যুদ্ধের সম্মুখসারিতে এসে পড়েছে। সার্বভৌমত্ব ও অবকাঠামোয় আঘাতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশগুলো। এখনও সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও আবার হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। এসব হামলায় আরব ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি দেশগুলোর বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে।
এর ফলে নিরাপদ পর্যটন ও আর্থিককেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উপসাগরীয় অঞ্চলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি দেশগুলোর তেল ও গ্যাস শিল্পেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, আরব দেশগুলো এই যুদ্ধ চায়নি এবং তা ঠেকাতে চেষ্টা করেছিল। তবে ইরানের এই হামলা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত তারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ‘সব সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। আমাদের অবকাঠামোর ওপর হামলা হচ্ছে। আমাদের আবাসিক এলাকাগুলোতেও হামলা হচ্ছে। এসব হামলার প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। সম্ভাব্য প্রতিশোধে প্রশ্নে আমাদের নেতৃত্বে সব বিকল্পই খোলা আছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের হামলা চলতে থাকলে আমরা কোনোভাবেই চুপ করে বসে থাকব না।’
আরব অঞ্চলজুড়ে বেশিরভাগ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ড্রোনগুলো সহজেই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি না করলেও বাণিজ্য ও ভ্রমণব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ইরানের রণকৌশল। প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে চায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইসরায়েলে যে পরিমাণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, তার প্রায় সমপরিমাণ ছুড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দেশটি ইরানের হামলার বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চাইলে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শিল্পকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।
তবে তেহরানের এই কৌশল উল্টো ফলাফলও বয়ে আনতে পারে। কারণ ইরানের এ ধরনের পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতে পারে, এমনকি যেকোনো পর্যায়ে তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশও নিতে পারে। এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো একপর্যায়ে তারা সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
যদিও এখনও সে অবস্থায় পৌঁছায়নি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। আপাতত তারা প্রতিরক্ষার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অবশ্য যুদ্ধ কত দিন চলবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে সংঘাতে ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক—এমনটিও চায় না তাদের অনেকে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসন এবং লেবানন ও সিরিয়ার মতো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে। গত বছর হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যাচেষ্টা করতে গিয়ে কাতারে বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আরব দেশগুলো। ওই ঘটনার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তারা।
তবে ইরানের হামলার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে যে ঐক্য জোরদার হচ্ছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) জরুরি বৈঠকে বসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। বৈঠকে তারা সংহতি প্রকাশ করে এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ অঙ্গীকার করে। তাদের ওই আলোচনায় আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে, আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘যুদ্ধ আপনাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়। নিজেদের আশপাশে হামলা বন্ধ করুন। বিচ্ছিন্নতা ও উত্তেজনার পরিধি আরও বাড়ার আগেই বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আচরণ করুন।’
১ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেলের সরবরাহ ধীর হয়ে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওই অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুইটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আরও বাড়তে পারে।
সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। শুক্রবার এর দাম ছিল প্রায় ৬৭ ডলার, যা থেকে সোমবার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার সকালেই ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়। ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এর দাম ছিল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার, যা ছিল সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সোমবার এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে ভোক্তাদের পাম্পে গিয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এমন সময় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যখন অনেক দেশেই মানুষ ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভুগছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে এই নৌপথকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে ধরা হয়। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক মহড়ার কথা বলে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ওপেক প্লাস জোটভুক্ত আটটি দেশ রোববার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগেই নির্ধারিত বৈঠকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক জানায়, এপ্রিল মাসে তারা প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও এই পরিমাণ বেশি। উৎপাদন বাড়ানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান।
রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে ওপেকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাজারে মূল উদ্বেগ হলো তেলের চালান ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে কি না’
তিনি জানান, ‘যদি উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত তেল উৎপাদ তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন লক্ষ্য নয়, বরং রপ্তানি পথ সচল থাকা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।’
এদিকে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটি চাইলে রাশিয়া থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
৩ দিন আগে
খামেনির মৃত্যুতে ঢাকার শোক প্রকাশ
মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ৬০ লাখের বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে আমাদের দূতাবাসগুলোকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় সরকারের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আজ (সোমবার) দুপুরে বৈঠকে বসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করার কথা রয়েছে।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তার নিহতের ঘটনায় সরকার ‘গভীরভাবে শোকাহত’। বাংলাদেশ ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের লঙ্ঘন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে সংঘাত কোনো সমাধান বয়ে আনে না; কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান সম্ভব।’
পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং আরও সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে সরকার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিহত হন সিলেটের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ।
আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।
এছাড়া বাহরাইনে একজন বাংলাদেশি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মানামায় বাংলাদেশ মিশন ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
অন্যদিকে, কুয়েতে বেসামরিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত হন। তারা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাঁথিয়ার রবিুল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া।
তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়েছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানা গেছে। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আটকা পড়েছে।
দূতাবাস জাহাজের নাবিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
৩ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় জ্বালানি নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: হুমায়ূন কবির
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
রবিবার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি নিজেই গতকাল বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। আমরা নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয়ের কাজ করছি, যাতে আমাদের নাগরিকদের কোনো বিপদ বা সংকটে পড়তে না হয়। দেশের ভেতরে যারা অপেক্ষমাণ আছেন কিংবা বিদেশে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, তাদের বিষয়েও আমরা নজর রাখছি।
উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে গতকাল ইফতারের প্রায় ১৫ মিনিট আগে নির্দেশ দেন— তুমি উপদেষ্টা, দ্রুত বিমানবন্দরে যাও, বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে থাক। ইফতার তোমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, অপেক্ষমাণ যাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কর। তাদের কোনো বিপদ কিংবা সংকট থাকলে তা যেন আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করতে পারি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের যে স্টক (মজুদ) রয়েছে, তা নিয়ে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। তবে সংকটের সময় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সংকট আমরা আগেও দেখেছি।
‘এনার্জি রিলেটেড (জ্বালানি–সম্পর্কিত) ক্ষেত্রে কিছু ফ্লাকচুয়েশন (ওঠানামা) হতে পারে, তবে এ বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি মোটামুটি ভালো। সুতরাং জ্বালানি নিয়ে অতিরিক্ত শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই এই সমস্যার ডিস্কেলেশন (প্রশমন) হোক ডিপ্লোম্যাসি (কূটনীতি) মাধ্যমে। আমরাও সে আহ্বান জানাচ্ছি। এখানে যারা অপেক্ষমাণ প্যাসেঞ্জার (যাত্রী) আছেন, তাদের আমরা সহায়তা দিচ্ছি। যেমন: কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের কারও কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেগুলো এক্সটেনশন (মেয়াদ বাড়ানো) নিয়ে আমরা কাজ করছি। এজন্য যেসব দেশে আমাদের কর্মীরা যাচ্ছেন, সেসব দেশের ডিপ্লোম্যাটিক কমিউনিটির (কূটনৈতিক মহল) সঙ্গে আমরা আলাপ করছি।’
৪ দিন আগে
ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ব্যাপক প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছিল তেহরান। এবার সেই জবাব দিতে শুরু করেছে তারা।
রবিবার (১ মার্চ) ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এর ফলে চলমান যুদ্ধ-উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে তেহরানকে উত্তেজনা আরও না বাড়াতে হুঁশিয়ার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে যৌথ ইসরায়েলি-মার্কিন বিমান হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। এই ঘটনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনির নিজ কার্যালয়ে নিহত হওয়াকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ব্যাখ্যা করেছে এভাবে, ‘এটি প্রমাণ করে যে, যাকে কর্মকর্তারা বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য বলে অভিহিত করেন, তার মোকাবিলা করতে গিয়ে তিনি সবসময় জনগণের মাঝে এবং দায়িত্ব পালনে সামনের সারিতে অবস্থান করেছেন।’
ইরানের মন্ত্রিসভা ঘোষণা দিয়েছে, ‘এই মহা অপরাধের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’ আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ‘সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।
রবিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ বলেন, ‘আপনারা আমাদের লাল রেখা (রেড লাইন) অতিক্রম করেছেন, এর মূল্য দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন বিধ্বংসী আঘাত হানব যে আপনারাই করুণা প্রার্থনা করতে বাধ্য হবেন।’
ট্রাম্প পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ইরান বলেছে তারা আজ খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে। তারা যেন তা না করে। কারণ যদি করে, আমরা এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’
ইরানের পাল্টা হামলা
প্রাথমিক হামলার পরপরই ইসরায়েল এবং বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরান বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার অনেকগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের ম্যাগেন ডেভিড আদম উদ্ধারসেবা সংস্থা জানায়, তেল আবিব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত এক নারী নিহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার শব্দ শোনা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দ রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আমিরাতের রাজধানীতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে একজন নিহত হয়েছেন। আকাশ প্রতিরোধের পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে শহরের প্রধান বন্দর ও আইকনিক বুর্জ আল আরব হোটেলের সামনের অংশে আগুন লাগে।
সৌদি আরব জানায়, তাদের রাজধানী ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালেও তা প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইন জানায়, দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া রাজধানী মানামা ও মুহাররাক শহরে ড্রোন হামলা ও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা হয়েছে, এতে কয়েকজন কর্মচারী আহত হন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলার ধ্বংসাবশেষে তিন সেনা আহত হয়েছেন।
কাতারেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জর্ডান জানায়, তারা ৪৯টি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘মোকাবিলা’ করেছে।
ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের এক নতুন ও বিস্ময়কর অধ্যায় খুলে দিয়েছে। এতে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা এবং বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, যিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ক্ষমতায় এসে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
৪ দিন আগে
বায়ুদূষণে শীর্ষ পাঁচ শহরের চারটিই মধ্যপ্রাচ্যের, ঢাকার বাতাস আজও ‘মাঝারি’
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোর বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়তে দেখা গেছে। প্রায়ই আইকিউএয়ারের দেওয়া বিশ্বের দূষিত বাতাসের শীর্ষ শহরের তালিকার প্রথম সারিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহর দেখা যায়। আজ সে ধারা অব্যাহত রয়েছে, বায়ুদূষণে শীর্ষ পাঁচ শহরের চারটিই আজ মধ্যপ্রাচ্যের।
রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছিল সৌদি আরবের রিয়াদ। শহরটির একিইআই স্কোর ছিল ১৯৬। এই স্কোরের বাতাসকে বাসিন্দাদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
আইকিউএয়ারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের ক্রমবর্ধমান নগর এলাকাগুলোতে আরও বেশি লবণাক্ত পানি শোধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু লবণাক্ত পানি শোধনাগারগুলো (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদন করে। তাছাড়া, তেলের উত্তোলনও বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত করে। সেইসঙ্গে বনও উজার করা হচ্ছে। এসব কারণে শহরটির বায়ুদূষণের মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলেছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কুয়েতের কুয়েত সিটি ও কাতারের দোহা। শহরগুলোর স্কোর যথাক্রমে ১৫৭, ১৪২ ও ১২৭। একই সময়ে ১৫৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল কঙ্গোর কিনশাসা।
এদিকে, বৃষ্টি কমতেই কয়েকদিন ধরে ঢাকার বাতাসের বাতাসের দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। যদিও গতকালের একই সময়ের তুলনায় আজ দূষণ কিছুটা কমেছে, তবে ‘ভালো’ হয়ে ওঠার ধারেকাছেও যেতে পারেনি।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল ৮৮। এই স্কোর নিয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার নবম স্থানে ছিল ঢাকা।
আরও পড়ুন: ‘মাঝারি’ হলেও ঢাকার বাতাসে বেড়েছে দূষণ
গতকাল একই সময়ে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল ৯৯। এই স্কোর ‘মাঝারি’ হলেও ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হওয়ার একেবারেই কাছাকাছি। ৯৯ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শীর্ষ শহরগুলোর তালিকার অষ্টম স্থানে অবস্থান করছিল ঢাকা।
কণা দূষণের এই সূচক ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। আর স্কোর ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘মাঝারি’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে এই স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে ৩০০-এর বেশি যেকোনো সূচক।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
১৮৭ দিন আগে
খাবার নিতে আসা শিশুদের ওপর ইসরায়েলের ‘অমার্জনীয়’ হামলা
চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও রাফায় ফিলিস্তিনিদের বিতর্কিত পুনর্বাসন পরিকল্পনার মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিন শিশুদের খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ গেছে ৯টি শিশুর।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে চালানো হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় শিশুদের জন্য পুষ্টি সহায়তা সংগ্রহ করতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো বিমান হামলায় ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯টি শিশু ও ৪ জন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯টিই শিশু।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল হামলাটিকে ‘অমার্জনীয়’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর ওপর এমন হামলা অত্যন্ত নির্মম ঘটনা। এটি গাজায় চলমান ভয়াবহতার বাস্তব প্রতিচ্ছবি।’
তিনি বলেন, ‘অপর্যাপ্ত সহায়তার কারণে গাজায় শিশুদের না খেয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। জরুরি সহায়তা ও সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু না হলে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।’
আরও পড়ুন: গাজায় সেনা রাখতে অনড় ইসরায়েল, ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কায় যুদ্ধবিরতি
ইউনিসেফের এই নির্বাহী পরিচালক ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ‘গণহত্যা অভিযান’ চলছে। এক বিবৃতি গোষ্ঠীটি জানায়, ‘ইসরায়েল বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে একের পর এক গণহত্যা চালাচ্ছে। তারা স্কুল, রাস্তা, উদ্বাস্তু ক্যাম্প ও চিকিৎসাকেন্দ্র—সব জায়গায় হামলা চালাচ্ছে, যা সারা বিশ্বের চোখের সামনেই সংঘটিত হওয়া জাতিগত নিধনের সুস্পষ্ট প্রমাণ।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়। এরপরই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭ হাজার ৭৬২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এর আওতায় খাদ্য ও জ্বালানিসহ জরুরি ত্রাণ সহায়তা গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২৩৮ দিন আগে
গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ: দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের চিরশত্রু ইরানের ওপর নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার (১৩ জুন) রাজধানী তেহরানসহ দেশটির শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করা এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন রাইজিং লায়ন বা জেগে উঠা সিংহ। হামলার মূল কারণই ছিল পশ্চিমাদের ভাষায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া।
হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে, ইরানও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ‘ট্রু প্রমিস ৩’ নামের অভিযান শুরু করেছে।
শুক্রবার (১৩ জুন) ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজ, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা, শীর্ষ কমান্ডার ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় বলে জানায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
আরও পড়ুন: ইরানে ইসরায়েলের হামলা আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্রও
এদিন ভোররাত থেকে একের পর এক বিমান হামলায় প্রথমে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ও গোয়েন্দা কাঠামোতে আঘাত করে। এরপর ধারাবাহিক হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং শেষে দেশটির বৃহত্তম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজে হামলা চালানো হয়।
নাতানজের আংশিক ভূ-উপরিভাগে হওয়ায় সরাসরি আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েল।
২৬৫ দিন আগে
ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফর: আলোচনায় কূটনীতি, উপেক্ষিত মানবাধিকার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর গতানুগতিক বিষয়টিই যেন কোথায় হারিয়ে গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখন কী বলবেন, কীভাবে বলবেন কিংবা তার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—সেসব অনুমান করা অনেক বিশ্লেষকের কাছে রীতিমত ‘অসম্ভব’।
নিজের মধ্যপ্রাচ্য সফরেও তিনি এ ধারা বজায় রেখেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটিই তার সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সফর। নিজের স্বভাব অনুযায়ী এ সফরকালেও তিনি আলোচনার বিষয়ে ভিন্ন পথেই হেঁটেছেন।
এর আগে পশ্চিমা নেতাদের মধ্যপ্রাচ্য সফরে মানবাধিকারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেলেও কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প; আর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতেও মানবাধিকারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে গেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ মে) সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সে সময় আরব উপসাগরীয় ধনী দেশগুলোতে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এখন আর সেই দিন নেই যে আমেরিকান কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে উড়ে এসে আপনাদের শেখাবে—কীভাবে জীবনযাপন করতে হবে, কীভাবে দেশ চালাতে হবে।’
অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে ভালো সময় পার করছে রিয়াদ।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে: ইসরায়েলি হামলায় ২২ শিশুসহ ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত
তবে সৌদির সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, ব্যবসায়ী, লেখকসহ দেশটি থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও অনেকেই তার কথা শুনেছেন। তাদের মত অবশ্য ভিন্ন।
ট্রাম্পের এই ভূমিকাকে একপ্রকার অশনি সংকেত বলে মনে করছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অনিয়মিত বা অসম্পূর্ণ হলেও শক্তিশালী ভূমিকা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত বহন করে।
এ বিষয়ে যুবরাজ সালমানের শাসনামলের প্রথম দিকে জেলে থাকা এক আলেমের ছেলে আবদুল্লাহ আলআউধ বলেন, ‘তার (ট্রাম্প) এই ভূমিকা দেখা সত্যি বেদনাদায়ক ছিল।’
বিশ্বের নানা দেশের সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একপ্রকার একঘরে হয়ে পড়ার পর দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নত করতে রাজপরিবারের শত শত সদস্য, নাগরিক সমাজের কর্মী, অধিকারকর্মীসহ অনেক বন্দিকে মুক্তি দেয় সৌদি প্রশাসন। তবে আবদুল্লাহর বাবা সালমান আলআউধ এখনও কারাবন্দি রয়েছেন।
হতাশ কণ্ঠে আবদুল্লাহ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই যুবরাজের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন, যিনি কিনা আমার বাবাকে নির্যাতন করেছেন, আমাদের পরিবারকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।’
আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রে থেকে সৌদি আরবে আটক ও বন্দি ব্যক্তিদের জন্য কাজ করে থাকেন। এসব বিষয়ে সৌদি প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা সাড়া দেয়নি।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।’ তবে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে মানবাধিকার বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আলোচনা করেছেন কিনা, এ বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা ছিল ব্যক্তিগত।’
মানবাধিকার ইস্যুতে কম গুরুত্ব
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সফরে মানবাধিকার বিষয়ে যতটা গুরত্বের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিৎ, ট্রাম্পের সফরকালে বিষয়টি সেভাবে মনোযোগ পায়নি।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, এসব দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেলেও জোরালো কণ্ঠে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি।
এমনকি ট্রাম্পের এবারের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নির্বাসিত সৌদি নাগরিকদেরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগের মতো সরব হতে দেখা যায়নি। তাছাড়া ট্রাম্প সৌদিতে বন্দি মার্কিন নাগরিক বা অধিকারকর্মীদের মুক্তির প্রসঙ্গ তুলেছেন কিনা, এ নিয়েও তেমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়নি তার প্রশাসন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্যে, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদিতে মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার কারণে এমন নীরবতা দেখা যেতে পারে।
অনেকে আবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের মানবাধিকারের বিষয়ে ট্রাম্পের এই নীরবতা।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ভারত-পাকিস্তান: ট্রাম্প
ইব্রাহিম আলমাদি নামে ফ্লোরিডার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার বাবা সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক টুইটের জন্য কারাবন্দি হয়েছিলেন। তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাবাকে ফেরানোর জন্য রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বা অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প আর যুবরাজ ভালোবাসার সম্পর্কে রয়েছেন। কেউ যদি একবার ট্রাম্পের কানে বাবার বিষয়টা দিতেন আর তিনি যুবরাজকে বলতেন, আমি নিশ্চিতভাবে বাবাকে ফিরে পেতাম।’
২৯২ দিন আগে
ঈদুল আজহার তারিখ নিয়ে যা জানা গেল
চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযু্ক্ত আরব আমিরাত।
দেশটির এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস অনুসারে আগামী ৬ জুন শুক্রবার দেশটি পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ৪ এপ্রিল এমন পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে পূর্বাভাসের ওই তারিখ ঠিক থাকে, তাহলে বাংলাদেশে ৭ জুন ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হতে পারে।
আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান উল্লেখ করেছেন, আরব আমিরাতে ২৭ মে সকাল ৭টা ২ মিনিটে চাঁদ উঠবে। ওই দিন সূর্যাস্তের ৩৮ মিনিট পর পর্যন্ত চাঁদটি আকাশে দৃশ্যমান থাকবে। এতে অর্ধচন্দ্রটি সহজে দেখা যাবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় মসজিদে ঈদুল আযহার জামাত হবে ৫টি
চন্দ্র মাসের হিসাবে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ২৮ মে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দিন পড়বে। আর জুন মাসের ৭ তারিখ হবে জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ। এদিনই(১০ জিলহজ্জ) পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হয়।
আরব আমিরাতের সংস্থাটির পূর্বাভাস যদি ঠিক থাকে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ৬ জুন ঈদ হয়, তাহলে বাংলাদেশে ঈদ হবে ৭ জুন। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পরে সাধারণত বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়।
উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫ জুনকে আরাফাতের দিন ধরে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর ৬ থেকে ৮ জুন ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
৩০৯ দিন আগে