ভোজ্যতেল
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি আরও বলেন, রমজান সামনে রেখে আমদানিনির্ভর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। রমজানের আগে, রমজানজুড়ে এবং পরে বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে সরকার।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, রমজানকে সামনে রেখে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, চিনিসহ বিভিন্ন পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ পাইপলাইনে রয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই সরবরাহ যথেষ্ট বলে মনে করেন তিনি।
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না, এই মুহূর্তে এরকম কোনো চিন্তাভাবনা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের দাম নির্ভর করে উৎসবাজারের মূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর। উৎসবাজারে দাম বাড়লে বা পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়ে গেলে আমদানি করা তেলের দামেও তার প্রভাব পড়ে। আবার উৎসবাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় কমলে পণ্যের দামও কমতে পারে।
রমজানের আগে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা আগাম নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জাহাজের গতিপথ দীর্ঘ হলে কিংবা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে পণ্যের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে।
আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে সরবরাহ সংকট এড়াতে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হঠাৎ কোনো পরিস্থিতিতে যেন বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত বুকিং ও পাইপলাইনে পণ্য রাখার মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।
তবে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের আগাম পণ্য বুকিং দিতে সরকার বাধ্য করতে পারে না বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়। কোনো ব্যবসায়ীকে এখন নির্দিষ্ট দামে পণ্য বুকিং দিতে বাধ্য করার পর ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে গেলে সেই দায় কে নেবে? একইভাবে পণ্য জাহাজে তোলার সময় পরিবহন ভাড়া নির্ধারিত হয়। ফলে সবকিছু আগাম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
রমজান সামনে রেখে আমদানিকারকদের এলসি খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই মুহূর্তে সেটার কোনো প্রয়োজন দেখছি না। ব্যবসায়ীরা যদি কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা অনুভব করেন, আমাদের জানালে তখন আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি।’
ছোলার দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে কী করা যায়, তা দেখছে সরকার।
মৌসুমভেদে পণ্যের দামের ওঠানামা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সারা বছর প্রতিটি পণ্যের দাম একই রাখার মতো সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আগে নেওয়া হয়নি। পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হলেও মৌসুমি ব্যবধানের কারণে দাম বাড়তে পারে। একইভাবে শাকসবজির দামেও মৌসুমি প্রভাব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবহার বাড়িয়ে কিংবা মৌসুমের বাইরে উৎপাদনের ব্যবস্থা করে সারা বছর পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় ইতোমধ্যে সবজির দাম কমছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
৬ দিন আগে
যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি দাবি জানালেও যাচাই-বাছাই না করে দাম বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট সদর উপজেলায় সুরমা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির দাবি জানালেও সরকার বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেবে।’
এছাড়া দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগে কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে সে দিকে সরকারের নজর রয়েছে।’
৩৪ দিন আগে
আন্তর্জাতিক বাজার ও খরচের ভিত্তিতেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারিত হয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় হিসাব করেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানি-নির্ভর পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম ওঠানামা করলে স্থানীয় বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। আমদানিকৃত তেলের মূল্য নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দিষ্ট হিসাব পদ্ধতি (ফর্মুলা) রয়েছে। এফওবি মূল্যের সঙ্গে জাহাজ ভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ খরচ ও পরিবহনকালীন অপচয় (ওয়েস্টেজ) যুক্ত করে চূড়ান্ত দর নির্ধারিত হয়। সাধারণ মানুষ বা গণমাধ্যমকর্মীরাও আন্তর্জাতিক ইনডেক্স দেখে সহজেই এই হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন।
ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে ভোজ্যতেলের ব্যবসা মূলত বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকারকরা টানা লোকসানে পড়লে বাজার সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে। তাই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং উদ্যোক্তারা যাতে লোকসানের মুখে ব্যবসা গুটিয়ে না নেন, সেজন্য একটি যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুই ঈদে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে যেন কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও আমদানির সরবরাহ পাইপলাইন সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
চিনির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় রিফাইনারি মেঘনা গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি রয়েছে। ইউটিলিটি-সংক্রান্ত বিভ্রাটের কারণে সাময়িকভাবে তাদের উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলেও দ্রুতই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল প্রসঙ্গে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, বিগত ১১ বছর তাদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তাছাড়া পে-স্কেল একবারে নয়, আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ফলে বাজারে বৈষম্য বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।
এছাড়া সুগন্ধি চাল রপ্তানি বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, অনুমোদনের বিপরীতে এ পর্যন্ত মাত্র আড়াই হাজার টন চাল রপ্তানি হয়েছে। তবে যারা নির্ধারিত সময়ে চাল রপ্তানি করতে পারেননি, তাদের অনুমোদন উল্লেখযোগ্য হারে বাতিল বা কমানো হবে।
৬১ দিন আগে
রংপুরে র্যাবের অভিযানে অসাধু ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের জরিমানা
রংপুরে দুটি ভোজ্যতেলের গুদামে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও র্যাব-১৩।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এ সময় র্যাব-১৩, রংপুরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামীর নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল অভিযানে সহায়তা করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নগরীর সেনপাড়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স এস এস ট্রেডার্সের গুদামে তেল মজুদ ও বাজারজাতকরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় গুদামে সংরক্ষিত ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম না মানা, কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা এবং বাজারে সরবরাহে অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপরে একই অভিযোগে গোমাস্তপাড়ায় আয়াত ট্রেডার্স নামে প্রতিষ্ঠানের মালিক পারভেজকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একই কথা জানান র্যাব-১৩ এর জেষ্ঠ্য সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামীও।
২০৯ দিন আগে
চট্টগ্রামে খোলা সয়াবিনের খুচরা মূল্য ১৬০ টাকা নির্ধারণ
চট্টগ্রামে খোলা সয়াবিন তেলের আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই দাম নির্ধারণ করা হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানিকারকরা ১৫৩ টাকা, ট্রেডার্সে ১৫৫ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে ১৬০ টাকা প্রতি লিটার খোলা তেল বিক্রি করবে, যা আজ (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। যেকোনো পর্যায়ে কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটি।
নির্ধারিত দামের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: রোজার দ্বিতীয় দিনেও বাজারে নেই সয়াবিন তেল, বিপাকে ক্রেতারা
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম, টি কে গ্রুপের পরিচালক জাফর আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচিসহ চেম্বারসমূহের প্রতিনিধি, ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষ টাক্সফোর্সের সদস্যরা।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ পরিদর্শনে যান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। পরিদর্শনে গিয়ে ‘ভোজ্যতেল উধাওয়ের’ সত্যতা পেয়ে তেলের উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মেয়র বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে যেসব মুসলিম রাষ্ট্র আছে, সেগুলোতে রমজানে সওয়াবের উদ্দেশ্যে ভর্তুকি দেয়। কম মূল্যে তারা পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায়, কিছু ব্যবসায়ীর কারণে রাতারাতি পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এই অসাধু ব্যক্তিদের কারণে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বগতিতে। এ অবস্থায় ভোজ্যতেলকে প্রাধান্য দিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত দামের বাইরে গিয়ে বেশি দামে কেউ বিক্রি করলে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি চসিক থেকেও বাজার মরিটরিং করা হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট চলছে। সেটা কাটিয়ে উঠার জন্য সবার সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খোলা সয়াবিন তেল খুচরায় সর্বোচ্চ ১৬০ টাকায় বিক্রি করা যাবে। কেউ চাইলে এর চেয়ে কমেও বিক্রি করতে পারবেন, তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া যাবে না। এ সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো ব্যবসায়ী যদি খুচরা বা পাইকারি বাজারে বেশি দামে তেল বিক্রি করেন, তাহলে বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৬০৯ দিন আগে
বন্দর থেকে নিধারিত সময়ে পণ্য না নিলে তিনগুণ জরিমানা: নৌ উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের নৌ পরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বাজারে ভোজ্যতেলের কিছু সমস্যা থাকলেও শাক সবজির দাম বাড়েনি।
তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত পরিমাণ নিত্যপণ্য আমদানি করা হয়েছে। সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কোনো আমদানিকারক বন্দর থেকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য না নিলে তিন গুণ জরিমানা হবে।’
আরও পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত রিয়াজের বাড়িতে উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত একটি চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ডিসেম্বরে চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া এম ভি আল-বাখেরা সারবাহী নৌযানে দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জন শ্রমিকের পরিবারকে চেক হস্তান্তর করা হয়। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে দুই লাখ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নোয়াপাড়া গ্রুপের পক্ষ থেকে ৩ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়।
৬১০ দিন আগে
সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে কাজ করছে সরকার: শফিকুল আলম
খোলা সয়াবিন তেলের দাম একটু কমতে শুরু করেছে বলে দাবি করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ যাতে ঠিক পর্যায়ে থাকে, সেটার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’
শনিবার (১ মার্চ) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সয়াবিন তেলের সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত সয়াবিন তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। খোলা ও বোতলজাত—দুই ধরনের সয়াবিন তেলেরই।’
‘এরইমধ্যে খোলা সয়াবিন তেলের দাম একটু কমা শুরু হয়েছে। আশা করছি, সামনে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও ভালো হলে দামও একটা ভালো যায়গায় যাবে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে, মার্কেট থেকে এটা উধাও হয়ে গেছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন। আমরা চেষ্টা করছি সরবরাহ যাতে ঠিক পর্যায়ে আসে, সবার জন্য যাতে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে।’
শফিকুল আলম বলেন, ‘গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এরপর থেকে বন্যা দেখা দেওয়ায় বেশ কয়েকটি মাস সেদিকে মনোযোগ দিতে হয়েছে সরকারকে। ছয়-ছয়টি বন্যা হয়েছে। অক্টোবর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সমস্ত শাখা, উপদেষ্টাদের ও যারা নিত্যপণ্যের মূল্য ও খাবার নিয়ে কাজ করেন—সবাইকে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছিলেন, রোজাকে কেন্দ্রীভূত করে জীবনযাত্রার মান কীভাবে কমানো যায়, সেদিকে যাতে মনোযোগ দেওয়া হয়।’
এই রোজায় বেশিরভাগ খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘পুরো রমজানজুড়ে কীভাবে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়, সেদিকে মনোযোগ থাকবে অন্তর্বর্তী সরকারের।’
‘রোজার সময় কিছু কিছু পণ্যের ভোগ বেড়ে যায়। বিশেষ করে, ভোজ্যতেল, স্ন্যাকস, ছোলা ও খেজুরের ক্ষেত্রে আমরা এটি দেখি। প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের মনোযোগ হচ্ছে, কীভাবে (এগুলোর মূল্য) সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়।’
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রাজস্ব বোর্ড, ট্যারিফ কমিশন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবার যৌথ প্রয়াসে আমরা বলতে পারি, অনেক পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। পুরো রমজানে এটা কীভাবে আরও সহনীয় করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হবে। ভোজ্যতেলসহ কিছু পণ্যের সরবরাহ কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও কাজ করছে সরকার।’
ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কীভাবে কাজ করা হচ্ছে— এ বিষয়ে পেস সচিবের ভাষ্য, ‘আমরা প্রতিদিন মনিটর করছি। কত টন ভোজ্যতেল বিদেশ থেকে এসেছে পরিশোধনের জন্য, সেটা আমরা দেখছি। সরবরাহ পরিস্থিতি সামনে আরও ভালো হবে।’
৬১২ দিন আগে
ভোজ্যতেল আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতি
বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সানফ্লাওয়ার, ক্যানোলা, সয়াবিন ও পাম অয়েলসহ সব ধরনের ভোজ্যতেলের ওপর আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত শুল্ক, কর ও ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করেছে সরকার।
এ বিষয়ে পৃথক ৩টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রমজান মাসে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং দাম সাশ্রয়ী রাখতে এই শুল্ক ও ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে এনবিআর।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সানফ্লাওয়ার, ক্যানোলা, সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানিতে বিদ্যমান সব আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম আয়কর ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে সানফ্লাওয়ার, ক্যানোলা, সয়াবিন ও পাম অয়েল বিক্রয়ের ওপর স্থানীয় পর্যায়ে প্রদেয় মূল্য সংযোজন করও উল্লিখিত সময়কাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভোজ্যতেল আমদানিতে ভ্যাট কমাল সরকার
তাছাড়া এসব পণ্যের আমদানি পর্যায়ে প্রদেয় মূসক ১৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ মূসক ব্যতীত অন্য কোন শুল্ক-করাদি অবশিষ্ট থাকবে না।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর ও ১৯ নভেম্বর জারিকৃত শুল্ক-করাদি অব্যাহতির প্রজ্ঞাপন দুটি সয়াবিন ও পাম অয়েলের ক্ষেত্রে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রযোজ্য ছিল।
ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাসাধারণের জন্য ভোজ্য তেলের মূল্য সহনীয় রাখার উদ্দেশ্যে সেগুলোর পাশাপাশি এবার অপরিশোধিত/পরিশোধিত সূর্যমুখী তেল ও ক্যানোলা তেলের আমদানির ওপরও বিদ্যমান শুল্ক-কর ও মূসক হ্রাস করা হলো।
আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী দর বিবেচনায় নিয়ে পবিত্র রমজান মাসে এই পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে নতুন প্রজ্ঞাপন তিনটির মেয়াদ আগামী ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়েছে।
সূর্যমুখী ও ক্যানোলা তেলের কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করায় এবং মূল্য সংযোজন কর হ্রাস করার ফলে এ সকল তেলের আমদানি ব্যয় লিটার প্রতি ৪০-৫০ টাকা হ্রাস পাবে।
এই পদক্ষেপের ফলে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারমূল্য সর্বসাধারণের জন্য সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
আরও পড়ুন: ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের
৬৮৭ দিন আগে
ভোজ্যতেল আমদানিতে ভ্যাট কমাল সরকার
সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে সরকার।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লেনদেনে ভ্যাট কমানোর পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
একই সঙ্গে আমদানিভিত্তিক ভোজ্যতেল উৎপাদন ও ব্যবসায় ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হ্রাসকৃত ভ্যাট চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ভোক্তাদের কাছে চিনির দাম সহনশীল করার লক্ষ্যে গত ৯ অক্টোবর পরিশোধিত ও কাঁচা চিনি আমদানিতে রেগুলেটরি ডিউটি ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে এনবিআর।
৭৪৭ দিন আগে
শিগগিরই ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ ও খেজুরের দাম কমবে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল প্রতি লিটারের দাম ১৬৩ টাকা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।
শনিবার(২ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নারী উদ্যোক্তাদের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি সপ্তাহে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আসবে। ফলে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এ ছাড়া আগামী দুই দিনের মধ্যে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১৬৩ টাকা দরে বিক্রি হবে।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ত্রয়োদশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ওএমএস কর্মসূচির জন্য ১.১০ কোটি লিটার সয়াবিন তেল ও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে টিসিবি
সেখানে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, তিনি ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশকে দিতে চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল তারা সেই চিঠি পেয়েছেন। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি সপ্তাহ থেকে দেশে পেঁয়াজ আসবে।
শুল্ক ছাড় দিয়ে বাজারে নির্দিষ্ট ধরনের খেজুরের দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজারে অন্তত ১০ ধরনের খেজুর আছে। এর মধ্যে বস্তায় বস্তায় আসা জায়েদি খেজুরের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রপ্তানিতে নতুন পণ্য বাছাইয়ে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী
৯৭৬ দিন আগে