ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
১৯ ঘণ্টা আগে
প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিতকরণে ভোট দেবেন মার্কিন সিনেটররা
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত বিষয়ে বিতর্ক স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে এবং ভোট হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। অনেক আইনপ্রণেতা ও মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ হামলার সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের সংবিধানিক ভূমিকা পুনঃস্থাপনের জন্য ভোট প্রয়োজন, যা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের অধিকার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস করা দুরূহ হয়ে উঠবে। আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ভোট গ্রহণের আয়োজন করছেন।
এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপার বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মে সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক অভিযান। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজারেরও অধিক সৈন্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলায় ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কুপার দাবি করেছেন, তেহরানের হামলার ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে।
মার্কিন সমারিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।
১ দিন আগে
‘সংঘাত গভীরতর’, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর তিনি দেশটির অবশিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) তিনি এ কথা জানান। এমন সময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন যখন ইরানের শহরগুলোতে দ্বিতীয় দিনের ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছে এবং তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
আজ (সোমবার) লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আগের দিন খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেন, বর্তমানে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। আমরা নিজেদের রক্ষা করছি এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত শুরু করেনি। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালানোর খবর অস্বীকার করেন।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জানান যে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা একাধিক শহরের বেসামরিক এলাকাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বোমাবর্ষণের দ্বিতীয় দিনের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণের শহর মিনাবের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতদের মধ্যে খামেনি ছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শাসন করছিলেন তিনি।
বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করছিল।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খামেনি যখন তেহরানে তার কার্যালয়ে শীর্ষ প্রতিরক্ষা সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন, তখন সিআইএ ইসরায়েলকে সে তথ্য দেয়, যা হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বকে অপ্রস্তুত রাখতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল। অভিযানের দিন সকালে সেনা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল, তারা যেন তাদের গাড়িগুলো নিয়মিত জায়গায় পার্ক না করেন, যাতে ইরানের গোয়েন্দারা কিছু বুঝতে না পারে। এমনকি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বাড়িতেই অবস্থান করছেন—এমন ভুল তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তাদের বরাতে চ্যানেলটি জানিয়েছে, হামলার প্রথম ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ৩০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করে।
৩ দিন আগে
ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পের কি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—এ হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা!
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা শুরু করে। অপরদিকে, ইসরায়েল তাদের অভিযানকে ‘লায়নস র্যোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর এ হামলা হয় এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা দেখা যায়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। একইসঙ্গে সংবিধানের কিছু বিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ক্যাপিটল হিলে প্রতিক্রিয়া মূলত দলীয় বিভাজন অনুযায়ী এসেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই হামলাকে সমর্থন দিয়েছেন।
স্পিকার মাইক জনসন জানান, অভিযানের আগে প্রশাসন ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত উভয় দলের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে ব্রিফ করেছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করতে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ আনার আহ্বান জানান। অবশ্য রিপাবলিকানদের সীমিত সমর্থনের কারণে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে এবং তেল আবিবেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দরেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা পরিচালনা করছে। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনাকেও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—যা পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে ইরানের ১০-১২ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর বদলে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান ও নৌ-অভিযানের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দশ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, জরুরি হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমা ও সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
৩ দিন আগে
ট্রাম্পের ইরান হামলার নেপথ্যে
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যে, তারা একসঙ্গে দেশটির শীর্ষ নেতা এবং আলেমদের লক্ষ্য করতে পারবে।
দুইজন পরিচিত সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, ইসরায়েলিরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চলাচল পর্যবেক্ষণ করছিল। এরই মধ্যে তারা দেখতে পায়, শীর্ষস্থানীয় আলেম ও কমান্ডারদের একত্রিত অবস্থায় হামলা চালানোর একটি সুযোগের জানালা খোলা রয়েছে।
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) খামেনির প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত হলেও তাদের ধারণা ছিল যে, খামেনির মৃত্যুর পর কেউ তার উত্তরসূরীর প্রতি একইভাবে অনুগত থাকবে না।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, তেহরানের একটি স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলায় খামেনি এবং ৫ থেকে ১০ জন শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প পরে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন যে, খামেনি নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ওইদিন এক ভিডিওবার্তায় কয়েক দিনব্যাপী চলতে পারে—এমন এই অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প কেন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা শুরু করেছে, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ বলেননি। তবে খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগটি হামলার সময়সীমাকে ত্বরান্বিত করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার প্রেক্ষাপট
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ওমান দুই দেশের আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে সহায়তা করছিল। এক্স পোস্টে তিনি বলেন, আমি হতাশ। সক্রিয় ও গুরত্বপূর্ণ আলোচনা পুনরায় ব্যর্থ হয়েছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভালো নয়।
হামলাগুলো ঘটেছে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, যখন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জেরাড কুশনার জেনেভায় ওমানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। তারা বুঝতে চেষ্টা করছিলেন যে ইরান আলোচনায় বিলম্ব করছে কি না।
গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী চলা আলোচনায় উইটকফ এবং কুশনার ইরানকে তাদের তিনটি প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ফোরডো, ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ ধ্বংস করতে চাপ দেন। এ কেন্দ্রগুলো গত বছর ট্রাম্পের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ ছাড়াও অবশিষ্ট মজুদ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তারা।
তারা বলেছিলেন, যেকোনো চুক্তি হতে হবে স্থায়ী। ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় করা চুক্তির মতো কোনো ‘সানসেট প্রোভিশন’ (যে ধারার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর বিধিনিষেধ উঠে যায়) রাখা যাবে না। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু দিনশেষে উইটকফ এবং কুশনার হতাশ হন। পরবর্তীতে ট্রাম্পকে তার সামরিক বিকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
কুপার এই হামলার সাফল্যের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী ছিলেন।
হামলার পেছনের যুক্তি
শনিবার ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প অনেক কারণ বিবেচনা করে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রধান কারণ ছিল ইরানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ।
ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে। তারা এমনকি আমাদের সঙ্গে বা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলতে চায়নি।
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ‘শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে’—ইরানের এমন দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চিরস্থায়ীভাবে বিনামূল্যে পারমাণবিক জ্বালানি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ইরান তাদের সেই পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ করছে যা গত বছর ট্রাম্পের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ধ্বংস হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করত, ইরান আংশিক সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা কোনো চুক্তি চায় না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সত্যি বলতে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো বিকল্প ছিল না। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করতে পারি না, যেখানে এই লোকগুলোর কাছে কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই নেই, বরং প্রতি মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও রয়েছে। আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকব না এবং আমাদের আগে তারা আমাদের আঘাত করুক, সেটি হতে দেব না।
৪ দিন আগে
‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ কিউবা দখলের ‘আবদার’ ট্রাম্পের
বিএনপি সরকার গঠনের পর আগের সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া নয়, এমন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবদের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। এরা সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রায় সবার মেয়াদই চলতি বছরের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন গত সরকারের সময়ে সচিব হওয়া তিনজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রশাসনে ১৩টি সচিবের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের পদ খালি রয়েছে।
এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সচিব পদমর্যাদায় তিনজন সদস্যের পদ খালি রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য পদেও কোনো কর্মকর্তা নেই।
আবার জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদও শূন্য রয়েছে। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) জ্যেষ্ঠ সচিবদের পদটিও খালি রয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ পেতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। সরকার আস্থাভাজন হিসেবে অবসরে যাওয়া কিছু কর্মকর্তাকে এসব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ফেরাতে চাইছে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র।
তবে সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উদ্যোগের কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার এক দিন আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
৫ দিন আগে
ইরানে ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হামলা চালায় তারা।
প্রথম দৃশ্যমান হামলাটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর দিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। প্রকাশিত ভিডিওতে রাজধানী তেহরান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
এদিকে, ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের বাসভবন মার-আ-লাগো থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানে ‘বৃহৎ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে ‘ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি নির্মূল করে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া।’
ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, এই অভিযানে মার্কিনিদের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। সাহসী মার্কিন সেনানায়কদের প্রাণ হারাতে হতে পারে, হতাহতও হতে পারে। যুদ্ধে এমনই ঘটে।
একইসঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনা এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকেও হুমকিতে ফেলতে পারে।
শনিবারের হামলাকে তিনি ‘বৃহৎ ও চলমান অভিযান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর উদ্দেশ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও শিল্পভিত্তি ধ্বংস করা, নৌবাহিনীকে অকার্যকর করা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পথ রুদ্ধ করা।
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘অস্ত্র সমর্পণ করুন, নয়তো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন।’ সেই সঙ্গে ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নতুন হামলার পটভূমি
হামলার আগের দিন শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হোয়াইট হাউস ত্যাগের সময় তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের যা দরকার তা দিতে রাজি নয়। এতে আমি সন্তুষ্ট নই। তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে না।’
সে সময় সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যদিও সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।
গত জুন মাসে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ইরান দাবি করেছে, এরপর থেকে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে। কিন্তু ওই সময় বোমাবর্ষণের শিকার স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
ইরান বর্তমানে স্ব-আরোপিত সীমাবদ্ধতায় তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সীমিত রেখেছে। এরপরও মধ্যপ্রাচ্যের পুরো অঞ্চল এবং পূর্ব ইউরোপের কিছু অংশ ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পড়ে।
আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের প্রকাশ্য প্রমাণ না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে।
ইরানের পাল্টা জবাব ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
হামলার পর ইরানের আধা-সামরিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানায়, তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রথম দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তবে তারপরও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল থেকে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের হামলার পর শুধু ইসরায়েল নয়, জর্ডানেও সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সৃষ্ট ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘এই যৌথ অভিযান সাহসী ইরানি জনগণের নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে।’
ইসরায়েলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। অবতরণের পথে থাকা উড়োজাহাজগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রতিবেশী ইরাকও তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, আকাশসীমা বন্ধের আগে সব বিমান চলাচল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা আবারও ইসরায়েল ও সমুদ্রপথ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করবে।
এ বিষয়ে হুথির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রথম হামলা আজ রাতেই হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এক সমঝোতার অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে হামলা স্থগিত করেছিলেন হুথি যোদ্ধারা।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটায়। জানুয়ারির শেষে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও তিনটি গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী রণতরী (ডেস্ট্রয়ার) ওই অঞ্চলে পৌঁছায়। পরে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও চারটি ডেস্ট্রয়ার ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়ে বর্তমানে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করছে।
এসব সমরযানে যুক্ত হয়ে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন হয়েছে।
কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হাজারো মার্কিন সেনাসদস্য অবস্থান করছেন। বড় আকারের হামলার উপযোগী শত শত যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজও সেখানে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সব কর্মীকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে কাতারে মার্কিন দূতাবাস। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদেরও একই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেহরাবাদ বিমানবন্দর এলাকায় দুটি ভারী বিস্ফোরণে জানালা কেঁপে ওঠার কথা জানান এক বাসিন্দা। ভানাক এলাকায় আরেকজন প্রায় একই সময়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা বলেন।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে সামরিক, কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে চলেছে।
৫ দিন আগে
আদালতের রায়ের পরও শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের
গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বিস্তৃত আমদানি শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর পরের দিনই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতে চান।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আদালত তার ক্ষমতায় লাগাম টানলেও তিনি শুল্ক বাড়ানোর নীতি অব্যাহত রাখতে চান। বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নতুনভাবে সাজানো এবং আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই তিনি শুল্ককে ব্যবহার করে আসছেন।
শুক্রবার আদালত জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রায় সব দেশের ওপর ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। তবে বিপরীতে তিনি জানিয়েছেন, তুলনামূলক সীমিত হলেও ভিন্ন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন তিনি।
আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে ভাষণ দেবেন। তিনি ইতোমধ্যে এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যার মাধ্যমে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ওইদিন থেকেই বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা যাবে। তবে আইন অনুযায়ী, এই শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যদি না আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
তবে শুল্ক ১৫ শতাংশ নির্ধারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প হালনাগাদ আদেশে কবে সই করবেন—এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি।
ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, আগের দিনের ‘অযৌক্তিক, দুর্বলভাবে রচিত এবং চরমভাবে আমেরিকাবিরোধী’ শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে রায় দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের এককভাবে শুল্ক নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা অসাংবিধানিক। কারণ কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
অন্যদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্য বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন এমন ফেডারেল আইনের অন্যান্য ধারার মাধ্যমেও তিনি শুল্ক আরোপের পথ খুঁজছেন।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসে ‘আইনসম্মত নতুন শুল্ক’ নির্ধারণ ও জারি করবে আমাদের প্রশাসন যা আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার আমাদের অসাধারণ সফল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মার্কিন প্রেডিডেন্ট তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বিচারপতিদের ওপর অস্বাভাবিক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছেন। এমনকি তার প্রথম মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি নিল গোরসাচ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেটকেও তিনি ছাড়েননি।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতি তাদের পরিবারের জন্যও একটি লজ্জাজনক বিষয়।
ওইদিন রাতে তিনি সামাজিকমাধ্যমে গরসাচ, ব্যারেট ও প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসকেও সমালোচনা করেন।
পরদিন (শনিবার) সকালে আরেক পোস্টে তিনি বিচারপতি ব্রেট কাভানফকে ‘নতুন নায়ক’ আখ্যা দেন, যিনি এই রায়ের বিপক্ষে ৬৩ পৃষ্ঠার একটি ভিন্নমত পোষণকারী নোট লিখেছেন। এ ছাড়াও তিনি বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং স্যামুয়েল আলিতোরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কারও মনেই সন্দেহ নেই যে তারা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে চান।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিতে শুল্ক ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মার্কিন উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং মাদক পাচার দমন বা দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বন্ধে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।
তবে তিনি বারবার বলেছেন, বিদেশি সরকারগুলোই এসব শুল্ক দেবে, মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়।
ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের আরোপিত আমদানি শুল্ক থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কোষাগারে ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি জমা হয়েছে। এই অর্থ জাতীয় ঋণ পরিশোধ বা করদাতাদের লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা এই বিপুল অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, ট্রাম্পের নতুন এই শুল্ক হুমকির পর ডেমোক্র্যাটরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হাউস ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, উচ্চ শুল্ক ঘোষণা করে ট্রাম্প ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছেন।’
তাদের ভাষ্য, শুল্ক অবৈধ ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি খরচ বাড়ানোর পথ খুঁজছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, তিনি আপনাদের কথা ভাবেন না।
১১ দিন আগে
তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক নির্বাচনি বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি মার্কিন জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং তার সফল মেয়াদ কামনা করছেন।
চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দুই দেশের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক সুফল বয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, তিনি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশকে উন্নতমানের মার্কিন সামরিক সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
চিঠির শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে আগামী দিনগুলোর জন্য শুভকামনা জানান।
১৪ দিন আগে
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ট্রাম্প-সমর্থিত নাসরি আসফুরা
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত ব্যবসায়ী নাসরি আসফুরা। শপথ নেওয়ার পর তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ দমন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্য দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলেও কূটনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শপথ গ্রহণের পর ৬৭ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের প্রিয় হন্ডুরাসের প্রতিটি প্রান্তে বাস্তব সমাধান পৌঁছে দিতে যে পূর্ণ অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা নিয়েই আমি দেশ পরিচালনা করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে হন্ডুরাসের এই রক্ষণশীল প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর আসফুরার ক্ষমতায় উত্থান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। এরপর ফল ঘোষণায় দেখা যায়, খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে জয় পান আসফুরা। নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগ তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আসফুরা ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল প্রার্থী সালভাদোর নাসরাল্লা পান ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট। নাসরাল্লা দাবি করে আসছেন, প্রকৃত প্রেসিডেন্ট তিনিই।
মঙ্গলবার আসফুরা বলেন, দক্ষতা বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের আকার ছোট করবেন এবং দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবেন।
৩৬ দিন আগে