ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চেয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিনে আজ মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের বৈঠক করার কথা। ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক মাসের যুদ্ধের পর দেশটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বর্তমানে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে। লেবাবননের সরকারের প্রত্যাশা, এসব আলোচনার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন হিজবুল্লাহর প্রভাব ছিল, সেখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় লেবাননের সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।
গত ২৬ জুন লেবানন ও ইসরায়েল একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ বা কাঠামোগত চুক্তি ঘোষণা করে। এতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি এই দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার রূপরেখাও এই চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৮০ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং তারা কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পাইলট জোনের (পরীক্ষামূলক এলাকা) আওতাভুক্ত তিনটি গ্রামে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এ কার্যক্রমের ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়নি তারা। ওই তিন গ্রামের মধ্যে ফ্রাউন ও স্রিফায় ইসরায়েলি সেনা নেই এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে জাওতার আল-ঘারবিয়াহ গ্রামের একটি অংশ এখনও ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাওতার আল-ঘারবিয়াহ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি চলছে। ইসরায়েলি সেনারা সরে গেলে ওই এলাকায় লেবাননের বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী যাতে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য পাইলট এলাকার একটি স্থানে আমাদের বাহিনীর অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা হবে। তবে কোন এলাকায় এ কার্যক্রম চলছে, তা উল্লেখ করেনি তারা।
লেবানন-সংক্রান্ত চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন
স্থানীয় সময় রবিাবর প্রেসিডেন্ট আউন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রুবিও জানান, লেবানন-সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে।
তিনি এ বৈঠককে খুবই ইতিবাচক বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ইস্যুর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লেবাননে কখনোই পুরোপুরি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।’
রুবিও বলেন, ‘হিজবুল্লাহর বিকল্প কীভাবে তৈরি করবেন? তাদের পরাজিত করতে সক্ষম, এমন একটি সরকার গড়ে তুলতে হবে। সেই সরকারই যেন দেশটির একমাত্র সশস্ত্র শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়।’
তবে লেবাননের অনেক বিশ্লেষকের আশঙ্কা, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এদিকে, দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোয় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। রুবিও-ও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু সামরিক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগগুলো আমরা কীভাবে লেবাননে আনতে পারি, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
গত সপ্তাহে পাইলট জোনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য কয়েকটি এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী তাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। সেখানে তাদের সেনারা টহল দিচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করেছে।
৮ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। ইরানের হামলার পর পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা ঘটেই চলেছে।
এদিকে, এই হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৪ ডলারের বেশি হয়েছে। যদিও যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, তবুও এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভিত্তিতে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিও আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ৬০ দিনের ওই চুক্তির প্রায় অর্ধেক সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ওই সমঝোতায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা আবু মুসা, বান্দার আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক এবং কোনারাক এলাকার আশপাশে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানও এসব এলাকায় হামলার বিষয় স্বীকার করেছে। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলাগুলো ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমে যাবে।
সামরিক বাহিনীর ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় হামলা। আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানছি। এই অভিযান চলতে থাকবে। এরপর কী হয়, সেটা দেখা যাবে। আমরা তাদের সব ধরনের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নিচ্ছি। আমরা সেখানে আবারও অবরোধ কার্যকর করছি।’
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। এতে আমাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে আমাদের অর্থ দিতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগ পর্যন্তও সেই নীতি বহাল ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান যে পক্ষই হোক, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবাধ নৌচলাচলের নীতির লঙ্ঘন হবে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, বারবারি যুদ্ধ এবং ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও হামলা শুরু
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ দুটি একটি মাইন পাতা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এরপর তাদের লক্ষ্যবস্তু করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজ দুটিকে বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা উপেক্ষা করছিল।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত নাবিক একজন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজেদের ভূখণ্ড ও জণগণের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিল আমিরাত। মঙ্গলবার সকালে দুবাইয়ের আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।
এদিকে, আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বুধবার পর্যন্ত সব ধরনের কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে মঙ্গলবার ভোরে বাহরাইনেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
হামলার সময় বাহরাইনে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। তবে এ হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটি ইরানের হামলারও শিকার হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে ইরান
সোমবার রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, গত মাসে হওয়া চুক্তি ইরানকে পরীক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আপনি যখন প্রতারকদের সঙ্গে কাজ করেন, তখন চুক্তির তেমন কোনো মূল্য থাকে না। তবে তারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন হলে ফি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবির বিরোধিতা করছে।
ইরানের অভিযোগ, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওমান উপকূল ঘেঁষে এমন একটি বিকল্প নৌপথ চালুর চেষ্টা করেছে, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে।
তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাই ইরান ওই বিকল্প নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এরপর ইরানও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আরব দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক এসব পাল্টাপাল্টি হামলা অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ তুলে নিয়েছিল, তা আবারও পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ পুনর্বহাল করছি। অন্য সব দেশ হরমুজ প্রণালি ন্যায্য ও উন্মুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হবে, তার খরচ ওঠাতে যুক্তরাষ্ট্র পণ্যবাহী জাহাজের কার্গোর মূল্যের ২০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ টোল পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুবাইয়ের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে অবরোধ আবারও কার্যকর করা হবে।
৭ দিন আগে
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ধাক্কা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এর মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী এজেন্ডার একটি প্রধান স্তম্ভ অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে আদালত।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসী ও অস্থায়ী বৈধ বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, এই আদেশ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর লঙ্ঘন।
রায়ে রবার্টস লেখেন, ‘অতীতে যেমন, এখনও তেমনই নাগরিকত্ব মানে অধিকার ভোগের অধিকার; আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এ দেশের “প্রত্যেক স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির” জন্য সেই প্রতিশ্রুতি সম্প্রসারিত করেছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছি।’
রবার্টসের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন উদারপন্থি বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কেগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট।
তবে রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ রায়ের সঙ্গে একমত হলেও আংশিক ভিন্নমত দিয়ে বলেন, নির্বাহী আদেশটি ফেডারেল আইনের পরিপন্থি হলেও সংবিধান লঙ্ঘন করেনি। এছাড়া অপর তিন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গরসাচ ভিন্নমত দেন।
১৯৪ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে প্রায় ৯০ পৃষ্ঠাই বিচারপতি থমাসের ভিন্নমত, যা সুপ্রিম কোর্টে তার দায়িত্বকালে সবচেয়ে দীর্ঘ ভিন্নমত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ‘দীর্ঘ ও জটিল কোনো সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন নেই। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মতো ব্যয়বহুল ও দেশের জন্য অন্যায্য ব্যবস্থা বন্ধে কংগ্রেসের আজই কাজ শুরু করা উচিত। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’
এদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাটরা এ রায়কে আধুনিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
মামলাটি পরিচালনা করে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনটির জাতীয় আইন বিষয়ক পরিচালক সিসিলিয়া ওয়াং এই রায়কে একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করেছেন।
ওয়াং বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্ত আমেরিকার একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে—আপনি যদি এখানে জন্ম নেন, তাহলে আপনি একজন নাগরিক। কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশ দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তার অভিবাসন নীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতার ব্যাখ্যা নতুনভাবে নির্ধারণ করা।
এর আগে তিনি বারাক ওবামা কেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য—এমন বর্ণবাদী প্রচারণা ছড়িয়েছিলেন। এমনকি কমলা হ্যারিসের জন্মের সময় তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে তিনি হ্যারিসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের যোগ্যতার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তার প্রশাসনের দাবি ছিল, চতুর্দশ সংশোধনীতে ব্যবহৃত ‘subject to the jurisdiction thereof’ বা ‘যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের অধীন’ বাক্যাংশের অর্থ হলো, যেসব শিশুর বাবা-মা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন না বা কেবল অস্থায়ী বৈধ মর্যাদা নিয়ে আছেন, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেন না।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নীতি কার্যকর হবে এবং এর ফলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া কয়েক লাখ শিশুর নাগরিকত্বের ওপর প্রভাব পড়বে।
তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে আদালতে এ আদেশের বৈধতা নিয়ে শুনানি চলার পর সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরাও চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার আওতায় জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন নাগরিক।
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, চতুর্দশ সংশোধনী ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসাংবিধানিক আক্রমণ’ প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান ‘অপব্যবহার’ হয়েছে।
সহমতসূচক পৃথক মতামতে বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন লেখেন, চতুর্দশ সংশোধনীর ‘সর্বজনীন লক্ষ্য’ বংশপরিচয়কে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি করার যেকোনো দাবির অবসান ঘটানোর জন্যই প্রণীত হয়েছিল।
২০ দিন আগে
চিড়িয়াখানা থেকে সাভার বিএলআরআইতে গেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ খ্যাত জাতীয় চিড়িয়াখানার বিরল প্রজাতির সাদা মহিষটি সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চিড়িয়াখানায় থাকা সাদা মহিষটি সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাণীটির সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রজনন কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নামের কারণে সাদা মহিষটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রাণীটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আলোচিত প্রাণী হিসেবে পরিচিত ছিল।
এর আগে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে থাকা বিরল অ্যালবিনো প্রজাতির সাদা মহিষের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। মাথার সামনের অংশের বিশেষ ধরনের চুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলিয়ে মালিক এর নাম দেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
পরে কোরবানি না দিয়ে প্রাণীটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৭ মে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রদর্শনের পর এটি দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সাদা মহিষটিকে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) স্থানান্তর করা হয়েছে।
২৮ দিন আগে
৩৯ দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি আদালতে বাতিল
৩৯টি দেশের অভিবাসীদের ওপর প্রভাব ফেলা ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অভিবাসন নীতি বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। ওই নীতির ফলে বহু দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ মে) এক শুনানিতে প্রধান জেলা বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র ওই নীতিটি বাতিল করে রায় দেন।
রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অগণিত অভিবাসীদের জীবনকে ‘অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে’ ফেলে দিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) আইন উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রায়ে বিচারক বলেন, ইউএসসিআইএস এমন আইনি ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতার দাবি করেছে, যা তাদের নেই। পাশাপাশি তারা প্রয়োজনীয় যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আবেদনকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করেনি। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সংস্থাটি এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে অভিবাসীবিরোধী মনোভাবকে আড়াল করে।
তিনি বলেন, আইনের ভাষায় ইউএসসিআইএসের এসব পদক্ষেপ বেআইনি, খামখেয়ালি ও অযৌক্তিক।
তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)।
গত বছর দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর হামলার ঘটনার পর প্রণীত ওই নীতির আওতায় আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কার্যত স্থগিত রাখা হয়েছিল।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সংগঠন ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কাই পেরিম্যান বলেন, ‘এই রায় একটি মৌলিক নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে—ফেডারেল সরকার আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না বা মানুষ কোথা থেকে এসেছে তার ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘এসব অবৈধ নীতি দেশজুড়ে পরিবার, কর্মী, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা প্রত্যেকে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে আটকা পড়েছিলেন; কাজ করতে পারছিলেন না, আইনি সুরক্ষা পাচ্ছিলেন না এবং নিজেদের জীবন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতেও পারছিলেন না।’
ইউএসসিআইএস যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত আবেদন অনুমোদনের দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনও মঞ্জুর করে থাকে। তবে সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে অভিবাসন বিচারকেরা সিদ্ধান্ত দেন। ফলে বর্তমান রায় তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেভ দালাল-ধেইনি বলেন, এই রায়ের ফলে শুধু মামলার বাদীরা নন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর ইউএসসিআইএসে বিচারাধীন সব আবেদনকারী উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, ‘আইনি অভিবাসনের পথগুলো যেন খোলা থাকে এবং ইউএসসিআইএস যেন কংগ্রেসের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয়।’
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অভিবাসনের মানদণ্ড কঠোর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য অন্যায্য ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের ছুটির মধ্যে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করার ঘটনায় একজন আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াবে।
মামলাটি খারিজ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল। সরকার তাদের আবেদনে যুক্তি দিয়েছিল, অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্বাহী শাখাকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং বিভিন্ন সুবিধা প্রদান বা প্রত্যাহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেয়।
রায়ের পর অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের সভাপতি জামাল আবদি বলেন, ‘এই রায় একটি শক্তিশালী নজির স্থাপন করল যে প্রশাসন কংগ্রেসের তৈরি করা আইনকে উপেক্ষা করতে পারে না এবং ডিক্রি জারির মাধ্যমে জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন সুবিধাগুলোকে খামখেয়ালিভাবে বন্ধ করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত এটি এখনও আইনের দেশ এবং যারা আমেরিকার মূল্যবোধকে ধারণ করেন, তাদের এই ধরনের বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার এবং প্রতিহত করার অধিকার রয়েছে।’
আফগান পুনর্বাসন সহায়তা জোট আফগানইভ্যাকের (#AfghanEvac) প্রধান ও মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য শন ভ্যানডাইভার বলেন, ‘টি আইনের শাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো আফগান মিত্রসহ অন্যান্য অভিবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়।’
ভ্যানডাইভার বলেন, ‘এই সপ্তাহেই ডালাস ও ফোর্ট ওর্থে আমরা এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা কাজের অনুমতি নবায়নে বিলম্বের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন। অনেক পরিবার তাদের শিক্ষা, ভ্রমণ এবং বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ তারা জানত না যে তাদের আবেদন কবে নিষ্পত্তি হবে। এমনকি নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেকের আবেদনও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল।’
৪৫ দিন আগে
লড়াই কমাতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপ এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের পর দুপক্ষই লড়াইয়ের তীব্রতা কমাতে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই দাবি করেন।
বিগত সময়গুলোর তুলনায় সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের মধ্যে তাদের সবচেয়ে গভীরে অনুপ্রবেশ করেছে। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কোনো ইসরায়েলি সেনা বৈরুতে যাবে না এবং যারা ওখানে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদের ইতোমধ্যেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সকল ধরনের গোলাগুলি ও সহিংসতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েল তাদের ওপর হামলা করবে না এবং তারাও ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাবে না।’
নেতানিয়াহু এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এটিকে সংযম হিসেবে দেখার চেয়ে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধ না হলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল আঘাত হানবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী’ তাদের কাজ চালিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ কথার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে উভয়পক্ষই একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি ভেঙে ইসরায়েল লেবাননে হামলা শুরু করলে হিজবুল্লাহ পুনরায় পাল্টা হামলা শুরু করে। যদিও ইসরায়েল নিজেদের এই হামলাকে আত্মরক্ষা হিসেবে চালিয়ে দিতে চাইছে, তবে এই লড়াই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত চুক্তির পথে একটি বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তেহরান চায়, যেকোনো চুক্তিতে লেবানন, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত থাকুক।
যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের দূতাবাসের জারি করা এক বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি প্রস্তাবে লেবানন কর্তৃপক্ষ হিজবুল্লাহর অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলা করবে না এবং হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে কোনো ধরনের সহিংসতা করবে না।
ট্রাম্পের বার্তার কয়েক মুহূর্ত পরই ইসরায়েল লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে এবং উত্তর ইসরায়েলের কিছু অংশের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) ও আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ওয়াশিংটনে বৈঠক করার কথা রয়েছে, যেখানে লেবাননের আলোচকরা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পাশাপাশি ইসরায়েলে হামলার পরিধি অনেকাংশে কমানোর ব্যাপারে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরও বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলের হামলার নির্দেশ
ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইসরায়েল সরকার বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলার নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে, ইসরায়েলের উপকূলীয় শহর হাইফার উপকণ্ঠসহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ।
এ বিষয়ে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আমাদের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলার পরই আমরা এই পাল্টা হামলার নির্দেশ দিয়েছি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র এক্সে একটি পোস্টে জানান, এখানকার সব বাসিন্দাদের শহরতলি ছেড়ে এখনই চলে যাওয়া উচিৎ। তিনি আরও বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলি জনবসতিতে হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইসরায়েলও হিজবুল্লাহ-সমর্থিত বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় ব্যাপক হামলা শুরু করবে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ওই সতর্কবার্তা দেওয়ার পর আজ (সোমবার) বিপুল সংখ্যক মানুষকে দাহিয়েহ থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এর ফলে ওই এলাকা থেকে বের হওয়ার সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মোহাম্মদ ফারহাত (২৩) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়েরর শিক্ষার্থী তার ভাই ও বাবা-মাকে নিয়ে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি হারেত হরিক থেকে পালিয়ে অন্য এক জায়গায় যাচ্ছিলেন।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চিন্তিত। আমি এতে অভ্যস্ত, কিন্তু মূলত আমার বাবা-মায়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে চলে যাচ্ছি।’
রাতভর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ
দক্ষিণ লেবাননে রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক সিরীয় নাগরিকসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
ইসরায়েল এই প্রধান শহরের কাছাকাছি অন্যান্য শহর ও গ্রামে আঘাত হেনেছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট প্রাসাদ এবং সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখল করা অন্যান্য শহরগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে বন্দর নগরী টায়ারে একটি বিমান হামলায় জাবাল আমেল হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্কিত নারী ও শিশুদের দেখা গেছে। সেই সঙ্গে হাসপাতালের জানালার কাঁচ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে উৎক্ষেপণ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সৈন্যরা যেখানে কাজ করছে, সেই এলাকায় একটি সন্দেহভাজন আকাশযান প্রতিহত করেছে। তবে তারা কোনো হতাহতের খবর পায়নি বলে জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহ আজ (সোমবার) ভোরে জানায়, তারা লিটানি নদীর ঠিক উত্তরে জাওতার আল-শারকিয়াহতে ইসরায়েলি সৈন্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সীমান্ত থেকে বেশ কয়েক মাইল দক্ষিণে তিবিরিয়াসে ইসরায়েলি সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের আসন্ন বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে ইসরায়েল-লেবানন প্রত্যক্ষ আলোচনার পরবর্তী দফার ঠিক আগেই সর্বশেষ এই হামলাগুলো ঘটল। হিজবুল্লাহ প্রত্যক্ষ আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইরানের চাপের ওপর ভরসা রাখছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধ অবসানের দাবি জানিয়েছে।
এপ্রিলে ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার আগে দেশদুটোর মধ্যে তিন দশকেও এমন কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গে আলাপকালে লেবাননের একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানান, তীব্র উত্তেজনা সত্ত্বেও বৈরুত সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানে ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি।’
ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক এক্স পোস্টে বলেন, ‘একটি ফ্রন্টে এর লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।’
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ ছিল লেবাননের রাজধানী
মে মাসে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে দুটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে তেমন কোনো বিমান হামলা হয়নি।
সৌদি আরব লেবাননে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, তারা এই ছোট ভূমধ্যসাগরীয় দেশে ইসরায়েলের প্রবেশকে ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলকে লেবাননের আরও ভেতরে যাওয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান মিত্র লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি চলতি সপ্তাহের রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ, ব্যাপক এবং তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতির’ গ্যারান্টি দিতে পারেন। কিন্তু ইসরায়েলকে তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে কে বাধ্য করবে?’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফাউন সোমবার বলেছেন, তার সরকার ‘সাধারণভাবে লেবাননের মানুষের, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কষ্ট’ দূর করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরে তিনি আলোচনার প্রতি বৈরুতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে একটি বিবৃতি জারি করেন এবং বলেন যে আলোচনা যুদ্ধের চেয়ে ‘নিরাপদ’।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের প্রবেশ লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং ২০০৬ সালের কাউন্সিলের প্রস্তাবকে লঙ্ঘন করে। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলকে লেবাননের সঙ্গে জাতিসংঘ-নির্ধারিত সীমান্তের দক্ষিণে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও ওই প্রস্তাব লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন, যা এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের নির্দেশ দেয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ যদি অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে এবং লেবানন সরকার দেশটিতে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে দেশের পুনর্গঠন এবং জনগণকে ঘরে ফিরিয়ে আনে, তবে উত্তেজনা হ্রাস ও দ্রুত শান্তি ফিরবে।’
জাতিসংঘে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমদ আরাফা ‘কূটনীতিকে একটি সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে গঠনমূলক প্রচেষ্টা’ এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উদ্যোগের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশংসা করেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে লেবাননে ৩ হাজার ৪৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে রাতভর হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় এক সৈন্য নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর সহজে শনাক্ত না হওয়া ফাইবার অপটিক ড্রোনের ব্যবহার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য মোকাবিলা করা কঠিন হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মতে, দক্ষিণ লেবাননে বা তার কাছাকাছি এলাকায় অন্তত ২৬ জন ইসরায়েলি সৈন্য এবং একজন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে ২ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
৪৯ দিন আগে
হামাসকে নিরস্ত্র করতে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চাইবে বোর্ড অব পিস
হামাসকে নিরস্ত্র করতে চাপ প্রয়োগের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ মে) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণ ও গাজায় বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি নয়। এ কারণে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা বোর্ড অব পিস গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে নিয়ে সংস্থাটির এই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের প্রধান বাধাগুলো হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হওয়া, গাজায় তাদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অনীহা এবং গাজাকে বেসামরিক প্রশাসনে রূপান্তরের সুযোগ না দেওয়া। এসব কারণেই সেখানে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
তবে হামাস এক বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এতে ‘ভুল তথ্য’ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটির সঙ্গে পরিচিত এক কূটনীতিক এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রতিবেদনটি এখনও প্রকাশ না হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতকায় হামাসকে অস্ত্র সমর্পণসহ তাদের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এ পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং দীর্ঘ যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি স্থবির হয়ে আছে
গত সপ্তাহে বোর্ড অব পিসের প্রধান ও সাবেক জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ জানান, অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করতে গিয়ে পুরো যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি থেমে গেছে।
নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস তাদের অস্ত্র জমা না দিলে গাজা পুনর্গঠন শুরু করা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কিছু চুক্তি সম্পন্ন হবে। এতে হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েল তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। একইসঙ্গে হামাস নিজেদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে শর্ত হিসেবে ধরেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বর্তমানে ভূখণ্ডটির প্রায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।
বোর্ড অব পিসের নতুন প্রতিবেদনে নিরাপত্তা পরিষদকে বলা হয়েছে, গাজায় সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র অপসারণ করা হলে যুদ্ধের সমাপ্তি হবে। পাশাপাশি অস্ত্র হস্তান্তর সম্পন্ন হলে গাজা পুনর্গঠন শুরু হবে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরির জন্য সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হামাসের দবি, যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিতেই এ প্রতিবেদন
এদিকে, হামাস জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি ভুল তথ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি দখলদার সরকারকে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায় অব্যাহতি দিতেই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয় তৈরিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। এই বিষয়গুলো প্রতিবেদনে উপেক্ষা করা হয়েছে।
হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, নিরস্ত্রীকরণ বিষয়টি নিয়ে করা পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে ভেস্তে দিতেই এমন অযৌক্তিক শর্তকে বার বার সামনে আনছেন তারা।
এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ ও নিকোলাই ম্লাদেনভের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হামাস বলেছে, ইসরায়েলকে আগে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে প্রতিদিনের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ
হামাস বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তারা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে আসছে। এছাড়া, গাজার মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছ্। এ বিষয়গুলোকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় এখনও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত এলাকার চেয়েও বেশি অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষই এখানে তাবু টাঙিয়ে বসবাস করছে।
গত সপ্তাহে নিকোলাই ম্লাদেনভ জানান, তার দপ্তর প্রতিদিন উভয় পক্ষের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা মোকাবিলা করছে। তবে এক্ষেত্রে তিনি নিরস্ত্রীকরণ বিষয়টিকেই কোনো সমাধান বের না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে কোনো আলোচনায় আসতে রাজি না। এ কারণেই গাজায় অন্যান্য বিষয়ে অগ্রগতি আটকে আছে।
৬২ দিন আগে
কোরবানির বাজারে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
নারায়ণগঞ্জে আলোচনার কেন্দবিন্দুতে পরিণত হয়েছে খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ। নারায়নগঞ্জবাসীর আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এই মহিষটি। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এলবিনো জাতের মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে সরেজমিনে গিয়ে নানা জাতের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ কোরবানির পশুর পাশাপাশি দেখা মেলে ব্যতিক্রমী এই গোলাপি মহিষের।
সাড়ে তিন বছর বয়সী এলবিনো জাতের মহিষটির মাথার চুল তুলনামূলক বড়। খামারিরা তার নাম দিয়েছেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। মহিষটির চলাফেরাতেও আছে রাজকীয় ভাব।
খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর কোরবানির ঈদের এক মাস পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি কেনা হয়। এর পর থেকে খামারে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। মহিষটি ইতোমধ্যে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকায় ঢাকার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে ক্রেতা মহিষটি নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, মহিষটির মাথার সামনের চুল অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় আমরা ওর নাম রেখেছি ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বভাবও তেমন শান্ত। এটি এলবিনো জাতের মহিষ। এ জাতের মহিষ সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। উত্যক্ত না করলে সহজে আক্রমণাত্মক আচরণ করে না।
ব্যতিক্রমী নাম ও গোলাপি রঙের কারণে প্রতিদিনই খামারটিতে মহিষটি দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
শহরের পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই দেখতে আসছে। আমরাও দেখতে এসেছি।’
আরেক দর্শনার্থী সুলতানা আক্তার বলেন, মহিষটি দেখতে খুবই সুন্দর। চুলগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের মতো।
খামারের পরিচর্যাকারী কাউসার মিয়া বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পর বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। প্রতিদিন দুই বেলা সময় মেনে তাকে খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুষি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হচ্ছে।
রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তাদের খামারে প্রায় ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সবার আগ্রহের কেন্দ্র এখন গোলাপি মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রতিদিন অসংখ্য কৌতূহলী মানুষ মহিষটিকে শুধু একনজর দেখতে ভিড় করছেন খামারে। ব্যতিক্রমী মহিষটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার। ৬ হাজার ৫৩৫টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত আছে ১ লাখ ১৩ হাজার। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে নিয়ে আলোচনার কথাও তিনিও শুনেছেন বলে জানান।
৬৯ দিন আগে
সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: গ্রেপ্তার ব্যক্তি শিক্ষক ও প্রোগ্রামার
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজ চলাকালে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তার লিংকডইনের পোস্ট থেকে জানা যায়, তিনি পেশায় শিক্ষক এবং ভিডিও গেম ডেভেলপার।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে তার প্রোফাইল ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ছবিটিকে তাকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সময় ক্যাপ ও গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়। ওই প্রোফাইল ছবির সঙ্গে শনিবার রাতে ট্রাম্পের পোস্ট করা হোয়াইট হাউসে হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের সময় তোলা ছবির ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া গেছে।
অ্যালেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ডোমিঙ্গেজ হিলস থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি একটি খ্রিস্টান ছাত্র সংগঠন এবং ক্যাম্পাসের একটি সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক বিন তাং জানান, অ্যালেন তার কয়েকটি ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে খুবই ভালো ছাত্র ছিল। সব সময় সামনের সারিতে বসত, মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করত এবং প্রায়ই ইমেইলে পড়াশোনার বিষয়ে প্রশ্ন করত।
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটি শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং ভালো মানুষ ছিলেন। এই খবর দেখে আমি ভীষণ অবাক হয়েছি।’
কলেজ জীবনের শেষ বছরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি স্থানীয় টেলিভিশন অ্যালেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিল। সেখানে বয়স্কদের সাহায্যকারী নতুন প্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তিনি হুইলচেয়ারের জন্য নতুন ধরনের জরুরি ব্রেকের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া, ফেডারেল ক্যাম্পেইন তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একটি রাজনৈতিক কমিটিতে অ্যালেন ২৫ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।
অ্যালেনের অনলাইন বৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, তিনি গত ছয় বছর ধরে সি২ এডুকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি কলেজে ভর্তি-সংক্রান্ত পরামর্শ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সেবা দিয়ে থাকে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির একটি পোস্টে তাকে ‘মাসসেরা শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
এ ছাড়াও, লিংকডইনের একটি পোস্টে অ্যালেন উল্লেখ করেন, তিনি স্টিম প্ল্যাটফর্মের জন্য আণবিক রসায়নভিত্তিক একটি ভিডিও গেম তৈরি করেছেন। আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, তিনি মহাকাশকে প্রেক্ষাপট করে একটি নতুন ‘টপ-ডাউন শুটার’ কমব্যাট গেম তৈরির কাজ করছেন।
৮৬ দিন আগে
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সোমবার পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলেও এই সফরের খবরে চলতি সপ্তাহে শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সম্ভাব্য এই আলোচনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি তেহরান। এদিকে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। একদিকে ইরানের হামলার হুমকি, অন্যদিকে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
এর আগে, রবিবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
শনিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা নিজেরা (প্রণালি দিয়ে) চলাচল করতে না পারলে অন্যদের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন দফা আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্প লেখেন, ‘তারা যদি চুক্তি না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’
তবে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার এই সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস বা ভ্যান্সের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কারণে প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। এসব বিষয়ে দুই পক্ষ তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এনেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের আগেই ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফ বলেন, অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও শান্তি চায় তেহরান। তবে কূটনীতির ক্ষেত্রে কোনো পশ্চাদপসরণ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প যখন ঘোষণা দেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে বহাল থাকবে’, তখন ইরানও জানায় যে তারা প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ বহাল রাখবে।
শনিবার সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা হলেও দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালানোর পর অন্য জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে নিজেদের অবস্থানে ফিরে যায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করার পাশাপাশি পক্ষগুলোকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই শনিবার ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব পেয়েছে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে কাজ করছেন।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা ঘিরে আবারও ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল ইতোমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। তার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তেহরানের জন্য এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার। অন্যদিকে, ইরানকে চাপে ফেলতে অবরোধ দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থা আবারও পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন এবং লেবাননে ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৫ জন ইসরায়েলি এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
নতুন চুক্তির পথে অগ্রগতির চেষ্টায় পাকিস্তান
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সৃষ্ট অচলাবস্থার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য ‘দূর করার’ চেষ্টা করছে।
রবিবার ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ইরান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘নতুন প্রস্তাব’ তারা পর্যালোচনা করছে।
তবে সাইদ খাতিবজাদেহ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান তাদের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না এবং এ ধারণাকে তিনি ‘শুরু করার মতো কোনো বিষয়ই নয়’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় ইউরেনিয়াম-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তাব নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বলেন, ‘যেকোনো উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত।’
৯৩ দিন আগে