হত্যাকাণ্ড
গাজীপুরে খণ্ডিত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত, হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় পাওয়া খণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেই সঙ্গে কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেই রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত ডলি আক্তারের (৩০) কথিত প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)।
এ বিষয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি দা, মৃতদেহ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড), মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর এলাকায় হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের একটি খাল থেকে ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা খণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পরিচয় তখন শনাক্ত করা যায়নি।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে নিহতের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই।
বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, ডলি আক্তার জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) গেল ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী। পিবিআই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে তদন্তটি পরিচালিত হচ্ছে।
তদন্তে মিজানুর রহমান মিল্টনকে ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এবং মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানার বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার পৃথক ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিশনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বটি দা, স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলির এনআইডি কার্ড, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া স্যুটকেস কেনার বিষয়ে তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
৫ দিন আগে
খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা
খুলনা নগরীতে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. জলিল মুন্সি (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুর থানার কুলিরবাগান বটতলার অদূরে একটি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জলিল দৌলতপুর থানার সাধুবাগান এলাকার দিলু মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় পাটশ্রমিক ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুলিরবাগান এলাকায় জলিলের একটি পানের দোকান রয়েছে। আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য বের হন। কিছুক্ষণ পর তার ফোনে একটি কল আসে। ফোনকলে অপরপ্রান্তের ব্যক্তির তার সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়।
এরপর কুলিরবাগান বটতলা থেকে কিছুটা দূরে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবকের সঙ্গে জলিলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের একজন জলিলকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি করে। গুলি দুটি তার বুকের ডান পাশে ও পিঠের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কাউকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
৭ দিন আগে
তিন সপ্তাহ পরও উদঘাটন হয়নি বীনা রাণী হত্যার রহস্য
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রাণী রায় (৫৮) নামের এক গৃহকর্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। কারা, কী কারণে ও কী উদ্দেশ্যে ওই নারীকে হত্যা করেছে, তা এখনও অজানা। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা বাড়ছে নিহতের স্বজনদের।
গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর উপজেলার বরকইট গ্রামে নিজ ঘরে ধর্মীয় আচার হিসেবে মালা জপছিলেন বীনা রাণী রায়। ওই সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ছেলে তাপস কুমার রায় বলেন, ‘কারা ও কেন আমার মাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এ কারণে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেছি। কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও মায়ের হত্যার রহস্য জানতে পারিনি। আদৌ জানতে পারব কি না, সেটাও বুঝতে পারছি না।’
স্বামী দিলীপ কুমার রায় জানান, তিনি অবসরপ্রাপ্ত ডাকঘর কর্মী। তাদের তিন ছেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকায় বাড়িতে শুধু তারা দুজনই থাকতেন। ঘটনার দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। এ সময় তার স্ত্রী ঘরে বসে মালা জপছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে লোকমুখে জানতে পারেন, তার স্ত্রীকে কে বা কারা পিটিয়ে আহত করেছে। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, তার স্ত্রীর মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে এবং তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমার স্ত্রী ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল। সাধারণত পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া রাতে সে দরজা খুলত না। কিন্তু হামলার পর ঘরের দরজা স্বাভাবিকভাবেই খোলা ছিল। দরজা বা অন্য কোথাও ভাঙচুরের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। এ কারণে আমার ধারণা, পরিচিত কেউই তাকে হত্যা করেছে।’
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কি না, হামলাকারীরা কীভাবে ঘরে প্রবেশ করল, হত্যার পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।
কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারা এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া প্রশাসনের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি অনতিবিলম্বে প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করছি, মামলাটির তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে বিস্তারিত কিছুই বলা যাচ্ছে না।’
১০ দিন আগে
রংপুরে চারজনকে হত্যাকাণ্ডে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অধিকতর তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেবে এবং অল্প সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু।
তিনি বলেছেন, অন্য সব খুনের মতই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করবে সরকার।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সজাগ থাকতে হবে, তবেই মাদক কারবারী ও সেবনকারীদের অপরাধ কমে আসবে।
তিনি বলেন, গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। মাদকাসক্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই ওই বাড়িতে গিয়ে গণপতি চক্রবর্তীকে বিরক্ত করতেন। তাদের বাধা দিতে গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ মূল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমান সরকার এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং এর বিচারকাজও শেষ হয়েছে।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই এ ঘটনায় আর সন্দেহের কিছু নেই।
এ সময় রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু ও রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় ও বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় দুজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
২০ দিন আগে
চার খুনের রহস্য না কাটতেই অটোচালককে গলা কেটে হত্যা, আতঙ্কে রংপুরবাসী
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন না হতেই গলাকাটা অবস্থায় এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে গজঘণ্টা শান্তিপাড়া এলাকায় একটি বটগাছের নিচ থেকে মুখলেসুর রহমান (৬০) নামে ওই অটোরিকশা-চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মুখলেসুর রহমান গঙ্গাচড়া উপজেলার নবনীদাস গ্রামের মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শান্তিপাড়া এলাকায় নির্জন স্থানে বটগাছের নিচে মুখলেসুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক যুবক চিৎকার করে ওঠেন। পরে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থলে মুখলেসুরের অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। পুলিশ ধারণা করছে, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। রিকশাটি উদ্ধারে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহতের ভাতিজা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মুখলেসুর গত ২০-২৫ বছর ধরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর সবুর বলেন, মুখলেসুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৪ খুনের আসামির পক্ষে লড়বে না রংপুর আইনজীবী সমিতি
এদিকে, রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা নিকৃষ্টতম। আইনজীবী সমিতি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।
২১ দিন আগে
রংপুরে শিক্ষককে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি সুজনের
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
রবিবার (২৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারপারসন বিচারপতি এম এ মতিন ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল শনিবার রংপুর মহানগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া গ্রামের একটি ভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে হত্যার আলামত স্পষ্ট।
‘এই নৃশংস ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের ভাষা আমাদের জানা নেই’ উল্লেখ করে সুজন নেতারা বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী একটি দলের নেতৃত্বে ছয় মাসের বেশি সময় আগে সরকার গঠিত হলেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটেছিল, তা থেকে উত্তরণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের মতো অপরাধ প্রতিনিয়তই ঘটছে যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সুজনের পক্ষ থেকে সপরিবারে গণপতি চক্রবর্তীর হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষাসহ সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের মূল দায়িত্ব সরকারের। সরকার এ দায়িত্ব এড়াতে পারে না।
সুজনের নেতারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনকে হত্যাকাণ্ডটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
২৭ দিন আগে
ইয়াবা সেবন দেখে ফেলা ও বাধা দেওয়ায় শিক্ষক পরিবারের চারজনকে খুন: পুলিশ
রাতের নীরবতা ভেঙে ছাদে শব্দ। শব্দ শুনে দেখতে গিয়েছিলেন সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। ছাদে গিয়ে দেখলেন, পরিচিত দুই তরুণ ইয়াবা সেবন করছে। বাধা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একে একে নিভে যায় একটি পরিবারের চারটি প্রাণপ্রদীপ।
পুলিশ বলছে, নিজেদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের শিশুসন্তানকে হত্যা করে দুই তরুণ। পরে লুটের নাটক সাজিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৫) এবং জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশকে হত্যার ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। আজ রবিবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন, আর সিদ্ধার্থ পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে ছাদে যান গণপতি। তাদের বাধা দিলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
গণপতির চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়েকে এবং সর্বশেষ ১২ বছরের শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রিয়ম আসামিদের চিনত। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তাকেও হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পরও ওই বাড়িতেই ছিলেন দুজন। তারা গোসল করেন, খেজুর খান এবং ইয়াবা সেবন করেন। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। যাওয়ার আগে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, ঘরে পাওয়া একটি স্বর্ণের চুড়ি আগুনে পরীক্ষা করার আলামত থেকেই তদন্তে নতুন সূত্র মেলে। পরে সিদ্ধার্থের স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে আসে। লুট করা স্বর্ণালংকার তাদের দেখানো মতে একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া বাড়ির দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, আলামত নষ্ট করতেই এমনটি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত, খেজুরের বিচি ও কামড় দেওয়া শসাও উদ্ধার করা হয়েছে। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘হত্যার আগে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নগরের একটি বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিল। পরে মাছুয়াপাড়ায় এসে আবার ইয়াবা সেবন করে। পুলিশ ইয়াবা সরবরাহকারী হিসেবে খুশি ওরফে প্রশান্তর নামও পেয়েছে। তদন্তে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।’
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
২৭ দিন আগে
রংপুরে এক পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার, ডাকাতি করতে গিয়ে হত্যা সন্দেহ পুলিশের
চারজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ। বাড়িতে সাড়া নেই, ভেতর থেকে আসছিল পচা দুর্গন্ধ। স্বজনেরা খুঁজতে এসে প্রাচীর টপকে বাড়িতে ঢুকে দেখেন, ঘরে, চিলেকোঠা ও ছাদে পড়ে আছে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ। পুলিশের ধারণা, তিন-চার দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মন্দির এলাকায় একটি বাড়ি থেকে শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন: রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
পুলিশ বলছে, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র এলোমেলো এবং টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজ বাড়িতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের কাউকে মোবাইল ফোনে কল করে না পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। তারা বাড়িতে এসে প্রধান দরজা বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকেন। পরে ঘরের জানালা খুলে ভেতরে সবকিছু এলোমেলো ও দুর্গন্ধ দেখতে পান। একপর্যায়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
পরে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখার সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান।
ঘটনাস্থলে গণপতি চক্রবর্তীর ভাবি শেফালী রানী বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে তারা খবর পান, বাড়ির কেউ ফোন ধরছেন না। পরে মেয়ে ও জামাইকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে সেখানে আসেন তিনি।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা রানী বলেন, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রথমে তিনি বোনকে ফোন করেন। ফোন বন্ধ পান। পরে ভাগ্নি, দুলাভাই ও ছোট ভাগ্নেকে ফোন করেও সবার ফোন বন্ধ পান। এতে তার সন্দেহ হয়। এরপর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান তিনি।
মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমূল কাদের বলেন, পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাদে একজন, চিলেকোঠায় দুইজন ও ঘরে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে বলা যাচ্ছে না কীভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে লাশ দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, তিন-চার দিন আগে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, বাড়ির যেসব স্থানে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণ রাখা হয়, সেগুলো ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো পাওয়া গেছে। বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। ডাকাতির ঘটনা হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তদন্ত না করে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
২৭ দিন আগে
সাভারে ‘ছাদ থেকে ফেলে’ ছাত্রদল নেতাকে হত্যা: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক। গত শনিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়। তারা নিখোঁজ ওই কিশোরীকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে ছিলেন।
নিহত মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী নিখোঁজ হয়। ওই ঘটনায় কিশোরীর বাবা মিন্টু মিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় সাভারে কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার ৯ সদস্যের একটি দল সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে যায়। অভিযানের সময় সেখানে সাভার থানা-পুলিশও ছিল।
পুলিশ জানায় যায়, অভিযান চলাকালে ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। সে সময় তারা মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, মনোয়ারুলকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ারুলের ভাই মমদেল হোসেন বলেন, কিশোরীটির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগ্নে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সম্পর্ক ছিল। তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন।
এ ঘটনার পর গেল শনিবার সকালে মনোয়ারুলের স্বজনেরা তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে থাকা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৪০ দিন আগে
স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ৬ টুকরা: স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর মহাখালী এলাকায় স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ ছয় টুকরা করার দায়ে ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।
আসামি শিল্পী গ্রেপ্তারের পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি ড্রামের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ।
একই দিন রাত ১১টার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উরু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই পা এবং কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। পরে পৃথক স্থানে মরদেহের মাথাও উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ তদন্ত শুরু করে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে শিল্পী পুলিশকে জানান, পারিবারিক কলহ, অর্থ নিয়ে বিরোধ এবং স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি অটোরিকশাচালক স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ ছয় টুকরা করে বিভিন্ন ব্যাগ ও একটি পানির ড্রামে ভরে রাখেন।
পরে ১ হাজার ৩০০ টাকায় একটি রিকশা ভাড়া করে মরদেহের মূল অংশ মহাখালীর আমতলী এলাকায় ফেলে দেন। পরে মহাখালী এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত ও দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে যান। এরপর মরদেহের মাথা গুলশান লেকে ফেলে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন।
এ ঘটনায় নিহত ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ২০২১ সালের ১ জুন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত শেষে ডিবির পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর শিল্পীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
৭৯ দিন আগে