বিক্ষোভ কর্মসূচি
ইসলামী ব্যাংকের সামনে টানা দ্বিতীয় দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের একদল গ্রাহক নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মতিঝিলের দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন।
তাদের অভিযোগ, ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনে অনিয়ম হয়েছে। তারা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ জলকামান, সাঁজোয়া যান এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।
বিক্ষোভকারীরা খুরশীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলেন এবং তাকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানান।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
২ দিন আগে
২৩ মে সারা দেশে হেফাজতের বিক্ষোভ কর্মসূচি
নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগামী তিন মাসের মধ্যে বিভাগীয় সম্মেলন এবং নারী সংস্কার কমিশন বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আগামী ২৩ মে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
শনিবার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশে নতুন এই দুই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির মহাসচিব সাজিদুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আগামী তিন মাসের মধ্যে বিভাগীয় সম্মেলন করা হবে। আগামী ২৩ মে বাদ জুমা চার দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
এর আগে, হেফাজত ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত নারী কমিশনের সুপারিশ বাতিলসহ ১২ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
মহাসমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো নীতি বাস্তবায়ন করা যাবে না। এক্ষেত্রে আমরা কোনো ছাড় দেবো না। এই বিতর্কিত কমিশন ও কোরআনবিরোধী প্রতিবেদন অবিলম্বে বাতিল করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অংশীদার আলেম-ওলামার পরামর্শ নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করুন।
আরও পড়ুন: পাঁচ দাবিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ চলছে
পাশাপাশি শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা। বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
বক্তারা বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য কমিশন হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার জন্য কমিশন হয়েছে, কিন্তু মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের জন্য কেন তদন্ত কমিশন গঠন হবে না?
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হলেও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। এসব মামলা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তারা।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন সম্পর্কে সমালোচনা করে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেন, নারীবিষয়ক যে সংস্কার কমিশন, তাতে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা কুরআন-সুন্নাহবিরোধী। তাদের সংস্কার প্রতিবেদন যদি পাস করা হয় তাহলে জীবন দিয়ে তা রুখে দেওয়া হবে। মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে হেফাজতে ইসলাম।
মহাসমাবেশ থেকে ফিলিস্তিন ও ভারতে ‘মুসলিম গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধে’ সরকারকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
৩৯৭ দিন আগে
গাজীপুরে হেফাজত-পুলিশ সংঘর্ষ: ২৮১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২১
গাজীপুর মহানগরের চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় শুক্রবার দুপুরে হেফাজত কর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৮১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এসআই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে বাসন থানায় ওই মামলা করেন।
আরও পড়ুন: হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি শেখ সেলিমের
বাসন থানার ওসি মো. কামরুল ফারুক জানান, সরকারি কাজে বাঁধা দেয়ায় ও দাঙ্গা করার অপরাধে ওই মামলা করা হয়েছে।
মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০/২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ওইদিন মামলার ২১ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
আরও পড়ুন: হাটহাজারীতে মাদরাসা ছাত্রদের হত্যা: ওসির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি হেফাজতের
গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার থোয়াই অং প্রু মারমা জানান, হেফাজত কর্মীরা চান্দনা ঈদগাহ মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। পরে তারা পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গিয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা করে। এসময় ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাদের উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে তারা। এতে কমপক্ষে ৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। তখন পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে মৃদু লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। হেফাজত কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে।
আরও পড়ুন: হেফাজতের হরতাল: নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-র্যাবের ৬ মামলা
অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলামের গাজীপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন খান জানান, শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুমার নামাজের পর গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় হেফাজত কর্মী ও হেফাজতপন্থী মুসল্লিরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ঈদগাহ ময়দানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য অবস্থান নেন। এসময় পুলিশ গিয়ে আকস্মিকভাবে তাদের কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে অন্তত ১৫ জন হেফাজত কর্মী আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিলেটে হরতালে হেফাজত-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, আটক ৫
এসময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে তাদের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও প্রায় আধাঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয়।
১৮৮৮ দিন আগে