গাইবান্ধা
গাইবান্ধায় শিয়ালের কামড়ে আহত ৫
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে লোকালয়ে ঢুকে শিয়ালের আক্রমণে এক দম্পতিসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মনজু মিয়া নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের সোনারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন: জামুডাঙ্গা গ্রামের সোনারপাড়ার মৃত আব্দুল জলিল আকেন্দরের ছেলে মনজু মিয়া, তার স্ত্রী তানসি বেগম, ভাই রনজু মিয়া, তার স্ত্রী রিক্তা বেগম ও শহিদুল ইসলাম।
আহতদের স্বজনরা জানান, দুপুরে মনজু মিয়া তার ধানখেত দেখতে গেলে হঠাৎ একটি শিয়াল তাকে আক্রমণ করে। শিয়ালটি তাকে কামড় ও আঁচড় দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। সে সময় তার চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে শিয়ালটি তাদেরও আক্রমণ করে। এতে স্বামী-স্ত্রীসহ আরও চারজন আহত হন। পরে স্থানীয়দের তৎপরতা চালালে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।
মনজু মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম তিতু বলেন, ‘হঠাৎ করে লোকালয়ে শিয়ালের আক্রমণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
৩ দিন আগে
গোবিন্দগঞ্জে ইউএনওর ওপর বালুদস্যুদের হামলা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের লক্ষ্য করে ঢিল ও গাছের ডাল ছোড়া হয়।
পরে খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউএনওসহ অভিযানে থাকা সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার নেতৃত্বে উপজেলার ফুলবাড়ী ও দরবস্ত ইউনিয়নের কাটাখালি, হাতিয়াদহ, শাকপালা, বিশ্বনাথপুর, চকরহিমাপুর, চাঁদপুর, খলসী, বোয়ালিয়া ও সমসপাড়া এলাকায় করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত চারটি মেশিন ধ্বংস করা হয়।
অভিযান চলাকালে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্বনাথপুর এলাকায় একটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংসের সময় বালু উত্তোলনকারীরা বাঁধের ওপর থেকে ইউএনওসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের লক্ষ্য করে ঢিল ও গাছের ডাল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ড্রেজার মেশিন ধ্বংসের কাজে থাকা রাজু শেখ নামে এক শ্রমিক আহত হন। পরে হামলার খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউএনও ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের উদ্ধার করেন।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও বিষয়টি তেমন গুরুতর নয় বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, নৌকা থেকে পা পিছলে একজন আহত হয়েছেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
১১ দিন আগে
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার পেটে ২৫০ ঘরবাড়ি; খোলা আকাশের নিচে কাটছে জীবন
তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে মাত্র দুই দিনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অন্তত ২৫০টি ঘরবাড়ি ও জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে কাপাসিয়া, ভোরের পাখি ও লালচামার এলাকার বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে রাত-দিন কাটাচ্ছে। ঘরে খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই—নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো এসব মানুষের জীবন এখন মানবেতর।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই ঘরের চাল বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি। সর্বস্ব হারিয়ে কেউ নদীর পাড়ে, কেউ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নদীভাঙনে বাস্তুহারা মানুষের জন্য প্রতিদিন খিচুড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভাঙনের খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল বিতরণ করেছেন।
এদিকে, নদীভাঙনে শুধু বসতভিটাই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চলতি বছরে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অন্তত আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ছয়টি বিদ্যালয় রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে।
চরাঞ্চলের বালুচরে একসময় যেখানে ছিল বিদ্যালয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ-টেবিল আর শিক্ষার্থীদের কোলাহল, এখন সেখানে শুধু নদীর পানি। ইতোমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, সদর উপজেলার সীতাসতী এবং সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখিসহ আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে।
ভবন হারানো আটটি বিদ্যালয়ের কোথাও খোলা আকাশের নিচে, আবার কোথাও টিনের ছাপড়া তুলে চলছে পাঠদান। রোদবৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না। কোথাও একটি ছাপড়ার নিচে দুই শ্রেণির মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্কুল গেল, আশপাশের গ্রামও নদীতে চলে গেছে। আমাদের স্কুলের শিশুরা কে কোথায় চলে গেছে বলতে পারছি না। তবে এখনও চার টিনের ছাপড়ার নিচে দুই শ্রেণির চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ক্লাস চলছে।’
নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড গতকাল থেকে জিও ব্যাগ ফেলছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সাবেক ইউপি সদস্য রাজা মিয়া বলেন, ‘নদীতে সব চলে গেল, এখন বস্তা ফেলে রক্ষার কাজ শুরু করলেন।’
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা চরবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ জায়গা নির্ধারণের দাবি জানান।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, চলতি বছরের বন্যায় চরাঞ্চলের আটটি স্কুল নদীগর্ভে চলে গেছে। আরও ছয়টি বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।
১১ দিন আগে
গাইবান্ধায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, আহত ২
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল-আরোহী ও মাইক্রোবাসচালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাদুল্লাপুরে ছেলেকে মোটরসাইকেলে করে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গোলাম রব্বানী নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সাদুল্লাপুরে যাচ্ছিলেন। পথে নলডাঙ্গা থেকে আসা ফাতেমা পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি ছিটকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গোলাম রব্বানী নিহত হন।
মোটরসাইকেলের অপর যাত্রী তার ছেলে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত গোলাম রব্বানী সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজের হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে, সকাল ১০টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া সেতু-সংলগ্ন মাঝিপাড়া এলাকায় বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে মাইক্রোবাসচালক মাসুদ রানা নিহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধা থেকে যাত্রী নিয়ে আল হামরা পরিবহনের একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি সাকোয়া সেতু এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসচালক মাসুদ রানা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের অপর এক যাত্রী আহত হয়েছেন।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
গাইবান্ধায় এক মাসে তিন নদীর পেটে ৯ স্কুল, ভাঙনের মুখে আরও ৬
ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই মাত্র এক মাসে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে এসব বিদ্যালয়ের অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ভাঙনের মুখে। সব মিলিয়ে ১৫টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গেল মঙ্গলবার সকালে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলেছে। এতে লাখ লাখ টাকার বিল তোলা হলেও বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ‘স্কুলটি রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবাই ঘোরে টাকার পেছনে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রক্ষায় লোক দেখানো কাজ করে বিল তুলে চম্পট দেয়। শেষ পর্যন্ত তিস্তা নদীর পেটে চলে গেল স্কুল ভবন। এতে শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল।’
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পাউবোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানানো হয়েছিল। পরে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা ভাঙন ঠেকাতে পারেনি। এরই মধ্যে তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় ভবনটি নদীগর্ভে চলে যায়।
এদিকে, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনেও চলতি মৌসুমে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার চর চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর খাটিয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর উপজেলার মোল্লারচর এলাকার সীতাসতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফুলছড়ি উপজেলার চর পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কটকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট নয়টি বিদ্যালয় গত এক মাসে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনে এসব বিদ্যালয়ের অনেক স্থাপনা ও আসবাবপত্র নদীতে চলে গেছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি, বেঞ্চ ও অন্যান্য সামগ্রী স্থানীয় শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, নদীগর্ভে বিলীন হওয়া নয়টি বিদ্যালয়ের অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর ত্রৈমাসিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়নি। সরকারি হিসাবে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত থাকার কথা বলা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।
স্থানীয়রা জানান, কোনো কোনো বিদ্যালয়ের জন্য নির্জন স্থানে অস্থায়ীভাবে চালা তৈরি করা হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল বা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষকদের উপস্থিতিও নেই। আবার চরাঞ্চলের প্রভাবশালীদের মধ্যে বিদ্যালয়গুলো কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ভাঙনের মুখে থাকা আরও ছয়টি বিদ্যালয় নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এগুলো হলো: চর পশ্চিম খাটিয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাউয়াবাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কটিয়ারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর ডাকুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এসব বিদ্যালয়ের আঙিনা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ও ভাঙন পৌঁছে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের টিন, বেড়া ও খুঁটি খুলে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলো রক্ষায় স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করা হলেও প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলার পর কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কারণে ওই এলাকার অনেক মানুষ নিজেদের বসতভিটা, বাড়িঘর ও আবাদি জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখন বিদ্যালয়গুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস বলেন, ‘ভাঙনে বিলীন হওয়া স্কুলগুলো সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুলের ভবন সরানো সম্ভব হয়নি, সেগুলো শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিগগিরই স্থানান্তর করা হবে।’
নদীভাঙনে স্কুল বিলীন হলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটা স্বাভাবিক নয়। অনেক বিদ্যালয় নির্জন স্থানে অস্থায়ী চালার নিচে কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় আসবাব নেই। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত যান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ বিদ্যালয়ের জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
২৯ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুথান দিবসে গাইবান্ধায় হট্টগোল
এনসিপি ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে হাতাহাতি এবং হট্টগোলের মধ্যদিয়ে আজ গাইবান্ধায় জুলাই গণঅভ্যুথান দিবস পালিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুদ্ধাহত জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
এর আগে, সকালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন, গাইবান্ধা জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ময়নুল হাসান সাদিক, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সংগঠন পৌর পার্কের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন গাইবান্ধার ৬ শহিদ জুলাই যোদ্ধা, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভা শুরু হলে উপস্থিত এনসিপির নেতাদের সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের তর্ক-বিতর্ক, হাতাহাটি ও হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ, বিএনপি নেতাকর্মীরা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়্ ।
পরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা গাইবান্ধায় ৬ শহিদ জুলাই যোদ্ধা পরিবারসহ ২৫২ জন জুলাই যোদ্ধাদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মান জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. ময়নুল হাসান সাদিক, সংসদ সদস্য মওলানা নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনসহ অন্যরা ।
জুলাইয়ের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্লাপুরের বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
৪৫ দিন আগে
গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের ৩১ স্থানে ফাটল, আতঙ্কে শহরবাসী
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৩১টি স্থানে বড় ধরনের গর্ত ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘাঘট নদীর পানির চাপে বাঁধ ভেঙে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, বাঁধ ভেঙে গেলে শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিকার হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
গাইবান্ধা পৌর বিএনপির নেতা শহিদুজ্জামান শহীদ জানান, শহর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ঘাঘট নদীর লুপ কাটিং করে শহরের শেষ প্রান্ত দিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এরপর গাইবান্ধা শহরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে ঘাঘট নদীতে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
তিনি বলেন, নদীর তীর রক্ষায় প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় কংক্রিটের (সিসি) ব্লক স্থাপন করা হয়। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কোটি কোটি টাকা জরুরি মেরামতের নামে ব্যয় করলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও ২০১৯ সালে বন্যার পানির তোড়ে গাইবান্ধা পৌর এলাকার কুঠিপাড়া এলাকায় ঘাঘট নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। তখন পানির স্রোতে বেশকিছু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ভেসে যায়। প্রবল স্রোতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বুকসমান ও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়।
সেদিন ঘাঘট নদীর পানি উপচে ডেভিট কোম্পানি পাড়া, স্টেশন রোড, ডিবি রোড, কাচারি বাজার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, হাসপাতাল, ভি-এইড রোড, মুন্সিপাড়া, পূর্বপাড়াসহ শহরের অধিকাংশ এলাকার বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ ও সরকারি-বেসরকারি অফিস পানিতে তলিয়ে যায়। এতে গাইবান্ধা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়ে।
৬৩ দিন আগে
তিস্তার তীররক্ষা বাঁধের শতাধিক স্থানে ধস, আতঙ্কে গাইবান্ধার লক্ষাধিক মানুষ
ভারী বর্ষণে গাইবান্ধার কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তানদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক স্থানে বড় ধরনের ধস শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাঙনও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে ৯৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধে মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করায় বর্তমানে বাঁধের বিভিন্ন অংশে নতুন করে ধস শুরু হয়েছে। এতে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ইসলাম বাঁধ রক্ষায় কংক্রিট ব্লক বসানোর কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেন। নিয়ম অনুযায়ী দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পাউবো কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম বাঁধের পাশ থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের সুযোগ করে দেন।
তিনি বলেন, সে কারণে ঠিকাদার যেনতেনভাবে বাঁধ নির্মাণ করে জুলাই আন্দোলনের আগে হাজার কোটি টাকার বিল তুলে চলে যান। নির্মাণের বছরই তিস্তা নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কংক্রিট ব্লক নদীতে ধসে যেতে শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর চাপে পাউবো তড়িঘড়ি করে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৪০ লাখ টাকার আলাদা বিল করেন। পরে সেই বিল অন্য ঠিকাদারের নামে তুলে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ইসলাম রংপুরে বদলি হয়ে চলে যান।
এ বছর বর্ষার শুরুতে ভারী বর্ষণে তিস্তা ও যমুনার তীররক্ষা বাঁধের কামারজানি থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর মওলানা ভাসানী ব্রিজ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার বাঁধের শতাধিক স্থানে ছোটবড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব খাদ ও গর্ত দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। তাতে বাঁধ আরও ভাঙনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বাঁধের এই ১৮ কিলোমিটার এলাকায় পশ্চিম পাশে খুব কাছে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। ইতোমধ্যে বাঁধের খুব কাছে গর্ত করে বালু উত্তোলন করে সেই বালু বাঁধে ব্যবহার করায় তিস্তা নদী তীর রক্ষার বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, শ্রীপুর, হরিপুর, চণ্ডীপুর, বেলকা, কছিমবাহার, বাবুর বাজার, লাল চামার, পুটিমারী, দত্তের খামার, গাছুর বাজার, জয়বাংলা ও বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় তিস্তা নদীর ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন যত প্রবল হচ্ছে, বাঁধের পাশের বাসিন্দারা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনের পাশাপাশি নদী তীররক্ষা প্রকল্পের বাঁধ ধসের কারলে আতঙ্কিত স্থানীয়রা দিনরাত বাঁধ এলাকায় পাহারা বসিয়েছেন।
পোড়ার চরের বাসিন্দা রেজাউল মেম্বার জানান, অনেক পরিবার নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধের ওপর এসে বসে থাকছেন।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজু মিয়ার অভিযোগ, তিস্তায় নদীরক্ষা বাঁধ যখন নির্মাণ করা হয় তখন আমরা বাধা দিয়েছি, কারণ কাজ হয়েছে নিম্নমানের। যেখানে মাটি দেওয়ার কথা, সেখানে বালু দেওয়া হয়েছে। মোটকথা, বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে ওপর দিয়ে শুধু মাটি ছিটিয়ে দিয়ে হাজার কোটি টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা কোনো কথা বলতে গেলেই পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল ও ঠিকাদারের মাস্তান বাহিনী সাধারণ মানুষকে কোনো পাত্তা দেয়নি।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, তখন যদি বালু না দিয়ে মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করা হতো, তাহলে আর ধসের মুখে পড়তে হতো না। নদীর তীররক্ষা বাঁধের কংক্রিট ব্লকের বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হতো না। কিন্তু কাজটি করা হয়েছে শুধু লুটপাটের জন্য; পেট ভরেছে ঠিাকাদার আর কর্মকর্তাদের। এখন ভুগতে হচ্ছে আশে পাশের লাখ লাখ মানুষের। সারা রাত মানুষ বাঁধে বসে থাকে, কখন বালুর বাঁধ নদীর প্রবল স্রোতে ধসে যায়, সেই আতঙ্কে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ৬০টি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া ১৮ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধে রেইন কাট হয়েছে। তবে ভাঙন প্রতিরোধ ও ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।’
৬৭ দিন আগে
তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৬ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে উত্তরের চার জেলা—রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় চরাঞ্চলের ৬ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব এ তথ্য জানিয়েছেন।
৮৮ দিন আগে
গাইবান্ধায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল চালানো ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই শাকিব শাহরিয়ার (২২) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পৌর এলাকার মাগুরা কেশবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিব শাহরিয়ার ওই এলাকার এরশাদুল হক লিটনের বড় ছেলে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসান হাবীব সরকার জানান, গতকাল (বুধবার) রাত সাড়ে ৩টার দিকে মোটরসাইকেল চালানোসহ পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাই রাকিব বড় ভাই শাকিবকে ছুরিকাঘাত করে। এতে শাকিব গুরুতর আহত হন।
তাকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
৯৩ দিন আগে