পটুয়াখালী
আইফোন কিনতে দেড় বছরের শিশুকে বিক্রি করলেন বাবা
সকালে দাদি মাহফুজা বেগমের কাছে গিয়ে বাবা বলেছিলেন, ‘মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব।’
দেড় বছরের শিশু মুসাকে সাজিয়ে দেওয়ার পর তাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বাবা মো. মারুফ। কিন্তু দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও বাবা-ছেলের কেউ আর বাড়িতে ফেরেননি।
উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা শুরু করেন খোঁজাখুঁজি। এরপর তাদের সামনে আসে আরও বিস্ময়কর এক অভিযোগ—আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন মারুফ।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় গতকাল শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
শিশুটির দাদি ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গতকাল সকাল ৮টার দিকে মারুফ মুসাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময়েও তাদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি শিশুটির বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি বলে পরিবারের দাবি।
তবে পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ স্বীকার করেন যে, আইফোন কেনার জন্য তিনি তার ছেলে মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে বিক্রি করেছেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি পুরোনো আইফোন বদলে নতুন একটি আইফোনও কিনেছেন মারুফ।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন মারুফ। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়।
তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর কিছুদিন বাড়িতে থেকে মারুফ ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
মাহফুজা বেগম বলেন, ‘শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব। এরপরে পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি।’
তিনি বলেন, খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে বিক্রি করেছেন বলে মারুফ স্বীকার করেছেন। এই বৃদ্ধা বলেন, ‘আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’
অন্যদিকে, শিশুটিকে কেনার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন মুঠোফোনে বলেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে শিশুটিকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন।
তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই উল্লেখ করে ইমরান দাবি করেন, এ কারণেই মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে শিশুটিকে নিয়েছেন। পরে শিশুটিকে তার শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর আগে মারুফ সাভার থেকে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে আনেন। পরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সরেজমিনে কাজ করছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৫ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে ২৫ মহিষ অসুস্থ, ৩টির মৃত্যু
পটুয়াখালীর বাউফলে চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘাস খেয়ে অন্তত ২৫টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তিনটি মারা গেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট)বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লাল চরে এ ঘটনা ঘটে।
মহিষের রাখাল, মালিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাল চরে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়েই মহিষগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে।
প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও রাখালরা শতাধিক মহিষকে ঘাস খাওয়াতে লাল চরে নিয়ে যান। পরে ঘাস খাওয়ার পর প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের একটি করে মহিষ মারা গেছে। আরও কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাখাল ও পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল এবং ওই ঘাস খাওয়ার কারণেই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে।
চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে লাল চরে মহিষ পালন করছেন। শত শত মহিষ নিয়মিত চরের ঘাস খেয়ে থাকে, কিন্তু আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, ‘শত্রুতার কারণে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে তার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্যগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের চিকিৎসা চলছে।
উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭ দিন আগে
পটুয়াখালীতে গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের অভিযোগে জামায়াত নেতাকে মারধর
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূর সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত প্রেমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হয়েছেন ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদা।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ফারুক হোসেন দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।
স্থানীয়রা জানান, এক গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে স্থানীয় কয়েকজন ফারুক হোসেনকে আটক করে মারধর করেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির ৪ থেকে ৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার একটি বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে এক নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ আমাকে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছিল। পরে আমি সরে গেছি। আমাকে কোথাও হাতেনাতে ধরতে পারেনি। এরপরও তারা আমার বিরুদ্ধে গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মারধর করেছে।’
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম দাবি করেন, ফারুক অনেক দিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিরক্ত করতেন। বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখাতেন এবং তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। আশপাশের লোকজন আগে থেকেই বিষয়টি আমাদের জানিয়েছিল, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনি। পরে ফারুকের ছেলে আমার ছেলেকে কিছু ছবি দেখায়, এরপর আমরা বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও তিনি আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩৬ দিন আগে
জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা, যা বললেন কাফি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জমি দখল, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মো. মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও ভাই মাটি কাটার ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে বিদ্যালয়ের দাবি করা জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে মাটি কেটে জোরপূর্বক চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেন তারা।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কয়েকজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং অশালীন আচরণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, পরে অভিযুক্তরা প্রায় ৬ শতক জমির মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকলেও জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে, প্রশাসন ও আদালত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত তার করুক। তদন্তে যা সত্য প্রমাণিত হবে, দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি সেই রায় মেনে নেব।’
কাফি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও জমি দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার কখনও সামনাসামনি কথাও হয়নি। স্থানীয় লোকজনই বলতে পারবেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, যাদের কাছ থেকে আমি জমি কিনেছি, তারা উচ্চ আদালতসহ তিনটি আদালতে রায় পেয়েছেন। তারাই আমাকে প্রায় ছয় শতক জমি চলাচলের রাস্তা নির্মাণের জন্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাদের উপস্থিতিতেই আমি রাস্তা নির্মাণ করেছি। আমি কোনো জমি দখল করিনি।
পরিবারের সদস্যদের আসামি করার বিষয়ে কাফি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি আমার নামে। সেখানে আমার বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কোনো মালিকানা বা সংশ্লিষ্টতা নেই। তারপরও তাদের আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করে কলাপাড়া থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত শেষে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
৪৪ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ ও চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২৭) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলায় মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঠালতলী বাজারে মাহাবুবের একটি ফার্মেসি রয়েছে। ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি তিনি নিজেকে ফকির (কবিরাজ) পরিচয় দিয়ে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও তাবিজ-কবচ দেন। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং নিয়মিত ফোনে কথা হতো। ভুক্তভোগী তার ভাইয়ের মেয়ের পড়াশোনায় উন্নতির জন্য মাহাবুবের কাছে তদবির চেয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মাহাবুব মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে তদবির নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে মাহাবুবের উত্তর চৈতার বাড়িতে যান ওই নারী। সেখানে মাহাবুব কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে অন্য কাউকে না দেখে গৃহবধূ চলে যেতে চাইলে মাহাবুব তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। সেসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গৃহবধূর হিজাব ও বোরকা খুলে ফেলা হয় এবং তাকে খাটে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনার দিন অভিযুক্ত তার স্ত্রী ও সন্তানদের কৌশলে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪৮ দিন আগে
জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সংকটে পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়
একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়; এটি শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শারীরিক-মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। কিন্তু পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী শেরেবাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ ভবনের কারণে সেই পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শুধু ভবনের ঝুঁকিই নয়, নিয়মিত পাঠদান, খেলাধুলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার সময় কমে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮৫৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। পাঁচটি ভবন থাকলেও এগুলোর অধিকাংশই বহু বছর আগে নির্মিত। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রায় ২৯ বছরেও নতুন কোনো ভবন নির্মিত হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং বারান্দার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের পথ এবং শ্রেণিকক্ষের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়। অনেক সময় সাপ, বিচ্ছু ও অন্যান্য বিষধর প্রাণীর আতঙ্কও তৈরি হয়।
৫৭ দিন আগে
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির দুই দিন পরও নিখোঁজ ৬ জেলে
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলের অদূরে বঙ্গোপসাগরে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে ১১ জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ৬ জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) গভীর রাতে সাগর-বিধৌত উপজেলা রাঙ্গাবালীর মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— বায়েজিদ (৩০), ইমাদুল সিকদার (৪০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজিব (২৫)।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন— পানপট্টি ইউনিয়নের তুলারাম গ্রামের ইমাদুল খাঁ (৪৫), খরিদা গ্রামের হারুন (৬০), গজালিয়া ইউনিয়নের আদানী গ্রামের ফরকান (৪৫), সায়েদ (২০), আল-আমিন (৪০) ও গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আক্কাস (২৫)।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের ইমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন ট্রলারটি গত শনিবার রাতে ১১ জন জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে রওনা হয়।
পরের দিন রবিবার গভীর রাতে সাগরে প্রবল স্রোত ও বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। এ সময় জেলেরা ট্রলারের বিভিন্ন অংশ ও একটি বয়া ধরে সাগরের বুকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ভেসে ছিলেন।
পরে রাত ৩টার দিকে একই এলাকার ইমাম সিকদারের একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে মৌডুবী এলাকায় নিয়ে আসে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনা শুনেছি। ফিরে আসা জেলেদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়নি। বিষয়টি গলাচিপা থানার এখতিয়ারভুক্ত বলে জানান তিনি।
৫৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে পিতাকে ‘হত্যা’, ছেলে আটক
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ঘুমন্ত অবস্থায় শিল-পাটার আঘাতে বাবা উত্তম দেবনাথকে (৬০) হত্যা করার অভিযোগে ছেলে তাপস দেবনাথকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার দেউলি সুবিদখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিদখালী (লঞ্চঘাট এলাকা) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত উত্তম পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের মহেন্দ্র দেবনাথের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে খাবার খেয়ে উত্তম দেবনাথ ও তার ছেলে তাপস নিজ ঘরে ও উত্তম দেবনাথের স্ত্রী কানন দেবনাথ ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। আজ ভোর ৪টার দিকে তাপস ঘুম থেকে উঠে ঘরে থাকা শিল-পাটা দিয়ে উত্তম দেবনাথের কপালের ডান পাশের ভ্রুর ওপর আঘাত করেন।
এ সময় উত্তম চিৎকার করলে তার স্ত্রী ঘরে গিয়ে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং চিৎকার দেন। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন উত্তম তিনি সেখানে পড়ে রয়েছেন। এ সময় তারা উত্তমের কপালের ডান পাশে ভ্রুর ওপর রক্তাক্ত জখম দেখতে পান।
পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোশারেফ হোসেন থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত তাপসকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে তাপসকে আটক করা হয়েছে।
৬৩ দিন আগে
বঙ্গোপসাগরের পটুয়াখালী উপকূলে অবৈধ ট্রলিং বোটের বিস্তার, হুমকিতে পরিবেশ ও উপকূলের অর্থনীতি
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইন অমান্য করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা ও আশাখালী মৎস্য বন্দর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবাধে চলছে অবৈধ ও রূপান্তরিত ‘আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের’ তাণ্ডব। নিষিদ্ধ সূক্ষ্ম জাল ও আধুনিক প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহারে ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক পরিবেশ ও মাছের প্রজননক্ষেত্র। এর ফলে সাগরে মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার প্রান্তিক জেলে চরম জীবিকা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর-আলীপুর অঞ্চলে গত বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি রূপান্তরিত ট্রলিং বোট সক্রিয় ছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬০টিতে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাঠের ট্রলারকে অবৈধভাবে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে। দ্রুত অধিক মুনাফার আশায় একটি সাধারণ ট্রলারকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এসব বড় ট্রলিং বোট গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা উপকূলীয় অগভীর জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, অনেক সময় এসব বোট উপকূল থেকে কয়েক নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই জাল ফেলে। ফলে উপকূলীয় প্রজননক্ষেত্র ও মাছের অভয়াশ্রমগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রলিং বোটে ব্যবহৃত ‘বটম ট্রলিং’ পদ্ধতি সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভারী জাল সমুদ্রের তলদেশ ঘষে ঘষে প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস, শামুক-ঝিনুকের আবাসস্থল এবং বিভিন্ন অণুজীবের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়। এতে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এছাড়া, এসব ট্রলিং বোটে ফিস ফাইন্ডার, জিপিএস, রাডার, ইকো সাউন্ডার, উইঞ্চ মেশিনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে মাছের ঝাঁক সহজেই শনাক্ত করে ব্যাপক হারে আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ছোট নৌকা ও সাধারণ ট্রলারনির্ভর জেলেরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।
মহিপুর ও আলীপুর বন্দরের সাধারণ জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, বড় ট্রলিং বোটগুলো প্রায়ই তাদের জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে লাখ লাখ টাকার জাল ছিঁড়ে যায় এবং ক্ষতির মুখে পড়েন ক্ষুদ্র জেলেরা। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে।
মহিপুরের জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা দিনের পর দিন সমুদ্রে গিয়ে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসি। অথচ কিছু প্রভাবশালী ট্রলার মালিক অবৈধ ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সাগরের মাছ ও পোনা নিধন করছে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই এসব বন্ধ করতে পারে।
জেলে আবুল কাশেম বলেন, ছোট মাছ বড় হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ রেণু প্রতিদিন নিধন হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জেলেদের মাছ ধরার মতো কিছুই থাকবে না।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্র দূষণ এবং অবৈধ ট্রলিং—এই তিন কারণে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা নিধনের ফলে মাছের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে শুধু ইলিশ নয়, লাক্ষা, পোয়া, রূপচাঁদা, চিংড়িসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের উৎপাদন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, রপ্তানি আয় এবং সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও হুমকির মুখে পড়বে।
জেলেদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং নৌ পুলিশের একটি অংশের পরোক্ষ সুবিধার কারণেই বছরের পর বছর এসব অবৈধ ট্রলার প্রকাশ্যে সাগরে মাছ শিকার করছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বলেন, অবৈধ ট্রলিং বন্ধে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে কিন্তু এতে তেমন কোনো ফল হয়নি। বরং আগের তুলনায় দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এটি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনায় নেই।
এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা বখতিয়ার আহমেদ বলেন, অবৈধ জালের কারণে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধন হচ্ছে। ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য ও লাখও মানুষের জীবিকা রক্ষায় অবৈধ জাল বন্ধ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ট্রলিং বোট নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আমরা অবৈধ মৎস্য শিকার ও নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছি। তবে গভীর সমুদ্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, ট্রলিং বোটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, সংশ্লিষ্ট সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও জেলে প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অবৈধ ট্রলিং বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
৬৪ দিন আগে
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে পটুয়াখালীর আট গ্রামের ১০ হাজার মানুষ
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও তা শেষ হয়নি। মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আশপাশের অন্তত আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ‘আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, ‘প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।’
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ‘ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।’
৮১ দিন আগে