বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই করা বাণিজ্যচুক্তি অপরিবর্তনীয় নয় উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেছেন, চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে। দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এটিকে সম্পূর্ণরূপে ‘নেগেটিভ’ বা ‘পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি। ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। এ সমস্ত বিষয় নিয়ে সাধারণ আলাপ হয়েছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি যে বাণিজ্যচুক্তিটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হলো, প্রথম বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপনার এই বিষয়ে কী আলোচনা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ে এমন বিশেষ কোনো কথা হয়নি। এটি তো ৯ তারিখে স্বাক্ষর হয়েছে, এ বিষয়ে আলাদা করে কোনো আলাপ হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন পত্রে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, বাণিজ্যচুক্তিসহ সামরিক বিষয়গুলো বাংলাদেশ যাতে মেনে চলে, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চুক্তির বিষয়টি আজকে আলোচনার বিষয় হিসেবে আসেনি আর সামরিক বিষয় তো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ স্বার্থরক্ষা হয়নি, সেক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ কী থাকবে, আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন?— জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো সই হয়েছে, সেই চুক্তিটি বলবৎ হওয়ার জন্য কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আছে। আর যেকোনো চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আর কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুপক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে, যা উভয়ের জন্যই কল্যাণকর হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে, যেগুলোর উপরে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি। আমি এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও দেখছি না।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম সেটি হলো, আমেরিকা যে ধারায় শুল্ক ধার্য করেছিল, দেশটির উচ্চ আদালতে সেই ধারায় এ শুল্ক কার্যকরের বিষয়টি সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতি এখন বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি—এটি ছিল আমার কথা।
চুক্তি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তটা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো একটা হয়েছে, এখানে তো সিদ্ধান্তের কিছু নাই। এই চুক্তি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ—দুই সরকারের মধ্যে হয়েছে; এটা তো রাষ্ট্রীয় চুক্তি। সুতরাং এই চুক্তিতে যদি আপনারা কোনো কিছু খারাপ দেখেন সেটা আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো চুক্তি এন্ড অব লাইফ বা জীবনের সর্বশেষ কিছু না। প্রত্যেকটা চুক্তিতে সেলফ কেয়ারিংয়ের জন্য তার নিজস্ব কিছু ধারা থাকে। সেখানে এরকম যদি আমাদের কাছে কিছু প্রতীয়মান হয় যে, এই ধারাটার সংযোজন-বিয়োজন পরিবর্তন দরকার। সেখানে পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনার সুযোগ তো সবসময় রয়েছে। এজন্য আমার অনুরোধ হচ্ছে, এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না।’
ভিসা বন্ডের আওতায় বাংলাদেশ পড়েছে, তাই ব্যবসায়ীরা বলছেন যে তারা যেন ভিসা বন্ডের আওতায় না আসেন, সে বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সেটা ব্যবসায়ীদের বিষয়, কিন্তু এটি নিয়ে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা তো সবসময় অনুরোধ করব যেন আমাদের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এবং তাদের দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে সহজভাবে দুই দেশে আসা-যাওয়া করতে পারেন। এটির মধ্যে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। এই অনুরোধ তো আমাদের সবসময় থাকবে।
১ দিন আগে
শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনার তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর ৯৪তম এবং আরএমজিবিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের ২২তম সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়েছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আনুষ্ঠানিক খাতে থাকলেও সামগ্রিক শ্রমশক্তির বড় অংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক। দেশকে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিতে হলে সব খাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় সরকার বিকল্প ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিগগিরই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে দেশের নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক স্থিতিশীলতা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সরাসরি রেশন ব্যবস্থা না হলেও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে রেশনের উদ্দেশ্য অনেকটাই পূরণ হবে। সভায় টিটিসি মিটিং নিয়মিত আয়োজনের ওপর জোর দেন তিনি।
টিটিসি সভা নিয়মিত আয়োজনের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিল্প ও শ্রম খাতে নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান, আর এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত আলোচনা ও মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রম সচিবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে টিটিসি গঠন করা হয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণে নিয়মিতভাবে সভার আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আলোচনার সময় তর্ক-বিতর্ক বা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হতে পারে, তবে তা গণতান্ত্রিক আলোচনার স্বাভাবিক অংশ। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, বরং পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শ্রম খাতকে আনুষ্ঠানিক করা না গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিধিবিধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধাও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাবে না।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের ফজলে হাসান শামিম এবং টিটিসি এর সহ সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন।
সভায় দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আরএমজি খাতে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্পর্কিত আলোচনা ও আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে কল-কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। সভায় মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারে বাংলাদেশ-ভারত একমত: বাণিজ্যমন্ত্রী
আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারে দুদেশ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, পারস্পরিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের বিভিন্ন স্থলবন্দর, সীমান্ত হাট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা বিষয়ে একে অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূলত হাইকমিশনার এসেছিলেন নতুন সরকারকে অভ্যর্থনা জানানোর একটি অংশ হিসেবে। তবে তার সঙ্গে আলোচনায় দুদেশের বাণিজ্য বাড়ানোর নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এ সময় বন্ধ কিছু স্থলবন্দর নিয়ে আলাপ হয়েছে। তারা সব বন্দর বন্ধ করেনি, যেমন: বেনাপোল খোলা রয়েছে। তবে অন্যান্য যেসব বন্দর বন্ধ রয়েছে, সেগুলো খোলার মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তারাও বন্ধ সীমান্ত হাটগুলো চালুর বিষয়ে বলেছেন।
তিনি বলেন, আসলে দুদেশেরই পারস্পরিকভাবেই কিছু বাধা তৈরি হয়েছে। এতে বাণিজ্য সম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে—এটা সত্য। কোনো কোনো ঘটনার পরিপেক্ষিতে এগুলো হয়েছে। আগামী দিনে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রসারের রাস্তা তৈরি হলে এগুলো সমাধান হবে, এ বিষয়ে দুদেশ একমত হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একদম সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সমাধান হয়নি। কথা প্রসঙ্গে এসব বিষয় এসেছে, যেগুলো হাইকমিশনার তার দেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন। যেসব বিষয় ভারত আমাদের জানিয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরাও মন্ত্রিপরিষদে কথা বলব।
ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমরা এলডিসি পেছানোর জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছি। এখন এটি জাতিসংঘের (ইউএন) একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে।
ইরানের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে জ্বালানিসহ খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা দেখছেন কিনা, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ প্রণালী বন্ধ হলে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়। তখন পণ্যের দাম বাড়বে। তবে এখনও আমরা আশঙ্কার মধ্যে যাব না। দুয়েকদিনের মধ্যে সমাধান হতে পারে। সেটা না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমাদের পণ্যের কোনো সংকট নেই।
৩ দিন আগে
ঈদের আগেই কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আসন্ন ঈদের আগে শিল্পকারখানার শ্রমিকদের সব বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ করা হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এর ইতিবাচক সুফল মিলবে।
তিনি জানান, স্পেনে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সময়মতো পৌঁছানোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কাজ চলছে। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এবারের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
মতবিনিময় শেষে মন্ত্রীরা ভাঙনকবলিত সুরমা ও চেঙ্গার নদী পরিদর্শন করেন। পরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান।
৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পরিস্থিতি এখনও বিকাশমান, পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনও বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি আসলে এখনও বিকাশমান, যেটাকে আমরা ইংলিশে বলি “ইভলভিং সিনারিও”। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সবোর্চ্চ আদালত আগের ধার্য্যকৃত শুল্ক আরোপযোগ্য নয় বলে ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেছে।
‘কিন্তু আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখায় যা আছে, সেটা ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের ইউএস কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
‘আর বাদ বাকি যা, টিভিতে আমরা দেখছি। সরকারি কোনো কাগজপত্র আসেনি। ফলে সিনারিওটা আবারও আমি বলব ইভলভিং।’
তিনি বলেন, এছাড়া বিগত সরকার কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটির ব্যাপারেও এখনও বলার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি, এর পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করব।
বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো গোপন করা ও সেটা তড়িঘড়ি করে করেছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি) ছিল চুক্তি আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তিটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু (সংবেদনশীল বিষয়) ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এদিকে শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কী সমস্যা। সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে; সেগুলো সবজি জাতীয়।
তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে এক মাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির ও শূন্যতার সুযোগ নেন। ৪০-৫০ টাকার লেবু ১২০ হয়ে গেছে ওই পরিস্থিতিতে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।
চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে এতদিন বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। অপেক্ষা করেন, আমরা কাজ করে দেখাব।
৮ দিন আগে
রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার মতো পর্যাপ্ত মজুত আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার মতো পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।
সিলেট নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা আমি দীর্ঘ নির্বাচনি প্রচারণা ও ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। যেসব বিষয় সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি-সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।
সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।
এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ অগ্রাধিকার পাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণে হয়ত শতভাগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আমাদের সফলতা রয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে টিসিবিসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে। যার জন্য সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: সংলাপ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হয়, আগুনসন্ত্রাসীদের সঙ্গে নয়: তথ্যমন্ত্রী
শনিবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসিতে) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র যৌথ উদ্যোগে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক ছায়া সংসদের গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
করোনা পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মানুষের কষ্ট হচ্ছে এটি সত্যি।
এছাড়া দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ ভূমিকা মুখ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজের চাহিদা তার চেয়ে প্রায় ৭-৮ লাখ টন ঘাটতি থাকে। যেটা আমরা ভারত থেকে আমদানি করে থাকি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির পারমিশন দেওয়ার জন্য বলা হলেও কৃষকের কথা ভেবে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, পরে যখন আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো— তখন ভারত আমদানির ওপর ৪০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করল। এর কিছুদিন পরেই ভারত আবার প্রতি টন পেঁয়াজ রপ্তানি ৮০০ ডলার করে, যে কারণে সরকারের পক্ষে নির্ধারিত দাম ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
চিনির আমদানি শুল্ক কমানোর পরও দাম না কমা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ডলারের মূল্য আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। যেসব পণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলো আন্তর্জাতিক বাজার বা ডলারের মূল্যের ওপর নির্ভর করে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চাইলেও সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারি না। আমরা যেটা পারি, সেটি হলো শুল্ক কমাতে।
যেমন— চিনির দাম কমাতে আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় চিনির দামে কোনো প্রভাব পড়েনি বরং বেড়েছে। ফলে এর সুফল ভোক্তা পায়নি।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন— জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
আরও পড়ুন: রপ্তানি বাড়াতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
এতদিন ব্যবসায়ীরা ডিমে বেশি মুনাফা করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
৮৩১ দিন আগে
এতদিন ব্যবসায়ীরা ডিমে বেশি মুনাফা করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
এতদিন ব্যবসায়ীরা ডিমে বেশি মুনাফা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা এতদিন ডিমে বেশি মুনাফা করেছে। দেশে প্রতিদিন ৪ কোটি ডিমের চাহিদা আছে। মাত্র ৬১ হাজার ডিম আমদানির সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ডিমের মূল্য কমে আসে।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ভোক্তা অধিকার সচেতনতাবিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: টিসিবির স্মার্ট কার্ড স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
৮৩১ দিন আগে
টিসিবির স্মার্ট কার্ড স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্মার্ট কার্ড স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিনি বলেন, টিসিবির ১ কোটি ফ্যামিলি কার্ডকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরিত করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অসামঞ্জস্য দূর হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মালিবাগে দেশব্যাপী ১ কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং চলতি মাসের চালসহ টিসিবি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সারাদেশে বিনামূল্যে এই স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে উল্লেখ করে কার্ড পেতে কার্ডধারীদের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
টিপু মুনশি বলেন, শেখ হাসিনা গরিব-দুঃখী, অসহায় মানুষ যারা দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করেন তাদের কথা বিবেচনা করে এক কোটি ফ্যামিলি কার্ড অর্থাৎ পাঁচ কোটি মানুষকে কম মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে তার চেয়েও বেশি মানুষকে সরকার ভর্তুকি মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ডিম ও আলু আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ডিমের একটি চালান দেশে আসার পর সরকার থেকে যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে তার চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি আলু-পেঁয়াজসহ অন্যান্য শাক-সবজির বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: ওএমএস কর্মসূচির জন্য সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল আমদানি করবে টিসিবি
তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের দাম নির্ভর করে দেশের উৎপাদনে উপর। এখন পেঁয়াজের শেষ সময়। আমরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করে থাকি। কিন্তু ভারত রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে প্রথমে ৪০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করে। এর কিছুদিন পরেই প্রতি টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য আট শো ডলার নির্ধারণ করে। যাতে করে আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে বাজারে দাম বেশি।
ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়ার পরেও চালান আসতে দেরি হওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিম আমদানির ক্ষেত্রে আমরা বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছিলাম বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সনদ নিতে হবে। এসব শর্ত পূরণে কিছু আইনি জটিলতা থাকায় দেশে চালান আসতে দেরি হয়েছে।
টিপু মুনশি জানান, ডিম, আলু ও পেঁয়াজের দাম নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে এবং মানুষ কষ্ট পাচ্ছে এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ দেশের মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে এবং আমরা সে চেষ্টাই করে যাচ্ছি।
বৈশ্বিক কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভীষণ দুঃসময় পার করতে হচ্ছে। এরমধ্যেই বাড়তি সুবিধা নিচ্ছে অসাধু চক্র। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
এসময় টিসিবির চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুন রশিদ শুভ্র উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আগামী জানুয়ারির মধ্যে টিসিবির স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে টিসিবির পণ্য বিক্রি
৮৪৭ দিন আগে
রপ্তানি বাড়াতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
রপ্তানি বাড়াতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
তিনি বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও রপ্তানি আয় বাড়াতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। লাল ‘ফিতার দৌরাত্ম্য’ এই শব্দ দুটি ভুলে যেতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত রপ্তানি উন্নয়ন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে ডেনিমে প্রথম ও তৈরি পোশাক শিল্পে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এটি আমাদের মতো দেশের জন্য কত গৌরব ও অহংকারের তা সবাই বুঝি। সেবা নিশ্চিত করতে হলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে হবে। এই শব্দ আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত। সেবাদানের ক্ষেত্রে হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্বে অবহেলা করে টেবিলে কাজ ফেলে রাখা উচিত নয়। যেদিনের কাজ সেদিনই করতে হবে। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখা যাবে না।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে পেঁয়াজ-আলুর দাম কমবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
তিনি জানান, রপ্তানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। রপ্তানি বাড়ানোর অনেক সম্ভাবনাময় খাত আছে। দেশে রপ্তানিযোগ্য বৈচিত্র্যময় নানা পণ্যের সমাহার রয়েছে। এগুলো কাজে লাগানোর জন্য দরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।
এ ছাড়া নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধান করার উপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ ও ২০৪১ সালের যে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ১২ হাজার ডলার দিয়ে রপ্তানির যাত্রা শুরু। তা এখন প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভিয়েতনাম আমাদের দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নিয়ে যদি ২৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করতে পারে তাহলে আমরা কেন ৬০ বা ৭০ বিলিয়ন ডলারে পড়ে থাকব। আমরা পারব কারণ আমাদের সে সামর্থ্য আছে। এজন্য সবাইকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে।
এসময়, ‘রপ্তানি উন্নয়ন ভবন’ নামের পরিবর্তে ‘রপ্তানি ভবন’ রাখার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন টিপু মুনশি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম।
আরও পড়ুন: আমদানি করা ডিম বাজারে আসবে এ সপ্তাহেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
৩০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী
৮৪৭ দিন আগে