জমজ শিশু
কুষ্টিয়ার জোড়া লাগা সেই জমজ দুই শিশুর ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যু
দারিদ্র্যের যাঁতাকলে থমকে যাওয়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগা তিন মাসের জমজ দুই শিশু মোছা. জয়নব ও মোছা. উম্মে কুলসুমের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে আশার আলো জ্বলেছিল, তা নিভে গেল এক বিষাদময় পরিণতিতে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশু দুটি মারা গেছে।
কুষ্টিয়ার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় দোকান কর্মচারী মো. নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন একাধিক ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ দলের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। তিন মাস পর শিশুদের পুনরায় ঢাকায় আনার পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম আর্থিক অনটনে সেই চিকিৎসাযাত্রা থমকে যায়।
সম্প্রতি এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। তার সরাসরি নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই দুই শিশুর অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসহ যাবতীয় সব ব্যয়ভার বহনের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের বাবা নাহিদ হাসানকে ফোন করে অতি দ্রুত শিশুদের ঢাকায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসে গত সোমবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ওইদিনই শিশুদের ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করায় পরিবারটি। এরপর চিকিৎসকদের অধীনে তাদের বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল বিকেলে শিশু দুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, চিকিৎসকরাও চেষ্টা করছিলেন। আমরা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। কিন্তু আমার কোলজুড়ে আসা ফুটফুটে বাচ্চা দুটোকে আর বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারলাম না। আল্লাহ তাদের তুলে নিলেন, এই কষ্ট সওয়ার ক্ষমতা যেন আমাদের দেন।’
গতকাল রাতে শিশুদের মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন বাবা নাহিদ হাসানসহ স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
১৩ দিন আগে
ঢামেকে চার ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারে আলাদা হলো জমজ জুহি ও রুহি, আজ ফিরছে বাড়িতে
নীলফামারীর জলঢাকায় জন্মগতভাবে জোড়া লাগা জমজ শিশু জুহি ও রুহিকে সফলভাবে পৃথক করতে সক্ষম হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা। শিশু সার্জারি (ইউনিট-২) বিভাগের অধ্যাপক ডা. কানিজ হাসিনার (শিউলি) নেতৃত্বে এ জটিল অস্ত্রোপচারে অংশ নেন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. কানিজ হাসিনা (শিউলি)।
তিনি জানান, জোড়া লাগানো দুই শিশু রুহি ও জুহি গত জানুয়ারি মাসের ১৩ তারিখে আমাদের ঢাকা মেডিকেলে এসে ভর্তি হয়। যেহেতু তারা ছোট ছিল তাই তাদের অবজারভেশনে রেখে এবং মেডিকেলে বোর্ড গঠন করে তাদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। পরে গত ২৪ জুন তাদের চার ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচার করে পৃথক করা হয়।
এই জটিল সার্জারিতে অংশ নেন শিশু সার্জারি ছাড়াও প্লাস্টিক সার্জারি, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, নিওনেটোলোজি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, অর্থোপেডিক, নবজাতক বিভাগ, নিউরো সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিওলোজি বিভাগের চিকিৎসকরা।
তিনি আরও জানান, অস্ত্রোপচারের পর শিশু দুটিকে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) রাখা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ, বিশেষায়িত চিকিৎসা ও সেবার পর বর্তমানে তারা সুস্থ আছেন। তাদের খাওয়া-দাওয়া ও মলমূত্র ত্যাগে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। অপারেশনের আগেও তাদের মলমূত্র ত্যাগ ও খাওয়া-দাওয়ায় কোনো সমস্যা হতো না।
পড়ুন: যৌথ ব্যবস্থাপনায় চলবে ঢাকা, রাজশাহী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতাল
হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনা খরচে তাদেরকে চিকিৎসা সেবা এবং ৬০ নম্বর কেবিনে রাখা হয়। সুস্থ অবস্থায় আজ তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
ডা. কানিজ হাসিনা আরও বলেন, এটি ছিল দীর্ঘ ও জটিল একটি অস্ত্রোপচার। প্রতিটি মুহূর্তে জুহি ও রুহির সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীলফামারীর রিকশাচালক বাবা ও গৃহিণী মায়ের দ্বিতীয় সন্তান জুহি ও রুহিকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা সামগ্রীর সহায়তা দিয়েছে। এই সফলতার জন্য আমি পুরো চিকিৎসক টিম, নার্স ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
জমজ শিশু জহির ও রুহির মা শিরিনা বেগম জানান, আমার ১০ বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। বর্তমানে জুহি ও রুহির বয়স ৭ মাস ২৩ দিন চলে। জন্মের পরেই তাদের দুজনের শরীর জোড়া লাগানো ছিল।
শিরিনা বেগম বলেন, পরে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসার পরে দীর্ঘ পাঁচ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে গত জুন মাসে তাদের সব অপারেশন করে আলাদা করা হয়। আমার দুই মেয়ে এখন ভালো আছে চিকিৎসকরা আজ আমাদের ছেড়ে দিয়েছেন। আমি এই সকল চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
৩৭০ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালতির পানিতে ডুবে জমজ বোনের মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালতির পানিতে ডুবে জমজ বোনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে জেলা শহরের মসজিদপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই জমজ শিশু হলো এমদাদুল হকের মেয়ে সাবা (৩) ও সাহারা (৩)।
নিহতদের বাবা এমদাদুল হক জানান, সকাল ৯টার দিকে বালতি ভর্তি পানি নিয়ে খেলছিল তারা। এক পর্যায়ে বালতির মধ্যে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। এ সময় স্বজনরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ভারতীয় চোরাকারবারীর লাশ হস্তান্তর
মাগুরায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
পানিতে ডুবে শিশুসহ ৫ মৃত্যু, নিখোঁজ ৭
১৭৫৩ দিন আগে