সংঘর্ষ
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্র শিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ছাত্রদলকর্মী তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আলামিন, তানজিম, রাসেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ, বন্দর থানার সভাপতি আসাদুল ইসলাম।
হামলার ঘটনায় কলেজ রোড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান ব্যবসায়ীরা। এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের উদ্দেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। পরে পাল্টাপাল্টি এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তারা কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব জানান, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির এ হামলা করেছে। তাদের ৩০ জনের মতো নেতাকর্মী কলেজের ভেতর ছিলেন। আর ডাকবাংলোর মোড়ে ছিলেন ২০০ জনের মতো কর্মী। তারা আগে থেকেই লাঠি নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন। কলেজের ভেতরে তর্কাতর্কি হওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, হামলায় ছাত্রশিবির দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ছাত্র শিবিরের কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ নিজে অস্ত্র হাতে হামলা করেছেন।
এদিকে, ছাত্রশিবির মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান এ ঘটনায় ছাত্রদলকে দোষারোপ করে বলেন, কলেজে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ গেটের বাইরে আমাদের কলেজ শাখা সভাপতি শুভ ও সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবালকে বেধড়ক পেটানো হয়। এ খবর পেয়ে আমি ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। কারণ তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু যাওয়ার সময় ডাকবাংলোর মোড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ বা মামলা করেনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কারও মারাত্মক জখম হয়নি।
তিনি বলেন, তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, তদন্ত কমিটি গঠন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে, জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ।
অফিস আদেশে সদয় অবগতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় বেধে না দেওয়া হলেও খুব শিগগিরই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমতিতে সকাল থেকেই ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক এলইডি স্ক্রিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীসহ জুলাই ও বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করছিল বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির।
তবে, একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলীসহ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল।
ছাত্রদল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই ফেস্টুন সরানোর দাবিতে প্রোগ্রামস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল ছোঁড়া হলে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। দফায় দফায় চলে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ।
এ সময় আহত হন বেরোবি শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির সমর্থিত প্যানেলের ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এছাড়াও ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন।
১০ ঘণ্টা আগে
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে র্যালি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক একটি র্যালি বের করলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, র্যালিতে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে কয়েক দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আশিক আহমেদ অভিযোগ করেন, শিবির বহিরাগতদের নিয়ে লাঠির সঙ্গে পতাকা বেঁধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। তারা বহিরাগতদের ছাড়া কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ভিসি গেটের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের ৫ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটে এবং প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলা থামেনি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে উভয় পক্ষই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) বেলাল হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা শুনে আমরা এখানে এসেছি। ঘটনার পরপর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান করেছি।’
১০ ঘণ্টা আগে
উগান্ডায় ট্রাক-যাত্রীবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১৪
উগান্ডায় যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যান ও বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দেশটির কালুঙ্গু জেলার কামুঙ্গা ট্রেডিং সেন্টার এলাকায় একটি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এক বিবৃতিতে দেশটির পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাতে কালুঙ্গু জেলার একটি মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যানের সঙ্গে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই ট্যাক্সি ভ্যানটির যাত্রী ছিলেন। এছাড়া আরও ৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। তারা ট্রাকচালককে খুঁজছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো উগান্ডাতেও সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা। সেখানে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য যানবাহনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত গতি ও সড়কের বেহাল অবস্থাকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে, জুলাই মাসে পূর্ব উগান্ডায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বাস মনোরম এক জলপ্রপাত এলাকা থেকে ফেরার পথে সড়ক থেকে ছিটকে উল্টে যায়। ওই বাসটিতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফর শেষে ফিরছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ শিশু ও ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছিল।
১ দিন আগে
বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের পর রাত ১২টা পর্যন্ত দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সংগঠনই তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তা না মেনে হামলা চালান।
শিবলী বলেন, ‘সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। ছাত্রদল চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। আমরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’
ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, ‘ছাত্রদল যদি আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। অথবা ছাত্রদল যে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের মহানগরের বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছে, তারা এখান থেকে চলে যাবে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।’
অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানানোয় তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি দেখে আমরা ওই ছবিগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়। তারা কারমাইকেল ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের পর রাত ১২টা পর্যন্ত দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সংগঠনই তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তা না মেনে হামলা চালান।
শিবলী বলেন, ‘সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। ছাত্রদল চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। আমরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’
ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, ‘ছাত্রদল যদি আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। অথবা ছাত্রদল যে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের মহানগরের বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছে, তারা এখান থেকে চলে যাবে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।’
অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানানোয় তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি দেখে আমরা ওই ছবিগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়। তারা কারমাইকেল ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
১ দিন আগে
বাকৃবির ৪ হলে দুই দফা সংঘর্ষ, তদন্তে ২ কমিটি গঠন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ঘটনাগুলোর তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত পৃথক দুই ঘটনায় হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এরপর প্রক্টোরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঝামেলার মীমাংসা হয়। তবে এর কিছুক্ষণ পরই রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানোয় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল সূত্রে জানা যায়, গতকাল (রবিবার) রাতে আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে মাওলানা ভাসানী হলের ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি জব্বার মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন আমাকে পেছন থেকে টেনে ধরে। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘কী হয়েছে?’ তখন তারা আমাকে উসকানিমূলক কথা বলতে শুরু করে। এরপর তারা আমাকে মারধর করে। তারা এমনভাবে মারছিল যে আমি ভেবেছিলাম, হয়তো বাঁচব না। কোনো রকমে সেখান থেকে পালিয়ে এসে প্রাণে বাঁচি। তারা আমার চশমা ভেঙে ফেলে এবং মানিব্যাগও নিয়ে যায়। এর আগে একটি হোটেলে গিয়ে খাওয়ার সময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে আমাকে শনাক্ত করতে দেখেছি।’
ঘটনার পরপরই সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীরা বিচার দাবিতে একত্র হন। হলের শিক্ষার্থী মিজু বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আগের দিনের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ আবার এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন যদি এখনই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করে, তাহলে ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল থাকবে। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।’
এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘ওরা যা করছে সেটি অন্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এটার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। গত রাতে যা হয়েছে, এই মারামারিতে উভয় পক্ষেরই দায় আছে।’
অন্যদিকে, একই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসিল মোড় এলাকায় শহিদ শামসুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় চায়ের দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। পরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। সে সময় উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা অন্য হলের গেট ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশরাফুল হক হলের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা ব্যাচমেট ও জুনিয়রসহ সাতজন শিক্ষার্থী ফসিল এলাকায় চায়ের দোকানে বসে থাকাকালে শামসুল হক হলের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে গ্লাস, কাপ ও বেঞ্চ দিয়ে মারধর করেন। হামলাকারীরা আমাদের গালিগালাজ করে শামসুল হক হলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে।’
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহিদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ফসিল এলাকায় হাতাহাতির পর ভুল তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা শামসুল হক হলের গেটে গিয়ে ভাঙচুর চালান।’
এছাড়া শিক্ষার্থীরা এই সংঘর্ষে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাকৃবির মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের পাথর সংগ্রহ করেছেন এবং তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নষ্ট করাতেও দেখা গেছে। এ বিষয়টিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করা হিসেবে অভিযোগ তুলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আজ উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রোভোস্ট কাউন্সিল, প্রক্টোরিয়াল বডি ও অ্যাডভাইজরি বডির সদস্যদের নিয়ে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন হল থেকে পাওয়া কাগজপত্র, আমাদের পর্যবেক্ষণ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে যারা দোষী বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অর্ডিন্যান্স রয়েছে এবং সেই অর্ডিন্যান্স অনুসারেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাগুলো তদন্তসাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটিগুলো ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি ও আহতদের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি সভা শেষ করেছি এবং আশা করছি খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার তদন্তে সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের মধ্যকার ঘটনায় একটি ও শহিদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের মধ্যকার ঘটনায় আরেকটি কমিটি কাজ করবে। এই দুই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়েও আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি, আজকের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আশরাফুল হক হল ও শহিদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অন্তত ১৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে আবারও শনিবার রাতে অনলাইনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
২ দিন আগে
বাকৃবিতে দুই হলের সংঘর্ষে ৪ শিক্ষার্থী আহত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষদের মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে ওই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (ব্যাচ-৬৫) শিক্ষার্থীদের মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ব্যক্তিগত বিরোধ দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, কৃষি অনুষদের সেকশন ‘এ’-এর ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি মিম পোস্ট দেওয়াকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে একজন শিক্ষার্থী অফিশিয়াল গ্রুপে এ ধরনের বার্তা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানোর পরামর্শ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের একদল শিক্ষার্থী ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং অন্যদের হাত-পায়ে জখম হয়।
খবর পেয়ে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ নিজ নিজ হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, খুব বেশি শিক্ষার্থী আহত হননি; তিন থেকে চারজন আহত হয়েছেন। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। কাউকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী। সোহরাওয়ার্দী হলের আহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার পর সবাই নিজ নিজ হলে ফিরে গেছে। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর করেছে। পরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
৩ দিন আগে
রাজবাড়ীতে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের ধাক্কায় বাস-মাহিন্দ্রা-ইজিবাইকের সংঘর্ষ, নিহত ২
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলগেটে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পাঁচটি ওয়াগনের (বগির) ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ (৪৫) এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী (৫০)। তারা মাহিন্দ্রা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হিমু খান জানান, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেলগেটে পৌঁছানোর পর গেটম্যান ব্যারিয়ার নামিয়ে দেন। তার পেছনে আনন্দ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসসহ কয়েকটি যানবাহন অপেক্ষা করছিল। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর গেটম্যান ব্যারিয়ার তুলে দিলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হয়ে কিছুটা সামনে যান। কয়েক সেকেন্ড পর বিকট শব্দ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখেন, বাসটি রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের বিচ্ছিন্ন ওয়াগনগুলোর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। একই সঙ্গে একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকও ওই বিচ্ছিন্ন ওয়াগনের আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে ওয়াগনগুলো কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন শেখ ও সাত্তার বিশ্বাস জানান, ফরিদপুর থেকে প্রায় ৩০টি ওয়াগন নিয়ে রাজবাড়ীগামী একটি তেলবাহী ট্রেন খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রম করার সময় হঠাৎ পেছনের চারটি ওয়াগনের সংযোগকারী কাপলিং (চেইন) ছিঁড়ে যায়। ইঞ্জিন ও সামনের অংশ রেলগেট পার হয়ে যাওয়ার পর গেটম্যান রেললাইন ফাঁকা মনে করে ব্যারিয়ার তুলে দেন। ঠিক সেই সময় একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহিন্দ্রা ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা ওয়াগনগুলো সজোরে সেগুলোকে ধাক্কা দেয়।
তারা আরও জানান, সংঘর্ষে মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটি ধাক্কা খেয়ে রেললাইনের পাশের খাদের কিনারে চলে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর কাজে অংশ নেন।
পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। গুরুতর আহতদের রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মালেক শেখ ও মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যু হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
৯ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ২
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে
নিহতরা হলেন— একই গ্রামের মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) ও একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে এই হামলা ও হত্যার ঘটনা। নিহত দুইজন ছালিম হোসেন গ্রুপের সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে দুই গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাতে বিরোধের জের ধরে মিন্টু চৌকিদারের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা ছালিমের অনুসারী ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মন্ডলকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকেরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখ নিহত হন।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় মুল্লুক মন্ডলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
১৮ দিন আগে
কুমিল্লায় খেলা নিয়ে সংঘর্ষে ব্রাজিল সমর্থক নিহত
কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে হওয়া সংঘর্ষে ব্রাজিল সমর্থক এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কোটবাড়ি বিশ্বরোড-সংলগ্ন উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার উত্তর চেরাংগা এলাকার মো. মতিউর রহমানের ছেলে ছিলেন।
ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংকর কান্তি দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টিনা প্রথম গোল হজম করলে ব্রাজিল সমর্থক শরিফুল ইসলাম উল্লাস করেন। এ সময় তিনি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করতে থাকেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক শরিফুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ফুটবল খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
২৮ দিন আগে