সংঘর্ষ
চুয়াডাঙ্গায় ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, খবরে ‘স্ট্রোকে’ দাদার মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষে শিমুল হোসেন কাজি (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে শিমুলের দাদা নাজিম উদ্দিন কাজি (৭০) স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সংঘর্ষের ঘটনায় নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিমুল হোসেন কাজি ওই গ্রামের লাবু হোসেনের ছেলে। নাজিম উদ্দিন কাজি তার দাদা এবং মৃত ইংরেজ আলী কাজির ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন ঢাকায় অবস্থানকালে কয়েক দিন আগে ফেসবুকে একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ঈদের দুই দিন আগে তিনি বাড়িতে ফিরলে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ঈদের দিন (শনিবার) দুপুরে হৃদয় হোসেনের সঙ্গে সাহাবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হৃদয় ও তার চাচা বজলু আহত হন। পরে পাল্টা হামলায় আব্দুল্লাহর মা আলিয়া বেগম, তরিকুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আহত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে পূর্বশত্রুতার জেরে হান্নান-কুবির গ্রুপ ও লাল খাঁ-জাহাঙ্গীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুবির কাজি ও শিমুল কাজি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় শিমুলের মৃত্যু হয়।
এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে নাজিম উদ্দিন কাজি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করেন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
২ ঘণ্টা আগে
ঈদের নামাজের স্থান নিয়ে কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষ, আহত ১৩
ঈদের নামাজ মসজিদে হবে নাকি ঈদগাহ মাঠে—এ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষের কারণে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—রুবেল হোসেন (৩০), গফুর (৪০), আলম (৪৫), শাকিল (২৫), রিপন (২৬), সরোয়ার (৪৫), আশরাফুল (৩৫), শাহিন (৩৫), জিয়া (৩৭), মুসা (৪৫), মন্টু (৫৫), জুয়েল (২৭) ও ফিরোজা খাতুন (৩৩)। তারা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর চরে অবস্থিত এই গ্রামে প্রায় ১২০টি পরিবারে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। তাদের জন্য একটি জামে মসজিদ ও একটি ঈদগাহ মাঠ রয়েছে। ঈদের দিন সকাল থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ কমিটি সকাল সাড়ে ৮টার পরিবর্তে সাড়ে ৯টায় জামাত নির্ধারণ করে।
এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একপক্ষ মসজিদে নামাজ শুরু করলে অপরপক্ষ তাদের ঈদগাহে যাওয়ার আহ্বান জানায়। এ সময় বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ।
সংঘর্ষে আহত রুবেল হোসেন অভিযোগ করেন, তর্কাতর্কির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তার মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জুয়েল বলেন, মসজিদে নামাজ শেষে খুতবা চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি, তার বাবা ও স্বজনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের বাড়িতেও ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহত কয়েকজনকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা গেছে, যাদের হাত, মুখ ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এরপর বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা রোকেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, ‘নামাজ নিয়ে রাস্তায় মারামারির পর আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।’ অন্যদিকে ছারা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলের অটোরিকশা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের কারণে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নামাজের স্থান নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নামাজ আর অনুষ্ঠিত হয়নি।’
ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করা হলেও একপক্ষ মসজিদে নামাজ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে প্রায় ৪৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, নামাজের স্থান নিয়ে বিরোধে দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
২০ ঘণ্টা আগে
ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দলের হাজারো নেতা-কর্মী।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সীসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহন হন। আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বিএনপি এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চায়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে।
জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।
পুলিশ জানায়, মরদেহ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ শেষে সেটি তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে পৌছায়। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে মাধবপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জানাজায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের স্থানীয় শত শত নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তরু মুন্সীর স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমির ড. মো. হাবিবুর রহমান এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তরু মুন্সী শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। এ মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার ইফতার ও তালিম নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
৭ দিন আগে
নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউপি মেম্বারসহ আহত ১৫
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লক্ষীপাশা ইউপি মেম্বার জিরু কাজীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাঁকা গ্রামে জিরু কাজী ও আক্তার মোল্যা গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— জিরু কাজী, লুৎফুন্নাহার, রেখা বেগম, সেলিম বিশ্বাস, হেমায়েত হোসেন, আনোয়ার, আক্তার মোল্যা, লিটন, ফিরোজ, শরিফুল, হাসান মোল্যা, কাদের, মিরাজ মোল্যা। এর মধ্যে জিরু কাজীর লোকজন বেশি আহত হয়েছেন।
এছাড়া বাঁকা গ্রামের রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় আমাদা গ্রামের তবিবর মৃধাকে আক্তার মোল্যার লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে আক্তার মোল্যার লোকজন মসজিদের ভেতরে গিয়ে জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন।
আহতদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাঁকা গ্রামের জিরু কাজী গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের আক্তার হোসেন গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিরোধ চলে আসছিল। এরপর গতকাল দুপুরে একটি স্যালোমেশিনের পাম্প চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে মসজিদের ভেতরে গিয়ে আক্তারের গ্রুপের লোকেরা জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই আজ (শনিবার) সকালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
১৪ দিন আগে
সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী নিহত: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, অপরাধীকে গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।
রবিবার (১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক আইল্যান্ডে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে জীবননগরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং এই পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে নেতা-কর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় ৩০ মিনিট শহরের যান চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান এবং জীবননগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন।
এদিকে সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের জানাজা আজ (রবিবার) বিকেল ৩টায় জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার ছেলে মেহেদী হাসানকে মারধরের অভিযোগ উঠে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মেহেদি হাসানকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদরাসার সামনে মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। তাদেরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে আমির মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
২০ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতার ভাই নিহত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে জামায়াতের এক ইউনিয়ন আমিরের বড় ভাই নিহত হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের ইউনিয়ন আমির ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা ফটকের সামনে ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে দুদফায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত হাফিজুর রহমান (৫৫) জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক ও একজন স্বনামধন্য জুয়েলারি ব্যবসায়ী ছিলেন। গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নিহতের ছোট ভাই মফিজুর রহমান। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামায়াতের পক্ষের অন্য আহতরা হলেন— সুটিয়া গ্রামের মফিজুর রহমান (৪০), খায়রুল ইসলাম (৫০) ও সোহাগ (৩৫)। তাদের মধ্যে দুজন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে বিএনপির তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন— বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০), সদ্য বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০) এবং তার বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে গতকাল ইফতারের পর হাসাদাহ বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসরাফিল এবং পার্শ্ববর্তী বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা সুটিয়া গ্রামের সোহাগের সঙ্গে মেহেদী ও তার বাবা জসীম উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
তারা আরও জানান, প্রথমে ইসরাফিল ও সোহাগ মারধর করেন মেহেদী ও তার বাবাকে। পরে মেহেদীর স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে সরে যান। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাজারে জড়ো হলে আবারও সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা মফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালালে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান হাফিজুর রহমান। তখন হামলাকারীরা হাফিজুর রহমানকে মারধর করেন। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। হাফিজুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, সন্ধ্যায় হাসাদাহ বাজারে বিএনপির দুজন আহত হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জীবননগর থানায় জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে পুলিশের সামনেই তার ওপর হামলা হয়। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমাদের নিরীহ নেতা-কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
ওসি সোলাইমান হোসেন বলেন, হাসাদাহে দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
২০ দিন আগে
মোবাইল চুরি নিয়ে সিলেটে দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বোয়ালজুড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসমাইল আলী (২২) উপজেলার বালাগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসমাইলের বড় ভাই মামুনের সঙ্গে ছাত্রদলকর্মী হাসানের বিরোধ হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ইসমাইল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৬
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সামাজিক বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়িয়া-ভাদালিয়াপাড়া এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় সেখান থেকে কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে বটতৈল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল হান্নানের গ্রুপের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার (ইউপি সদস্য) সাইফুলের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গতকাল (শনিবার) রাতে ভাদাদিয়াপাড়া এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ছয়জন আহত হন। এ সময় ২০টির অধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বরিয়ার হান্নান মেম্বার ও ভাদালিয়া পাড়ার সাইফুল মেম্বারের মধ্যে সামাজিক দ্বন্দ্ব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এর জেরে এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
২০ দিন আগে
মাগুরায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫
মাগুরায় সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিবরামপুর ও বাটিকাডাঙ্গা এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, ঈদ উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তারিকুল শেখ ও একই ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আবু মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে তাদের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময় বিএনপি ওয়ার্ড সভাপতির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক জানান, পৌর এলাকার বাটিকাডাঙ্গা পাকার মাথায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাগুরা থানায় মামলা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
২৪ দিন আগে
নড়াইলে আধিপত্যের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ৪
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আজ (সোমবার) ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত খায়ের গ্রুপের ওসিবুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৭ দিন আগে