সংঘর্ষ
রংপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ভ্যানচালক খুন
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম(২৫) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বালুয়াভাটা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আরিফুল পৌরশহরে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রংপুর আদালতে একটি মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের মমিনুলসহ তার দলের ৫ জন হাজিরা দিতে যায়। একই মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের ফিরোজ শাহ ওরফে মার্ডার ফিরোজ ও তার দলবলও সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময়ে বাগবিতণ্ডা হলে ফিরোজ ও তার দলবল মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হয়। তবে সেখানেই বিষয়টির মীমাংসা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল বিকেলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। প্রতিশোধ নিতে মমিনুল তার লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজ বাহিনীকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে পাঠানপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আরিফুলকে ছুরি দিয়ে জখম করে ফিরোজ গ্যাং। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘মোর বাবা পাঠান পাড়ার বলে মারছে ওরা। মোর তিনটে ব্যাটা, একটা ব্যাটাক বাঁচপার পাও নাই। আর দুইটার একটাক মারি ফেলাইলো। বাপের ঘারত ছেলের লাশ, এর চেয়ে দুঃখ পৃথিবীতে আর হয় না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করে নাই। আমি অপরাধকে মানিয়ে নেওয়া লোক নোয়াই। আমি এর কঠোর বিচার চাই, নাহলে আমি আত্মহত্যা কইরব।’
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদোন্দ্রনাথ বলেন, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তিনি মারা গেছেন।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ সরকার বলেন, কোর্টে আগের মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে মারামারি হয়েছে। পরে পাঠানপাড়ারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে এসে একটা দোকান ভেঙে চলে যাওয়ার পর ফিরোজ গ্রুপ এসে পাঠানপাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় একটি নিরীহ ভ্যানচালককে কুপিয়ে জখম করে। ফিরোজের বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি হত্যা মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। নতুন করে এই ঘটনার এজাহার নেওয়া হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি
রাঙ্গামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলটির পদবঞ্চিত ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে সোমবার (৪ মে) দুপুর থেকে পদবঞ্চিতরা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে নবনির্বাচিত কমিটির সমর্থকরা পদবঞ্চিত কর্মীদের হটিয়ে বিএনপি কার্যালয় দখলে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়ন রয়েছে।
রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের পৌরসভা এলাকা থেকে বনরুপা পর্যন্ত ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি।
২ দিন আগে
মাগুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মসজিদের ভেতরে সংঘর্ষ, আহত ৫
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে গয়েশপুর ইউনিয়নের চর-জোকা গ্রামে জোকা মসজিদের ভেতরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমান (দলু) এবং সাচ্চু মিয়ার নেতৃত্বে দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। উভয়েই স্থানীয়ভাবে একই রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ঘটনার শুরুতে সাচ্চুর সমর্থক লাল্টু (৪০) প্রতিপক্ষের মারধরে গুরুতর আহত হন। এর জেরে কিছুক্ষণ পর সাচ্চুর পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদের ভেতরে হামলা চালান। এতে দলুর পক্ষের মুক্তার (৪৫), আনোয়ার (৬০), রেজাউল (৪০) ও দুলাল মন্ডল (৫০) গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় মসজিদের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসল্লিরা প্রাণভয়ে দ্রুত সরে যান। পরে সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মসজিদের ভেতরে এমন সহিংসতার ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া জানান, চর-জোকা পশ্চিম পাড়া বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদের ভেতরে দুপুর দেড়টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪ দিন আগে
চাদে পানি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪২
উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের পূর্বাঞ্চলে পানি ব্যবহারের একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সুদান সীমান্তের কাছে ওয়াদি ফিরা প্রদেশের ইগোটে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাত। আহতদের প্রাদেশিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাহামাত বলেন, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওই দুই পক্ষ এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিল যে তারা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ‘দ্রুত পদক্ষেপ’ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেছে এবং এখন পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
গ্রামটিতে একটি প্রচলিত ‘মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া’ শুরু এবং অপরাধমূলক দায় নির্ধারণে বিচারিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী।
মধ্য আফ্রিকার এই দেশে সম্পদ নিয়ে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। গত বছর দক্ষিণ-পশ্চিম চাদে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪২ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার সময় বহু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
মাহামাত বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা রোধে সরকার ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে।
চাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো কয়েক মাস ধরে সুদানের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে তাদের সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে চাদে আশ্রয় নিচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ সুদানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় চাদ। তারা মনে করে, যুদ্ধরত সুদানি পক্ষগুলোর যোদ্ধারা একাধিকবার সীমান্ত অতিক্রম করায় সংঘাত তাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের যুদ্ধে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, তবে সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
এই সংঘাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে, যেখানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এটি রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়েছে এবং সুদানের কিছু অংশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
৯ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে উপজেলার নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার সঙ্গে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকাবাসীর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, ২-৩ সপ্তাহ আগে নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকার বোরহান মিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার শিহাবের দোকানে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে যান। কিন্তু বিকাশে টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় বোরহান মিয়া অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল তাদের মধ্যে।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে শিহাব দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার রায়হান, ইয়াসিনসহ আরও কিছু বন্ধুদের নিয়ে পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় স্থানীয় একটি মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে তর্কে জড়ান শিহাব ও বোরহান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বোরহান তার লোকজনদের নিয়ে শিহাব ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা ও মারধর করেন। খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যায় পশ্চিম পাড়া এলাকাবাসীর সঙ্গে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় রাতের আঁধারে টর্চের আলো জ্বালিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে ইট পাটকেল নিক্ষেপ আর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুরো এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৯ দিন আগে
খুলনায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত
খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নুর আলম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে এ ঘটনাটি ঘটে।
খুলনার তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, আজ (শনিবার) সকালে আমজাদের বাড়ির সামনে একটি জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শহীদুল ও সাইফুল মোড়লের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে ৫ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর দুপুরে আহত নুর আলমের মৃত্যু হয়। বাকিরা খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
১১ দিন আগে
নাটোরে পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্রে করে সংঘর্ষ, আহত ৩
নাটোরের লালপুরে পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৩ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কদিমচিলান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যাক্ষদর্শীদের দাবি, সকালে কদিমচিলান এলাকার সাদিয়া পেট্রোল পাম্প থেকে বিভিন্ন যানবাহনে তেল দেওয়ার সময় ওই এলাকার স্থানীয় লোকজন প্রভাব সৃষ্টি করে জারকিনে জোর করে পেট্রোল নেওয়া শুরু করেন। এতে বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েন গ্রামের লোকজন প্রতিবাদ জানালে তাদের ওপর চড়াও হন কদিমচিলান এলাকার লোকজন। তারা তেল নিতে আসা কয়েন গ্রামের লোকদের এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করেন। এ ঘটনায় কয়েন গ্রামের ৩ জন আহত হন।
এ ব্যাপারে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুপক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় গ্রুপের ১৫ জন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাধবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন জানান, মাধবপুর গ্রামের বিএনপির সমর্থক শের আলী মাতুব্বরের সঙ্গে একই গ্রামের মশিউর রহমান মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ধরে সামাজিকভাবে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মোহন শেখ নামে একজন নিহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে আব্বাস নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, মাধবপুর গ্রামে সামাজিক দুই মাতুব্বরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমানে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৩ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে এক শিশুসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার এনায়েতনগরে শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ইমরান (১১), রাকিব (২৩) এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক (৪০)।
চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের সঙ্গে যুবদলের অভি-মনির গ্রুপের সংঘর্ষে বাঁধে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে ওই পোশাক কারখানায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী সালাম। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি ফারুক মন্ডলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ সেখানে হামলা চালায়। এই গ্রুপটি বেশ কিছুদিন ধরে এখানে চাঁদা দাবি করছিল। এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন ফতুল্লার আরেক ঝুট ব্যবসায়ী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল মাহমুদ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে অভি গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় এনায়েতনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। পরে রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ এলাকায় প্রবেশ করে গোলাগুলি করে। এতে ১১ বছর বয়সী শিশু ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে আহত শিশু ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদনী হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের সময় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলিতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জীবন রক্ষায় সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এনায়েতনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকা জানান, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাজী মাসুদুর রহমান মাসুদের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া অভি, মনির, সুমন, জসিমসহ ২০-৩০ জন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করেন তিনি ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুট মালামাল নিয়ে বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
২৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে গ্যারেজে অটোরিকশা রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশ-পথচারীসহ আহত শতাধিক
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় গ্যারেজে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতে গেলে তার সঙ্গে চালক ছাদিক মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যারেজের বাইরে। পরে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দীঘলী ও তিকপুরের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্তকেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সহিংসতার কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি সড়কের দুইপাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশগামী যাত্রীদের সে সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২৭ দিন আগে