ছিনতাই
জয়পুরহাটে চালককে হত্যা করে অটোভ্যান ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে যাত্রী সেজে অটোভ্যান ছিনতাই ও চালককে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জয়পুরহাট ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু কামাল।
গ্রেপ্তাররা হলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি হাবিল উদ্দিন (৪১) এবং তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন (৪৭), জাকারিয়া (২৯) ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বিপ্লব (৩৭)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে পাঁচবিবি উপজেলার শালাইপুর বাজার থেকে পাথরঘাটা যাওয়ার কথা বলে শাখাওয়াত হোসেনের অটোভ্যান ভাড়া করেন হাবিল। ভ্যানটি পাথরঘাটা সেতুর কাছে একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে হাবিল লোহার শাবল দিয়ে শাখাওয়াতের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়।
পরে শাখাওয়াতের গামছা দিয়ে রক্তের দাগ মুছে গামছা ও শাবল সেতুর নিচে ফেলে অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান হাবিল। পরে চক্রের অপর সদস্য আনোয়ারের সহায়তায় ছিনতাই করা ভ্যানটি ৪৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। এরপর জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার শাবল, রক্তমাখা গামছা ও ভ্যান বিক্রির নগদ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি রাজু কামাল জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করার কাজ চলছে। সেই সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনো দিক রয়েছে কি না, তা জানতে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
১ দিন আগে
ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পোশাককর্মীকে হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পোশাককর্মী সায়মনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চোরাই মোবাইল ফোন কেনার দায়ে সুজন নামের আরেক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। সেই সঙ্গে চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে দণ্ডিত সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সায়মন মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর তিনি বেতন পেয়ে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে বের হন।
কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী সায়মনের পথ আটকান। তাদের এক ছোট ভাইকে সায়মন মেরেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তারা ভয়ভীতি দেখান এবং ‘কথা আছে’ বলে সায়মনকে সঙ্গে নিয়ে যান।
পরে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে দিয়ে তাকে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর তারা চাকু বের করে সায়মনকে ভয় দেখান এবং তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দিয়ে দিতে বলেন। সে সময় সায়মন টাকা ও মোবাইল দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তিনজন পালিয়ে যান।
সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে।
ইউসুফ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ঘটনায় ইকবাল ও মেহেদী জড়িত থাকার কথা জানান তিনি।
এছাড়া সায়মনের মোবাইল ফোনটি সুজনের কাছে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও জানান ইউসুফ।
২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে হত্যা এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল কেনার অপরাধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
১৩ দিন আগে
নওগাঁয় স্বর্ণকারকে হত্যা, সোনা-টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫০) নামের এক স্বর্ণকার নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা ছয় ভরি সোনা ও সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুলালপাড়া এলাকায় অলিফের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি মহাদেবপুর বাজারে দত্ত জুয়েলার্স নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) মহাদেবপুর বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন অলিফ। বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা প্রায় ছয় ভরি সোনা ও নগদ সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কেবলই ছিনতাই নাকি এর পেছনে শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান তিনি।
৪১ দিন আগে
নওগাাঁয় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
নওগাঁর মান্দায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার চাপড়া গ্রামের মো. মানিক হোসেন (৩৪), দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের মো. এনামুল হক এবং ফুলবাড়ী উপজেলার মুক্তারপুর গ্রামের মো. মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯)।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি হ্যান্ডকাফ, ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গতকাল (শনিবার) বিকেলে কয়কেজন নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পারইটুঙ্গি গ্রামের বিপুল কুমারের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বিপুলের বাবা শুকুমার চন্দ্র ও কাকা সবুজ কুমারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে পরিবারের নারী সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পুরো ঘর তল্লাশির নামে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় প্রতারকদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়ার মুখে আসামিরা পাশের জেলা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সিমলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আটক করে ধোলাই দেয়।
তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে বাগমারা থানা পুলিশের সহায়তায় আসামিদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করা হয়েছে। আজ সকালে আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
৫০ দিন আগে
নাটোরে দোকানে ঢুকে কর্মচারীকে কুপিয়ে জখম, ২০ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
নাটোর শহরের ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ডিলারের দোকানে ঢুকে কর্মচারীকে কুপিয়ে ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কান্দিভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ব্যবসায়ী ফেরদৌস জানান, হুমায়রা ট্রেডার্স নামে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আব্দুল কাইয়ুম (৬৪) দুপুরে জমি বিক্রির ২০ লাখ টাকা ও সরকারি আটা ক্রয়ের ২০ হাজার টাকা নিয়ে কান্দিভিটা এলাকার দোকান হুমায়রা ট্রেডার্সে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তুষার নামে স্থানীয় এক যুবক ডাব কাটা হাসুয়া দিয়ে কাইয়ুমের মাথায় আঘাত করে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তার চিৎকারে লোকজন ছুটে এসে তাকে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনছুর রহমান জানান, তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন।
৫০ দিন আগে
সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক নিহত
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে মোসা. রনজিনা পারভীন (৪৫) নামে এক শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন।
ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা ওই শিক্ষিকার হাতব্যাগ টান দেয় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা। এতে রিকশা থেকে পড়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রনজিনা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে রনজিনা পারভীন বগুড়া থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। তিনি ফার্মগেট এলাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার জন্য ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে নামেন। সেখান থেকে রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে তিনি সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল আসে। মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা তার ব্যাগ টান দিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি রিকশা থেকে সড়কে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
পরে তাকে উদ্ধার করে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, এ ঘটনায় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, কাউন্টার টেররিজম, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অন্যান্য সংস্থাও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৫১ দিন আগে
রাজধানীতে ছিনতাই ও হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
রাজধানীর বংশাল থানার সিদ্দিক বাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের পর হত্যার দায়ে মাসুম নামের এক ছিনতাইকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবিব বাপ্পী এ রায় দেন।
জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউসুফ নামের অপর এক আসামিকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত মাসুম মিয়া ওরফে কালুকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, কামরাঙ্গীরচরের মুদি দোকানদার আব্দুল কুদ্দুস ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য রিকশায় করে বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বংশাল থানার সিদ্দিক বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই ছিনতাইকারী তার রিকশার গতিরোধ করেন। এ সময় তারা কুদ্দুসকে ছুরিকাঘাত করেন এবং তার সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কুদ্দুসের চাচাতো ভাই মো. কামাল হোসেন ওই দিনই বংশাল থানায় এই হত্যা মামলাটি করেন। তারপর ওই বছরের ১০ নভেম্বর ওই দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কমকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুল ইসলাম।
২০১৭ সালের ৭ মার্চ দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
৬৮ দিন আগে
খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
পুলিশ পরিচয়ে এক ডিম ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় ৬ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহআলম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো. লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শামীম বিশ্বাসকে দণ্ডবিধির ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় মো. লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার কর্মচারী সঙ্গে ছিলেন।
তারা দুজন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত ও বাকি তিনজন সিভিল পোশাকে এসে তাদের গতিরোধ করেন।
এরপর তারা রবিউল ইসলামকে জানান, তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে। পরে তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা দেন তারা।
তখন রবিউল ইসলাম তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে হত্যার ভয় দেখান। পরে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে চলে যান।
ঘটনার পরের দিন রবিউল পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মো. শাহজুল ইসলাম ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৭৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে এক ভারতীয় ট্রাকচালককে অপহরণ, ছুরিকাঘাত ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস এম শফিকুল ইসলাম এ রায় দেন।
রায়ে দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) তিন আসামির প্রত্যেককে পৃথকভাবে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পাটগ্রাম উপজেলার ইসফারমারা (সোনারভিটা) এলাকার সবুজ মিয়া, একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার রমজান আলী এবং ভাটিয়াটারী এলাকার আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিংয়ের (৩৬) ট্রাকটি বুড়িমারী সড়কে আটকে যায়। ওইদিন দিবাগত রাত ১টার দিকে আসামিরা পে-লোডার বা ক্রেন দিয়ে ট্রাক উদ্ধারের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
পরে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এরপর তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পরবর্তী সময়ে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেন।
বিচার শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ (অপহরণ) ও ৩৯৪ (আঘাত করে ছিনতাই) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ তিন আসামির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা নিন্দনীয়। এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
৮৪ দিন আগে
নওগাঁয় ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার ৩
নওগাঁর রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকারী দলের আরও ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা মোড় নামক স্থানে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সময় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ (শনিবার) দুপুরে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— নওগাঁ সদর উপজেলার উত্তর সর্দারপাড়া গ্রামের ফয়সাল হোসেন (২১), বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সানা মণ্ডল (২২) এবং একই গ্রামের রাব্বি হাসান (১৯)।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, শুক্রবার রাতে গোনা এলাকার মাহবুব নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী রাণীনগর-আত্রাই আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে গোনা মোড় এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ৮ জন ছিনতাইকারী তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় মাহবুবের পেছনে বসা যাত্রীর চিৎকারে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি পুলিশও এগিয়ে আসে। সে সময় ছিনতাইকারীরা পালানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করে উপজেলার খট্টেশ্বর এলাকা থেকে জনগণের সহযোগিতায় তাদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একজনের কাছ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ৩ জন একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। সে সময় অপর দুই মোটরসাইকেলে থাকা আরও ৫ ছিনতাইকারী পালিয়ে যান।
ওসি বলেন, তারা মূলত ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এসেছিল। চালক মাহবুবকে ধরতে পারলে হয়তো মারধর করে তার মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করে নিয়ে যেত। গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর পালিয়ে যাওয়া পাঁচ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
১২১ দিন আগে