গ্যাস সংকট
দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে: রিজভী
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ...হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুএকটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের উপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’
মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে। তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
রিজভী জানান, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ইতোমধ্যে সেটি মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে গ্যাসের রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে।
‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ইনশাআল্লাহ গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। বিদ্যুৎ থাকবে—তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি,’ বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষার রাজনীতি করে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি আজকে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসেই জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষায় তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করছেন, দিন-রাত কাজ করছেন।
দলের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি মোকাবিলা করে ভালো কিছু করার মধ্যে তো কোনো কৃতিত্ব নেই! নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে, ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে, কিন্তু সেগুলোকে মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অঙ্গীকারগুলো—ফার্মারস কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।
দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা, অথচ সরকার চালাতে গিয়ে দল হিসেবে বিএনপি পৃথক থাকতে পারছে না—গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভেগ (অস্পষ্ট) টার্ম।’
রিজভী বলেন, ‘জনগণ পার্টিকে ভোট দিয়েছে, পার্টি সরকার গঠন করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা সব বিএনপির নেতা। অধিকাংশই বিএনপির নেতা। তাহলে পার্টিকে যখন ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, পার্টির লোকরাই তো সরকার পরিচালনা করবে! এটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
‘আমরা বারবার বলেছি, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী সরকারের অংশ। সরকারের সব কর্মসূচি, যেটা জনকল্যাণে-জনস্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের নেতাকর্মীরা ভালো করে জনগণকে অবহিত করবে। এর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈশব্দ নেই।’
তিনি বলেন, ‘পার্টি পার্টির জায়গায় আছে, সরকার সরকারের জায়গায় আছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বিএনপি এবং বিএনপির লোক। সুতরাং দলের লোকরাই তো মন্ত্রী হবে, চিফ হুইপ হবে। চিফ হুইপ ভাইস চেয়ারম্যান কাকে করবে? অন্য দেশ থেকে ধার করে আনবে, না অন্য পার্টি থেকে ধার করে আনবে? দলের লোকরাই হবে।’
রিজভী আরও বলেন, সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে এসব মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার কথায়, ‘সংকট আসবে। কিন্তু সংকট মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসে নেই। সব সংকট মোকাবিলা করেই তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
৩ দিন আগে
স্থায়ীভাবে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটাতে দুই বছর লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট স্থায়ীভাবে কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যাগুলো মিটিয়ে নতুন এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপন, পাইপলাইন বসানোসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় দরকার।’
তিনি বলেন, গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে বড় জাহাজে করে এলএনজি এনে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা এবং পরে ভাসমান পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের মাধ্যমে তা গ্যাসে রূপান্তর করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোনাসের সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো বর্তমানে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকায় এই মুহূর্তে অতিরিক্ত জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জ্বালানি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ বিষয়ে কাজ করছেন।
শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিগুলো সাফার করছে (ভুগছে), বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে—এর প্রত্যেকটি কথাই সঠিক। এখানে কোনো ভুল নেই। তবে যে পরিস্থিতি আমরা পেয়েছি, সেটা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি—এ বিষয়টিও সবাইকে বুঝতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা মৌসুমভেদে বাড়ে-কমে। বর্তমানে গরমের সময় হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি। শীতকালে একই চাহিদা অনেকটাই কমে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে সংকট আরও তীব্র হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিটের একটিতে গ্যাস ভরা সম্ভব হয়নি এবং অন্যটির একটি বয়লার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত পাঁচ থেকে দশ দিনে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
তবে এরই মধ্যে একটি ইউনিটে আবার গ্যাস ভরা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফল আপনারা এখন পাচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, আরও উন্নতি হবে।’
অন্য ইউনিটের একটি বয়লারও ঠিক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরেকটি বয়লার মেরামতের কাজ চলছে। সেটিও ঠিক হয়ে গেলে দুটি ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস পাওয়া সম্ভব হবে। তখন প্রায় এক মাস আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া যাবে এবং শিল্পকারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চলমান সংকটও অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কূপ খনন হলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে। সেক্ষেত্রে দুই বছর সময় দরকার। বর্তমানে দৈনিক জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের চেয়ে দ্বিগুণ। পাশাপাশি বছরের এই সময়ে চাহিদা অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় বেশি থাকে। সেজন্য সংকট দৃশ্যমান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
২০ দিন আগে
মহেশখালীর দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, ১৯ আগস্ট স্বাভাবিক হওয়ার আশা
দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দুটিই একসঙ্গে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ভাসমান টার্মিনাল দুটি থেকে আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৪টায় সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামিট এলএনজি টার্মিনালের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অধিক বেগে বাতাস প্রবাহের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। ফলে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।
পরবর্তীতে গত ১৪ আগস্ট নতুন একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে আজ ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।
বর্তমানে এ টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।
অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি আংশিক মেরামতের পর বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এ টার্মিনালের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে ৪৬০ এবং এক্সিলারেট থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০ দিন আগে
দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের একমাত্র গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিও ধ্বংস করে গেছে। সব সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল আগের মত ভূমিকা পালন করে হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন। তারা গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, তারা সব সংকটের এখনই সমাধান চান। সরকারকে নানাভাবে টেনে ধরার চেষ্টা করছে তারা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চার হাজার ছাত্র, নারী ও শিশুকে জুলাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। গত ১৭ বছর লাখ লাখ মামলা, গুম, খুন নির্যাতনের রেকর্ড করেছিল ওই সরকার। দেশের মানুষ এখন শান্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধে আমাদের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতিও পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে।
এ সময় তিনি সব সংকট মোকাবিলা করে দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
রংপুরে লাভ শেয়ার বিডি সংস্থার সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জন ব্যক্তির হাতে চা-ঘর তুলে দেওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, রংপুরের মানুষ আমরা কিছুই বুঝি না, বিএনপি থাকলে জাতীয় পার্টিকে ভোট দেই, জাতীয় পার্টি থাকলে অন্য দলকে ভোট দেই, আমাদের উন্নয়ন হবে কেমন করে! প্রধানমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চান। সে ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়েছে, যখন আমদানি করা হয় তখন এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কথা বলতে পারতেন না, লিখতে পারতেন না, এখন যা খুশি তাই লিখতে পারছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দল যে ভাষায় কথা বলে তা কিন্তু গণতন্ত্র নয়। আমরা উন্নয়ন কাজ শুরু করেছি, আমরা এগিয়ে যেতে চাই, দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
অনুষ্ঠানে লাভ শেয়ার বিডি এর নিজস্ব অর্থায়নে ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে ২৫ টি চা-ঘর হস্তান্তর করা হয়।
লাভ শেয়ার বিডির চেয়ারম্যান জাহিদ খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুসফিকুল ফজল আনসারি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শামসুজ্জামান সামু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
আংশিক চালু হয়েছে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল, রাতেই গ্যাস সরবরাহ বাড়বে
কারিগরি ত্রুটির কারণে গত দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় আংশিকভাবে চালু হয়েছে।
পেট্রোবাংলার সদস্য (অপারেশন) ড. রফিকুল ইসলাম জানান, ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) চালু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আজ রাতের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ এমএমসিএফডিতে পৌঁছাবে।
গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশে গ্যাস সংকট শুরু হয়।
অন্য একটি এফএসআরইউ আগেই বন্ধ থাকায় ওই সময় থেকে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানির জন্য কার্যত একটি মাত্র সচল টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
এদিকে, পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরেকটি এলএনজি কার্গো ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে এবং শুক্রবার থেকে তা খালাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
২৯ দিন আগে
গ্যাস সংকট: আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নতি, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ
চলমান গ্যাস সংকটে জনদুর্ভোগের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি বাসাবাড়িতে মা-বোনেরা, গৃহিনীরা সংসারের রান্নার কাজে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। শিল্পকারখানাগুলোতে তাদের উৎপাদন কমে গেছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকটের কারণে গণপরিবহন চাপের মুখে পড়েছে। এসব কারণে আমরা জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে এটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো ত্রুটি নয়, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি; কিন্তু তারপরও তারা দেশে গ্যাসের এই সরবরাহ নিশ্চিত করে। আমরা তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি।
৩৯ দিন আগে
ভাসমান টার্মিনালে ত্রুটি: সরবরাহ কমায় তীব্র গ্যাস সংকট, সরকারের দুঃখ প্রকাশ
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাময়িক ভোগান্তির জন্য গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সরকার।
বুধবার (২২ জুলাই) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কারিগরি সমস্যার কারণে সংশ্লিষ্ট এফএসআরইউ থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে। ফলে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সিএনজি স্টেশনগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছে না, যার ফলে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি সেবা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
সরকার জানায়, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা এ পরিস্থিতির প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো অংশে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ে।
এই নির্ভরতা কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার একনেক সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি কূপ খননের একটি প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে উৎপাদন বণ্টন চুক্তির (পিএসসি) আওতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের কার্যক্রম চলছে। তবে অনুসন্ধান, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় দীর্ঘদিনের এ সংকটের স্থায়ী সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে সরকার কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনে দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনতে পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা, নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামোর বহুমুখীকরণ।
সরকার জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা সমাধান হলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও সর্বসাধারণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
৪৪ দিন আগে
মঙ্গলবার টানা ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি টাই-ইন কাজের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ১৬ ঘণ্টা দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
সোমবার (৬ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৬ ঘণ্টা গাজীপুর ডিভিশনের আওতাধীন জয়দেবপুর, নাওজোর, ইটাহাটা, কড্ডা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ), কালিয়াকৈড় ও মির্জাপুর এলাকার ১০ ইঞ্চি ও ২০ ইঞ্চি, ১৪০ পিএসআইজি লাইনের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
এর ফলে ওই অঞ্চলের আওতাধীন জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী পর্যন্ত সব ধরনের শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকবে।
এ ছাড়াও এই দীর্ঘ সময়ে আশেপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বা লো-প্রেসার বিরাজ করতে পারে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
৬০ দিন আগে
শুক্রবার থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না সাভারের যেসব এলাকায়
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের জরুরি পাইপলাইন স্থানান্তর কাজের জন্য আগামী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৭টা হতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা আশুলিয়া টিবিএস হতে বাইপাইল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের এলাকা, ঢাকা ইপিজেড, মালঞ্চ পাওয়ার প্ল্যান্ট, বেক্সিমকো ডিআরএস (বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স), কাশিমপুর, সারদাগঞ্জ, হাজী মার্কেট, শ্রীপুর, চন্দ্রা, নবীনগর, সাভার টাউন এলাকা, ব্যাংক কলোনী, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, উলাইল, ব্যাংক টাউন, সাভার রেডিও কলোনী, কলমা, দোসাইদ, কুমকুমারী, আক্রান, চারাবাগ, বড় আশুলিয়া, টঙ্গাবাড়ি, কাঠগড়া, জিরাবো, গাজীরচট, নয়াপাড়া, দেওয়ান ইদ্রিস সড়কের উভয় পাশের এলাকা, নয়ারহাট, বলিভদ্রপুর, পল্লীবিদ্যুত, ডেন্ডাবর, ভাদাইল ও লতিফপুর-সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যমান সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এছাড়া, এর আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
১৩৬ দিন আগে
আড়াই মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন
গ্যাস সংকটের কারণে আড়াই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাতটি ইউনিটের সবকটির উৎপাদন। এতে নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশালে অবস্থিত এই তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির অবস্থা প্রতিনিয়তই নাজুক হয়ে পড়ছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক ইউএনবিকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, দুই বছর ধরেই এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সংকট চলছে। এ কারণে গত ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫ নম্বর ইউনিট, ১৩ জুন ৩৬০ মেগাওয়াটের ৪ নম্বর ইউনিট এবং ১৪ জুন ৩৬০ মেগাওয়াটের ৭ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।
এনামুল হক জানান, সরকার সার কারখানায় গ্যাস দেওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বিকল্প উপায়ে গ্যাস সরবরাহের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ইউনিটে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নেই। গ্যাস পেলেই উৎপাদন শুরু হবে।
এনামুল হক আরও জানান, গত জুন মাসের প্রথম দিকে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬০ মেগাওয়াটের ৩ নম্বর ইউনিটের টারবাইন রোটারের ব্লেডে সমস্যা দেখা দেয়। এর পর থেকে এই ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ। এটি এখন মেরামতের শেষ পর্যায়ে। গ্যাস সংযোগ চালু করলেই এ ইউনিটেও বিদ্যুৎ উৎপাদন আবার শুরু হবে।
আরও পড়ুন: প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভোগান্তি
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০১০ সালের জুন মাসে ২১০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে আগুন লেগে টারবাইন পুড়ে গিয়েছিল। সেই থেকে এই ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
১৯৬৭ সালে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ করে রাশিয়া টেকনোপ্রম এক্সপার্ট। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে সেটি যাত্রা শুরু করে। পরে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদনে আসে। তবে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ দুটি ইউনিটেরও উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
১ ও ২ নম্বর ইউনিটদুটি ভেঙে নতুন করে একটি নতুন ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
৩৭৪ দিন আগে