আন্দোলন
এইচএসসি পরীক্ষা ইস্যু: সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান ছাত্রদলের
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)। সংগঠনটি বলেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং সড়ক অবরোধ করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আলাপ-আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ছাত্রদল মনে করেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে; সেজন্য আমরা প্রেস রিলিজ দিয়েছি। সুতরাং বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে। কোনোভাবে সড়ক অবরোধ করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’
নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে সেজন্য সরকার চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এর বাইরে উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়েছে। এটি আমরা সকলেই অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের সাময়িক সময়ের জন্য পরীক্ষা স্থগিতকরণের দাবির সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও একই দাবি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদেরকে বলেছি, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার কোনো দাবি করলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সেটির পক্ষে থাকত। কিন্তু ছাত্রদল সরকারের বিপক্ষে গিয়ে বলেছে, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য এবং আমরা শুনেছি সরকার সিদ্ধান্ত বিবেচনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছে।’
৭ দিন আগে
অচলাবস্থা কাটাতে ববি শিক্ষকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতি আন্দোলনে সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে তার বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনই পাঠদানে ফিরছেন না শিক্ষকরা, তারা নিজেদের মধ্যে সভা করে সোমবারের মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
গত ২১ এপ্রিল থেকে চলমান এ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম পরীক্ষা ও পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান লিজা, কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতি-সংক্রান্ত দাবিগুলো নিয়ম অনুযায়ী পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপাচার্য ও বিভাগীয় আমাদের বলেছেন, আপনারা আইন অনুযায়ী সব কিছু পাবেন। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন যেহেতু পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত আমরা শিক্ষকরা মিলে নিয়েছিলাম, তাই আবার সকল শিক্ষকের সঙ্গে রবি বা সোমবারের মধ্যে বসে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, চলমান বিষয় নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসির সঙ্গে ডিনদের মিটিং ছিল। সেখানে ছয় অনুষদের ছয়জন ডিনের মধ্যে পাঁচজন ডিন উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার আমাদের দাবির কিছু বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন। তারা বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে যত দ্রুত সম্ভব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বোর্ড বসানো হবে। এ ছাড়াও তারা আমাদের ক্লাস এবং পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ তৌফিক আলম বলেন, আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ডিনদের সঙ্গে একটা ত্রিপক্ষীয় মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে আমরা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিন্ধান্ত নিয়েছি, ক্লাস পরীক্ষা যেগুলো বন্ধ রয়েছে, সেগুলো একাডেমিক কার্যক্রম শিক্ষকরা খুব দ্রুতই চালু করবে। একইসঙ্গে তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধানের জন্য আগামী সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই একটা সিন্ডিকেট সভা ডাকা হবে। সিন্ডিকেটে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২১ এপ্রিল থেকে কর্মবিরতিতে নামেন শিক্ষকরা। ববিতে ২১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০ জন শিক্ষকের সকল যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর পদোন্নতি আটকে আছে বলে অভিযোগ তোলেন আন্দোলনরতরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হলেও উপাচার্য সেখানে নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপন করেননি। সর্বশেষ ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হলেও এই সংকটের কোনো সমাধান হয়নি। তাই তারা কর্মবিরতিতে নেমেছেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল । কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে সেই কার্যক্রম আটকে দিয়েছে। ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ নীতিমালার আওতায় এলেও ববিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও তা কার্যকর হয়নি। এখন থেকে নীতিমালা তৈরি শেষে ববির সিন্ডিকেটে পাস করতে হবে। তারপর দ্রুত অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠানো হবে। ইউজিসির অনুমোদন শেষে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।
৮২ দিন আগে
আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সহ্য করা হবে না: র্যাব ডিজি
দাবি আদায় বা আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শাহিদুর রহমান।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দেশব্যাপী র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শাহিদুর রহমান বলেন, কোনোভাবেই যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন না হয় সেদিকে সবসময় সতর্ক আছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, দাবি আদায়ের নামে বা আন্দোলনের নামে সাধারণ জনগণের ওপর জুলুম করা বা তাদের জিম্মি করে কোনও ধরনের কার্যক্রম আমরা হতে দেব না।
তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের পরবর্তী সময়ে দেশে একটি ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সেই কঠিন সময়েই র্যাব দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
তিনি আরও জানান, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে আমরা সক্ষম হয়েছি এবং দেশবাসীকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং সামনে তা আরও সুসংহত হবে।
আসন্ন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারসহ দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান র্যাব মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি আপনাদের সহায়তা নিয়ে, দেশবাসীর সহায়তা নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারাব। সবাইকে সুন্দর একটি দেশ উপহার দিতে পারব।
১৫১ দিন আগে
পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন: পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ৬
সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে যমুনা অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ৬ জন সরকারি কর্মচারী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহতরা হলেন— সরকারি কর্মচারী আব্দুল হান্নান (৪৫), জয় দাস (৩৫), আব্দুল আউয়াল (৪০), তন্ময় (৩২), জাকারিয়া (৬০) ও মো. সিকান্দার (৪০)।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সহকর্মী মো. কালাম হাওলাদার ও মো. মাসুদ জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে একটি মিছিল কর্মসূচি ছিল। মিছিলটি শাহবাগ অতিক্রম করার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
তারা আরও জানান, পুলিশের ওই অভিযানে তাদের ৬ জন সহকর্মী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, দুপুরের দিকে শাহবাগ থেকে আহত অবস্থায় ৬ জন সরকারি কর্মচারীকে হাসপাতালে জরুরিভাবে আনা হয়েছিল। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসক।
১৬৫ দিন আগে
বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে নরসিংদীতে মহাসড়ক অবরোধ
উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে কারিগরি শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে নরসিংদী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীসহ বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই অবরোধ করেন।
এ সময় মহাসড়কের দুপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূর্ভোগে পড়ে মহাসড়কে চলাচলরত সাধারণ যাত্রীসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুর দেড়টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও অবরোধ চলছিল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দশম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের বিধান করার সুপারিশ করেছে সরকার। সরকারকে এই সুপারিশ বাতিল করতে হবে।
তারা আরও জানান, সহকারী প্রকৌশলী পদে বরাবর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পান। তবে গতবছর এ পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুযোগ চেয়ে আন্দোলন করেন বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু করেন কারিগরি শিক্ষার্থীরা। আমরা এমন সুপারিশের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি বরাবরই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের জন্য ছিল।
আন্দোলনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী রবিন মিয়া, ফাহিম আহমেদ, রিয়াদ হোসেন, মো. সাজ্জাদ, মো. তামজিদ ও সিয়াম মিয়া।
১৬৮ দিন আগে
টঙ্গীতে আন্দোলন চলাকালে শতাধিক পোশাক শ্রমিক অসুস্থ
বেতন পরিশোধের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে আন্দোলন চলাকালে ব্রাভো অ্যাপারেলস লিমিটেডের দুইটি কারখানার অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে হঠাৎ করে একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাদের।
অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে মা আওয়ার টাওয়ার ও আলম টাওয়ারে অবস্থিত কারখানার শ্রমিকরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত শ্রমিকদের অধিকাংশই বমি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও অস্বস্তিজনিত উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জরুরি বিভাগে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় কিছু সময়ের জন্য হাসপাতাল চত্বরে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও কারখানা সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ না হওয়ায় শ্রমিকরা রবিবার (১১ জানুয়ারি) সারা দিন কর্মবিরতি ও আন্দোলন করেন। একই দাবিতে পরদিন সোমবার সকালে কাজে যোগ দিয়েও তারা পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের মধ্যেই হঠাৎ একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। তবে কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাহিদ সুলতানা বলেন, আক্রান্ত শ্রমিকদের মধ্যে প্যানিক অ্যাটাক, বমি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিকই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, অসুস্থতার পরিপ্রেক্ষিতে গার্মেন্টস কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহ তদন্ত করছে।
১৮৮ দিন আগে
তারেক রহমানের জন্য শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের সদ্য প্রয়াত আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে সরে গেছে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকা থেকে সরে এসে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
এ বিষয়ে নিজেদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, ঠিক দুপুর ১২টায় পুনরায় শাহবাগ মোড়ে শহিদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। বিচার আদায়ের দাবিতে সারা দেশের জনতাকে শহিদ হাদি চত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চ শুক্রবার রাত থেকে শাহবাগে রাতভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
২০৬ দিন আগে
ভাতার দাবিতে আন্দোলন: সচিবালয়ের ১৪ কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত
সচিবালয় ভাতার দাবিতে আন্দোলন করা ১৪ জন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালত চার্জশিট গ্রহণ করায় সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে ওই কর্মচারীদের বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির, সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রাব্বানী ও নজরুল ইসলাম রয়েছেন।
এ ছাড়াও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অন্য কর্মচারীরা হলেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মো. তায়েফুল ইসলাম, বিকাশ চন্দ্র রায়, ইসলামুল হক, মো. মহসিন আলী, রোমান গাজী ও আবু বেলাল, তথ্য মন্ত্রণালয়ের মিজানুর রহমান সুমন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কামাল হোসেন ও মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিপুল রানা বিপ্লব এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নাসিরুল হক।
সচিবালয় ভাতার দাবিতে গত ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের নেতৃত্বে হওয়া ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রায় ছয় ঘণ্টা সচিবালয়ের একটি দপ্তরে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।
পরের দিনও আন্দোলন অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন কর্মচারীকে সচিবালয় এলাকা থেকেই আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আদালত তাদের রিমান্ডেও পাঠান।
সরকার দাবির বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার পরও আন্দোলন অব্যাহত রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আন্দোলনকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।
২১৬ দিন আগে
পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে ফিরতে নির্দেশ
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যাবশ্যক পরিষেবা। এ সেবায় বাধা দেওয়া বা বিঘ্ন ঘটানো অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সরকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের দাবিসমূহ সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৬৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গণছুটিতে
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজে নিয়োজিত এবং গণছুটির নামে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন এসে দাবি আদায়ে রোববার থেকে গণছুটিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।
৩১৬ দিন আগে
বাকৃবি: ২ দাবি মেনে নিল প্রশাসন, আন্দোলন সাময়িক স্থগিত
ছয় দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুটি দাবি মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রশাসন। বাকি চারটি দাবির বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আলোচনা শেষ হয়। এ সময় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।
এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানোর পর চলমান ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের ছয় দফা দাবির প্রথম দুটি মেনে নেওয়া হয়েছে, বাকি চার দাবি নিয়ে আলোচনা চলবে।
আলোচনা শেষে বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই হলে থাকতে পারবেন। আগামীকাল (আজ বুধবার) সিন্ডিকেট মিটিংয়ের ব্যবস্থা করে বিজ্ঞপ্তি আকারে হল ত্যাগের নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হবে। তাছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই বলবৎ থাকবে বলে জানান এই শিক্ষক।
আরও পড়ুন: বাকৃবির একাডেমিক কাউন্সিল সভার পরবর্তী ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
তিনি আরও জানান, বহিরাগতদের হামলায় শিক্ষার্থীরা আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ এন এম এহসানুল হক হিমেল জানান, কম্বাইন্ড ডিগ্রির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নি। পরবর্তীতে এই বিষয়ে আরও আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একক কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবির পক্ষেই আমরা অবস্থান করছি। তবে আগামীকাল আমরা কোনো আন্দোলন কর্মসূচি রাখিনি।’
আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী শিবলী জানান, আন্দোলনে যেসব শিক্ষার্থী জড়িত ছিল, তাদের প্রশাসনিক বা অ্যাকাডেমিক কোনো ধরনের হ্যারাসমেন্ট করা হবে না বলে উপাচার্য আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা লিখিত চাইলে উপাচার্য আজকের (বুধবার) মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষার্থী।
৩২১ দিন আগে