গুলি
সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলি: আসাদুলের মরদেহ দেশে, গুলিবিদ্ধ দুজন ভারতের কারাগারে
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ দেশে ফিরেছে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বেঁচে যাওয়া আরও দুই বাংলাদেশি মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে ভারতে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে। আহত মোস্তাকিম একই উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা নারায়ণের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাতে কয়েকজন বাংলাদেশি যুবক চান্দেরহাট বিওপির আওতাধীন সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
এতে আসাদুল, মোস্তাকিম ও শ্রী উদা গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
পরে ভারতীয় পুলিশ আসাদুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে চিকিৎসা দেওয়ার পর মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।
তাদের বিরুদ্ধে ভারতের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ২১ ধারাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। পরে তাদের রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আসাদুলের মরদেহ দেশে ফেরাতে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি এবং ভারতের পক্ষে বিএসএফের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে আসাদুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
আসাদুলের স্বজনেরা বলেন, আসাদুল আর কোনোদিন তাদের মাঝে ফিরবেন না—এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তারা ভেবেছিলেন, আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে হয়তো তিনি বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মরদেহ ফিরেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
মোস্তাকিমের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা দুশ্চিন্তায় আছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে জানতে পেরে তারা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মোস্তাকিম বেঁচে আছেন, এটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
শ্রী উদার পরিবারের সদস্যরাও তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তারা বলেন, গুলিতে আহত হওয়ার পর শ্রী উদা বেঁচে আছেন, কিন্তু এখন ভারতের কারাগারে। পরিবারের সঙ্গে আবার কথা বলতে পারাটাই তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি ওই এলাকায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানার পর বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়। পরে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে। রোববার রাতে আসাদুলের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। অন্য দুইজনকে ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে রবিবার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুলের মরদেহ ফেরত দিয়েছে।
৫ দিন আগে
বাড্ডায় বাসায় ঢুকে যুবককে গুলি
রাজধানীর বাড্ডায় একটি বাসায় ঢুকে মো. রানা (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড্ডা থানাধীন হোসেন মার্কেটের পেছনে ময়নারবাগ বউ বাজার এলাকার ৩৭৩ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
রানা নোয়াখালী জেলার মাইজদী এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রব। তিনি বর্তমানে ভাটারা থানার নতুন বাজার কাজীবাড়ি এলাকায় থাকেন। পেশায় তিনি একজন গাড়িচালক।
গুলিবিদ্ধ রানা বলেন, ‘আমি গতকাল (শনিবার) দুপুর ৩টার দিকে উত্তর বাড্ডায় এক ভাই জয়ের বাসায় দাওয়াত খেয়ে একটি রুমে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার এক ছোট ভাই ছিল। সেই সঙ্গে জয় ভাইও ছিলেন ।
তিনি বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে বাসার দরজায় নক করা হয়। এ সময় ভেতর থেকে জিজ্ঞেস করা হয়—কে? কিন্তু বাইরে থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসেনি। আমি বিছানায় শুয়েই ছিলাম। এরপর জয় ভাই দরজা খুলে কাউকে দেখতে না পেয়ে বাসার মেইন দরজার কাছে চলে যান। এমন সময় হঠাৎ বাসার ভেতরের দরজা দিয়ে তিনজন প্রবেশ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে আমার ডান পায়ে গুলি করে। গুলিটি আমার ডান পায়ের হাঁটুর ওপর লাগে। গুলি করেই তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই এলাকার বাসিন্দা তামিম নামের এক ব্যক্তি আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে আমার ডান পায়ে হাঁটুর উপরে গুলি লাগে।’
পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত রানার স্বজনরা বলেন, তার বড় ভাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তামিম নিয়মিত চাঁদা চাইতেন। একপর্যায়ে রানা তামিমকে বলে দেন, কোনো চাঁদা দেওয়া হবে না। সেই চাঁদা না দেওয়ায় এই গুলির ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তামিমের নামে বাড্ডায় একটি খুনের মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, রাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাড্ডা থেকে রানা নামে একজনকে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা
খুলনা নগরীতে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. জলিল মুন্সি (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুর থানার কুলিরবাগান বটতলার অদূরে একটি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জলিল দৌলতপুর থানার সাধুবাগান এলাকার দিলু মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় পাটশ্রমিক ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুলিরবাগান এলাকায় জলিলের একটি পানের দোকান রয়েছে। আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য বের হন। কিছুক্ষণ পর তার ফোনে একটি কল আসে। ফোনকলে অপরপ্রান্তের ব্যক্তির তার সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়।
এরপর কুলিরবাগান বটতলা থেকে কিছুটা দূরে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবকের সঙ্গে জলিলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের একজন জলিলকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি করে। গুলি দুটি তার বুকের ডান পাশে ও পিঠের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কাউকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
৭ দিন আগে
দক্ষিণ বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ লঞ্চ ব্যবসায়ী ঢামেকে ভর্তি
রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় দুর্বৃত্তের গুলিতে উজ্জ্বল ভূঁইয়া (৪৭) নামের এক লঞ্চ ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে দারোগাবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উজ্জ্বল দক্ষিণ বাড্ডার দারোগাবাড়ি মোড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল সাত্তার।
গুলিবিদ্ধ উজ্জ্বলের ভাই যুবরাজ জানান, রাত ১১টার দিকে বুকের ডান পাশে হাত দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় বাসায় ফেরেন উজ্জ্বল। এ সময় তিনি শুধু গুলি লাগার কথা জানান। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে গুলি করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাড্ডা থেকে উজ্জ্বল নামে একজনকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বাড্ডা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
কার পার্কিং নিয়ে তর্ক, জনসমক্ষে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লেন যুবক
ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে প্রাইভেটকার থেকে অজ্ঞাত যুবকের এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জনসমক্ষে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন ওই যুবক। এ ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে ২ জন আহত হয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে গুলি ছোড়া ওই যুবকের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী একটি প্রাইভেট কার ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে থামিয়ে চা খেতে নামেন এক যুবক ও যুবতী। তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ওই যুবককে বলেন, ‘ভাই, প্রাইভেট কারটি সাইড করে দাঁড়ান।’ এই নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই যুবক গাড়িতে ঢুকে পিস্তল বের করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এরপর প্রাইভেটকার নিয়ে তারা দ্রুত খুলনার দিকে চলে যায়।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারব।
৩২ দিন আগে
কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারতীয় সীমানার অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রবিবার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, আজ ভোরে কুলাউড়া উপজেলার আলীনগর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি ৪/৫ জন চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীদের সহায়তায় চোরাচালান আনার জন্য পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিপরীতে সীমান্ত পিলার ১৮৪৫/৬৩এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলী নামক স্থানে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা দিলে বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। সে সময় বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে চোরাকারবারীদের ওপর গুলি চালালে বাংলাদেশি তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বাকিরা পালিয়ে যায়।
নিহত চোরাকারবারী ইতোপূর্বে চোরাচালান পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানায় বিজিবি।
৪১ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার শাজাহানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে ইসমাইল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ইসমাইলের মাথায় গুলি করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
৫০ দিন আগে
খুলনায় দিনে-দুপুরে যুবককে গুলি
খুলনা নগরীতে আরিফ শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে খুলনার লবণচরা এলাকার রূপসা রিভারভিউ ইকোপার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আরিফ শিকদার লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকার আবুল কালাম শিকদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে আরিফসহ আরও দুই যুবক ইকোপার্কের পাশে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এসে ছয়জন দুর্বৃত্ত আরিফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় একটি গুলি তার বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়। এরপর হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে একাধিক আঘাত করে।
দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা আরিফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা এ চালিয়েছে, তা কেউ বলতে পারেননি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, বর্তমানে আরিফ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কে বা কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৫৪ দিন আগে
সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি, খুলনা প্রেসক্লাবের নিন্দা ও প্রতিবাদ
খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাবের নেতারা।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক পথচারী বলেন, প্রতিদিন অফিসের কাজ শেষে রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঐ দোকানের পাশে চেয়ারে বসে কয়েকজন সাংবাদিক আড্ডা দেন। আজও এখানে বসে ৬ জন সাংবাদিক গল্প করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলযোগে আসা দুই যুবক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন, তবে গুলিটি চেয়ারের পায়ায় বিদ্ধ হয়।
এসএ টিভির সাংবাদিক মতি বলেন, রাতে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক এখানে আাড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে দুজন যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে চেয়ারে বিদ্ধ হয়। এ ঘটনার পর পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ আসে।
দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ রানা কবির বলেন, দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিটি চেয়ারে বিদ্ধ হয়। এর একটি স্প্রিন্টার সাংবাদিক আওয়ালের বুকে লেগে কিছু অংশ ছিলে যায়। তবে তিনি সুস্থ আছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা প্রেসক্লাবের নেতারা। যাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, তাদের মধ্যে খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্যসচিব ও স্টার নিউজের খুলনা ব্যুরো প্রধান রাফিউল ইসলাম টুটুল, প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি এবং ক্লাবের অস্থায়ী সদস্য ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার খুলনা ব্যুরো প্রধান আওয়াল শেখ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক অওয়াল আহত হয়েছেন।
এক বিবৃতির মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর গুলি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান প্রেসক্লাবের নেতারা।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীরা যেন পার পাওয়ার সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নির্ভয়ে, নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও আহ্বান জানান তারা।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বুলেটের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর আমার জানা নেই। কী কারণে এখানে গুলির ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
৬৬ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ৩
খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পানছড়ি-লোগাং সড়কের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধুমঙ্গলপাড়ায় একটি অটোরিকশা থামিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে কাছ থেকে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একজন আগে জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সদস্য ছিলেন। তিনি গত ১৯ মে বিজিবি ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিহতরা হলেন— পদ্মা চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮) এবং রিয়েল চাকমা (১৮)। পদ্মা ও ধনা চাকমার বাড়ি রাঙ্গামাটিতে এবং রিয়েল চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ির পানছড়িতে। পদ্মা চাকমা সাংগঠনিক নামে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দুইজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হলেও তাদের পরিচয় বা অপহরণের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর পানছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক আইচ্যুক ত্রিপুরা বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
আবার, অন্য কোনো পক্ষেরও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে দুটি মিসফায়ার গুলি, ১৪টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং চারটি গুলি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
৭৫ দিন আগে