ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ বিভাগে ‘ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার’ চালু
ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল জানানোর লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য ‘ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার’ চালু করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সমানে এই পরীক্ষাগারের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
উদ্বোধনকালে তিনি জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলাজুড়ে এই ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেসব এলাকায় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হয় সেখানে গাড়িতে থাকা এই পরীক্ষাগার নিয়ে যাওয়া হবে, তারপর খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিক ফলাফল জানানো হবে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন বলেন, কোথাও খাদ্যপণ্যে ভেজাল পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা ধ্বংস করা হবে। এ ছাড়াও এই পরীক্ষাগারে কোনো ভোক্তা চাইলে তিনিও বাজার থেকে নমুনা নিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা করাতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে খাদ্যপণ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল পাওয়া যাবে। এছাড়া ভোক্তারা নিজেদের আনা খাদ্য নমুনাও বিনামূল্যে পরীক্ষার সুবিধা পাবেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, জেলা কর্মকর্তা মাহবুব আরেফিন রাফি, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সদর দপ্তরের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার
ময়মনসিংহের নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার গেজেটভুক্ত সদর দপ্তরের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির। এ সময় তিনি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত উপজেলা স্থাপনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কান্দিপাড়া-সংলগ্ন জে এল-১৪৩ নম্বর নয়াবাড়ি মৌজা পরিদর্শন শেষে তিনি এ আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমির সালমান রনিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার অন্তর্ভুক্ত আটটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা গেজেটভুক্ত সদর দপ্তর হিসেবে নয়াবাড়ি মৌজাতেই দ্রুত উপজেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান।
পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সরকারের গেজেট, স্থানীয় বাস্তবতা এবং জনগণের প্রত্যাশার আলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে উপস্থিত জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেন।
এ সময় গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আনছারউদ্দিন, সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিএনপি নেতা আব্দুস ছালাম বেপারীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, গেজেটভুক্ত সদর দপ্তর হিসেবে নয়াবাড়ি মৌজায় উপজেলা কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের আটটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং সরকারি সেবা আরও সহজে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
৫ দিন আগে
ভালুকায় ইটিপি ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি সিরামিকস কারখানার নির্মাণাধীন ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত এক্সিলেন্ট সিরামিকস কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নকসা গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে ও মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম (২৮) এবং নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বল্লী গ্রামের কুহিল মিয়ার ছেলে ও সিভিল হেলপার রুমেল মিয়া (২৫)।
সহকর্মীদের অভিযোগ, কাজ করার সময় প্রথমে শফিকুল ইসলাম ইটিপি প্ল্যান্টের ট্যাংকে নামেন। বেশকিছু সময় তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রুমেল মিয়া নিচে নামেন। তিনিও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে অন্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুটি বর্তমানে মমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনছার উদ্দিন বলেন, এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা উদ্ধারকাজে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে মিন্টু হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টু হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ভালুকার নারাঙ্গীর বাসিন্দা মো.মাসুদ মিয়া (৪১) ও মো. ফরিদ খলিফা (৪৮)।
এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফরিদ খলিফার ভাই আব্দুস ছামাদ (৬৮) ও ভাতিজা আব্দুল মতিন (৪৫); মো. মোশারফ হোসেন (৫৮) ও তার ভাই মো. মোখলেছুর রহমান (৫৩); মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮) ও তার ভাই তোফাজ্জল হোসেন (৪৮); মো. নাজমুল মিয়া (৪৩), মো. শাহজাহান আকন্দ (৪৮) ও তার ভাই মো. আতিকুল আকন্দ (৩৯) এবং মো. সিদ্দিক মিয়া (৬৩)। আদালতে সব আসামি উপস্থিত থাকলেও সিদ্দিক মিয়া পলাতক রয়েছেন।
বিশেষ দায়রা জজ আদালতের স্টোনোগ্রাফার হাফিজুর রহমান জানান, জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকালে ভালুকার নারাঙ্গী এলাকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টুর ওপর তার প্রতিবেশীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহত মিন্টুর স্ত্রী লতিফা খাতুন ভালুকা মডেল থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত, ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা, আইনজীবীদের তর্ক, শুনানী শেষে আদালতে বিচারক এ আদেশ দেন বলে জানান হাফিজুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আকরাম হোসেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী এ এইচ এম খালেকুজ্জামান মামলাটি পরিচালনা করেন।
২০ দিন আগে
ময়মনসিংহে শিশু নিছামনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নদীতে ফেলে হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক সুদীপ্তা সরকার এই রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আরিফ, রাকিব ও সিয়াম। এই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অপর আসামি মারুফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৫ জুন নিছামনির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে আদালত তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, রায়ে নিছামনির বাবা-মা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। তারা এই রায় কার্যকর করতে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
নিছামনির মা বলেন, ‘এই রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’
বাবা তাজু মিয়া বলেন, আমার মেয়ের বয়স ছিল ৪ বছর ৭ মাস। এই বয়সের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়। এই ঘটনা যে শুনেছে, সে-ই কেঁদেছে। আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সরকার যেন এই রায় দ্রুত কার্যকর করে, সেই দাবি জানাই।
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
২৬ দিন আগে
ময়মনসিংহে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত ১
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মজনু মুন্সি ওই ইউনিয়নের দুর্বারচর গ্রামের আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে। তার ছেলে জহরুল ইসলাম আকন্দ কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন।
নিহতের ছেলে জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে স্থানীয় বয়ড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একদল কিশোর গ্যাং তার বাবার পথরোধ করে। তাদের চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তার বাবা দুর্বারচর পশ্চিমপাড়ার তিনজনের নাম উল্লেখ করে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, তার বাবা বয়ড়া বাজার থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা অন্য কাউকে ছিনতাই বা হত্যার উদ্দেশ্যে ওঁৎ পেতে ছিল। এ সময় ভুলবশত তারা তার বাবার পথরোধ করে। পরে তাকে বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়।
নিহতের ছেলের অভিযোগ, হামলার পর দুর্বৃত্তদের একজন তার বাবার মোবাইল ফোন থেকে তাকে ফোন দেয়। এ সময় প্রায় ১৩ সেকেন্ড কলটিতে সংযোগ থাকলেও তারা কোনো কথা বলেনি। পরে একই নম্বর থেকে তার বোন মাহিয়া আক্তার বৃষ্টিকে ফোন করে একজন বলেন, আপনার বাবাকে আমি মারিনি, আরেকজন ছুরি মেরেছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৯ দিন আগে
ময়মনসিংহে যুবককে জবাই করে হত্যার অভিযোগ, আটক ২
ময়মনসিংহ নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনি এলাকায় রুবেল (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান রুবেল ওরফে কাইল্যা রুবেল। তিনি ওই এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (রবিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রুবেল নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ছত্রিশ বাড়ী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় তার নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ঘরে ঢুকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তারা তাকে জবাই করে ঘরের ভেতর ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা রুবেলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটতে পারে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে।
৩০ দিন আগে
ঋণের টাকায় আর্জেন্টিনার রঙে গ্রাম রাঙালেন ঈশ্বরগঞ্জের ‘সুমন মেসি’
ফুটবলপ্রেমীরা প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে নানাভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের ভ্যানচালক সুমন গৌড় ওরফে ‘সুমন মেসি’ সেই ভালোবাসাকে নিয়ে গেছেন ভিন্ন মাত্রায়। স্ত্রীর নামে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রাঙিয়েছেন নিজের গ্রাম, ঘরবাড়ি ও ভ্যানগাড়ি।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের দত্তপাড়া গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করেন সুমন গৌড়। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো এই আর্জেন্টিনা সমর্থক আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই অর্থে তিনি প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রচারে নেমেছেন।
নিজের ঘর ও একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানগাড়িকে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সাজানোর পাশাপাশি এলাকায় টানিয়েছেন বড় আকারের ১৬টি আর্জেন্টিনার পতাকা। কিনেছেন আর্জেন্টিনার রঙের জার্সি, এমনকি লুঙ্গিও।
৫২ দিন আগে
ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু
ময়মনসিংহে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন এবং একটি উদ্ধারকারী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন।
তিনি জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী 'ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস' ট্রেনের একটি বগি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ রোড লেভেল ক্রসিং এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে জামালপুর-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে, কেওয়াটখালী লোকোশেড থেকে আসা একটি উদ্ধারকারী ট্রেনের বগিও ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকার কাছে লাইনচ্যুত হয়, যা ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটায়।
তবে ওসি আক্তার হোসেন জানান, ময়মনসিংহ থেকে আরেকটি উদ্ধারকারী ট্রেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার করার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
৫৫ দিন আগে
ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে ‘হত্যা’, আটক ১
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৭) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গফরগাঁও পৌর শহরের শিলাসী মাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিয়ান রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি যুবলীগ নেতা তাজমুল গ্রুপের ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নাহিয়ান রবিন তার বাবার একমাত্র সন্তান। গতকাল (সোমবার) রাতে তিনি উপজেলার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বন্ধুদের নিয়ে জন্মদিন পালন করেন। অনুষ্ঠান শেষে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে বাসায় ফিরছিলেন।
বাসায় ফেরার পথে শিলাসী মাজার রোড এলাকায় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা মুখোশধারী অজ্ঞাত ৫-৬ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। সে সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
৫৬ দিন আগে