ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মনতলা সমিতিঘর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে, হতাহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি ময়মনসিংহ-মুক্তাগাছা সড়কের মনতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরও অন্তত ৩ জন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরেকজনের মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত অতিরিক্ত গতি ও অসতর্ক ওভারটেকিংয়ের কারণে ঘটে থাকে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
২ দিন আগে
ময়মনসিংহে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ১
ময়মনসিংহে রেললাইনে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, আনুমানিক ৪৭ বছরের ওই ব্যক্তি সকালে শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেললাইন দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা হাওর এক্সপ্রেস নামের যাত্রীবাহী ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সকাল ১০টার দিকে ওই এলাকা পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ওই ব্যক্তি।
ওসি মো. আকতার হোসেন আরও বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৩ দিন আগে
ময়মনসিংহে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা দুর্বৃত্তদের
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোতালেব হোসেন (৫৫) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি বামনাখালী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মোতালেব ওই এলাকার মৃত সাইফুল্লাহর ছেলে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ধানক্ষেতে মোতালেবের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ছেলে আলী হোসেন বলেন, আমার বাবা মাগরিবের নামাজের আগে বাড়ি থেকে ধানক্ষেত দেখতে বের হন। তিনি প্রায়ই জমি দেখতে যেতেন। এ সময় কে বা কারা আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর মরদেহের পাশে তার মোবাইল ফোন পড়ে ছিল এবং কোমরে বাঁধা কাপড়ের থলেতে থাকা ৩৮ হাজার ৬৪৫ টাকা অক্ষত ছিল। দুর্বৃত্তরা এসবের কিছুই নেয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিহতের ঘাড়, মাথা ও হাতের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে গেছে। তবে সঙ্গে থাকা টাকা না নেওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে ত্রিশাল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
৭ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ২০ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩২ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৪ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স যথাক্রমে ৭ মাস, ৫ মাস ও ৪ মাস।
তিনি জানান, গত ২২ এপ্রিল ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৭ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
গত ২৩ এপ্রিল জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে চার মাস বয়সী এক মেয়ে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে হাম-পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় তারও মৃত্যু হয়।
এছাড়া গত ২০ এপ্রিল নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে পাঁচ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তাকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে মৃত্যু হয় তার।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৯২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩১ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ফুলপুরে কৃষক আশ্রাব আলী হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং আরও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার দেওখালী গ্রামের নূর হোসেন (৫৭), নূর হোসেনের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩২) ও সোহরাব আলীর ছেলে সহিদুল (৩৭)। তাদের ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সোহরাব আলী (৬২), তার স্ত্রী স্বরূপা খাতুন (৫৭) ও নূর হোসেনের স্ত্রী রেহেনা খাতুনকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী ও আসামিরা প্রতিবেশী। জমিজমা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা পুর্বপরিকল্পিতভাবে আশ্রাব আলীর ওপর চড়াও হন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে আসামি সোহরাব আলীর হুকুমে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কৃষক আশ্রাব আলীর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরের দিন নিহত আশ্রাব আলীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন ছয়জনকে আসামি করে ফুলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তদন্ত, ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে নূর হোসেন, সহিদুল ও উজ্জল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এই রায়ে অভিযুক্ত সোহরাব আলী, স্বরূপা খাতুন ও রেহানা খাতুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামালায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আকরাম হোসেন এবং আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান।
৮ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে মমেকে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে সাড়ে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৭ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৮৪ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছেন।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ২১ এপ্রিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে সাড়ে তিন মাস বয়সী এক মেয়ে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে এ হাসপাতালে মোট ৮৫৬টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫৫টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৩টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
তিনি বলেন, হাম ও আমের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে দশ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৬ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৬৫ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা মেঝে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছেন।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৮ এপ্রিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে দশ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে হাম পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালটিতে মোট ৭৪৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬৭ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৭ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২১ সালে ময়মনসিংহের তারাকান্দার কলেজ শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই নারীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১) ও শামছুল হক (৪৪); আসিফ রানা নাঈম (২৪), মো. আব্দুল হেলিম (৫১) এবং মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)।
এছাড়া অপর দুই আসামি মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পাওয়া গেলে তার বাবা আব্দুর রউফ তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের ৫ দিন পর পলাশকান্দা গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে ইকবালের গলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনার পরের দিন, অর্থাৎ ৬ জুন শাহীনুর আলম ওরফে ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে সন্দেহভাজন একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানাসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সেলিম মিয়া উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পরিবারের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তারই জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করলে দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান মামলার বাদী সেলিম মিয়া ও তার পরিবার।
১৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে বিএনপির দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সংর্ঘষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলাম এ আদেশ জারি করেন।
ইউএনও বলেন, স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ একই এলাকায় একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজ (রবিবার) দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ বলেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে। উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুফতি মাহমুদুল্লাহর অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ চলে আসছে।
এই বিরোধের জেরে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্থানীয় যুবদলের রিয়াদ নামের এক নেতা ১১-দলীয় জোট সমর্থিত এমপির পক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়ান। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে ময়মনসিংহ মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন শাকিলের অনুসারী যুবদল নেতা রিয়াদ আহত হন।
মূলত ওই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার তারাকান্দা উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন শাকিলের অনুসারীরা। এ খবরে মোতাহার হোসেনের সমর্থকরা পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, বিবাদমান দুটি পক্ষের মধ্যে একটি পক্ষ বিগত সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ কারণে অল্প ভোটের ব্যবধানে আসনটি হারায় বিএনপি। এ নিয়ে নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
১৬ দিন আগে
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৮
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৪ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৮ শিশু।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে গতকাল (শনিবার) দুপুরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে শিশুটি মারা যায়।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৬১১ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫১৯টি শিশু এবং ১৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৭২টি শিশু।
তিনি জানান, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এখনও শিশুদের আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থার শিশুদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিকল্প বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
১৭ দিন আগে