ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত ২, আহত অন্তত ১০
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসের চাপায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাজির সিমলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস কাজির সিমলা এলাকায় পৌঁছালে প্রথমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাহেন্দ্রকে চাপা দেয়। পরে বাসটি একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে মাহেন্দ্র ও অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়।
এতে তিনটি পরিবহনের অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা গেলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় পদদলিত হয়ে ৬ মৃত্যুর খবর সত্য নয়: বিভাগীয় কমিশনার
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় ‘পদদলিত হয়ে’ ৬ জনের মৃত্যুর যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে, তা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
গতরাতে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছিলেন, এ ঘটনায় হাসপাতালে থাকা রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদরের ৩টি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে একটি ইউনিটসহ মোট ৪টি ইউনিট আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
আগুনে মমেক হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে ৮ তলা পর্যন্ত লিফটের সবকিছু পুড়ে যায়।
সরেজমিনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, আগুন লাগার খবরে নতুন ভবনে থাকা রোগী ও স্বজনেরা হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় নেমে এসেছেন। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীরা শিশু ও নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ অনেক কর্মী ছুটাছুটি করে রাস্তায় নেমে আসেন।
আগুন লাগার খবর পেয়ে হাসপাতাল চত্ত্বরে শত শত উৎসুক জনতা ভীড় জমান এবং ভর্তিকৃত রোগী ও স্বজনদের খোঁজখবর নেন। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে সে সময় অন্তত ১০ জন আহতও হন।
গতকাল রাতে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, আগুনে হাসপাতালের ওয়ার্ডের বা রোগীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে হাসপাতালের মেঝেতে পানি থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। সেই পরিস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোগীদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজ নিজ বেডে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
পরে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তখন বলেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮) ও জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দা উপজেলার কুলসুমা (৩৫)।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুও মারা গেছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তবে মধ্যরাতের দিকে হাসপাতাল থেকে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন—এমন প্রমাণ তিনি কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত পাননি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ পেলে তিনি সেটা যাচাই করে দেখবেন।
অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু সময় পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য প্রচার করছে—এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে বলা উচিত নয়। প্রকাশ করলে তাতে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত খবরে জাহানারা নামে এক নারী মৃতের তালিকায় আছেন, অথচ তিনি হাসপাতালের ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে এখনও ভর্তি রয়েছেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, ইমার্জেন্সি, মর্গ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই আমরা নিশ্চিত হয়ছি, ৬ জনের মৃত্যুর খবর সত্য নয়। এতবড় একটি হাসপাতাল, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিনই এখানে বেশ কয়েকজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।’
তার বক্তব্য ধরে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ৬ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল’ বলে জানান।
এ বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) জাহিদুল হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্তনাধীন আছে। কোনো কোনো গণমাধ্যম মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করলেও এটি নিয়ে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।
‘গণমাধ্যমে আসা খবরটি অসত্য’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আমরা কোনো মরদেহ পাইনি। হাসপাতালের ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও মর্গে খোঁজ নিচ্ছি এবং স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছি। তবে এখন পর্যন্ত কনক্রিট এভিডেন্স আসেনি।’
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন: হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও গণপূর্ত বিভাগের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী।
কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে এক শিশুসহ আরও চার যাত্রী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন: সোনিয়া আক্তার (৩০) ও সাদেক আলী (২৭)। সাদেক আলী ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে, আর সোনিয়ার বাড়ি একই উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামে। তারা দুইজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আল আমিন জানান, দুর্ঘটনায় সোনিয়ার ছেলে সাজিদ (৬) ও অটারিকশার চালক হারুন গুরুতর আহত হয়েছে।
সাদেক আলীর এক স্বজন জানান, সাদেকের এক আত্মীয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাদেক তাকে দেখতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আকুয়া বাইপাস মোড় পৌঁছালে একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী সোনিয়া নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও পাঁচজন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদেক আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুসহ বাকীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৮ দিন আগে
নিখোঁজের ২৫ দিন পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কাল, প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের পরিত্যক্ত গারোর ভিটা এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ইসলাম (২০) ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। খবর পেয়ে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালের সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক দেখে মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন (২৪), রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা রাশেদুলকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন জসিম উদ্দিন। তার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার কাছে কল করা হয়। এ সময় এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহজাহান।
অন্যদিকে ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চলে যান জসিম। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করে নিহতের পরিবার। এতে জসিমকে প্রধান করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের রফিক ও মোজাম্মেলকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, মাথার খুলি এবং প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহজাহান জানান, মাস খানেক আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে শসার ক্ষেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক থেকে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন। পরে রাশেদুল পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জেরে তিনজন মিলে রাশেদুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিকরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়ের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। আর গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
১২ দিন আগে
ময়মনসিংহে রিকশাচালক হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহে অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিন হত্যা মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাশ (২৫) শহরতলীর মধ্য বাড়েরা এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন: একই এলাকার তোফায়েল আহমেদ নাসিম (২১) ও শাকিল (২২)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৩০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫০ হাজার করে অর্থদণ্ড করা হয়। অনাদায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি রাতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক নাজিম উদ্দিন নিজের রিকশা চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাতে প্রচুর কুয়াশা থাকায় অল্প দূরত্বের পথও দেখা যাচ্ছিল না। ওই সময় আসামিরা নাজিম উদ্দিনের পথরোধ করে তাকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় নাজিম উদ্দিন চিৎকার করতে থাকলে গ্রামের লোকেরা এগিয়ে যায়। ছিনকাইকারীরা অটোরিকশাটি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আসামি পলাশকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। পরে পলাশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিনের ছোট ভাই নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আক্রাম হোসেন বলেন, মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। তবে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানাই।
বাদী নাসির উদ্দিনও এ রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
১৯ দিন আগে
বিরোধী দল অযৌক্তিকভাবে রাস্তায় নেমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে: ডা. জাহেদ
জ্বালানি সংকট নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জনগণের জীবন সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অহেতুক সরকারকে দায় চাপানো ঠিক হবে না। জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। বিরোধী দল অযৌক্তিকভাবে রাস্তায় নেমে জনগণের ভোগান্তি তৈরি করছে।’
বিরোধী দলকে রাজপথে কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ না বাড়িয়ে সংসদে গিয়ে সরকারের ভুল-ত্রুটি ও পরিকল্পনা তুলে ধরার আহ্বান জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, যুক্তিনির্ভর সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেশি কার্যকর।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নজরুলকে শুধু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি স্কুলে শিশুদের বয়স উপযোগী করে তাঁর সাহিত্য, চিন্তা ও দর্শন নিয়ে চর্চা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘একটা কম্পিটিশন বাচ্চাদের মধ্যে আসলে এটা আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য না। যারা স্কুলের প্রধান বা শিক্ষা কর্মকর্তা বা প্রশাসনে আছেন, তারা এই বার্তাটা পৌঁছে দেবেন, যাতে প্রতিটা স্কুলে যেন নজরুলকে নিয়ে তার বয়স উপযোগী কিছু চর্চা হয়।’
এ সময় নজরুলের চিন্তা ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন নজরুল কেন এই আলাপটা খুবই জরুরি, যে দলটা এখন ক্ষমতায় আছে সে দলের রাজনীতি হচ্ছে মধ্যপন্থী, উদার গণতন্ত্র। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘একেক জনের একেক রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে। আমাদের দেশেই যারা এখন কাজ করছে, তাদের নানান রকম মতাদর্শ আছে। এখন বিএনপি মতাদর্শটা ধারণ করে, কারণ বিএনপি মনে করে এই মতাদর্শই একটা রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য কল্যাণকর।’
নজরুলের উদার, মধ্যপন্থী ও গণতান্ত্রিক চিন্তার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নজরুলের মতো একজন উদার মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক মানুষ শাসনের হয় না এবং তাত্ত্বিকভাবে না। উনি সব করে করে দেখেছেন, উনি কী করেন, উনি সব কিছু করেছেন।’
নজরুলের সৃষ্টির বৈচিত্র্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উনি যদি গানের দিকে তাকাই, গানের রেঞ্জ যদি আমরা দেখি, যিনি হামদ-নাত থেকে শুরু করে কীর্তন পর্যন্ত লিখেছেন, এই রকম একটা মানুষকে আমরা শিশুদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।’
তিনি বলেন, ‘একটা কবিতা শিখলে আমাদের প্রবণতা আছে, সে একটা প্রাইজ পাবে, বাবা-মাও আগ্রহী, একটা আবৃত্তি বা গান শিখিয়ে দিলাম। আমি মনে করি নজরুল বর্ষের মূল স্পিরিট এই আনুষ্ঠানিকতাগুলো না, মূল স্পিরিট হচ্ছে, নজরুলকে সামনে নিয়ে আসা।’
‘নজরুল কী করেছে, নজরুল কেমন ছিলেন, নজরুলের বিভিন্ন দিক, তার চিন্তা, তার দর্শন—এগুলো বয়স উপযোগী করে কথাবার্তা বা আলোচনা যেন চলে,’ বলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো কম্পিটিশন হলেই সেটা নিয়ে আমরা কেয়ারফুল হবো, সেটা যেন না হয়। প্রতিটা স্কুল, প্রতিটা সমাজের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেন এই চর্চাগুলো সবসময় হয়। রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য সেটাই ভালো হবে।’
বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব দীপংকর বিশ্বাস, ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান প্রমুখ।
৩২ দিন আগে
ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরো পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো: সতেরো পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারহান (৪) ও আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. মাশরাফি (৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করেছিল ফারহান ও মাশরাফি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর শিশুদের দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে পুকুরের পানি থেকে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তান হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই শিশুর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।
৩৩ দিন আগে
ময়মনসিংহ বোর্ডে পাস করেনি ৪ প্রতিষ্ঠানের কেউ, শতভাগ পাস করেছে ১০ প্রতিষ্ঠান
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী।
এ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। তবে এ বোর্ডে চার প্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ জ ম রেজাউল করিম খান ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬০ হাজার ২৭৪ জন।
এই শিক্ষা বোর্ডে গত ৫ বছরের মধ্যে এবারের পাসের হার সবচেয়ে কম। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৬৭৮ জন। আর ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ শতাংশ আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৩ হাজার ১৭৮জন।
এদিকে, এ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। এ তালিকায় আরও আছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মুক্তাগাছা কলেজ (স্কুলশাখা)। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ জন অংশ নিলেও পাস করেনি কেউ। অন্যদিকে, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এ স্কুল থেকে অংশ নেয় ৩ জন শিক্ষার্থী।
শতভাগ পাস করা ময়মনসিংহ বোর্ডের দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, আইডিয়াল মডেল অ্যাকাডেমি, ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজান মডেল অ্যাকাডেমি।
শতভাগ পাসের তালিকায় জামালপুর জেলায়ও রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—ইসলামপুর উপজেলার উত্তরা গোয়ালের চর আইডিয়াল স্কুল ও সরিষাবাড়ি উপজেলার চিলড্রেনস হোম পাবলকি স্কুল। শতভাগ পাস করা নেত্রকোনা জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পাসের হার সবচেয়ে কম। তবে অভিভাবকরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে কম পড়াশোনা করেও ভালো ফলাফল করেছে শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থা দেখে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ২০২৬ সালের ফলাফলে।
৪০ দিন আগে
ময়মনসিংহ বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫,৭০০
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ জ ম রেজাউল করিম খান ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর ১ হাজার ৩৪৪ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোট ৬০ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩২ হাজার ৬৭৭ জন, মানবিক বিভাগে ২৫ হাজার ৩৫০ জন এবং ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ২ হাজার ২৪৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছেলেরা এগিয়ে থাকলেও ফলাফলের দিক দিয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে পাস করেছে ২৮ হাজার ৩৭২ জন আর মেয়ে শিক্ষার্থী পাস করেছে ৩১ হাজার ৯০২ জন।
তিনি আরও জানান, এবারও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র ২ হাজার ৬২১ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯ জন।
এই শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নেত্রকোনা জেলায় ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ময়মনসিংহ জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, জামালপুর জেলায় ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং শেরপুর জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।
গত ৫ বছরের মধ্যে এ শিক্ষা বোর্ডে এবারের পাসের হার সবচেয়ে কম। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৬৭৮ জন।
৪০ দিন আগে
ময়মনসিংহ বিভাগে ‘ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার’ চালু
ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল জানানোর লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য ‘ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষাগার’ চালু করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সমানে এই পরীক্ষাগারের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
উদ্বোধনকালে তিনি জানান, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলাজুড়ে এই ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেসব এলাকায় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হয় সেখানে গাড়িতে থাকা এই পরীক্ষাগার নিয়ে যাওয়া হবে, তারপর খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিক ফলাফল জানানো হবে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন বলেন, কোথাও খাদ্যপণ্যে ভেজাল পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা ধ্বংস করা হবে। এ ছাড়াও এই পরীক্ষাগারে কোনো ভোক্তা চাইলে তিনিও বাজার থেকে নমুনা নিয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা করাতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে খাদ্যপণ্য পরীক্ষার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল পাওয়া যাবে। এছাড়া ভোক্তারা নিজেদের আনা খাদ্য নমুনাও বিনামূল্যে পরীক্ষার সুবিধা পাবেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, জেলা কর্মকর্তা মাহবুব আরেফিন রাফি, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৭ দিন আগে