সেতু
রংপুরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হারিয়ারকুটি ও সয়ার ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনেশ্বরী নদী। এর দুই পাশের চিলাপাক ও কালুরঘাটে স্থায়ী একটি সেতুর অভাবে ২৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষকে। বিপাকে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চিলাপাক-কালুরঘাট দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা খেয়াঘাটের ওপর নির্ভর করে চলাচল করছেন। শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নদী পার হন গ্রামবাসী। কিন্তু বর্ষায় সেই সাঁকো তলিয়ে যায়। নদীর পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন নৌকায় পার হতে হয় যা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। রাতে জরুরি প্রয়োজনেও নদী পার হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নৌকা পাওয়া যায় না। নদীর স্রোত বেশি থাকলে মাঝিরাও পারাপারে অনীহা প্রকাশ করেন। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
সেতুর অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। এ অঞ্চলে ধান, আলু, ভুট্টা ও শাকসবজি উৎপাদন হলেও সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে লোকসানে পড়তে হয় তাদের। ফলে কৃষির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো পড়েন আর্থিক সংকটে।
এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজে ও মাদরাসায় যেতে হয়। বর্ষায় ঝুঁকির কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। ফলে পড়াশোনায়ও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মতিনুজামান বলেন, আমার বাড়ি নদীর ওপারে। এখানে একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় এ এলাকার লোকজনের চলাচলে চরম কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ কষ্ট আরও বেড়ে যায়। তখন এ এলাকার লোকজনের চলাচল ভীষণ কষ্টকর । অসুস্থ রোগীদের জন্যও ঘাট যেন এক দুঃস্বপ্ন। হঠাৎ অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা শহরে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। দেরিতে চিকিৎসা পাওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও জটিল হয়ে যায়।
চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
হারিয়ারকুটি ও সয়ার ইউনিয়নের চিলাপাক, পাটানিপাড়া, দোলাপাড়া, বানিয়াপাড়া, উজিয়াল, মামুনপাড়া, মেনানগর, কালুরঘাট, ডাঙ্গাপাড়া, প্রামাণিক পাড়া, মণ্ডলপাড়া, মাসুয়াপাড়াসহ প্রায় ২৫ গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এ ঘাটের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
হারিয়ারকুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় এবং সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল ইবাদাত হোসেন পাইলট জানান, কালুরঘাটে স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় আমরাও হতাশ।
এলাকাবাসীর দাবি, কালুরঘাটে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে, এখানে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে না, বরং এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
এ ব্যাপারে রংপুর এলজিইডির নিবার্হী প্রকৌশলী আবু মুসা বলেন, ওই সেতু নির্মানের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে । আশা করছি দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে।
৩ দিন আগে
৪৫ বছরের পুরোনো সেতু ভেঙ্গে ৯ মাস ধরে চলাচল বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর এলাকায় ৪৫ বছরের পুরোনো একটি সেতু ভেঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ৯ মাস আগে সেতুটি ধসে পড়লেও সেটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসি সাময়িকভাবে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করলেও তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম মিঞা জানান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের একমাত্র ব্যবহারযোগ্য ও সংযোগস্থাপনকারী সড়ক বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী সড়কটি আনুমানিক ৪৫ বছর আগের তৈরি। সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপর এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করে।
কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালে অতি বৃষ্টিপাতের ফলে পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙ্গে পড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও সেতুটি গত ৯ মাসেও নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বেড়েছে স্থানীয় চলাচলকারী, পণ্য পরিবহনকারী ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির পাটাতন ভেঙ্গে খালের মাঝখানে পড়ে আছে। ভেঙ্গে যাওয়া সেতুর জায়গায় বসানো হয়েছে বাঁশের সাঁকো। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সাঁকো তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে বাঁশের সাঁকোও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যান চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দা রাহাত হোসেন জানান, ৯ মাস আগে সেতুটি ভেঙ্গে গেছে। আমরা বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি, তারপরও কোনো সমাধান পাইনি। কবে সেতু হবে কেউ বলতে পারে না। সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় এই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
স্কুলশিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, আমরা নিয়মিত এই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেতাম। গত বছর সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পরে সাঁকো বানানো হয়। এখন সাঁকোটিও ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম। নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে বাইসাইকেল নিয়ে পার হওয়ার সময় ভয় লাগে। এই সাঁকো ভেঙ্গে গেলে আমাদের স্কুলে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
ট্রাকচালক আলফাজ আলী বলেন, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহ করার পরে আমরা এই সেতুটি ব্যবহার করে মহারাজপুর ইউনিয়নের বাজারগুলোতে যেতে পারতাম। এটি ভেঙ্গে যাওয়ার পরে এই সড়কে চলাচল করা বন্ধ হয়ে গেছে, যানবাহন চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থাপনকারী ‘বিষয়খালী জিসি সড়ক টু নগরবাথান জিসি সড়ক ভায়া ডেফলবাড়ি’ সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের ওপর দুটি সেতু ছিল। এগুলো অনেক বছরের পুরোনো। এর মধ্যে একটি সেতু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। যে সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে, সেটি পুনর্নির্মাণের জন্য আমরা এরই মধ্যে দুটি পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছি। আশা করছি, প্রকল্প অনুমোদন হয়ে যাবে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে গেলেই আমরা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব।
৫ দিন আগে
ভোট এলেই দেওয়া হয় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি
ভোট এলেই কদর বাড়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা এলাকার দশ গ্রামের মানুষের। আর ভোট শেষ হলেই জনপ্রতিনিধিদের কাছে আর পাত্তা পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের মুখে একই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে গ্রামগুলোর ভোটাররা এখন চরমভাবে বিরক্ত। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না। ভোট দেব তাকেই, যিনি লিখিতভাবে অঙ্গীকার করবেন, সাঁকোর জায়গায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দেবেন।’
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের আলাই নদীতে একটি সেতু না থাকায় দশ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। নদী পার হতে হয় নড়বড়ে কাঠ ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে। অসুস্থ রোগীকে ঘাড়ে করে পার করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোর কারণে নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত সাড়ে তিনশ দরিদ্র শিশু-কিশোর নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় অনেকেই।
আলাই নদীবেষ্টিত এই এলাকায় রয়েছে জামাইপাড়া, মফুরজান, গোয়ালবাড়ি, রামনাথের ভিটা, পোড়াগ্রাম, সর্দ্দার পাড়াসহ অন্তত দশটি গ্রাম। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের নদী পার হওয়ার একমাত্র ভরসা রামনাথের ভিটা স্টেশন বাদিয়াখালী এলাকার পাকা সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী একটি সাঁকো। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। কেউ কৃষিশ্রমিক, কেউ ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালান, কেউ পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় নদীবেষ্টিত এসব গ্রামেই তাদের বসবাস। পান না উল্লেখযোগ্য কোনো নাগরিক সুবিধা।
কিছু পরিবারের সামান্য জমিজমা থাকলেও উৎপাদিত ফসল বিক্রির মতো কাছাকাছি কোনো হাটবাজার নেই। এলাকায় তরিতরকারি ও সবজির আবাদ ভালো হলেও যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে, পায়ে হেঁটে বা ঘাড়ে করে সবজি বহন করতে হয়।
স্টেশন বাদিয়াখালীর বাসিন্দা ও মানবাধিকারকর্মী কাজী আব্দুল খালেক বলেন, ‘এসব গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কাঠ ও বাঁশের তৈরি সাঁকো। দশ গ্রামের মানুষ নিজেরাই চাঁদা তুলে প্রতি বছর সাঁকো তৈরি করেন। ভেঙে গেলে গ্রামে গ্রামে চাঁদা তুলে সেটি মেরামত করেন। নিজেদের টাকায় বাঁশ ও কাঠ কিনে সাঁকো বানানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার নারী-পুরুষের দাবি থাকা সত্ত্বেও এখানে দীর্ঘদিনেও একটি সেতু নির্মাণ হয়নি। ভোট এলেই প্রার্থীরা এসে বলেন—ভোট দিলে সেতু করে দেব। সেই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে মানুষ এখন ক্লান্ত।’
তিনি জানান, এই গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়, অথচ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা হাটবাজার নেই। তেল-লবণ কিনতে হলেও যেতে হয় স্টেশন বাদিয়াখালী হাটে। মাথাব্যথা, পেটব্যথাসহ জরুরি ওষুধ কিনতেও সাঁকো পার হয়ে ওই হাটে যেতে হয়। দশ গ্রামের অন্তত সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে এপারের সরকারি স্কুলগুলোতে আসতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবী, আলাই নদীতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে গ্রামগুলোর মানুষের জীবনধারায় বড় পরিবর্তন আসবে। শত শত শিশু নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে। গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গরুর দুধ হাটবাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা সহজ হবে। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব অবহেলিত গ্রামে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই দ্রুত নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে হাজারো গ্রামবাসীর দুর্দশা লাঘবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সুপারিশে সেখানে বাঁশ ও কাঠের সাঁকো নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে। তবে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হলেও এখনও প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া যায়নি।
৯০ দিন আগে
খুঁড়িয়ে চলছে নড়াইলের বারুইপাড়া সেতুর কাজ, নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ
নড়াইলের কালিয়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর বারুইপাড়া সেতুর নির্মাণ কাজ দেড় বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে প্রায় ৮ বছরেও তা শেষ হয়নি।
সেতুর নকশায় জটিলতায় ৬৫ কোটি টাকার সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজে দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তি চরমে, এতে ক্ষুব্ধ এ পথে চলাচলকারী লোকজন ও এলাকাবাসী। তবে সড়ক বিভাগ বলছে, নকশা জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী বছর জুনের মাঝেই সেতুর অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে।
জানা গেছে, সড়ক পথে নড়াইল সদরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলাসহ, আশপাশের অন্তত তিনটি জেলার সড়ক যোগাযোগ সহজীকরণে সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে ২০১৮ সালে শুরু হয় নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া-বারুইপাড়া সেতুর নির্মাণ কাজ। প্রায় ৮ বছরে কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ। সবশেষ চলতি বছরে সময় বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নদীর দুই তীরবর্তী অংশের সংযোগ সড়কসহ ১১টি স্তম্ভ এবং ১১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হলেও মধ্যবর্তী অংশের ৩টি স্তম্ভ ও ৩টি স্টিলের স্প্যান বসানোর কাজ এখনো বাকি। নকশা ত্রুটিতে নির্মাণ ব্যয় দুই গুণের বেশি বেড়েছে। একদিকে জনগণের অর্থ অপচয়, অন্যদিকে যাতায়াতে ভোগান্তি মিলেমিশে একাকার, এতেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সড়ক বিভাগের তথ্যমতে, ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের পিসি গার্ডার সেতুরটির নির্মাণে চুক্তিমূল্য ৬৫ কোটি টাকা থাকলেও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে আর নকশা জটিলতায় নির্মাণ ব্যয় ঠেকেছে ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।
সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দিন বাসী কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ২০১৮ সালে ৬৫ কোটি টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। বাল্কহেডের ধাক্কায় ৯ নম্বর পিলারটি দুই বার নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পর মূল অংশের ৪টি স্তম্ভ ও ৩টি স্প্যান বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ৬১ কোটি টাকায় সড়ক বিভাগ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রথম মেয়াদের চুক্তি শেষ করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস্ট লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতুর বাকি অংশ নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ৮৬ দশমিক ৭৩ মিটার স্টিল আর্চ স্প্যানসহ আরও দুটি স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, বেশ কিছু জটিলতায় স্টিল স্প্যান বিদেশ থেকে আনতে কিছুটা দেরি হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে দুটি স্প্যান বসানো শেষ হবে। আর মধ্যবর্তী আর্চ স্প্যানটি আমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই স্থাপন করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারব বলে আশা করি।
নকশার ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে, আগামী বছর জুনের মাঝেই কাজ শেষ করে সেতু ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম।
১১৭ দিন আগে
সেতু নির্মাণে স্থবিরতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন ইউনিয়নের মানুষের ভোগান্তি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নরেন্দ্রপুরের কাঁচরার খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন শাহজাহানপুর, আলাতুলী ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
জানা গেছে, সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর কাঁচরার খালের ওপর ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯০ লাখ ৯২ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২৩ সালে কাজ শুরু করে। চলতি বছরের ৬ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি। পরে সময় বাড়িয়ে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়কসহ বাকি কাজ আটকে আছে।
১৪০ দিন আগে
দুই দফতরের দ্বন্দ্বে গোমতী সেতু প্রকল্পে অচলাবস্থা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী
কুমিল্লার মুরাদনগরে গোমতী নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত সেতু নির্মাণ প্রকল্প এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সেতুটি কতটা উঁচু হবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে দুটি সরকারি সংস্থা। যার ফলে মুরাদনগর–দাউদকান্দি সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় প্যাকেজের কাজ পুরোপুরি থেমে গেছে, দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো এলাকাবাসী।
জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আপত্তির কারণেই স্থগিত হয়ে আছে প্রায় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার ওই বরাদ্দ। পাউবো দাবি করছে, নতুন সেতুটি বর্তমান বেইলি সেতুর চেয়ে অন্তত ২০ ফুট উঁচুতে নির্মাণ করতে হবে, যাতে নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়।
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলছে, গোমতীর অন্যান্য স্থানে স্থাপিত সেতুগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ৩ থেকে ৪ ফুট উঁচু করলেই যথেষ্ট হবে।
এই মতবিরোধের জেরে সেতুর নকশা ও ডিজাইন চূড়ান্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে দরপত্র আহ্বানও বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুই সংস্থার টানাপোড়েনে গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো প্রকল্পটি ঝুলে আছে।
বর্তমানে গোমতী নদীর ওপর রয়েছে ১৯৮৮ সালে নির্মিত একটি বেইলি সেতু, যা এখন নড়বড়ে ও জীর্ণ অবস্থায়। প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হচ্ছে। ভারী যান উঠলেই সেতু কেঁপে ওঠে, ফলে যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
তাদের অভিযোগ, একদিকে যানজট, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল—এই দুইয়ের ফাঁদে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৪০ বছর ধরে একই বেইলি সেতু দিয়ে চলতে হচ্ছে। সরকার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, কিন্তু দুই অফিসের ঝগড়ায় কাজ শুরুই হচ্ছে না। আমাদের স্বপ্ন এখন হতাশা।’
২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর ৩৪৮ কোটি ২৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর আওতায় ৩৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণ, ৮টি পুরনো বেইলি ব্রিজের বদলে ৫টি নতুন আরসিসি গার্ডার সেতু এবং ৩টি আরসিসি কালভার্ট নির্মাণের কথা ছিল।
প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে প্রথম দুটি প্যাকেজে কাজ চলমান থাকলেও তৃতীয় প্যাকেজের কাজ পাউবোর অনুমোদন না মেলায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, গোমতী নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি। এটি না হলে জনদুর্ভোগ লাঘব হবে না। আমরা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
সওজ বিভাগের কুমিল্লা নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, পাউবো যে উচ্চতা নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। সে পরিমাণ উচ্চতায় ডিজাইন করা সম্ভব নয়। ফলে দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, পাউবো কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ শাহরিয়ার জানান, আমি এখানে এক বছর ধরে আছি, বিষয়টি আমার জানা নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতরগুলোর গাফিলতি, টালবাহানা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন আটকে যাচ্ছে। তাদের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু না হলে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাবে, যা মুরাদনগরবাসীর জন্য বড় ক্ষতি হবে।
১৭৮ দিন আগে
কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ভেঙে ফেলতে হলো সেতু
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ না করায় পিরোজপুরের নেছারাবাদে একটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই সেটিকে ভেঙে ফেলতে হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নের মাদ্রা বাজার সড়কের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ করেই ধসে পড়ে। এরপর গতকাল (বুধবার) সেটিকে ভেঙে ফেলছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ।
জানা যায়, উপজেলার পূর্ব জলাবাড়ি খ্রিষ্টানপাড়া থেকে মাদ্রা বাজার সড়কের ওপর একটি প্যাকেজে ২২ ও ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২০২১ সালের ২৯ ডিসেম্বর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয় পিরোজপুর এলজিইডি। এই কাজের চূক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজে কাজ না করে একজন সাব-কন্ট্রাক্টরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছিল। কাজের নিম্নমান এবং সময়সূচি না মেনে কাজ করার কারণে স্থানীয়রা কাজে বাধা দেন।
আরও পড়ুন: সিলেটের ওসমানীনগরে সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার উধাও
পরবর্তীতে আরেক সাব-কন্ট্রাক্টর গত বছরের শেষ দিকে গার্ডার ছাড়াই সেতুটির ছাদ ঢালাই দেয়। তবে এর কিছুদিন পরে ঢালাই দেওয়া অংশে ফাটল দেখা দেয়। তখন স্থানীয়দের আপত্তির মুখে এলজিইডি তদন্ত করে সেতুটির ঢালাই দেওয়া অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী গেল সোমবার সেতুটির ত্রুটিপূর্ণ অংশের অপসারণ শুরু করে।
ব্রিজে ফাটল ধরার বিষয় জানতে চাইলে সাব-কন্ট্রাক্টর পিরোজপুরের খোকন মিয়া জানান, ঢালাই দিয়ে তারা চলে যাওয়ার পরে কে বা কারা সেন্টারিং খুলে ফেলায় ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয় উপজেলা প্রকৌশলী মো. রায়সুল ইসলাম জানান, পুরো স্লাব (ছাদ) ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে। তবে মূল ঠিকাদারকে পাওয়া না যাওয়ায় কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
২৬৯ দিন আগে
কুমিল্লায় সেতুর নিচে খালে পড়ে ছিল হাত-পা বাঁধা নারীর লাশ
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুরে সেতুর নিচের খাল থেকে অজ্ঞাত এক নারীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লাশটির হাত-পা ও চোখ-মুখ রশিতে বাঁধা ছিল। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বিকালে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে ভুট্টাখেত থেকে মাথাবিহীন নারীর লাশ উদ্ধার
দেবিদ্বার থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘ইউসুফপুর খালে হাত-পা বাঁধা এক নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।’
তিনি বলেন, ‘লাশটির নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।’
৪০৯ দিন আগে
নড়াইলের শেখ রাসেল সেতুর নামফলক পরিবর্তন
নড়াইল শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত শেখ রাসেল সেতুর নামফলকের মূল অংশ ভেঙে সেতুটির নতুন পুনরায় নামকরণ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সেতুর পূর্ব পাশে থাকা নামফলক ভেঙে তারা সেতুটির নাম দিয়েছেন ‘শহিদ সালাউদ্দিন সেতু’।
নাম পরিবর্তন করে গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে সেতুর দুই পাশে বড় করে দুটি ব্যানারও টাঙানো হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নড়াইল জেলার সদস্যসচিব শাফায়াত উল্লাহর নেতৃত্বে এ সময় যুগ্ম সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান, মুখ্য সংগঠক কাজী ইয়াজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা বলেন, দেশের কোনো স্থাপনায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পরিবারসহ কারও নাম রাখা হবে না। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নড়াইলের শহিদ সালাউদ্দিন সুমনের নামে সেতুটির নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ সালাউদ্দিন সেতু’ নাম দিয়েছি।
আরও পড়ুন: উলিপুরে ৫ বছরেও পুনঃনির্মাণ হয়নি দুই সেতু, ভোগান্তিতে ২০ গ্রামের মানুষ
সদস্যসচিব শাফায়াত উল্লাহ বলেন, ‘নড়াইলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু, যার নাম ছিল শেখ রাসেল সেতু। আজ সেটির নাম পরিবর্তন করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহিদ সালাউদ্দিন ভাইয়ের নামে নামকরণ করে দিলাম। এরপর খাতা-কলমে সেতুটির নাম পরিবর্তনের জন্য আমরা আবেদন করব।’
তিনি বলেন, ‘নড়াইলসহ সারা দেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের নামে কোনো স্থাপনা থাকবে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সব সময় রাজপথে থাকবে।’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেলের নামে সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর সেতুটির উদ্বোধন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৪৩০ দিন আগে
উলিপুরে ৫ বছরেও পুনঃনির্মাণ হয়নি দুই সেতু, ভোগান্তিতে ২০ গ্রামের মানুষ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বন্যায় ভেঙে যাওয়া দু্টি সেতু ৫ বছরেও পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৩টি ইউনিয়নের ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। সেতুর অভাবে এখন পাকা সড়কটি দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে বিড়ম্বনায় পড়েছেন ওই এলাকার শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরা।
ফলে সড়ক থাকলেও সেতুর অভাবে ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত পূর্ব পাড়ের মানুষ দুই উপজেলা থেকে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তবকপুর, ধামশ্রেণী ও চিলমারী উপজেলার থানাহাট, বানীগঞ্জ ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত পূর্ব অঞ্চলের মানুষের দুই উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার জন্য কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের চুনিয়ার পাড় হতে উলিপুর আজমের মোড় পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু ২০১৫ সালে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালের বন্যায় তবকপুর ইউনিয়নের আমতলী সেতু ও চুনিয়ার পাড় সেতুটি দেবে যায় এবং সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই তখন থেকে সেতুর অভাবে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন: নীলফামারীর ডোমারে স্বাধীনতার পর থেকে নেই সেতু, ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোয় পারাপার
এলাকাবাসী জানান, সড়কটি পাকা করায় দুই উপজেলার সঙ্গে এ এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা হয়েছিল। কিন্তু বন্যায় সেতু দুটি দেবে যাওয়ায় আবারও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকাটি। চুনিয়ার পাড়ের দেবে যাওয়া সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও আমতলীর দেবে যাওয়া সেতু দিয়ে কোন কিছুরই চলাচল সম্ভব নয়। গ্রামবাসী বাধ্য হয়ে চলাচলের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে দেবে যাওয়া সেতুর পাশ দিয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে কোনো রকমে মানুষ ও বাইসাইকেল পারাপারের ব্যবস্থা করেছিল। কিছুদিন চলাচলের পর সে সাঁকোটিও ভেঙেচুরে শেষ হয়ে যায়। শুকনো মৌসুমে মানুষজন হেঁটে জমি দিয়ে চলাচল করলেও পানি হলে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা বা চার চাকার গাড়ি চলাচল বন্ধ বয়েছে। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এলাকার শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য উপজেলার বাজারে নিয়ে যেতে পাচ্ছে না।
বিষ্ণু বল্লভ গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কটি হওয়ার পর রিকশা, অটোরিকশা জেএসএ, সিএনজিসহ ছোট বড় যান চলাচল করত। ফলে আমাদের খুব সুবিধা হয়েছিল। এখন সব বন্ধ, তাই পায়ে হেঁটে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়।
ট্রাক ড্রাইভার বকুল মিয়া জানান, ডিউটি শেষ করে ট্রাক মালিকের ঘরে রেখে রাত বিরাতে অটোতে চড়ে বাড়ি আসতাম। এখন হেঁটে বাড়িতে আসতে হয়।
উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কলেজ নেই। সড়কটি নির্মাণের পর আমরা এই এলাকার মেয়েরা স্কুল ও কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু সেতু দেবে যাওয়ায় আমাদের কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ১৪ বছরেও হয়নি সেতু, ভেলায় চড়েই স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা
অটোচালক আব্দুল খালেক জানান, সড়কটি পাকা হলে অটো চালিয়ে সংসার চলাতাম। এখন সে রোজগারে ভাটা পড়েছে।
আমতলী বাজারের ব্যবসায়ী আকবর আলী জানান, সড়ক নির্মাণের পর গ্রামীণ বাজারটি জমজমাট হয়েছিল। কিন্তু সেতু দেবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বাজারে এখন আর আগের মতো লোকজন আসে না, ব্যবসায় মন্দা চলছে।
৪৪৪ দিন আগে