মাদক
সিরাজগঞ্জে ১১৮ বোতল ফেয়ারডিলসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১১৮ বোতল ফেয়ারডিলসহ মো. মনির হোসেন (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২-এর সদস্যরা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) র্যাব-১২-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. উসমান গণি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, র্যাব-১২-এর অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় গতকাল (মঙ্গলবার) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার সয়দাবাদ মোড় এলাকায় সিয়াম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে ১১৮ বোতল ফেয়ারডিলসহ মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি মোবাইল ফোন ও ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার মনির বগুড়া জেলার ধনুট উপজেলার উত্তর শহরা বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য ফেয়ারডিল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ নারী গ্রেপ্তার
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে চরমপন্থি নেতা হানেফ বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ঝিনাইদহ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬। এ সময় মাদক ও বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ তাছলিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঝিনাইদহ র্যাবের একটি দল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ভোরে ওই পৌরসভার চটকাবাড়িয়া গ্রামে হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তিনি বাড়ি না থাকলেও আটক করা হয় তার প্রথম স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় দুই কেজি গাঁজা ও ৮টি রাম দা ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে র্যাব-৬।
স্থানীয়রা জানান, হোসেন আলী চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সন্ত্রাসী হানেফ আলী নিহত হওয়ার পর তার বাহিনীর হাল ধরেন হোসেন আলী। তার কাছে হানেফ আলীর বেআইনি অস্ত্র ভান্ডার রক্ষিত আছে। এই অস্ত্র দিয়ে তিনি এখনও অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, হোসেন আলী ‘দেশি’ নামে ভুয়া ও জাল ব্যান্ডরোলের একটি সিগারেট হরিণাকুণ্ডু এলাকায় বিক্রি করেন। তার সঙ্গে রয়েছে দিগনগর গ্রামের জিয়া ও পিটার। অবৈধভাবে নিম্নমানের দেশি সিগারটে বিক্রি করে হোসেন আলী লাখ লাখ টাকা কামালেও হরিণাকুণ্ডুর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোসেন আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হোসেন আলী পলাতক রয়েছেন। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় বলেন, র্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার নারীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
৩৫ দিন আগে
মির্জাগঞ্জের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন মাদকসেবীদের আখড়া
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অধিভুক্ত আধাপাকা দুটি সরকারি ভবন মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে ভবন দুটির দরজা-জানালা ও বারান্দার চালার অধিকাংশ টিন খুলে নিয়ে গেছে মাদকসেবীরা। ফলে ভবন দুটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই ভবনগুলোতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও জমিদাতাদের করা মামলার কারণে এবং ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দপ্তরটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কোনো তদারকি না থাকায় ভবন দুটি মাদক সেবন, জুয়া এবং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাদক বেচাকেনার নিরাপদ স্থান হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর সুবিদখালী থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিম সুবিদখালী–বটতলা সড়কের পাশে অবস্থিত ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সীমানাপ্রাচীর থাকলেও লোহার গেটের একটি দরজা ভেঙে পড়ে রয়েছে। দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন না থাকায় ভবন দুটি কঙ্কালে পরিণত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের আলামত, মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং সিগারেটের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এসব কক্ষে মাদক সেবনের পাশাপাশি জুয়ার আসর বসে। চলে অসামাজিক কার্যকলাপও। আবাসিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, রাত হলেই দলবেঁধে মাদকসেবীরা ভবনটিতে প্রবেশ করে। সীমানা প্রাচীর থাকলেও গেট ভাঙা থাকায় মূল ফটক দিয়েই তারা দলবল নিয়ে অবাধে ভেতরে ঢুকে আড্ডা বসিয়ে মাদক সেবন করে। আবাসিক এলাকা হওয়ার এখানে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৬-৮টি পরিবারসহ স্থানীয় প্রায় অর্ধশত পবিরারের বসবাস। মাদকসেবীদের মধ্যে ২-৪ জন যুবক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু বলতে পারি না।
তাদের দাবি, এখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনসহ গুরুতর অপকর্ম চললেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং মাদকের ছোবল থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে জরুরি অভিযান প্রয়োজন।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পরিত্যক্ত ভবন দুটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি কখনোই কাম্য নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।’
মির্জাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘ব্যবহার-অনুপযোগী হওয়ায় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অফিসটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। ভবনটির জমিদাতারা মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন, যেখানে আমাদের পক্ষে রায় এসেছে। ইতোমধ্যে ভবনগুলোর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছি।’
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. ছালাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। আমার কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মলিহা খানম বলেন, ‘সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক সেবন করা হচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪৬ দিন আগে
সিলেটে বিজিবি সদস্যদের ওপর মাদক কারবারিদের হামলা
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলার মুখে পড়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়ে সে সময় বিজিবি সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি জানান, বিজিবি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ছয় থেকে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৬ থেকে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের চার রাস্তার মোড় ট্রলির লাইন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
বিজিবি সূত্র জানায়, মাদক পাচারের সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় টহলে যান বিজিবি সদস্যরা। এ সময় বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া দিলে চালক মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যান। পরে সেখানে পড়ে থাকা ১৬৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দাবি, তার অল্প সময়ের মধ্যেই ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে অতর্কিত হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এরপর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
বিজিবি-৪৮ সিলেট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক বলেন, মাদক কারবারিদের ধরতে গিয়ে বিজিবি সদস্যরা হামলার শিকার হন। আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩ থেকে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৮১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ‘টর্চার সেলের’ সন্ধান, অস্ত্র-মাদকসহ ৫ ‘সন্ত্রাসী’ আটক
কুষ্টিয়ার একটি বাড়ি থেকে পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর একটি দল। তারা সবাই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার আইলচারা বাজার-সংলগ্ন একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ফেনসিডিল জব্দ করে দলটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনটি অপরাধের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। তারা বাড়িটিকে একটি টর্চার সেল বা নির্যাতনকেন্দ্রে রূপান্তর করেছিল। সেখানে অপহরণ করে ধরে আনা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। এরপর অপহৃতদের পরিবার থেকে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ।
আটকরা হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ইমরান খান মানিক, বড় আইলচারা এলাকার বাসিন্দা রনি, মিরপুর থানার পোড়াদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কাটদহ এলাকার বাসিন্দা সজীব এবং একই ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের রাব্বি ও শাকিল।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ‘সন্ত্রাসী’ তূর্য গ্রেপ্তার
স্থানীয়দের দাবি, মানিকের নেতৃত্বে এই চক্রটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ।
তবে যৌথ অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং অনেকে বাইরে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও অপহরণ সংক্রান্ত ধারায় একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
২৫৩ দিন আগে
ফেনীতে ছাত্রদল নেতার ঘর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
ফেনীর দাগনভূঞায় মো. আশরাফুল হাসান জাবেদ নামের এক ছাত্রদল নেতার বাড়ি থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ককটেল তৈরির ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে বাড়ির নিজ শয়ন কক্ষ থেকে এসব সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এই অভিযান চালান।
বিষয়টি যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মো. আশরাফুল হাসান জাবেদ ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক।
যৌথ বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, শনিবার সকালে ওই যুবকের বাড়িতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তার শয়নকক্ষের খাটের পাটাতনের নিচ থেকে এসব সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে আগুন, পানির উৎসের অভাবে নিয়ন্ত্রণে জটিলতা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ফেনীর উপপরিচালক সৌমেন মণ্ডল বলেন, ‘ওই ঘরে মাদক রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় অভিযান চালাই। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং মাদক ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর আগেই বিষয়টি টের ঘর ছেড়ে পেয়ে পালিয়ে যায় অপকর্মের হোতা মো. আশরাফুল হাসান জাবেদ। পরে তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।’
৩৪৮ দিন আগে
জামালপুরে ২৯ লাখ টাকার মাদকসহ তিনজন আটক
জামালপুরে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) পৌরসভাধীন মনিরাজপুর ছোটগড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে মাদক পরিবহনের ব্যবহৃত তিনটি গাড়ি, ১৪৩৪ ফেন্সিডিল ও ২৪ বোতল মদ জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
আটকরা হলেন—জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার চর বাগবাড়ি গ্রামের মালেক খোকন (৪৭), একই উপজেলার ভাবকী গ্রামের মো. আজিজুর রহমান বাবু (২৪) ও পার্শ্ববর্তী পাঠনিপাড়া গ্রামের মো. হাফিজুর রহমান (৪০)।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ৫৬ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আনোয়ার বলেন, ‘মনিরাজপুর ছোটগড় এলাকার হাফিজুর রহমান আকন্দের জমিতে একটি ড্রাম ট্রাক থেকে অন্য ২টি গাড়িতে স্থানান্তরের সময় ৯টি সাদা প্ল্যাস্টিকের বস্তায় ১৪৩৪ ভারতীয় ফেন্সিডিল পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এছাড়া একটি চটের বস্তার ভেতর থেকে ২৪ বোতল আইকনিক ভারতীয় মদ পাওয়া গিয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭২ হাজার টাকা। এ সময় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ফয়সাল মো. আতিক বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
৩৪৯ দিন আগে
মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ: সাংবাদিককে ‘নিমক-হারাম’ বললেন ইউএনও
চুয়াডাঙ্গায় জীবননগরে মাদক নিয়ে সংবাদ প্রচার করার জেরে এক সাংবাদিককে ডেকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে তিনি ওই সাংবাদিককে ‘নিমক-হারাম’ বলেও অভিহিত করেন। বুধবার (১২ মার্চ) এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বাসভবনের পিছনে মাদকের আখড়া’ শিরোনামে স্থানীয় দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ওই সংবাদের জেরেই পত্রিকাটির জীবননগর প্রতিনিধি মিঠুন মাহমুদকে ডেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে ইউএনও আল-আমীনের বিরুদ্ধে।
এরপর বুধবার ইউএনও অফিসে ডেকে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ওই সময়ের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অডিওতে সাংবাদিকের সঙ্গে রূঢ় ভাষায় কথা বলতে শোনা যায় ইউএনওকে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ইনু কারাগারে
অডিওতে শোনা যায়, মিঠুন মাহমুদ হলুদ সাংবাদিকতা করেন বলে অভিযোগ করেন ইউএনও। যেদিন এই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, একই দিনে তিনি ওই পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন ইউএনও। তা সত্ত্বেও ওই পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ করায় তিনি ‘নিমক-হারাম’ বলে অভিহিত করেন সাংবাদিককে। অডিওতে আরও শোনা যায়, মাদক সম্পর্কিত যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, তাতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন ইউএনও। অন্যায়ভাবে তার বিরুদ্ধে সংবাদ করা হয়েছে উল্লেখ করে সাংবাদিককে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন তিনি। অডিওতে মিঠুনকে কোনো কথা বলার সুযোগ না-দিয়েই একটানা ইউএনওকে কথা বলতে শোনা গেছে।
এ বিষয়ে মিঠুন মাহমুদ বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রথম পেজে জীবননগর আম বাজারে মাদক বিক্রি হচ্ছে, এমন একটি বিষয়ে নিউজ হয়েছিল। সেই নিউজকে কেন্দ্র করে ইউএনও সাহেব আমাকে ফোন করে ডাকেন।’
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশ জরুরি: কাদের গনি চৌধুরী
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমে গেলেই ইউএনও তার সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মিঠুন মাহমুদ বলেন, ‘তার বাজে ও অশালীন আচরণের মাত্রা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি আমাকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।’
মিঠুন মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমি ইউএনও মহোদয়কে বলেছিলাম, এই সংবাদ আমি করিনি। তবুও তিনি আমাকেই দোষারোপ করেন।’
সংবাদটির বিষয়ে কিছুই জানেন না উল্লেখ করে মিঠুন মাহমুদ বলেন, তিনি কেবল সমীকরণ পত্রিকার উপজেলার সহকারী ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
মিঠুন মাহমুদ অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয় তার পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বা সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে, উল্টো তাকে লাঞ্ছিত করেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল-আমীনের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন। পরবর্তীতে তিনি কলও করেননি। যার কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এই বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে বিস্তারিত জানেন না। তিনি রেকর্ডটি শুনে ইউএনওর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানান।
৩৫৭ দিন আগে
টাঙ্গাইলে মাদক মামলায় যুবকের ৫ বছর কারাদণ্ড
টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় কবির হোসেন নামে এক যুবককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৫ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক আতিকুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতেই এই আদেশ দেন।
পরে আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত কবির হোসেন (২০) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের তোমছের আলীর ছেলে।
যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের এপিপি এম এ মালেক আদনান বলেন, ‘২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ভূঞাপুরের ধুবলিয়া গ্রামে জনৈক লাল মিয়ার বাড়ির পাশে পাকা রাস্তার ওপর হেরোইন বিক্রির সময় কবিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: ফারুক হত্যাকাণ্ড: ২ জনের যাবজ্জীবন, খান পরিবারের সবাই খালাস
এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ১০ প্যাকেট হেরোইন উদ্ধার করা হয়। পরে টাঙ্গাইল ডিবি (উত্তর) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন।
বিচার শেষে আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।’
৩৬৫ দিন আগে
‘মাদক নিয়ে বিবাদে’ বগুড়ায় বন্ধুর হাতে যুবক নিহত
বগুড়ার ফুলবাড়িতে বন্ধুর হতে বন্ধু খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মধ্যপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় আকন্দ (২১) ওই এলাকার বাবু মিয়া আকন্দের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) সকালে হৃদয়সহ কয়েক বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
আরও পড়ুন: নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ৩
বগুড়া ফুলবাড়ী ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমাস আলী সরকার বলেন, ধারণা করছি, মাদক-সংক্রান্ত ঘটনার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
নিহত হৃদয় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪০১ দিন আগে