স্থানীয় সরকার নির্বাচন
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা নির্বাচন কমিশন সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতাটা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে নীতিমালা সবকিছু নিয়ে ঠিক করবে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি পারবেন না।’
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের আইনে আছে, তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে যদি অধিষ্ঠিত থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা হচ্ছে নির্বাচনি আইন।’
তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ব্যাপারে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে যে এই পদটি লাভজনক। মানে শিক্ষকদের পদটি লাভজনক। তাহলে আইনের সঙ্গে এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাটা কাছাকাছি মিলে যাচ্ছে।’
মীর শাহে আলম জানান, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে, আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন, ভাতা, সম্মানী এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে প্রদত্ত বেতন, ভাতা, সম্মানীকে বোঝাবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের আইনগত কোনো মতামত, বিস্তারিত তথ্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে তারা বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে। সেক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আইন করছে বলে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই বিধান রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালাতেও শিক্ষকদের আর্থিক লাভজনক পদের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তো ক্লিয়ার (পরিষ্কার) করলাম আইনে কী আছে। এখন জামায়াত যদি সরকারের ওপর কোনো দায় চাপায়, এটা দায় চাপালে তো হবে না। কারণ এই বিলগুলো পার্লামেন্টে পাস করার সময় তারা তো সংসদে উপস্থিত ছিল। আমরা সবাই মিলেই তো বিলগুলো পাস করেছি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘না, কোনো প্রয়োজন নাই।’
তিনি বলেন, ‘এমপিদেরই তো নাই! আমি যে এমপি হয়েছি, আমারই তো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয়নি ফর্মে!’
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘কারণ আইনে নাই তো, সংবিধানে নাই তো! এবং যেহেতু সংসদ সদস্যদের যোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না, লোকাল গভর্নমেন্টের যে পাঁচটা আইন করেছি, ওখানে আইনেও আমরা রাখিনি কারণ এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে। কারণ একজন সমাজসেবক তো লেখাপড়া নাও করতে পারে, স্বশিক্ষিত হতে পারে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা বয়সের বাধ্যবাধকতাও নেই। ভোটার হলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
৭ দিন আগে
আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, অক্টোবরে ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা: উপদেষ্টা জাহেদ
আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পৃথক রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারা দেশকে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল—এই চার ভাগে ভাগ করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে ইসি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটা সবসময় একটা খুবই আলোচিত ইস্যু ছিল আমাদের, সেটা হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আদৌ হবে কিনা। যেহেতু সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে, তাই কেউ কেউ এভাবে বলার চেষ্টা করতেন। কিন্তু আমরা বারবার বলেছি, আমাদের মন্ত্রী সবসময় বলেছেন যে, এটা এই বছরের মধ্যেই শুরু হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, নির্বাচন হওয়ার জন্য একটা বিশেষ সময় লাগে। আমরা চেষ্টা করি, বেশি সংখ্যক নির্বাচন শুষ্ক মৌসুমে, শীতের মৌসুমে করতে।’
তিনি আরও বলেন, অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু হবে। আর শুরু হওয়ার পর সব ধাপের নির্বাচন শেষ করতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। অনেকেই মনে করেন এখন থেকে ১০-১২ মাসের মধ্যে নির্বাচন শেষ হবে। বিষয়টি তা নয়। অক্টোবর থেকে শুরু হলে ২০২৭ সালের অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।
৭৪ দিন আগে
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতা-কর্মীরা: উপদেষ্টা জাহেদ
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শর্ত মানলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে কি না জানতে চাইলে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো রকমের সমস্যা নেই। একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের হয়েও নির্দলীয় থাকেন তাও পারবেন। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়, এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না।
‘একজন নির্দলীয় ব্যক্তি আসলেন, কিন্তু তিনি যদি তার প্রচারণায় আওয়ামী লীগ বা তাদের দলের যা যা বলার সেগুলো বলেন, সেটা কিন্তু সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি নির্বাচনটা করার জন্য যে ক্রাইটেরিয়া (শর্ত) আছে, সেটা যদি তিনি পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নিশ্চয়ই পারেন।’
যদি নির্বাচনে আসা কারও আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবি থাকে তাহলে কী হবে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংগঠনের কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ আছে এই পোস্ট পজিশন তিনি তো আসলে ব্যবহার করছেন না, তিনি করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে কেউ যদি নির্বাচনের শর্তে যা আছে সেটা পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
১০২ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় জামায়াত আমিরের
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর জেলা শিল্পকলা অডিটরিয়ামে দলের সুধী সমাবেশে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর যে দুটি উপনির্বাচন হয়েছে তার চিত্র দেখেই শঙ্কিত তার দল। তবে জামায়াত নির্বাচনমুখী দল, তাই তার দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ সময় জনগণকে তাদের অধিকার আদায়ে আরেকবার সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তৎকালীন সরকার জামায়াতকে কিছু জানায়নি।
তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলকে অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, তা কখনোই সম্ভব নয়। তাই তিস্তা চুক্তির বিষয়ে সর্বদা আন্তরিক থাকবে তার দল। এ ছাড়াও আগামী দিনগুলোতে রংপুরের উন্নয়নে সোচ্চার থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীদের নিয়ে সুধী সমাবেশে যোগ দেন জামায়াতে আমির।
এর আগে, সকালে রংপুর মডেল কলেজে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের উপজেলা ও থানা আমিরদের নিয়ে আমির সম্মলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান।
১২৭ দিন আগে
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু: তথ্য উপদেষ্টা
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরে শেষ হবে কি না— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘না। বলা হয়েছে যে নির্বাচনটা ১০ মাস থেকে এক বছর লাগবে শুরু হওয়ার পর। নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষের দিকে, কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে, সেটাও ওই মন্ত্রণালয় থেকে আগে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার জায়গা হয়েছে, সরকার কি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করতে চায়? এ বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা বাতিল করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই সরকার নেয়নি। কার্যালয় দেওয়াতে উপজেলাকে খর্ব করা হচ্ছে, ব্যাপারটা আমার কাছে এরকম মনে হয় না। বরং আইনগতভাবেই যদি খেয়াল করেন, উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ২৫—এটা নিয়ে আমরা একসময় প্রচুর বলেছি, লিখেছি—সেখানে তো একজন সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবেই বৈধ আছেন।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, যদি তিনি বৈধভাবে থাকেন, এখন কেউ বলতে পারেন যে এটা থাকা উচিত কি না, উপদেষ্টা থাকা—সেটা একটা ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু কার্যালয় রাখার মাধ্যমে আসলে সেটাকে যে নতুন করে অনেক বেশি খারাপ করে ফেলা হলো, মোটেও ব্যাপারটা সেরকম না। কারণ আমরা যদি এভাবে তর্কটা বা যুক্তিটা দেই যে, একজন এমপি যেহেতু উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা, তার তো উপজেলা পরিষদে একটা কার্যালয় থাকা উচিতই। আবারও বলছি, এই আলাপ সমাজে আছে, কেউ করতে পারেন যে তার (সংসদ সদস্য) আদৌ উপদেষ্টা থাকা উচিত কি না। উপজেলাকে নিয়ে এই ধরনের কোনো—অর্থাৎ এটাকে খাটো করা বা আরও বেশি অক্ষম করে তোলার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
১৩৭ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে চায় এনসিপি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিও (এনসিপি) প্রস্তাব করেছে যে, শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেন, ‘সবাই চায় জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হোক। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে সেটাও ভালো হবে।’
মঙ্গলবার (৩ জুন) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার মধ্যাহ্ন বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়ে সরোয়ার বলেন, এনসিপি চার মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত।
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু দল ৬ মাসের মেয়াদের পক্ষে। এ বিষয়টি এখনও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তিন মাস না চার মাস—এনসিপি এই বিষয়ে নমনীয়। তবে যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এতে অন্তর্ভুক্ত হয়—তাহলে চার মাস প্রয়োজন হতে পারে।’
অন্যদিকে, বিএনপি কেবল জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চায়। এ ধরনের সরকারের মেয়াদ ৯০ দিন অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে সীমিত রাখার পক্ষে দলটি।
সরোয়ার তুষার জানান, এনসিপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের পক্ষেও মত দিয়েছে, যাতে সংসদ সদস্যরা অর্থ বিল এবং অনাস্থা প্রস্তাব ব্যতীত অন্য সব বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।
এর আগে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় এবং স্থানীয় উভয় নির্বাচনই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য তাদের দল প্রস্তাব করেছে।
দ্বিতীয় দফার আলোচনার মঙ্গলবারের অধিবেশন সকাল ১১টায় কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে শুরু হয়। বিএনপি, জামায়াত এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সহ প্রায় প্রায় ৩০টি দল এই বৈঠকে অংশ নেয়।
আরও পড়ুন: জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে চায়: ডা. তাহের
সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার উদ্বোধন করেন।
জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারমূলক উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা করতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গত ২০ মার্চ প্রথম দফার সংলাপ শুরু করে।
কমিশন ৩৩টি দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে—যার মধ্যে ছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। গত ১৯ মে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম দফার সংলাপ শেষ করে কমিশন।
কমিশনটি চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়। কমিশনের লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার নিয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানো।
৪৭৩ দিন আগে
বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাধারণ ক্ষমা আ.লীগের
আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে তাদের মধ্যে শতাধিক নেতা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমা করেন। এর বাইরে কেউ থাকলে তারাও আবেদন করতে পারবে।’
কাদের আরও বলেন যে ৩০ লাখ টাকা কমিয়ে দলীয় কাউন্সিলের বাজেট তিন কোটি ১৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সাতক্ষীরায় আ’লীগের ৯ নেতা-কর্মী বহিষ্কার
ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সাতকানিয়ায় ১৮ জনকে আ’লীগ থেকে বহিষ্কার
১৩৭২ দিন আগে