স্কুলছাত্রী
‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ স্কুলছাত্রী অপহরণ, যুবক গ্রেপ্তার
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে তৌকির রহমান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)-১৩। অভিযানে অপহৃত শিক্ষার্থীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
গ্রেপ্তার তৌকির নগরীর পূর্ব বোতলা এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। স্কুলে যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত তৌকির রহমান। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে তৌকিরকে অনুরোধের পর সতর্কও করা হয়। কিন্তু তাদের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার হুমকি দেন তৌকির।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী ইউনিফর্ম পরে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সে সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৌকির রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার একাধিকবার মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা রংপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
এদিকে, মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১ যৌথভাবে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার পূর্ব অশোকতলা গ্রামের অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের জনৈক ক্বারী আজিজের বাড়ি থেকে তৌকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেপ্তার তৌকির রহমানকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. সালাম (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা শিশু ধর্ষণ আপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোস্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, আসামি মো. সালামকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক দুটি ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলায় আইনের ৯(১) ধারায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া আইনের ৭ ধারায় তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভাগ করতে হবে।
আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। তবে আসামি ইতোপূর্বে হাজতে থাকার সময়কাল মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে।
মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ দামুড়হুদা থানার কার্পাসডাঙ্গা এলাকার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন আসামি মো. সালাম। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং কাল্পনিক কাবিননামা তৈরি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন অর রশীদ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামি সালাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মেডিকেল প্রতিবেদনে ধস্তাধস্তির চিহ্ন না থাকলেও ভুক্তভোগীর বয়স ১৬ বছরের কম হওয়ায় এবং সম্মতিবিহীন যৌন সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র।
তদন্ত প্রতিবেদনে অপহরণে সহায়তার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রমাণের অভাবে মামলার অন্যান্য আসামি—বজলুর রশীদ মজু, মোছা. মনোয়ারা বেগম এবং জালাল ওরফে শাহজালালকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মামলার ২ নম্বর আসামি মো. আল-আমিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বা প্রমাণের অভাবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এম এম শাহজাহান মুকুল। এই রায়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের যে প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই রায় তা রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশা করি এর মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারও এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
১৬ দিন আগে
অপহরণের ৩০ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে স্কুলছাত্রী উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
সিলেটের মোগলাবাজার থানা এলাকা থেকে অপহরণ করা নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মোগলাবাজার থানা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার ভানুগাছ রোড থেকে ওই কিশোরীকে (১৫) উদ্ধার করে। অভিযান চলাকালে অপহরণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মৌলভীবাজার সদর থানার কাশিনাথ রোড এলাকার আল আমিন হাসান (১৮) এবং একই থানার কাচরিবাজার এলাকার মাহি আহমেদ নয়ন (১৮)।
পুলিশ জানায়, সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্কুলে যাওয়ার পথে মেয়েটি দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। পরে তার বাবা মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজালাল শুভ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, নিখোঁজের পরপরই পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে এবং সফলভাবে তাকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
১১৯ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, এলাকাজুড়ে থমথমে অবস্থা
স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে, বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার পর এলাকাজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কেউ বের হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশির মুখে পড়ছেন। এমনকি শহরতলীর দোকানপাটও খোলেনি।
আজ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল (শনিবার) সড়কে পিকেটারদের দেখা গেলেও আজ তা চোখে পড়ছে না।
তবে জেলা শহরসহ আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী টহলের পাশাপাশি ৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে, শনিবার খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি
খাগড়াছড়ির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সিঙ্গিনালায় প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার হন ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন।
পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীলকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি দুইজন এখনো পলাতক রয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে জুম্ম ছাত্র জনতা ২৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং পরদিন (২৫ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে প্রায় দুই হাজার এবং রাঙামাটি শহরে সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। আটকে পড়া পর্যটকদের রাতেই খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাদের অনেকেই ফিরে গেছেন গন্তব্যে।
২২০ দিন আগে
শেরপুরে নিখোঁজের চার দিন পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের চার দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে মাইমুনা খাতুন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভালুকাকুড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মাইমুনা ওই গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় কালাপাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় মাইমুনা। এরপর খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ির পাশের ডোবার মতো কচুরিপানা ভর্তি নিচু জমির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে যান। সেখানে বিবস্ত্র অবস্থায় একটি অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে তারা চিৎকার করতে থাকেন।
পরে নিহতের চাচা আলী হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাইমুনার বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানার পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নিহত মাইমুনার আরেক চাচা শুক্কুর আলী বলেন, আমরা বুঝতে পারছি না এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা। সেটি পুলিশি তদন্তের পর জানা যাবে। হত্যাকাণ্ড হলে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি পুলিশ ঘটনাটির প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার তদন্তকাজ চলছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তকাজ শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
২৫২ দিন আগে
নওগাঁয় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বিয়ের প্রলোভনে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম ও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
আসামিরা হলেন—পোরশা উপজেলার সুরানন্দ গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাকিল (২৪) ও আলাদিপুর গ্রামের রবুর ছেলে আব্দুল আলীম (৩০)। রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৮ মার্চ রাতে ১৪ বছরের স্কুল ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সুরানন্দ গ্রামের হাবিবুল্লাহ শাহের আম বাগানের দোচালা ঘরে নিয়ে যান সাকিল। সেখানে সাকিল ও আব্দুল আলীম ওই ছাত্রীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন।
আরও পড়ুন: মসজিদে শিশু বলাৎকার, যুবকের যাবজ্জীবন
পরে ওই ছাত্রী নিজেই থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
আজ (মঙ্গলবার) শুনানি শেষে ১০ জন সাক্ষীর বক্তব্যের ভিত্তিতে আদালত তাদের যাবজ্জীবন দেন। জরিমানার টাকা ধর্ষণ শিকার স্কুলছাত্রীকে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষে আইনজীবী আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।
৩৭২ দিন আগে
প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় স্কুলছাত্রী নিহত
নরসিংদীতে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে রেললাইন পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় সুমাইয়া আক্তার (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে।
রবিবার (২০ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেললাইন পার হতে গেলে ঢাকা থেকে ভৈরবগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: চলন্ত ট্রেনে আগুন: আতঙ্কে দম্পতির লাফ, কোলের শিশুর মৃত্যু
নিহত সুমাইয়া নরসিংদী পৌর এলাকার বিলাসদী মহল্লার বাসিন্দা প্রবাসী খোকন আহমেদের মেয়ে এবং শহরের ব্রাহ্মন্দী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
৩৮১ দিন আগে
মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ৬ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ, যুবক গ্রেপ্তার
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ছয় দিন আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় মো. হৃদয় হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালজানা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় আসামি হৃদয় রাস্তাঘাটে ভুক্তভোগীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। এর একপর্যায়ে গত ১৩ মার্চ রাতে ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে তাকে অপহরণের জন্য ওঁৎ পেতে থাকেন হৃদয়। একসময় সে ঘরের বাইরে বেরোলে মুখে চেতনানাশক মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে তাকে অপহরণ করেন।
এ ঘটনার ৬ দিন পর ভুক্তোভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ মার্চ তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন হৃদয়। এরপর তার ভাই ওই শিক্ষার্থীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন: কেরাণীগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
এ ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে কয়েকদিন ভর্তি থাকার পর তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় শিবালয় পুলিশের পরামর্শে আদালতে মামলা করেন ভুক্তোভোগীর বড় ভাই।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার স্বামী অনেক আগে মারা গেছেন। আমার পাঁচ মেয়ে এক ছেলের মধ্যে এই মেয়েটাই সবার ছোট। এদের নিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাই। আমার মেয়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তির সর্ব্বোচ শাস্তি চাই।’
মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করার মতো টাকা নেই বলেও জানান তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, ‘গত ২৩ মার্চ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মিস পিটিশন মামলার পর বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে শিবালয় থানা পুলিশকে এফআইআর করার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে।’
আরও পড়ুন: যশোরে ফের শিশু ‘ধর্ষণের চেষ্টা’, পুলিশি হেফাজতেও অভিযুক্তের ওপর চড়াও স্থানীয়রা
এতে করে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয়। সেইসঙ্গে তার পক্ষে বিনা খরচে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আইনজীবী।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের বিষয়টি শিকার করেছেন। এ ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৪০৬ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে স্কুলছাত্রী নিহত
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে রিতু খাতুন নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৭ মার্চ) পৌরসভার চরঘাটিনা রেলগেটের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মিতু উল্লাপাড়া সরকারি মার্চেন্টস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের মেয়ে ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির বাবা মা কেউ বেঁচে নেই। তার ফুফুর কাছে থেকে সে পড়ালেখা করত।
আরও পড়ুন: সুইসাইড নোট লিখে স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’
সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে (জিআরপি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দিন বলেন, সোমবার সকাল ৯টার দিকে রিতু রেললাইনের ওপর শুয়েছিল। এ সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।’
তিনি বলেন, ‘এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা কিনা তা জানাতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’
৪১৫ দিন আগে
সুইসাইড নোট লিখে স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’
সুইসাইড নোট লিখে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাণীশংকৈল উপজেলার মীরডাঙ্গী হাট-সংলগ্ন দিঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাবানা আক্তার (১৪) মীরডাঙ্গী দিঘিরপাড় গুচ্ছ গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে ও মীরডাঙ্গী বিএমএস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সুইসাইড নোট পরীক্ষা করে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরশেদুল হক বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক চাপে ভুগছিল শাবানা। ঘটনার দিন দুপুরে তার বাবা-মা বাড়ির বাইরে মাঠে কাজ করতে যান। এ সময় সবার অগোচরে তার শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সে। পরে প্রতিবেশি এক নারী ওই ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার চিৎকারে আশ পাশের লোকজন ছুটে আসে। তারপর খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়।’
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে দুই সন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা
এতে লেখা ছিল— ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, এর জন্য আমি নিজেই দায়ী। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি আরশেদুল হক।
৪৩৭ দিন আগে